এক ক্লিকে দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকার সব সংবাদ

34

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা
আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ
পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী
ডা. দীপু মনি।
গতকাল শুক্রবার সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচন
পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় শিক্ষার
মানোন্নয়নে সবার সহযোগিতা চান ডা. দীপু মনি।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি, সেশন, টিউশন ফি ও ফরম পূরণে
অতিরিক্ত ফি আদায় অন্যায়। কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হলে কঠোর
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দীপু মনি বলেন,
‘যেসব বিদ্যালয়ে নিয়ম বেঁধে দেওয়া আছে, সেই নিয়ম মেনে ছাত্র-ছাত্রী
ভর্তি করবেন। কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে
যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে
বছরের প্রথমদিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে। ঝরে পড়া
রোধসহ প্রতিটি শিশুকে স্কুলমুখী করা হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন
হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া অন্যান্য যেসব
চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা মোকাবিলা করা হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি মমতার হুঁশিয়ারি
আগুন নিয়ে
খেলবেন না
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, আমি আপনাদের স্পষ্ট
বলছি, আগুন নিয়ে খেলবেন না।
গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরে এক সমাবেশে ভাষণে বিজেপি
নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে এমন কড়া
হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, আপনার কেন্দ্রীয় সরকারের যা কাজ, সেটা
করুন। ব্যাংক লুটেছেন, নোট বাতিলের নামে মানুষের টাকা লুটেছেন,
ব্যাংকগুলোর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাংকের বারোটা বাজিয়ে
দিয়েছেন, (কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা) সিবিআইয়ের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন,
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নষ্ট করে দিয়েছেন! আজ তো ইতিহাসও পরিবর্তন করে
দিচ্ছেন। সবার নাম পরিবর্তন করে দিচ্ছেন। সবকিছু বদলে দিচ্ছেন।
নিজেদেরকে কী ভাবেন? যা ইচ্ছে তাই করে যাবেন?
তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জি কিছু বললেই সিবিআই পাঠিয়ে দেবেন?
পাঠান, কত সিবিআই আছে, কত ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) আছে
দেখতে চাই। আমাদের মুখ এভাবে বন্ধ করে দেয়া যাবে না। আজকে তপসিলি-
আদিবাসীদের ওপরে যে অত্যাচার আপনারা করেছেন, তপসিলি-আদিবাসীরা তা

কড়ায়গন্ডায় আদায় করে নেবে। সংখ্যালঘুদের ওপরে যে অত্যাচার করেছেন,
কড়ায়গন্ডায় আদায় করে নেবে।
রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তুলোধোনা
করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, আপনি কী রাজ্যগুলোতে প্যারালাল
গভর্নমেন্ট চালাচ্ছেন? কখনও এ জিনিস ভারতে হয়নি। ভারতের মোদি সরকার
প্যারালাল স্টেট গভর্নমেন্ট চালাচ্ছেন! প্যারালাল প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে, প্যারালাল
প্রশাসন চালাচ্ছে। এরকম জঘন্য সরকার, এত নগণ্য সরকার কখনও আমরা দেখিনি।
নিজের ভাষণে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘চেঙ্গিস খাঁ ও
হিটলারের থেকেও ভয়ংকর’ বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দশ লক্ষাধিক স্থায়ী
অভিবাসী নেবে কানাডা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার বা কাজ করার স্বপ্ন দেখেছেন কখনো? যদি
দেখে থাকেন এবার সেটা পূরণ হতেও পারে। কারণ কানাডার সরকার নতুন
পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যে তারা পরবর্তী তিন বছরে ১০ লাখেরও বেশি
অভিবাসী গ্রহণ করবে।
অভিবাসন সংসদে ২০১৮ সালের বাৎসরিক রিপোর্টে দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী
আহমেদ হোসেন এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ২০১৯ থেকে ২০২১
সালে নতুন স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে ১০ লাখ ৮০ হাজার জনকে গ্রহণ করবে
কানাডা। যেটা ২০২১ সালের পরের দিকে হবে ৩ লাখ ৭০ হাজার জন।
নিজেও একজন সোমালি শরণার্থী হিসেবে কানাডায় এসেছিলেন হোসেন।
রিপোর্ট উপস্থাপন করে তিনি বলেন, অভিবাসী ও তাদের বংশধরেরা অগণিত
অবদান রেখে চলেছে এই দেশে, এবং আমাদের ভবিষ্যৎ সফলতা নির্ভর করবে তাদের
ক্রমাগত স্বাগত জানানো ও ভালোভাবে অন্তর্ভুক্তির মধ্যে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, কানাডায় বসবাসকারী পাঁচজনের একজন দেশটির বাইরে
জন্মগ্রহণ করেছে। আর ১৯৯০ সাল থেকে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ কানাডায়
অভিবাসী হয়েছে।
কানাডার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য অভিবাসনই মূল চাবিকাঠি।
বেশিরভাগই তরুণ অভিবাসী নেওয়ার ফলে তারা বয়স্ক লোকেদের চ্যালেঞ্জটাও
মোকাবেলা করতে পারছে।
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, কর্মী আর অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের অনুপাত ২০১২
সালে ৪.২:১ থাকলেও ২০৩৬ সালে সেটা ২:১ হবে।
২০২১ সালে যাদের নেওয়া হবে তাদের অর্ধেকেরও কম মানুষকে অর্থনৈতিক
প্রোগ্রামের অধীনে নেওয়া হবে যেন তারা শ্রম বাজারের দক্ষতার গ্যাপ পূরণ
করতে পারেন।
রিপোর্টে বলা হয়, অভিবাসন মাত্রার বৃদ্ধি বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে
বর্ধন আমাদের শ্রমের চাপ স্থায়ী করতে সক্ষম, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমর্থন
এবং আবিষ্কার অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।

বানিয়াচঙ্গে দোকানঘর নিয়ে
সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
বানিয়াচঙ্গ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গ নতুনবাজারে দোকানঘরের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে
দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। আহতদের বানিয়াচঙ্গ স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকাল
সাড়ে চারটার দিকে ৩নং ইউনিয়নের অন্তর্গত মাইজের মহল্লার কুয়ারপার
মসজিদের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে বানিয়াচঙ্গ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কাইয়ুমের নেতৃত্বে
একদল পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বানিয়াচঙ্গ দোয়াখানির হাজি ইসলাম উদ্দিনের মালিকানাধীন গ্যানিংগঞ্জ
বাজারের কলেজ রোডে অবস্থিত দোকানের পিছনে কিছু জায়গা রয়েছে। সেই
জায়গার পাশে কিছু পতিত জায়গা একই মহল্লার কাজল, ধন মিয়া, তজু,
নাসির, মোশাহিদ, যাত্রাপাশার মাহির, দক্ষিণ পাড়ের মনজিল, আকিবুর ও
পাড়াগাঁওয়ের শাহজাহান মিয়া গং জায়গাটির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে
কিনে নেয়। হাজি ইসলাম উদ্দিনের মালিকাধীন জায়গায় বিল্ডিং করার জন্য কাজ
শুরু করে তার পুত্র রাশেদ মিয়া। পরে অপর পক্ষ তাকে বিল্ডিংয়ের কাজে বাধা প্রদান
করে। ফলে কাজ বন্ধ রাখে রাশেদ মিয়া। এই নিয়ে কয়েকবার শালিস বসলেও কোনো
সমাধান আসেনি।
গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রেজাউল মোহিত খানের
নেতৃত্বে এলাকার কিছু মুরুব্বিদের নিয়ে সীমানা নির্ধারণের জন্য
উভয়পক্ষকে নিয়ে সালিশে বসেন। একপর্যায়ে সালিশানরা সীমানা নির্ধারণ
করে খুঁটি দেয়ার জন্য একপক্ষকে রায় প্রদান করেন। রায়টি মেনে নেয় উভয়পক্ষ।
সালিশানরা বিদায় হওয়ার পর রাশেদ ও কাজল মিয়ার মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।
পরে রাশেদের পক্ষ নিয়ে তার চাচা তাছু মিয়া ও কাজলের পক্ষ নিয়ে হাতাহাতিতে
লিপ্ত হন। একপর্যায়ে ধন মিয়া বাঁশ নিয়ে তাছু মিয়াকে আঘাত করেন।
ঘটনাটি বাজারের লোকজন এসে তাৎক্ষণিক মিটমাট করে দেন। এ ঘটনাটি
এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে
জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ঘন্টাখানেক এই সংঘর্ষ স্থায়ী হয়। সংঘর্ষে উভপক্ষের
অর্ধশতাধিক লোক আহত হন।
এদের মধ্যে গুরুতর আহত টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় আলফু মিয়াকে সিলেট ওসমানী
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আহতরা গ্রেপ্তার এড়াতে
হাসপাতালে না গিয়ে বিভিন্ন ফার্মেসিতে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ
ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় টেঁটাবিদ্ধ আলফু মিয়াকে সিলেট ওসমানী
মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে বানিয়াচঙ্গ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কাইয়ুমের নেতৃত্বে
একদল পুলিশ গিয়ে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
আনে। ঘটনার পরে আশেপাশের বাড়িঘরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। উদ্ধার করা হয়
সংঘর্ষে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র। আটক করা হয় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজনকে তবে
তাদের নাম জানা যায়নি। তবে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা
হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, যাদেরকে আটক করা হয়েছে তার সংঘর্ষের সাথে
জড়িত ছিলেন না।

আফগানিস্তানে তালেবান
হামলায় ৩২ জন নিহত
সবুজ সিলেট ডেস্ক
আফগানিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশিচৌকি ও সরকার সমর্থিত
মিলিশিয়াদের ওপর তালেবান হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। গত
বৃহস্পতিবার এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির প্রাদেশিক কর্মকর্তারা
জানিয়েছেন।
শান্তি আলোচনা নিয়ে কথা উঠলেও আফগানিস্তানের ১৭ বছর ধরে চলা যুদ্ধে
দুপক্ষই চলতি শীতেও হামলা অব্যাহত রেখেছে।
তালেবান হামলায় আফগান সরকারের বিভিন্ন বাহিনীকে যেমন খেসারত দিতে
হচ্ছে। আবার সরকারি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে তালেবান ফিল্ড কমান্ডারকে
হত্যা করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জালমি খালিলজাদ আফগান তালেবানের সঙ্গে তিন
দফা শান্তি আলোচনা করেছেন। যদিও চতুর্থ দফা বৈঠক বাতিল ঘোষণা করেছে
তালেবান।
উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ কুন্দুজ, বাগলান, তাকহার ও পশ্চিমের বাদগিসে এসব হামলা
চালিয়েছে তালেবান।
কুন্দুজের কালা-ই-জাল জেলার প্রধান আহমাদ ফাহিম কারলাখ বলেন, নিরাপত্তা
বাহিনীর চৌকিতে তালেবানের ব্যাপক হামলায় অন্তত ১০ সেনা ও পুলিশ নিহত
হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১১।
এ সময় ২৫ তালেবান যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি করেন তিনি। কর্মকর্তারা বলেন,
বাগলান ও তাকহার প্রদেশে সরকারপন্থি মিলিশিয়া গ্রুপের ১৬ সদস্যকে হত্যা
করেছে তালেবান।
বাগদিসের গভর্নরের মুখপাত্র জামশিদ শাহাবি বলেন, তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর
৬ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন।
এসব হামলার দায় স্বীকার করেছেন তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
তিনি বলেন, তারা সরকারি বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্যকে হত্যা, বিপুল অস্ত্র ও
গোলাবারুদ উদ্ধার করেছেন।

