শেরপুরে মাছের মেলা আজ থেকে

63

ওসমানীনগর প্রতিনিধি
সিলেট-মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ জেলার মিলনস্থল কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী শেরপুরে আজ রোববার থেকে শুরু হবে ৩ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় এ মেলা বছরে একবার হলেও মেলাকে ঘিরে সাজ-সাজ রব পড়ে মাসাধিককাল আগ থেকে। লন্ডন,আমেরিকা ও মধ্যপ্রা”্যরে অনেক প্রবাসী মেলা উপলক্ষ্যে দেশে আসেন। এ মেলায় সস্তা দরে জিনিসপত্র পাওয়া যায় বলে দেশের বিভিন্ন জায়গা হতে এখানে আসেন। আর তাই মেলায় মানুষের ঢল নামে।
সিলেট-মৌলভী বাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মিলনস্থল কুশিয়ারা নদীর তীর শেরপুরে এ মেলা প্রতিবছর হিন্দু সম্প্রদায়ের পৌষ সংক্রান্তিকে সামনে রেখে শুরু হয়। শেষ হয় ৩ দিন পর। মূলত এই মিলনমেলার নাম মাছের মেলা হলেও বিভিন্ন তৈজস ও গৃহস্থালি সামগ্রী কিনতে পাওয়া যায়। এ দিকে মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর আয়োজকরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় প্রশাসনকে টাকার বিনিময়ে হাত করে উঠতি বয়সের মেয়ে এনে অশ্লীল নৃত্য (পুতুল নাচ) পরিবেশন করিয়ে থাকেন। কিন্তু গত বছর মৌলভীবাজার পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়ে মেলাকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার অসামাজিকতার আয়োজনের অলিখিত অনুমদি প্রদান না করায় প্রথামবারের মতো অসামাজিকতা ছাড়াই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরই মেলাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার অসামাজিকতার আয়োজন বন্ধের ব্যাপারে প্রশাসন সজাগ থাকতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশসপুরসহ প্রশাসনের সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এলাকার সচেতন মহল।
এবার মেলার আয়োজকরা মেলায় অসামাজিকতার আয়োজনের জন্য প্রশাসনের অলিখিত অনুমোদন লাভের চেষ্টায় এখন বিভিন্ন মাধ্যমে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একটি নির্ভরশিল সূত্রে জানা যায়।
প্রায় ২শত বছরের ঐতিহ্য এ মেলা সিলেটের সবচেয়ে বড় মেলা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়ে আসছে। আগে সপ্তাহব্যাপী এ মেলা চলত। কয়েক বছর যাবৎ নিরাপত্তার অভাবে তা সীমিত পরিসরে নিয়ে আসা হয়। এক সময় এ মেলা মনুমুখ বাজারে মনু নদীর তীরে বসত। নদী ভাঙন ও উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থা না থাকায় কালের আবর্তে তা শেরপুরের ব্রাহ্মণ গ্রামের পাশে কুশিয়ারা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়। মাছের মেলাকে ঘিরে সিলেট-মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী স্থান শেরপুর পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়। এ মেলায় বড় বড় মাছ প্রদর্শনীসহ বিক্রয় হয়। সুরমা-কুশিয়ারা-মনু নদীসহ বিভিন্ন হাওরের বড় মাছসহ দুষ্প্রাপ্য অনেক মাছ মেলায় পাওয়া যায়। পৌষপার্বণে প্রতিটি হিন্দু পরিবারের বড় মাছ কেনার রেওয়াজ আছে। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও মাছের মেলা থেকে মাছ কিনে হিন্দুবাড়িতে উপহার দেন।
সরজমিন দেখা যায়, মেলাকে সামনে রেখে কুশিয়ারা নদীর তীরে কয়েক একর ফসলি জমিতে সহস্রাধিক দোকান সাজাতে ব্যস্ত রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবারের মতো এবারো মাছের পাশাপাশি মেলায় শোভা পাবে কাঠ ও কাঠজাত সামগ্রী, লোহার তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, হস্ত শিল্পসামগ্রী আর ছোটদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা।
মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্য সুহেল আহমদ বলেন, এ বছরও শেরপুর মাছের মেলা হবে জুয়াসহ কোনো প্রকার অসামাজিকতা কার্যকলাপ করতে দেয়া হবে না। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নির্বিঘেœ মেলা পরিদর্শন করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রখমের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।