এসএমপির এডিসি জ্যোতির্ময়ের
সরকারের পিতৃবিয়োগ
সবুজ সিলেট ডেস্ক
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার দক্ষিণ (ক্রাইম-
অপারেশন) জ্যোতির্ময় সরকার তপুর পিতা ও সুনামগঞ্জের মধ্যনগর বি.পি
উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক জহর লাল সরকার
পরলোক গমন করেছেন।
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

এসএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা এ তথ্য নিশ্চিত করে
বলেন, জ্যোতির্ময় সরকার তপুর পিতৃবিয়োগে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
তিনি জানান, এসএমপি কমিশনার মো. গোলাম কিবরিয়া, অতিরিক্ত কমিশনার
পরিতোষ ঘোষসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও ভিন্নমহলের পক্ষথেকে গভীর
শোক প্রকাশ করা হয়েছে। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে
তারা মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
জহর লাল সরকার সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থানার কান্দাপাড় গ্রামের স্বর্গীয় মহেশ
সরকারের ছেলে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় সিলেট নগরীর চালিবন্দর শ্মশান
ঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
এরআগে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি
শফিকুর রহমান চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় জহর লাল সরকারে
নিকটাত্মীয় ও স্বজনরা ছাড়াও সিলেটের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের
উধ্বর্তন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুকালে এই শিক্ষক এক ছেলে ও দুই
মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১আগস্ট জহর লাল সরকারের স্ত্রী মধ্যনগর সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হীরন বালা তালুকদারও পরলোক গমন করেন।

নবীগঞ্জ উপজেলায় নৌকার
মাঝি হতে চান ৫ জন
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে চলছে আলোচনা, কে
হচ্ছেন নবীগঞ্জ উপজেলার নৌকার কান্ডারি? আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে
উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে এরমধ্যেই নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী
লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকের জন্য কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
এখন পর্যন্ত নবীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে
পাঁচজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- নবীগঞ্জ উপজেলার বর্তমান
চেয়ারম্যান ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো.
আলমগীর চৌধুরী, নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গজনাইপুর
ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইমদাদুর রহমান মুকুল, পানিউমদা ইউনিয়নের পাঁচ
বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি
মো. ইজাজুর রহমান, নবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও নবীগঞ্জ উপজেলার
সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম এবং হবিগঞ্জ জেলা
পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ।
প্রার্থীদের সমর্থক ও শুভাকাক্সক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ
পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থণ তৈরিতে নানান শ্লোগান, বিশেষায়িত বাক্য
লিখে জনমত আদায়ের চেষ্টা করছেন।

কমলগঞ্জে চা-বাগানে তুচ্ছ বিষয়ে

সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১০
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের ফাঁড়ি দেওছড়া চা-বাগানে তুচ্ছ
বিষয়কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে মুনিবজিত রবিদাস (৬০) নামে এক চা-
শ্রমিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন দু’পক্ষের ১০ জন।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১০ টায় দেওছড়া চা-বাগানে মাঠের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে।
দেওছড়া চা-বাগানের শ্রমিক ও পুলিশ জানায়, রাজমিস্ত্রির কাজ ও টাকা নিয়ে
বৃহস্পতিবার রাতে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে
গতকাল সকালে মুনিবজিত রবিদাস, তার ভাই চন্দন রবিদাসের নেতৃত্বে এক পক্ষ
এবং গরিবা রবিদাস, তুলসি রবিদাসসহ অন্যরা অপর পক্ষে অবস্থান নিয়ে
দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে এসময়ে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০ জন
আহত হন। গুরুতর আহত মুনিবজিত রবিদাসকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে
ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা যান।
আহত অন্যদের মৌলভীবাজার সদর, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শমশেরনগর
ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শমশেরনগর
ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলায় জড়িত অভিযোগে সত্য নারায়ণ
(৩৫), সাগর রবিদাস (২৮) ও নিহতের পক্ষের রঞ্জিত রবিদাস (২৮)-কে আটক করা
হয়েছে।
এঘটনায় দেওছড়া চা-বাগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এএসপি সার্কেল
আশফাকুজ্জামান, কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান ও শমশেরনগর ফাঁড়ির
ইনচার্জ অরুপ কুমার চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
দেওছড়া ও শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিকনেতারা বলেন, আসলে এসব ঘটনার
নেপথ্যে মাদকাসক্তির বিষয়টিও সম্পৃক্ত রয়েছে।
শমশেরনগর ফাঁড়ির ইনচার্জ অরুপ কুমার চৌধুরী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ
ঘটনায় উভয় পক্ষের তিনজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের লাশ মৌলভীবাজার সদর
হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর নিহতের পক্ষে মামলা করা
হবে। পরে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওসমানীনগরে হাওর থেকে
ডাকাতদলের অস্ত্র উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার
ওসমানীনগরে হাওড়পারের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে কাটা রাইফেলসহ এক বস্তা
অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাওরের পানি সেচে তল্লাশিকালে গতকাল শুক্রবার দুপুরে
একটি বস্তায় কাটা রাইফেলসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার
থেকে শুরু হয় এ উদ্ধার অভিযান।
রিমান্ডে থাকা এক ডাকাত তোফায়েলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বিশ্বনাথ থেকে
কারাবন্দি অপর ডাকাত শাহজানের স্ত্রী শারমিনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের
স্বীকারোক্তি অনুযায়ী উপজেলার বড় ইউসুফপুর মধুর পুকুরে তল্লাশি শুরু করা
হয়। এ সময় একটি কাটা রাইফেল, একটি তালা কাটারসহ বেশ ক’টি রামদা
উদ্ধার করা হয়।

ওসমানীনগর থানার ওসি এস.এম আল মামুন বলেন, রিমান্ডে থাকা ডাকাত
তোফায়েল স্বীকারোক্তিতে বলেছে, ডাকাতি শেষে অস্ত্র নিরাপদে রাখতে
বস্তাবন্দি করে হাওরের পুকুরে লুকিয়ে রাখে তারা। পুকুরে আরো অস্ত্রের সন্ধানে
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তিনি বলেন, রিমান্ডে থাকা আসামির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার থেকে
হাওড়ে ২০/২৫ জন শ্রমিক লাগিয়ে সেচ ও পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়। এক পর্যায়ে
ডাকাতের সহোদর রিপনের সহযোগিতায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। এক বস্তা অস্ত্র
উদ্ধার করা হলেও আরেক বস্তা অস্ত্র রয়ে গেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বাকি
অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।

লিড
সিলেটে ও সুনামগঞ্জে পরিকল্পনামন্ত্রী
সকল জেলার সংযোগ
সড়ক চার লেন করব
স্টাফ রিপোর্টার
পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবারের মতো সিলেট পৌঁছে ওসমানী
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুলভাবে সংবর্ধিত হয়েছেন এম এ মান্নান।
গতকার শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি
সিলেট পৌঁছেন। হজরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত শেষে সুনামগঞ্জের
উদ্দেশে যাত্রা করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও প্রশাসনের
উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মেজ্ধসঢ়;বাহ উদ্দিন আহমদ,
ডিআইজি কামরুল আহসান, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল
ইসলাম, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান
চৌধুরীসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সিলেট, সুনামগঞ্জের প্রশাসনের
উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংবর্ধনার জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে
দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারি। মন্ত্রী এ সময় সকলের
প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরে গাড়ি শোভাযাত্রার মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-
জগন্নাথপুরে নিয়ে যাওয়া হয় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানকে।
আমাদের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী
লীগের কার্যালয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে পরিকল্পনামন্ত্রী
এম এ মান্নান বলেন, সকল জেলার সংযোগ সড়কগুলোকে ৪ অথবা ৬ লেন করব।
তিনি বলেন, চলমান মেগা প্রকল্পগুলোই শেষ নয়, তৃতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা
হবে।
গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে স্থানীয়
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এই ১০টি মেগা প্রকল্পই শেষ নয় আরও মেগা প্রকল্প হবে।
আমাদের দুটি পদ্মা সেতু প্রায় হয়ে যাচ্ছে। তৃতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শুরু

করব। চতুর্থ পদ্মা সেতু আমাদের সন্তানেরা করবে। আমাদের মেগা প্রকল্প গুলো
বাস্তবায়নে আর যেন দেরী না হয় সময় মতো বাস্তবায়ন হতে পারে এজন্য আমরা
সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব’, যোগ করেন তিনি।
পিছিয়ে পড়া জেলাগুলো নিয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘আমরা পিছিয়ে পড়া
জেলাগুলোর ঢাকার সাথে সংযোগ আরও শক্তিশালী করব। সকল জেলার সংযোগ সড়ক
গুলোকে ৪ অথবা ৬ লেন করব। আমরা অনেক জায়গায় ইন্টার সেকশন লুপ তৈরি করব।
জাতীয় অর্থনীতির মুল ধারায় এদেরকে আমরা সম্পৃক্ত করব। যোগাযোগ
ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা এসব স্থানে নিয়ে গেলে তারা
নিজেরাই এগিয়ে আসতে পারবে। শেখ হাসিনার সরকারের কাজ হবে এসব
পয়েন্টে পয়েন্টে যে জ্যাম আছে, সেই জ্যামগুলো পরিষ্কার করে দেয়া।’
বাংলাদেশকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির হাত থেকে চির দিনের জন্য রক্ষা করতে চান
উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন
স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তি যেন যেকোনো নামে যেকোনো ছলেবলে
কৌশলে কোনোভাবে যেন বাংলাদেশের শাসনের অধিকার না পেতে পারে। এটি
আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা আমাদের পূর্বপুরুষের জন্য চরম অপমানের হবে।’

নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে
বন্দি স্থানান্তর শুরু
স্টাফ রিপোর্টার
২৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেটে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি
স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় ২২৯ বছর পর নতুন ঠিকানায় যাত্রা শুরু
করেছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ৩ মাস পর গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হয় বন্দি
স্থানান্তর। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বন্দি স্থানান্তর আজ
শনিবার পর্যন্ত চলবে।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই র‌্যাব পুলিশ
অবস্থান নেয় সিলেটের পুরাতন ও নবনির্মিত কারাগারের আশপাশে। বাড়ানো
হয় নিরাপত্তা। স্থানান্তরের কারণে ৩দিন কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ
বন্ধ রাখার নোটিশ জারি করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
বন্দি স্থানান্তরের বিষয়টি স্পর্শকাতর দাবি করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের
সিনিয়র জেলসুপার আবদুল জলিলসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ক্যামেরার সামনে
কথা বলেননি। তবে তারা জানান, স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রেস
বিজ্ঞপ্তি কিংবা প্রেস ব্রিফিং করে বিষয়টি আমরা সবাইকে জানাব।
তবে গত বৃহস্পতিবার সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল জানিয়েছেন, নতুন ও
পুরাতন উভয় কারাগারেই বন্দি থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৭৮৯ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে সিলেটের
ধোপাদিঘিরপারে ২৪ দশমিক ৬৭ একর জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছিল সিলেট
জেলা কারাগার। ১৯৯৭ সালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের মর্যাদা পায়। তখন এর
ধারণক্ষমতা দাঁড়ায় ১ হাজার ২১০ জনে।
দুই হাজার বন্দির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ২৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার গত বছরের ১ নভেম্বর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা।

লিড
সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কে
একটি সেতু এখন মরণফাঁদ
রুমেল আলী, ফেঞ্চুগঞ্জ
সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কের ফেঞ্চুগঞ্জ ফরিদপুর নামক স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ
বেইলি সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
পাশাপাশি ব্যস্ততম এই সড়কে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে
হাজারো ছোট-বড় গাড়ি সিলেট-মৌলভীবাজার যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন
থেকে এ সেতুতে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে ‘বিপজ্জনক’
সাইনবোর্ড লাগানো ছাড়া কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কের ফরিদপুর নামক স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি
সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরে
এই সেতুর ওপর আরেকটি বেইলি সেতু নির্মাণ করে সিলেট সড়ক ও জনপথ
বিভাগ। কিন্তু সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার না হওয়ায় এই সড়কে
চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ফেঞ্চুগঞ্জের ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অদূরে এই বেইলি সেতুর স্টিলের
পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রায়ই ওয়েলডিং করে জোড়াতালির মাধ্যমে যান
চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সেতুর পাটাতন ও উভয়পাশের এপ্রোচ সড়ক
বিপজ্জনক হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ
কোনো নজর দিচ্ছে না। এই মরণফাঁদে ঘটেই চলেছে একেরপর এক দুর্ঘটনা।
এক বছরে প্রাণহানি ঘটেছে পাঁচ জনের। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পংগুত্ববরণ
করেছেন ১০-১২ জন।
গত মঙ্গলবার রাতে এই বেইলি ব্রিজে একটি প্রাইভেট গাড়ি দুর্ঘটনায়
দুমড়েমুচড়ে যায়। দুদিনের ব্যবধানে গত বৃহস্পতিবার রাতে আরেকটি
প্রাইভেট গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। গাড়িতে থাকা ৩ যাত্রী গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এই ব্রিজে প্রতিদিনই এরকম দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়রা বলেন, প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে এই ব্রিজে। ব্রিজটি এভাবে
থাকলে আরো দুর্ঘটনার ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। কলেজ পড়ুয়া শফিকুল ইসলাম
বলেন, ব্যস্ততম এই মহাসড়কে এরকম একটি ব্রিজে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। আর
কত প্রাণ ঝরলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের টনক নড়বে?
এ ব্যাপারে জানতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার
গোলাম মোস্তফার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ
করেননি।

ছাতকে মূর্তি
ভাঙচুরের অভিযোগ
ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে একটি মূর্তি ভাঙচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূর্তি
ভাঙচুরের প্রতিবাদ করার প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন দিলীপ দাস (১৯) নামের

এক যুবক। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ছাতক সদর ইউনিয়নের খড়িরগাঁও
গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মূর্তি ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় গ্রামের আহত দিলীপ দাসের মা মায়ারানী
বাদি হয়ে একই গ্রামের আব্দুল আজিজ (৫৫), মামুন মিয়া (২০) ও জোসনা
বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, খড়িরগাঁও গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা
পূর্বপুরুষদের ন্যায় গ্রামের রাখাল তলায় পূজা-পার্বণসহ দেবদেবীর মূর্তি
রেখে ধমীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। প্রায় দু’বছর পূর্বে রাখাল তলা
সংলগ্ন এলাকায় নতুন বসতভিটা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে
প্রতিপক্ষ। তখন থেকেই রাখাল তলায় পূজাপার্বণে ও মূর্তি রাখা নিয়ে
প্রতিপক্ষ বাধানিষেধ দিয়ে আসছে।
ঘটনার দিন বিকেলে গ্রামের কালীপূজা শেষে কালীমূর্তি রাখালতলায় নিয়ে
গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন মূর্তি রাখতে বাধা দেন। এক পর্যায়ে মূর্তি রেখে
চলে গেলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কালীমূর্তি ভাঙচুর করেন প্রতিপক্ষের
লোকজন। পরে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষ হামলা করে দিলীপ দাসকে
আহত করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাতক থানার এসআই নিখিলেশ দেব
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ
পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রথম পাতায়
বিশ্বনাথে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলা
দুই পুলিশ আহত, গ্রেপ্তার ২
বিশ্বনাথ অফিস
বিশ্বনাথে মাদকব্যবসায়ী সুহেল বাহিনী থানা পুলিশের ওপর হামলা করেছে।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন থানার এসআই সবুজ কুমার নাইডু, কনস্টেবল
সুমন মালাকার।
গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বৈরাগীবাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত
দুই পুলিশকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি
করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানার এসআই সবুজ কুমার নাইডু বাদি হয়ে পুলিশ
অ্যাসল্ট মামলা করেছেন। মামলায় ১৫ জনের নামোল্লেখ করা হয়েছে এবং আরো
১৫/১৬ জনকে অজ্ঞাতনামা রাখা হয়েছে। মামলার পর রাতে অভিযান চালিয়ে
দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন জাকির আহমদ ও কয়ছর
আহমদ।
জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত রামপাশা
ইউনিয়নের পূর্বপাড়া নওধার গ্রামের করিম বক্সের পুত্র সুহেল আহমদ। তার
বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার
করতে গেলে সুহেল তার বাহিনী দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে পালিয়ে যায়।
পরে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ (দক্ষিণ সার্কেলের) এসএসপি সাইফুল ইসলামের
নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বৈরাগীবাজার এবং নওধার গ্রামে অভিযান
চালিয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামসুদ্দোহা পিপিএম
বলেন, কুখ্যাত অপরাধী সুহেল। তার বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার করতে গিয়ে সুহেল তার বাহিনী দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে সে
পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।

নাট্যাভিনেতা জহির
লায়েক আর নেই
আজ জানাজা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জহির
খান লায়েক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ফাজিলস্থ নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন
(ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। মৃত্যুকালে
তিনি স্ত্রী, ৩ মেয়ে, ১ ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখেছেন। আজ শনিবার বাদ
জোহর হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা
অনুষ্ঠিত হবে। এতে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে জহির খান লায়েকের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর
আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী
লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ,
যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, জাকির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের
যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, সাবেক কাউন্সিলর
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, এটিএম হাসান জেবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক
শফিউল আলম নাদেল, মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক সাবেক
কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাস, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক
সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ, কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, জেলা আওয়ামী
লীগের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান, অ্যাডভোকেট সৈয়দ
শামীম আহমদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও
ক্রীড়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ময়নুল
ইসলাম চেয়ারম্যান, নাট্যকার চন্দন রায়, বেলাল আহমদ, লিটন আহমদ, মহানগর
আওয়ামী লীগ নেতা বাবু সুদীপ দেব, এমএ হান্নান, যুবলীগ নেতা লিটন পাল,
সৈয়দ গুলজার আহমদ, দুলুল তালুকদার প্রমুখ।
এক শোক বার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে
শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

তাহফিজুল কুরআন
শিক্ষাবোর্ডের ফল প্রকাশ
সিলেট বিভাগে বেসরকারি উদ্যোগে গঠিত তাহফিজুল কুরআন শিক্ষা
বোর্ডের ২০১৮ সালের হিফজুল কুরআন (তাকমিল) সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল

প্রকাশিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বোর্ডের প্রধান কেন্দ্র নগরীর কুদরত
উল্লাহ হাফিজিয়া মাদরাসায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সিলেট বিভাগের অর্ধশতাধিক হিফজুল কুরআন প্রতিষ্ঠান প্রতিবারের ন্যায়
এবারও হিফজ তাকমিল সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষায় পাসের হার
শতকরা ৯০.১২। এবারে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮১ জন। এর মধ্যে ১ম, ২য় এবং ৩য়
এই তিন বিভাগে মোট ৭২ জন হাফেজে কুরআন কৃতকার্য হন।
সম্মিলিত মেধা তালিকায় নগরীর কুদরত উল্লাহ হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র মো.
ইশতিয়াক আহমদ রোহান প্রথম (রোল নং- দ-০০১০৭২), কানাইঘাট গাছবাড়ী
জামিউল উলুম কামিল মাদরাসার কৃতি ছাত্র জাবের আহমদ দ্বিতীয় (রোল নং- দ-
০০১১৪৩) এবং কানাইঘাট মানিকগঞ্জ দারুল কুরআন হাফিজিয়া মাদরাসার
ছাত্র মো. ফরহাদ আহমদ (রোল নং- দ-০০১০৬৬) তৃতীয় বিভাগে কৃতিত্বের
সাথে উত্তীর্ণ হন।
উত্তীর্ণ ছাত্রদের বিভাগ ও রোল নাম্বার :
প্রথম বিভাগ : দ-০০১০৮৭, দ-০০১০৮৩, দ-০০১০৬৮, দ-০০১১০৩, দ-০০১১০০, দ-
০০১১৩৭, দ-০০১০৯৫, দ-০০১০৬৩,
দ-০০১০৮৫, দ-০০১০৭৯, দ-০০১১০৫, দ-০০১১০৮, দ-০০১০৬৭, দ-০০১০৯০, দ-০০১০৬৪,
দ-০০১০৮২,
দ-০০১০৮০, দ-০০১১২৮, দ-০০১০৯১, দ-০০১১২৪, দ-০০১০৯২, দ-০০১০৭৪, দ-০০১১১৪,
দ-০০১১১১,
দ-০০১১০৪, দ-০০১০৯৮, দ-০০১১১০, দ-০০১১০১, দ-০০১০৭১, দ-০০১১৩৮, দ-০০১১৩৩,
দ-০০১০৮৬,
দ-০০১০৬১, দ-০০১১৩১, দ-০০১০৭০, দ-০০১১০৭, দ-০০১১২৭, দ-০০১০৯৩, দ-০০১০৮১,
দ-০০১১৪৫,
দ-০০১১১৮, দ-০০১০৭৭, দ-০০১১০৯, দ-০০১০৭৬, দ-০০১০৯৪, দ-০০১১০২, দ-০০১০৯৭,
দ-০০১১৩৪,
দ-০০১১১৭, দ-০০১১৪০, দ-০০১১২২, দ-০০১১৪২, দ-০০১০৮৪, দ-০০১০৮৮, দ-০০১০৮৯,
দ-০০১১২৩।
দ্বিতীয় বিভাগ : দ-০০১০৬৯, দ-০০১১৩৬, দ-০০১১১৬, দ-০০১০৭৩, দ-০০১১১৯, দ-
০০১১২৫, দ-০০১১১২, দ-০০১০৭৫,
দ-০০১০৬৫, দ-০০১১৪১, দ-০০১১৪৪।
তৃতীয় বিভাগ : দ-০০১১৩২ ও দ-০০১১২৬।
উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদেরকে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃত্তি ও সনদ প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানের তারিখ পরে জানানো হবে। বিজ্ঞপ্তি

‘জ্ঞান ও চরিত্রের হাতিয়ারকে সম্বল
করে নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে’
আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য স্কুল ছাত্রদেরকে প্রয়োজনীয়
দিক নির্দেশনা প্রদান করার লক্ষ্যে ইসলামী ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগরী
আওতাধীন স্কুল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হয় স্কুল ছাত্র সম্মিলন।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জিন্দাবাজারের একটি অভিজাত হোটেলের
কনফারেন্স হলে মহান বিজয় উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা ও
বই পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোস্তাফিজুর
রহমান ফয়সল বলেন, ছাত্রদেরকে একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন
সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। মা-বাবার সাথে নিজেদের
সম্পর্কোন্নয়নের ব্যাপারে জোর দিয়ে তিনি বলেন, জ্ঞান ও চরিত্রের হাতিয়ারকে
সম্বল করে আগামী দিনে বাংলাদেশ তথা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজেকে
স্কুল জীবন থেকেই প্রস্তুত করতে হবে।
স্কুল বিভাগ সভাপতি সাদিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও শাহজালাল (রহ.) জোন
সভাপতি সৈয়দ আহলান জাদিদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,
সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা ও স্কুল কার্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক মু. শাহীন,
সিলেট মহানগর সভাপতি আফজাল হোসাইন কামিল, মহানগর সেক্রেটারি ফখরুল
ইসলাম, শাবিপ্রবি শাখা ছাত্র মজলিস সেক্রেটারী জাকারিয়ার হোসেন
জাকির।
অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বায়তুলমাল সম্পাদক সাইফুল
ইসলাম জলিল, খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর নির্বাহী সদস্য মাওলানা
মাসুক আহমদ, কোতোয়ালী থানা সভাপতি মাওলানা খায়রুল ইসলাম, মো.
এহসান, মোশাররফ আবেদীন জয়, আব্দুল আলী, মোস্তফা আহমদ সোহান,
ইমদাদুল হক ইমরান, রুবেল আহমদ, আমিরুল ইসলাম আমিন, শহীদুল ইসলাম কাজল,
খালেদ আহমদ, খালেদ মাহমুদ জুহানী, সাজিদুর রহমান, ফাহিম আহমদ, জুনাইদ
আহমদ, সুলতান আহমদ প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি

নগরীর মদিনা মার্কেটে
যুবকের আত্মহত্যা
স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর মদিনা মার্কেটে ফাঁস লেগে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। তার নাম
রাব্বি আহমদ (২৫)। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় তার বাসায় গলায় ফাঁস লেগে
আত্মহত্যা করেন। তিনি নগরীর নেহারী পাড়ার বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলামের
ছেলে। মদিনা মার্কেট এলাকায় রাফি রেস্টুরেন্টে তিনি কাজ করতেন।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, তিনি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা
করেছেন।
কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিয়া আত্মহত্যার বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন।

মেজরটিলায় সড়ক দুর্ঘটনায়
আহত অনিক আশঙ্কামুক্ত
স্টাফ রিপোর্টার

মেজরটিলায় সড়ক দূর্ঘটনায় আহত অনিক অন্তুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য
ঢাকায় পেরন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত রাত ৩ টার দিকে তার পরিবার
তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
অনিকের ভাই অরুপ জানান, অনিক এখন আশঙ্কামুক্ত। তার পায়ের বিভিন্ন অংশে
সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে।
সকাল ৯ টায় ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থপেডিক্স
রিহেবিলিটেশন হাসপাতালে ডা. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে তার পায়ের
বিভিন্ন অংশে অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ত্রোপচার শেষে ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন অনিক এখন পুরোপুরি
আশঙ্কামুক্ত।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় মেজরটিলা ওয়ান ব্যাংকের সামনে হানিফ
পরিবহণ বাসের সাথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অনিক আহত হয়। এই
দূর্ঘটনায় সারওয়ার খান নামে এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হন।

@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@
পুঁজিবাজারে
‘অর্থমন্ত্রী’ টনিক!
সবুজ সিলেট ডেস্ক
পতনের ধারা কাটিয়ে ‘চাঙাভাব’ দেখা দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে।
প্রতিদিনই লেনদেন হওয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার
পাশাপাশি উল্লম্ফন ঘটছে মূল্য সূচকে। সেই সঙ্গে লেনদেনেও দেখা দিয়েছে
তেজিভাব। ফলে পুঁজিবাজার নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন
সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
বড় ধরনের রাজনৈতিক হানাহানি ছাড়াই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হওয়া এবং সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় পুঁজিবাজার পতনের ধারা
কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা।
তবে বাজারের চাঙাভাব এবং লেনদেনের তেজিভাবের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী পরিবর্তন
হওয়া ‘টনিক’ হিসেবে কাজ করেছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
তারা বলছেন, সদ্য সাবেক হওয়া বর্ষীয়ান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত
দায়িত্ব থাকা অবস্থায় পুঁজিবাজার নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেন।
তিনি (মুহিত) কখনও পুঁজিবাজারকে ‘জুয়া খেলা’ আবার কখনও ‘ফটকা
বাজার’ বলেও অভিহিত করেন। অর্থমন্ত্রীর এমন ‘বেফাঁস কথা’র কারণে
নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারের ওপর। ফলে বিনিয়োগকারীদের বেশিরভাগই
আবুল মাল আবদুল মুহিতের ওপর নাখোশ ছিলেন।
তাদের মতে, নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল যেমন মেধাবী, তেমনি
অভিজ্ঞ। কথা-বার্তাতেও সংযত। পুঁজিবাজার সম্পর্কেও তার যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে।
সুতরাং আগের অর্থমন্ত্রীর মতো তিনি বাজার নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করবেন
না। এ কারণে নতুন অর্থমন্ত্রীর প্রতি বিনিয়োগকারীদের এক ধরনের আস্থা
সৃষ্টি হচ্ছে। এরই বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে বর্তমান পুঁজিবাজারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে যে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা দিয়েছে তা খুবই ভালো লক্ষণ
এবং প্রত্যাশিত ছিল। তবে এ বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিচক্ষণতার
সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে। কোনো কোম্পানিতে বিয়োগের ক্ষেত্রে সেই
কোম্পানির সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে। সেই সঙ্গে দুর্বল
কোম্পানির শেয়ার নিয়ে যাতে কোনো চক্র ফায়দা লুটতে না পারে সে জন্য
নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ভালো
কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়ে শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হবে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে পুঁজিবাজারে মূল্য
সূচকে তেজিভাব দেখা যায়। তবে লেনদেনের গতি ছিল কম। আর বছরটির প্রথম
চার মাস পার হতেই লেনদেনের পাশাপাশি মূল্য সূচকেও নেতিবাচক প্রবণতা
দেখা যায়। নির্বাচনের বছর হওয়ায় সেই নেতিবাচক প্রবণতা বছরের প্রায়
সময়জুড়ে অব্যাহত থাকে। তবে নির্বাচনের আগের সপ্তাহে হঠাৎ করেই টানা
ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। কিন্তু লেনদেনের গতি ছিল কম।
এ পরিস্থিতিতে এক প্রকার শঙ্কার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। নির্বাচনের
পরের কার্যদিবসেই উলম্ফন দেখা যায় মূল্য সূচকে। তার পরের কার্যদিবসে
সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি গতি আসে লেনদেনেও। ফলে নির্বাচনের পর
প্রথম ছয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক
বেড়েছে ৩৮৫ পয়েন্ট।
এর মধ্যে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের পরিবর্তে আ হ ম
মুস্তফা কামালের নাম ঘোষণা আসার দিন ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক
ডিএসইএক্স বাড়ে ৯৭ পয়েন্ট। নতুন অর্থমন্ত্রীর শপথ নেয়ার পরের কার্যদিবসে
সূচক বেড়েছে ১১৭ পয়েন্ট, যা গত দশ মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ উত্থান।
সূচকের বড় উত্থানের সঙ্গে লেনদেন পৌঁছে গেছে হাজার কোটি টাকার ঘরে।
ডিএসইর এক সদস্য বলেন, রাজনৈতিক হানাহানি ছাড়া নির্বাচন হওয়া
এবং সরকারের ধারাবাহিকতা দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই ইতিবাচক। এর সঙ্গে
অর্থমন্ত্রী পরিবর্তন হওয়া পুঁজিবাজারের জন্য সব থেকে ভালো সংবাদ। কারণ
আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকলে কখন কী বলে ফেলেন তার ঠিক নেই।
তিনি হয়তো হঠাৎ এমন মন্তব্য করে ফেলতেন যে, ভালো বাজারও খারাপ হয়ে যেত।
অতীতে অনেকবার এমন ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার খুবই সেনসেটিভ (স্পর্শকাতর)। গুরুত্বপূর্ণ
ব্যক্তিদের যেকোনো মন্তব্যে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, আবার
মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে। আমরা আশা করছি নতুন অর্থমন্ত্রী
পুঁজিবাজার নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। বরং বাজারের উন্নয়নে
ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রাখবেন। পুঁজিবাজারের ওপর নতুন অর্থমন্ত্রীর যথেষ্ট
জ্ঞান রয়েছে।
জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল
ইসলাম বলেন, ‘মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হওয়ায়
পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন অদূর
ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে চাপ আসবে না। অর্থনীতি একটি স্বস্তিকর পরিবেশে
আছে। সমস্যা আছে শুধু ব্যাংক খাতে। ব্যাংকের পিই রেশিও (মূল্য আয়
অনুপাত) যথেষ্ট কম। সুতরাং এ খাতে বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘টানা উত্থানের কারণে বাজার যে অবস্থায় এসেছে তাতে উদ্বেগের
কোনো কারণ নেই। তবে দেখতে হবে বাজারে কারসাজি আছে কিনা এবং
খারাপ শেয়ারের দাম বাড়ছে কিনা। সেই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে বাজারে যাতে
২০১০ সালের মতো আবার বুদবুদ সৃষ্টি না হয়।’
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক এ
চেয়ারম্যান বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ ঊর্ধ্বমুখী বাজারে
বিনিয়োগকারীদের বাছ-বিচার করে বিনিয়োগ করতে হবে। কোম্পানির
আর্থিক অবস্থা খতিয়ে দেখে বিনিয়োগ করতে হবে। জেড গ্রুপের শেয়ার
কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী পরিবর্তনের সঙ্গে পুঁজিবাজারে কোনো প্রভাব আছে কিনা-
এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী
পরিবর্তনের কারণে পুঁজিবাজারে খুব বড় ধরনের ভূমিকা আছে কিনা এ
বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের অধ্যাপক
ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাজারে যে উত্থান হয়েছে তা স্বাভাবিক। অর্থমন্ত্রী
পরিবর্তন হয়েছে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে; এতে
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালে বাংলাদেশের
ক্যাপিটাল ফ্লো বাড়বে। আর্থিক খাতে যে সঙ্কট ছিল তা অনেকখানি লাঘব
হবে। অর্থমন্ত্রী পরিবর্তন মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চ্যালেঞ্জ হবে বাজারকে কুলডাউন করা।
সরবরাহ ব্যবস্থাকে ফ্লেক্সিবল করা, নতুন নতুন শেয়ার নিয়ে আসা। যাতে
বিনিয়োগকারীদের চাহিদা পূরণ করা যায়। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের
হুজুগে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কোম্পানি দেখে
বিনিয়োগ করতে হবে। কিছুতেই জাঙ্ক বা বাজে কোম্পানিতে বিনিয়োগ
করা ঠিক হবে না।’
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের পর সরকারের
ধারাবাহিকতার একটি প্রতিফলন বাজারে পড়ছে এবং অংশগ্রহণ বাড়ছে।
আমি বাজারের বর্তমান চিত্রকে পজেটিভভাবে দেখছি। এটাকে ধরে রাখতে হবে।
এজন্য ভালো ভালো শেয়ার আনতে হবে। সেই সঙ্গে আজেবাজে শেয়ার নিয়ে
খেলাধুলা করা শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের
মৌলিক শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। মৌলিক শেয়ারে বিনিয়োগ করলে
বিনিয়োগকারীরা ঠকবেন না।’

বিপিএলের সময় বদলে
যাচ্ছে আজ থেকে
স্পোর্টস ডেস্ক
শীত মৌসুম আর সন্ধ্যার পর শিশির পড়ার কারণে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের
(বিপিএল) সময় সূচি আগেই এগিয়ে আনা হয়েছিল। দিনের ম্যাচ শুরু করা
হয়েছিল দুপুর সাড়ে ১২টা এবং বিকালের ম্যাচ শুরু করা হয়েছিল বিকাল সোয়া
৫টা থেকে।

তবে, বিপিএলের ৮ ম্যাচ যেতে না যেতেই সূচিতে পরিবর্তন আনলো
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। দিনের ম্যাচগুলোর শুরুর সময় পিছিয়ে দেয়া হলো এক
ঘণ্টা করে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১২ জানুয়ারি, অর্থাৎ আজ শনিবার থেকে
দিনের ম্যাচ শুরু হবে দুপুর দেড়টা থেকে। আর বিকালের ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে
৬টা থেকে।
আবার প্রতিটি ম্যাচের সেশনওয়াইজ সময়ও ভাগ করে দেয়া হয়েছে। অর্থ্যাৎ,
দিনের প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসের সময় শুরু হবে ১.৩০ থেকে শেষ হবে ৩টায়।
দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হবে ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে, অর্থাৎ ৩.২০ থেকে। শেষ হবে
৪টা ৫০ মিনিটে।
একইভাবে দ্বিতীয় ম্যাচের প্রথম ইনিংস শুরু হবে ৬টা ৩০ মিনিটে। শেষ হবে
৮টায়। ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হবে ৮টা ২০ মিনিটে
এবং শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় ৯ টা ৫০ মিনিটে।

ব্যর্থ হলে দায়িত্ব নিয়ে
মন্ত্রণালয়ে থাকব না
Ñভূমিমন্ত্রী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ভূমিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে চট্টগ্রাম ফিরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী
জাবেদ বলেছেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়কে টপ ফাইভে নিয়ে যেতে চাই। এটা আমার
চ্যালেঞ্জ। এটা আমি অবশ্যই অর্জন করব। কোনো ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে আমি
মন্ত্রণালয় থাকব না। দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স থাকবে। মন্ত্রণালয়ে একটা
বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনব।’
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথমবার চট্টগ্রাম এসে
সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে কাজের অনেক সুযোগ আছে। এটা জনগণকে
সেবা দেয়ার মন্ত্রণালয়। আমাদের যে টিম আছে, ডিসিসহসংশ্লিষ্ট যারা
আছেন, তাদের সবাইকে নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়কে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে
যাব।’
এ সময় চট্টগ্রামবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ
বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, বিশ্বস্ততার মাধ্যমে সেই
গুরুদায়িত্ব যেন পালন করতে পারি। ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারের যে এজেন্ডা আছে,
সেটা বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয় সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’
অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো.
ইলিয়াস হোসেন ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর
রহমান।
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা ও
কর্তফুলী) আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তিনি প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা
আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সন্তান।

নির্বাচন নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের
সংলাপের দাবি হাস্যকর
Ñকাদের
সবুজ সিলেট ডেস্ক
নির্বাচন নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের দাবিকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল
মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় ফ্লাইওভার ও চার লেন সড়কের নির্মাণ পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষণে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্ব একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বীকৃতি
দিয়েছে। দুনিয়ার সব গণতান্ত্রিক দেশই বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে
স্বীকৃতি দিয়েছে, প্রশংসা করেছে। এমতাবস্থায় এ নির্বাচন নিয়ে
জাতীয় সংলাপের দাবি হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।’
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ কী বললো সেটা
হলো বড় কথা। তারা (বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট) কী বললেন তাতে আমাদের কিছু
আসে যায় না। ‘৭০-এর পর নৌকার পক্ষে এমন গণজোয়ার কেউ আর দেখেনি।
জনগণ বিপুলভাবে শেখ হাসিনার উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং সততার পক্ষে রায়
দিয়েছেন। এই নির্বাচন যদি তারা মনে করে সঠিক নয় তারা বলতেই পারে।
আমরা বলবো দেশের জনগণ বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ-মহাজোটকে জয়ী
করেছে। কাজেই এই নির্বাচন নিয়ে কোনোও প্রশ্ন পৃথিবীর কোথাও নেই
এবং বাংলাদেশেও নেই। জনগণের মাঝেও নেই। তাদের জনগণ ভোট না দিয়ে
প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন তারা নানা দাবি জানিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ
করার চেষ্টা করছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারা যে সংসদে নির্বাচিত হয়ে আসবে না এমন সিদ্ধান্ত
নিয়েছে, এটাও তো অবৈধ। এটার কি বৈধতা আছে? জনগণের রায়কে যারা
অসম্মান করেছে সেটা কি বৈধ? আমি যদি প্রশ্ন করি কি জবাব তারা দেবে।
তারা আগে সংসদে আসুক। অধিবেশনে যোগ দিক। ৩০ তারিখ আমি তাদের
আহ্বান করছি সংসদে যোগ দেওয়ার জন্য।’
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী বলেন, সড়ক মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে
আনতে হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে নোটিশ দিয়ে সড়ক মহাসড়কে
অবৈধ পার্কিং অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন
খান, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী,
নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুদ্দিন, গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল
ইসলাম, স্থানীয় প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গারা ভারত থেকে

পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ভারতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে পাঠানোর
উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি সাত
রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তরও করা হয়। বিষয়টি সেখানে আশ্রয়
নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। মিয়ানমারে ফিরে আবার
নির্যাতনের মুখে পড়ার ভয়ে আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে
প্রবেশ করছে। সরেজমিন গিয়ে এবং টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের
নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা মিলেছে।
উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ রেজাউল করিম ভারত
থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি
বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে ভারত থেকে পালিয়ে আসা ৭৪ জন রোহিঙ্গাকে
ট্রানজিট পয়েন্টে রাখা হয়েছে। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আরও ১৮
জন রোহিঙ্গা ভারত থেকে এসেছে। তাদের যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া
যাবে। শুনেছি অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশে করেছে, তবে এ বিষয়ে
নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গত ১০
দিনে ১১১টি রোহিঙ্গা পরিবারের ৪৬৮ জন সদস্য কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং
রাবার বাগানের কাছের স্থাপিত ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। এরা সবাই ভারত
থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। নতুন আসা এসব সদস্য জাতিসংঘের
শরণার্থী সংস্থার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
ভারত থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা পরিবাররোহিঙ্গা নেতারা জানান, গত
কয়েক দিনে ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের কেরাইনটেলা এলাকা থেকে পালিয়ে তিন
পরিবারের ১২ জন রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু নো-
ম্যানস ল্যান্ডে (শূন্যরেখা) ঠাঁই নিয়েছেন। এদের মধ্যে সাত শিশু, দুই নারী ও
তিনজন পুরুষ রয়েছেন। এরমধ্যে টেকনাফের হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা
শিবিরের নুর আলম ও সানজিদাসহ এক পরিবারের পাঁচজন এবং বাহারছড়া
শামলপুর রোহিঙ্গা শিবিরে আজিজ উল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা যুবক ভারতের
জম্মু-কাশ্মির থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় বলে জানিয়েছেন উনচিপ্রাং
রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউছুফ ও টেকনাফ শামলাপুর
রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম।
নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ড রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান দিল
মোহাম্মদ বলেন, ‘তিন দিন আগে জোহর আহম্মদ ও তার স্ত্রীসহ এক পরিবারের
ছয়জন রোহিঙ্গা ভারতের কাশ্মির থেকে পালিয়ে এসে আমার শিবিরে পৌঁছে।
এ বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। তবে বর্তমানে তারা শূন্যরেখায় আশ্রয়
নিয়েছে।’
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, ‘সম্প্রতি ভারত
সরকার সে দেশে আশ্রিত কিছু রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেয়। এই
ভয়ে তারা সে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসছে। তাদের কাছে ভারত ও
ইউএনএইচসিআর-এর দেওয়া আইডি কার্ডও রয়েছে।’
ভারত থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিকে ইউএনএইচসিআর’র দেওয়া আইডি
কার্ডভারতে কাশ্মির থেকে পালিয়ে এসে টেকনাফের বাহারছড়া শামলপুর
রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা যুবক আজিজ উল্লাহ জানান,

তিনি চারদিন আগে ভারত থেকে পালিয়ে টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা
শিবিরের আইয়ুবের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি মিয়ানমারের মংডু
হাসসুরাতা গ্রামের আজিম উল্লাহর ছেলে। আজিম উল্লাহ পরিবার নিয়ে ভারতের
জম্মু-কাশ্মিরের কেরাইনটেলা এলাকায় বসবাস করতেন।
আজিজ উল্লাহ বলেন, ‘ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে পালিয়ে বাংলাদেশে
টেকনাফের শামলাপুর হাতকুলা গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখানে দীর্ঘ ১২
বছর শৈশব জীবন কাটিয়ে পরিবারের সঙ্গে পালিয়ে ভারতের কাশ্মিরের
কেরানিটেলাই এলাকায় চলে যাই।’ সেখানে তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গার
বসতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, ‘ভারতের কাশ্মীরে লোহার দোকানে দিনমজুরি করে সংসার চলত।
তবে অনেক সময় কাজের টাকা মিলত না। ফলে সংসার চালাতে কষ্ট হতো।
তাছাড়া সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে,
সেই ভয় সব সময় কাজ করছিল।’
ভারত থেকে আসা এক ব্যক্তির কাছে ছিল ইউএনএইচসিআর’র দেওয়া আইডি
কার্ডআজিজ উল্লাহর বর্ণনা মতে, ভারতের কাশ্মীর থেকে কলকাতা পৌঁছাতে
তিন দিন সময় লেগেছে। সেখান থেকে রাতে দালালের মাধ্যমে সাতক্ষীরা এলাকার
একটি ছোট খাল পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে চট্টগ্রামের
গাড়িতে করে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছে
মামা মোহাম্মদ আইয়ুবের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ভারতে স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে
এসেছেন তিনি।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি টেকনাফ শামলাপুর
রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ বদুর রহমান বলেন, ‘ভারতের কাশ্মীর থেকে পালিয়ে
রোহিঙ্গা শিবিরে এক যুবক আশ্রয় নেওয়ার খবর শুনেছি। এ বিষয়ে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’
টেকনাফ শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, চারদিন
আগে ভারত থেকে এক রোহিঙ্গা যুবক পালিয়ে এসে শিবিরে আশ্রয়
নিয়েছেন। তার কাছে সে দেশের ইউএনএইচসিআর কর্তৃক প্রদত্ত কার্ড
রয়েছে।
তিনি বলেন, এই রোহিঙ্গা শিবিরে ২ হাজার ৬২৫ পরিবারে ১৩ হাজার ৭০ জন
রোহিঙ্গা রয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ শিশু ও নারী।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, চলতি মাসে ভারত
থেকে পালিয়ে আসা প্রায় অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা সদস্য পুলিশের হাতে ধরা
পড়েছে। এদের বেশিরভাগই শিশু ও নারী। এসব রোহিঙ্গাকে নাইক্ষ্যংছড়ির
ঘুমধুম ট্রানজিট পয়েন্টে রাখা হয়। পরে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা
শিবিরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩০ সে.মি
বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা
সবুজ সিলেট ডেস্ক

পূর্ববর্তী হিসাবের চেয়েও দ্রুততর গতিতে উষ্ণ হচ্ছে বিশ্বের সমুদ্রগুলো।
এতে বিশ্ব চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ
অবস্থা চলতে থাকলে এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৩০
সেন্টিমিটার বেড়ে যেতে পারে। গত বৃহস্পতিবার সায়েন্স সাময়িকীতে
প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন আভাস দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রতিবেদনটি তৈরি করার ক্ষেত্রে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত
প্রকাশিত হওয়া চারটি গবেষণা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে
সামুদ্রিক তাপমাত্রাজনিত বিভিন্ন পরিমাপ ও এগুলোর মধ্যকার তারতম্যজনিত
গোলযোগগুলো সংশোধন করা হয়েছে। সমুদ্রের ওপর জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত
প্রভাব নির্ণয়ের জন্য অতীতের গবেষণাগুলোতে স্যাটেলাইট মনিটরিং,
পানিতে ব্যবহারযোগ্য রোবট ও জাহাজের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। গত দশকে
আরগো নামে ৪০০০ রোবটের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমুদ্রের তাপমাত্রা,
লবণাক্ততা ও অম্লকরণের নজিরবিহীন তথ্য পাওয়া গেছে। ভিন্ন ভিন্ন মেথডলজি
ব্যবহার করে করা চারটি গবেষণা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন গবেষকরা।
নতুন বিশ্লেষণে সামুদ্রিক উষ্ণতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলে
দাবি করেছেন তারা।
নতুন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সমুদ্রগুলো এতো বেশি পরিমাণ উষ্ণতা
শুষে নিতে পারে যে সেগুলো ঠান্ডা হতে কয়েক দশক লেগে যাবে। তাছাড়া উষ্ণতা
বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন সহসা বন্ধ হওয়ারও কোনোও
সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সমুদ্রের উষ্ণতা ক্রমাগত বাড়ছে। গবেষক জেকে
হাউসফাদার বলেন, ‘পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে উষ্ণতার মাত্রার রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৮
সাল ছিল চতুর্থ উষ্ণতম বছর। আর সমুদ্রের উষ্ণতার রেকর্ড বিবেচনা করলে এটি
নিশ্চিতভাবে উষ্ণতম বছর। এর আগে, সমুদ্রের উষ্ণতার দিক দিয়ে ২০১৬ সাল ও
২০১৭ সালও উষ্ণতম বছর বিবেচিত হয়েছিল। ভূপৃষ্ঠ বেশি উষ্ণ হচ্ছে নাকি
সমুদ্র বেশি উষ্ণ হচ্ছে তা বৈশ্বিক উষ্ণতা দিয়ে সহজে শনাক্ত করা যায়।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রিন হাউস গ্যাসের কারণে বায়ুমন্ডলে যতটুকু
অতিরিক্ত এনার্জি আটকে থাকে তার দশ ভাগের ৯ ভাগেরও বেশি অংশ সমুদ্র শুষে
নেয়। বিশ্বের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তা বড় ভূমিকা রাখে। গবেষকদের দাবি,
সমুদ্র উষ্ণ হওয়ার কারণে সেখানকার পানির থার্মাল এক্সপানশন হবে। এতে পানির
আকার আয়তন বেড়ে যাবে, এর জন্য বেশি জায়গার প্রয়োজন হবে। এ কারণে এ
শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে যেতে পারে।
তবে বিশ্বের জলবায়ু ব্যবস্থায় অনেকদিন পর্যন্ত সমুদ্রের ভূমিকাকে
বিবেচনায় নেওয়া হতো না। পর্যাপ্ত তথ্যের ঘাটতি ও সামুদ্রিক পরিবেশে
গবেষণাজনিত জটিলতার কারণে তা সম্ভব হতো না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে
বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের পুরোপুরি গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন।
সম্প্রতি প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস
সাময়িকীতেসমুদ্রের উষ্ণতাবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সেখানে গবেষকরা দাবি করেন, মানুষ কর্তৃক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত
করার মধ্য দিয়ে যতটুকু যে পরিমাণ উষ্ণতা তৈরি হয় তার ৯০ শতাংশেরও বেশি
সমুদ্রগুলো শুষে নেয়। আর বাকি সামান্য উষ্ণতা বাতাস,ভূমি ও মেরু অঞ্চলের বরফ
খন্ডকে উষ্ণ করে। যে বিপুল পরিমাণ এনার্জি সমুদ্রে যুক্ত হচ্ছে তা
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে আরও শক্তিশালী রূপে হাজির হচ্ছে

হারিকেন ও টাইফুন। গবেষণায় সমুদ্রের সঞ্চালন সংক্রান্ত কম্পিউটার মডেল
ব্যবহার করে ১৮৭১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সমুদ্রের পৃষ্ঠভাগের
তাপমাত্রার পরিমাপগুলোকে সমন্বিত করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি
বিশ্লেষণের পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান দাবি করে, বৈশ্বিক উষ্ণতা
বৃদ্ধিজনিত কারণে গত দেড়শ’ বছরে সমুদ্র উত্তপ্ত হওয়ার বাৎসরিক হার সেকেন্ডে
একটি আণবিক বোমা বিস্ফোরণের সমতুল্য।

জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত
পাঠাতে আরও প্রমাণ চায় মালয়েশিয়া
সবুজ সিলেট ডেস্ক
বিতর্কিত ইসলামিক বক্তা জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানোর আগে
নয়াদিল্লির কাছ থেকে অভিযোগের বিষয়ে প্রমাণ চেয়েছে মালয়েশিয়া। গত
বৃহস্পতিবার ভারত সফররত মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম
মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে এক পার্শ্ববৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন। ভারতীয়
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তরুণদের সন্ত্রাসবাদে উসকানি, ঘৃণাবাদী বক্তব্য ও
সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ এনেছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা
(এনআইএ)। ২০১৬ সালে ঢাকায় গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি
হামলাকারীরা জাকির নায়েকের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়ার
দাবি করে এনআইএর তদন্তকারীরা। হামলাকারী তরুণদের ঘৃণাবাদী বক্তব্যের মাধ্যমে
অনুপ্রাণিত করার অভিযোগেরও তদন্ত চলছে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে। দুই বছর
আগে ভারত ছেড়ে যাওয়া জাকির এখন সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় বসবাস
করছেন। বিগত নাজিব রাজাকের নেতৃত্বাধীন মালয়েশিয়ার সরকার জাকির
নায়েককে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়। গত বছর তাকে ফেরত পাঠানোর
অনুরোধ জানায় ভারত। মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভারতের বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকলেও
গত বছরের জুলাইয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন,
জাকির নায়েকের মামলায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
গত বৃহস্পতিবার আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রী
মাহাথির মোহাম্মদ এরইমধ্যে এই বিষয় খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন। আমরা এই
মামলায় ভারতের কাছ থেকে আরও যুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। কারণ, মালয়েশিয়া
সরকারের কাছে এখন শুধু তাকে (নায়েক) ভারতে ফেরত পাঠানোর একটি অনুরোধ
করা হয়েছে।’
ইব্রাহিম বলেছেন, মালয়েশিয়া এখন যা চায় তা হলো জাকির নায়েককে ফেরত
পাঠানোর অনুরোধের বিষয়ে ‘নথি ও কারণ’ সরবরাহ করুক ভারত। তিনি বলেন,
আমার মনে হয় মালয়েশিয়া সরকারের এটা খতিয়ে দেখতে চাওয়াকে আপনারা
অবশ্যই প্রশংসা করবেন। মামলার বিষয়টি উল্লেখ করেছে ভারত। আমরা এটাকে
সম্মান করি। কিন্তু মালয়েশিয়া সরকারের এটা খতিয়ে দেখা উচিত এবং পরীক্ষা-
নিরীক্ষা করে দেখা দরকার। আমি যদিও এখন এই সরকারে নেই, তবুও আমি বুঝতে
পারছি মাহাথির ব্যক্তিগতভাবে ঘটনাটি খেয়াল রাখছেন।

ভারত প্রমাণ সরবরাহ করলে মালয়েশিয়া ব্যবস্থা নেবে কিনা প্রশ্নের জবাবে
তিনি বলেন, আমার মনে হয় এই পর্যায়ে মালয়েশিয়া নথির জন্য অপেক্ষা করছে।
যদি তারা বলে এরইমধ্যে সেসব সরবরাহ করা হয়ে গেছে তাহলে মালয়েশিয়া
ইতিবাচকভাবেই এটা দেখবে। তারপর সরকার নিশ্চিতভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত
নেবে।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর ইব্রাহিম বলেন,
তিনি ভারতীয় নেতার কাছে এটা স্পষ্ট করেছেন, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে
কোনোভাবেই সমর্থন বা ক্ষমা করবে না মালয়েশিয়ার সরকার।
মোদির সঙ্গে বৈঠকে ইব্রাহিম দ্বিপক্ষীয়, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও
বৈশ্বিক বিষয়গুলো আলোচনা করেন। ইব্রাহিম মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোটের
প্রধান রাজনৈতিক দল পার্টি কেয়াদিলান রাকিয়াতের প্রেসিডেন্ট
নির্বাচিত হওয়ায় মোদি তাকে অভিনন্দন জানান।
গত বছর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আনোয়ার ইব্রাহিম ও মাহাথির
মোহাম্মদের জোট পাকাতান হারাপান জয়লাভ করে। মাহাথির প্রধানমন্ত্রীর
দায়িত্ব নিয়ে গত বছর কারাগার থেকে ইব্রাহিমকে মুক্ত করেন। জোট গঠনের
শর্ত অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে মাহাথির সরে গেলে ইব্রাহিমই মালয়েশিয়ার
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। তবে এখন এই পরিবর্তনের জন্য কোনোও সময়সীমা
নির্দিষ্ট করতে চান না ইব্রাহিম। তিনি বলেন, সঠিক সময়েই আমি
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবো।

সংরক্ষিত নারী আসনে
আলোচনায় যারা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
মন্ত্রিসভার মতো সংরক্ষিত নারী আসনেও চমক দেখাতে পারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী
লীগ।
নির্বাচন এবং সরকার গঠনের পর একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী (মহিলা)
আসনে কারা থাকছেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে
জয়ী এমপিরা এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন। গঠন করা হয়েছে মন্ত্রিসভা।
২৫৭টি আসনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টানা
তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে। আর বিরোধী দলে থাকছে ২২টি
আসনে জয়ী এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টি।
একাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ জানুয়ারি শুরু
হবে। অধিবেশন শুরুর আগেই সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের সদস্যরা নির্বাচিত
হতে পারেন। দ্রুতই এ নারী আসনের নির্বাচন এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে
বলে জানা গেছে।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী-
‘সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার
তারিখের পরবর্তী ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের (৩) দফার
অধীন সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন সাধারণ

আসনে নির্বাচিত সদস্যদের রাজনৈতিক দল বা জোটওয়ারী সদস্যদের পৃথক
পৃথক তালিকা প্রস্তুত করবে।’
গত ২ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট
প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরের দিন (৩ জানুয়ারি) এমপিরা শপথ
নেন। গত ৭ জানুয়ারি শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
নির্বাচন কমিশন সংসদের কোনো সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল
সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখ থেকে পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে
সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন
সম্পন্ন করবে এবং এই লক্ষ্যে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা মনোনয়ন পত্র
দাখিল, বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ এবং ভোট গ্রহণের স্থান ও
তারিখ নির্ধারণপূর্বক নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করবে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের
জানিয়েছেন, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য আগামী সপ্তাহে
তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের উদ্দেশ্যে, নির্বাচন কমিশন, ধারা ৩ এর
অধীন প্রকাশিত রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের তালিকার ভিত্তিতে প্রত্যেক
তালিকার অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের মোট আসন সংখ্যার আনুপাতিক হার অনুযায়ী
এই ধারার বিধান অনুসারে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও জোটের অনুকূলে
সংরক্ষিত মহিলা আসনসমূহ বণ্টন করবে।
সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহণকারী
সকল ব্যক্তি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ভোটার হবেন।
সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ-সদস্য থাকার জন্য
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো নারী
সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হতে পারবেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন অনুযায়ী সংরক্ষিত ৫০টি
আসনের মধ্যে ৪৩টি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ৪টি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট
১টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে ২টি আসন পাবে। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের
নির্বাচিত এমপিরা এখনও শপথ নেয়নি। ফলে সংরক্ষিত নারী আসনে তাদের
মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা এরশাদ চারজনের একটি তালিকা করে স্পিকার ড.
শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন। তারা হলেন- পারভীন ওসমান
(নারায়ণগঞ্জ), ডা. শাহীনা আক্তার (কুঁড়িগ্রাম), নাজমা আখতার (ফেনী) ও
মনিকা আলম (ঝিনাইদহ)।
তবে নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কারা পাচ্ছেন তা এখনো জানা না
গেলেও তালিকায় রয়েছেন দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের কয়েকজন
সংসদ সদস্য, সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী, শিক্ষিকা, উদ্যোক্তা, অভিনেত্রী, শিল্পী ও
ব্যবসায়ী।
ইতোমধ্যেই তারা মনোনয়ন পেতে জোর লবিং শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের
সিনিয়র নেতাদের সাথে দেখাও করছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইডেন কলেজ শাখার
সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন ও বিধি উপকমিটির সদস্য
ড. নুরুন্নাহার নুপুরের নাম আলোচনায় রয়েছে। ঢাকা-৭ আসন থেকে

সরাসরি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দলের সভানেত্রীর কথায় সরে
দাঁড়ান তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও মহিলা
আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেত্রী অ্যাডভোকেট
জান্নাতুল ফেরদৌস রুপার মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। জান্নাতুল
ফেরদৌস রুপা ওয়ান ইলেভেনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী
লীগের নেতাদের আইনি সহায়তা দেন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
বগুড়া-৫ আসন থেকে মনোনয়ন তুলেছিলেন। পরে দলীয় নির্দেশে তার মনোনয়ন
প্রত্যাহার করে নেন এবং বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগের মনোনীত
প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালান। তার এলাকার সমর্থকরা নারী আসনে
মনোনয়ন দিতে জোর দাবি জানাচ্ছেন।
দশম জাতীয় সংসদের কয়েকজন সদস্য পুনরায় থাকতে পারেন। এদের মধ্যে বর্তমান
তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, মাহজাবিন খালেদ, সাবিনা আক্তার তুহিন,
অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি, নূর জাহান
বেগম মুক্তার নাম শোনা যাচ্ছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বাস্থ্য
উপকমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের
সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক
বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফা
আক্তার পপি, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক,
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরীন রোখসানা, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা
আক্তার, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, অরুণা বিশ্বাস, নাট্যাভিনেত্রী শমী
কায়সার ও রোকেয়া প্রাচীর নামও আলোচনায় রয়েছে।

‘আগামী পাঁচ বছর হবে
বাঙালি জাতির চমকপ্রদ’
সবুজ সিলেট ডেস্ক
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি বলেন,
বলেন, আগামী পাঁচ বছর হবে বাঙালি জাতির জীবনের অত্যন্ত চমকপ্রদ বছর,
সারা পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দেবার সময়। গ্রামগঞ্জে সকল ক্ষেত্রে উন্নত
জীবনের সকল সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য সে
লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাবো।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
নেতৃত্বে আমাদের লক্ষ্য হল উন্নত বাংলাদেশ গড়া। আর উন্নত বাংলাদেশ গড়তে
হলে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোটি কোটি মানুষের জীবনের মান
উন্নতি করতে হবে। গ্রামকে উন্নতি করতে না পারলে শহর উন্নয়নের মাধ্যমে
উন্নত বাংলাদেশ গড়া যাবে না।
মন্ত্রীসভায় শপথ গ্রহণের পর গতকাল শুক্রবারই প্রথম তার নির্বাচনি এলাকা
লাকসাম-মনোহরগঞ্জে আসেন। এ সময় সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায়
তিনি এসব কথা বলেন।

শপথ নেয়ার পর নিজ নির্বাচনি এলাকায় এটাই তার প্রথম সফর। পরে মন্ত্রী নিজ
বাড়ি মনোহরগঞ্জের পোমগাঁও গ্রামে তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং
দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় জেলা প্রশাসক আবুল
ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দলীয়
নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্স
ভিসা ছাড়াই ৪১ দেশে যেতে
পারেন বাংলাদেশিরা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
বাংলাদেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ৪১টি দেশে যেতে পারেন। যেখানে আগে
যাওয়া যেত ৩৮ দেশে। অর্থাৎ এই দেশগুলোতে ভ্রমণ করতে কোনো ধরনের ভিসা
লাগে না, কেবল পাসপোর্ট থাকলেই চলবে।
বিশ্বের ১০৪টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে একটি মূল্যায়ন সূচক তৈরি করেছে
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘দ্য হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্স’।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) ভ্রমণ তথ্যভান্ডারের
সহযোগিতা নিয়ে প্রতিবছরের মতো এ সূচক তৈরি করেছে তারা। এতে
বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
দ্য হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রকাশিত ওই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান
৯৭তম। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে বিশ্বের ৪১টি দেশে
ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করা যাবে। তাদের তালিকা নিচে দেয়া হলো।
এশিয়ার মধ্যে রয়েছে : ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পূর্ব
তিমুর।
আফ্রিকার মধ্যে রয়েছে : বেনিন, কেপ ভার্দ, কমোরো দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি,
গাম্বিয়া, গিনি বিসাউ, কেনিয়া, লেসোথো, মাদাগাস্কার,
মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, সিসিলি, সোমালিয়া, টোগো ও
উগান্ডা।
আমেরিকার মধ্যে রয়েছে : বলিভিয়া। ওশেনিয়া অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে : কুক
আইল্যান্ডস, ফিজি, মাইক্রোনেশিয়া, নিউই, সামাউ, ত্রিভালু ও ভানুয়াতু।
ক্যারিবীয় অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে : বাহামা, বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া
আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জামাইকা, মন্টসেরাত, সেন্ট
কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট ও ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগো।

৪০ তম বিসিএস
প্রিলিমিনারি
পরীক্ষা এপ্রিলে
সবুজ সিলেট ডেস্ক

৪০ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী এপ্রিল মাসে হতে পারে।
সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্ম কমিশন
(পিএসসি) পিএসসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক।
মোহাম্মদ সাদিক সাংবাদিকদের জানান, এই বিসিএসে সর্বোচ্চসংখ্যক
প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এপ্রিল মাসের মধ্যে
প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু ওই সময়ে এসএসসি ও
এইচএসসি পরীক্ষা আছে। এর ফাঁকে কীভাবে পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে নেয়া যায়
তার জন্য আমরা কাজ করছি।
গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ৪০ তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রথম
শ্রেণির ক্যাডার সার্ভিসের চাকরির জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ৩০ সেপ্টেম্বর
থেকে। এই বিসিএসে মোট ১ হাজার ৯০৩টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৪
লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী।
পিএসসিতে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর আবেদনের রেকর্ড এটি। কীভাবে এত
প্রার্থীর পরীক্ষা নেয়া যায়, সে জন্য এখন পরিকল্পনা করছে পিএসসি।
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রশাসন ক্যাডারে ২০০, পুলিশে ৭২, পররাষ্ট্রে ২৫, করে ২৪, শুল্ক
আবগারিতে ৩২ ও শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় ৮০০ জন নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে।

ভোটের রাতে ধর্ষণ
আরেকজন গ্রেপ্তার
সবুজ সিলেট ডেস্ক
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভোটের রাতে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায়
আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হেঞ্জু মাঝি (২৯) সুবর্ণচর
উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে।
গতকাল শুক্রবার ভোরে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আবুল খায়ের জানান।
গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে স্বামী-
সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
চরজব্বার থানায় ওই নারীর স্বামীর দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা
তার বসতঘরে ভাঙচুর করে, ঘরে ঢুকে বাদীকে পিটিয়ে আহত করে এবং
সন্তানসহ তাকে বেঁধে রেখে দলবেঁধে ধর্ষণ করে তার স্ত্রীকে।
এ মামলার এজাহারে আসামি না হলেও পুলিশের তদন্ত এবং আসামিদের
জবানবন্দিতে হেঞ্চুর জড়িত থাকার প্রমাণ উঠে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তাকে নিয়ে এ মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
ওসি বলেন, “ঘটনার পর হেঞ্চু এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে
বাসের চালকের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করে। গোপন খবরে গোয়েন্দা পুলিশের
একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।”
হেঞ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে
এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান। জানান।
ওই নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা
কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার
সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘সাঙ্গপাঙ্গরা’ বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।

মামলার এজাহারে মোট নয়জনকে আসামি করা হলেও সেখানে চর জুবলী
ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য রুহুল আমিনের নাম না থাকায়
বুধবার রাতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকের কাছে
হতাশা প্রকাশ করেন ওই নারী। এরপর সেই রাতেই জেলা সদরের একটি হাঁস-
মুরগীর খামার থেকে রুহুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই নারীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে জানিয়ে প্রতিবেদন
দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। নোয়াখালী হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
এ মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে বাদশা আলম বাসু, রুহুল আমিন, জসিম উদ্দিন,
হাসান আলী ভুলু, মো. সোহেল, স্বপন, বেচু ও মুরাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য
পাঁচদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলন
‘ডেল্টা প্ল্যান’ নিয়ে
গণশুনানির প্রস্তাব
সবুজ সিলেট ডেস্ক
পানি ও ভূসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের
নেওয়া ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ চূড়ান্ত করার আগে আর্থসামাজিক অবস্থা
যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ এসেছে পরিবেশ বিষয়ক একটি সম্মেলনে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এবং
বাংলাদেশের স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন’ শীর্ষক এই বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, “পরিবেশ ও
জলবায়ুর পরিবর্তন আমাদের জন্য বড় বিপর্যয়ের সংবাদ। মানুষ যদি এই যুদ্ধে
জয়লাভ করতে না পারে, যদি জলবায়ু পরিবর্তনের আক্রমণ প্রতিহত করতে না পারি,
তবে বাংলাদেশের মানুষকে বড় খেসারত দিতে হবে।”
‘ডেল্টা প্ল্যান’নামে বেশি পরিচিত শতবছরের এ মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার
আগে একটি গণশুনানির প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের
প্রধান আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
তিনি বলেন, “অত্যন্ত বড় এক সমস্যা সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদী এই পরিকল্পনা
প্রণয়ন করা হয়েছে। আমি মনে করি, এতে অংশীজনের আরো অনেক মতামতের
প্রয়োজন রয়েছে।”
আওয়ামী লীগের গত সরকারের শেষ সময়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের
(এনইসি) সভায় ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
ডেল্টা প্ল্যানে বলা হয়েছে, নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান
অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে
প্রতিবছর জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আড়াই শতাংশের মত অর্থের
প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ অর্থায়ন বেসরকারি খাত থেকে
এবং ২ শতাংশ সরকারি খাত থেকে যোগান দিতে হবে।
এ বিনিয়োগ যেন সঠিক ধারায় সঠিক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়, তা নিশ্চিত করার
ওপর জোর দেন সম্মেলনে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন,
“অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা ক্ষেত্রের মতো বাস্তু পরিবেশ নিয়ে ভাবতে
হবে। বাস্তু পরিকল্পনাও সুচিন্তিত হওয়া জরুরি।”
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পন প্রণয়ণের সঙ্গে
যুক্ত রয়েছেন জ্যেষ্ঠ সচিব শামসুল আলম। তিনিও উপস্থিত ছিলেন এ সম্মেলনে।
শামসুল আলম বলেন, দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনা প্রণয়ণের আগে তারা
নেদারল্যান্ডসের মডেল অনুসরণ করেছেন। নেওয়া হয়েছে প্রায় ৩ হাজার বিজ্ঞানীর
অভিমত।
তিনি বলেন, “এটা কোনো স্ট্যাটিক প্ল্যান নয়। এ পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের
সুযোগ রয়েছে।”
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছয় ধরনের জায়গাকে বাংলাদেশ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে,
সেগুলোকে বলা হচ্ছে ‘হটস্পট’।
এগুলো হলো-উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওর এবং আকস্মিক
বন্যাপ্রবণ এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল এবং নগর এলাকা।
ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য এসব এলাকা ঘিরে
৮০টি প্রকল্প নেবে সরকার, যাতে ব্যয় হবে প্রায় ২৯৭৮ বিলিয়ন টাকা।
ব-দ্বীপ পরিকল্পনার শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো নিয়ে সম্মেলনে কথা বলেন দেশি-
বিদেশি পরিবেশবিদরা। পাশাপাশি ‘হট স্পট’ ধারণার উপযোগিতা,
বাংলাদেশের নদ-নদীর ওপর ভারত ও অন্যান্য উজান দেশের হস্তক্ষেপের অভিঘাত নিয়েও
তারা আলোকাপাত করেন।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্রস্তাবিত ব-দ্বীপ কমিশনের সঙ্গে জাতীয়
পরিকল্পনা কমিশন, নদী টাস্কফোর্স, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনসহ অন্যান্য
প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের বিষয়গুলো নিয়েও পর্যালোচনা হবে বলে আয়োজকরা
জানান।

বাংলাদেশের অগ্রগতিতে
সহায়তা করবে ওআইসি
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব ড. ইউসুফ আল-
ওথাইমীন বলেছেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে
যাওয়ার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সকল সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে
ওআইসি।
পুনরায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে পাঠানো এক
অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ সম্পর্কীয় বিষয়ে আপনার
(প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আমি অপেক্ষায়
রয়েছি। বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সকল ধরনের সহায়তার জন্য প্রস্তুত ওআইসি।
ওথাইমীন বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপনার নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির ওপর
বিশ্বাস থাকায় বাংলাদেশি ভোটাররা আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনরায়
নির্বাচিত করেছে। আমি আপনার প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী

যে, আপনি শান্তি, ঐক্য ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের জনগণের আকাক্সক্ষা উপলব্ধি
করে ভবিষ্যতেও এগিয়ে যাবেন।
ওআইসি প্রধান আরও বলেন, টানা তৃতীয়বারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় ওআইসি ও আমার পক্ষ
থেকে আপনাকে আন্তরিক ও উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে
নিয়োগ পাওয়ায় ড. এ কে আবদুল মোমেনকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন
ওআইসি মহাসচিব।
পৃথক বার্তায় ওআইসি মহাসচিব আশা করেন, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক
বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকায় মোমেনের দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ওআইসির মধ্যে
চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।

গান-কবিতা-আলোচনায়
সৈয়দ আশরাফকে স্মরণ
সবুজ সিলেট ডেস্ক
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে অকুতোভয় সৈয়দ আশরাফুল
ইসলামকে গানে, কবিতা ও আলোচনায় স্মরণ করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক
জোট।
গতকাল শুক্রবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আশরাফকে স্মরণ করা হয়।
আশরাফুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সম্মিলিত
সাংস্কৃতিক জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
এসময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ
মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল
হোসেন ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর সৈয়দ হাসান ইমাম জীবনানন্দ দাশের কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে শুরু হয়
স্মরণসভা। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ লিখিত শোকগাথা পাঠ
করেন।
আলোচনা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন
প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের
স্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার। ’৭৫-এর পরবর্তী
সময়ে এটা কঠিন ছিল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তিনি সে কাজ করে
গেছেন। আজকে আমরা আলোর পথে। সেটা অব্যাহত থাকবে।
আয়োজক সংগঠন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম
কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো
ভিসি অধ্যাপক সামাদ, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনসহ
আশরাফ ভক্তরা।
জোটের শিল্পীরা বক্তৃতার মাঝে মাঝে গান কবিতায় সৈয়দ আশরাফের প্রতি
শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রশ্নফাঁস রোধে ডিজিটাল পদ্ধতির
কথা ভাবছে সরকার : শিক্ষা উপমন্ত্রী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
প্রশ্নফাঁস একটা চ্যালেঞ্জ এবং এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার ডিজিটাল
পদ্ধতি কাজে লাগানোর কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদের
নতুন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল)।
গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে
তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টা সব সময়ই একটা চ্যালেঞ্জ।
প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও একটা চ্যালেঞ্জ। প্রশ্ন
ফাঁসের বিষয়টা উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোতেও একটা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জটা
প্রতি বছরই আসবে। প্রত্যেক পরীক্ষার সময়ই আসবে। এই চ্যালেঞ্জটা আমাদের
সকলে মিলে একসাথে মোকাবেলা করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্ন পাঠানোর
বিষয়ে চিন্তা চলছে।
এ সময় নতুন শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় ফিরলে
নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মত
বিনিময়ে, প্রশ্ন ফাঁস বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি অভিবাবকদের সতর্ক
হাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি আগামীদিনে কর্মমুখী শিক্ষার
ওপর জোড় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্স
ছেলেরা জেনে নিন ঠোঁটের
কালোভাব দূর করার উপায়
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ধূমপান এটি বদঅভ্যাস। ধূমপানের অভ্যাসের ফলে শ্বাসনালি বা ফুসফুসের
মারাত্মক ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে আরো নানা রকম জটিল রোগ শরীরে বাসা বাঁধে।
ধূমপানের ফলে ঠোঁট কালো হয়ে যায়। যারা ধূমপান করেন তাদের বেশির
ভাগেরই ঠোঁটে কালচে ছোপ পড়ে যায়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ঠোঁটের এই কালচে দাগ দূর করার কয়েকটি উপায় :
লেবু-চিনি : লেবুর পাতলা একটি টুকরোর উপরে খানিকটা চিনি ছড়িয়ে
দিয়ে রোজ ঠোঁটে মালিশ করুন। চিনি এখানে স্ক্র্যাবের কাজ করবে। চিনি
ঠোঁটের মরা চামড়াগুলোকে ঘষে তুলে দিতে সাহায্য করে আর লেবু ঠোঁটের
কালো হয়ে যাওয়া চামড়াকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
লেবুর রস-গ্লিসারিন : লেবুর রসের সঙ্গে খানিকটা গ্লিসারিন মিশিয়ে
প্রতিদিন অন্তত দুবার করে ঠোঁটে মাখুন। দিন দশেকের মধ্যেই উপকার চোখে
পড়বে।
মধু-চিনি-বাদাম তেল

মধু, চিনি আর বাদামের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি
দিয়ে নিয়মিত ঠোঁটে মালিশ করুন। এই মিশ্রণ আপনার ঠোঁটের উজ্জ্বলতা
বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার কোমলতাও বাড়াবে।
টমেটোর রস : প্রতিদিন অন্তত দু’বার করে টমেটোর রস ঠোঁটে মাখুন। এতে
আপনার ঠোঁট উজ্জ্বল হবে।
চিনি-মধু : মধুর আর চিনির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে
মিনিট দশেক আলতোভাবে ঠোঁটে মাখুন। এই মিশ্রণ আপনার ঠোঁটকে
উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
দুধ-টক দই : ঠোঁটকে উজ্জ্বল করতে ল্যাক্টিক অ্যাসিড খুবই উপকারী। দুধ বা
টক দইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ল্যাক্টিক অ্যাসিড। দুধ বা টক দই তুলোয়
নিয়ে প্রতিদিন অন্তত দু’বার করে ঠোঁটে মালিশ করুন। এটি ঠোঁটের মরা
চামড়াগুলোকে ঘষে তুলে দিতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ঠোঁটের কালচেভাব দূর
করতেও সাহায্য করে।

‘পিআইসি গঠন ও বাঁধ নির্মাণে
কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না’
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও জেলা বারের অ্যাডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার দিন সারা বাংলাদেশ মানুষ তাকে বরণ করে নিয়েছিল। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণার উৎস। শেখ মুজিব দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, আর তাঁর সুযোগ্য কণ্যা দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনা এবার অনেক তরুণ রাজনীতিককে মন্ত্রী পরিষদে স্থান দিয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের পরিচ্ছ্বন্ন ৫ কৃতি সন্তান রয়েছেন।
তিনি বলেন, হাওর উন্নয়নে আলাদা মন্ত্রনালয় গঠন এখন সময়ের দাবি। হাওর এলাকার উন্নয়নে পিআইসি গঠন ও ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। কৃষক যাতে তার কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে পারে সেজন্য হাওর রক্ষা বাঁধ সঠিক সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা জরুরী। এজন্য সরকার ও প্রশাসনকে আরো দ্রুত ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও মন্ত্রী পরিষদে সিলেট বিভাগের পাঁচজন মন্ত্রী স্থান পাওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে হাওর উন্নয়ন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি হোটেলের সম্মেলনকক্ষে এ অনষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হাওর উন্নয়ন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মনোরঞ্জন তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খালেদ মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের (সনাপ) সভাপতি মো. বেলাল উদ্দিন, হাওর উন্নয়ন পরিষদের সহসভাপতি এনামুল হক লিলু, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, অধ্যাপক মাহবুবুর রঊফ নয়ন, প্রভাষক ফজলে রাব্বি চৌধুরী, বাদল পুরকায়স্থ, হুমায়ুন রশিদ শাহীন, মামুন চৌধুরী, বদরুল আলম, তায়েফ আহমদ চৌধুরী, মো. আবু সাঈদ তালুকদার। বিজ্ঞপ্তি

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমিতি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি সিলেটের উদ্যোগে সালামত ফাউন্ডেশন ইউকের কর্ণধার ইঞ্জিনিয়ার এম এ মালিকের পৃষ্টপোষকতায় শহরতলীর খাদিমনগর ইউনিয়নের শিমুল কান্দি গ্রামে দুইশতাধিক শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় জামিয়া ইসলামিয়া শিমুলাকান্দি ও এতিমখানা প্রাঙ্গনে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা বেলাল আহমদের পরিচালনায় শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- ইঞ্জিনিয়ার এম এ মালিক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আপ্ততাব উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি সিলেটের সভাপতি এম এ আউয়াল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক বুরহান উদ্দিন, কার্যকরি কমিটির সদস্য জাবেদ আহমদ, শিশু মিয়া, গোলাম জিলানী, রিপন খান, ইলেক্ট্রিক সমিতির সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মিয়া।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, পল্লীর নিভৃত একটি এলাকা শিমুলকান্দি গ্রাম। এখানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা শীতে অনেক কষ্ট পোহাচ্ছেন। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ অত্যন্ত একটি মহতী উদ্যোগ।
বক্তারা শিমুলকান্দি এলাকার সুবিধা বঞ্চিত মা ও শিশুসহ এলাকার উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। বিজ্ঞপ্তি