এক ক্লিকে দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকার সব সংবাদ

196


ইসালে সাওয়াব মাহফিল সফলের লক্ষ্যে
তালামীযের স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
আগামী ১৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার আল্লামা ফুলতলী (র.)-এর ১১তম বার্ষিক ইসালে সাওয়াব মাহফিল সফলের লক্ষ্যে আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার সিলেট সোবহানীঘাটস্থ সংগঠনের বিভাগীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে সভাপতির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী।
কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসাইন জাহেদের পরিচালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি দুলাল আহমদ, মুহাম্মদ মুহিবুর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক হুমায়ূনুর রহমান লেখন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোজতবা হাসান চৌধুরী নোমান, সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মুহাম্মদ উসমান গণি, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক সৈয়দ আহমদ আল জামিল, সহ শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল মুহিত রাসেল, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হাসান জুয়েল ও কেন্দ্রীয় সদস্য তৌরিছ আলী।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান ফরহাদ, সিলেট পূর্ব জেলা সভাপতি আব্দুল খালিক রুহিল শাহ, সিলেট পশ্চিম জেলা সভাপতি মো. জাহেদুর রহমান, সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম তালুকদার, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি এম এ জলিল, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি জোন সিলেটের সভাপতি মাসরুর হাসান জাফরী, সিলেট মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম মনোয়ার, সিলেট পূর্ব জেলা সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, সিলেট পশ্চিম জেলা সাধারণ সম্পাদক শেখ আলী হায়দার, সুনামগনজ জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি জোন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসাইন নাজিম। বিজ্ঞপ্তি

শিপন আহমদ ওসমানীনগর প্রেসক্লাবের
সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন
ওসমানীনগর প্রতিনিধি
ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক সবুজ সিলেটের প্রতিনিধি শিপন আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন। গত শুক্রবার বিকেলে ক্লাব সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়েছে।
পৃথক অভিনন্দনবার্তায় বিবৃতিদাতারা হলেন, বালাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম আহমদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শহিদ, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ওসমানীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক এসএম সোহেল, সিলেট জেলা মোটরসাইকেল ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদেক, যুব কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার মাহমুদ, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি বালাগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, বাচন রক্তদান গ্রুপের সভাপতি আলীম রাজ, সাধারণ সম্পাদক আল-আমীন জাকি, নবযোগ সমাজ কল্যাণ সংস্থার আহবায়ক আরিফুর রহমান রাবেল।

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি জানান : পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা ¯েœহ দেখিয়েছেন, ফুলে ফুলে সিক্ত করেছেন, হাতের ছোঁয়া দিয়ে আমাকে উষ্ণ করেছেন। আজকের এই দিনটি আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমার জীবনের বাকি সময়টুকু আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থেকে কাজ করে যেথে চাই। তিনি গতকাল শনিবার জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের আব্দুস সামাদ আজাদ অডিটরিয়ামে আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ আয়োজিত গণসংবর্ধনায় সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রগতিশীল নেতৃত্বের স্বীকৃতি আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। আমাদের নানা ধরণের কল্যানমুখী আয় প্রবর্তন করতে হবে। ২০০৯ সালে ৫০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। দিন আনে দিন খায় মানুষের সংখ্যা ছিল ৪০ ভাগ। সেটা এখন পরিবর্তন হয়েছে। এখন আমাদের দারিদ্র্যের হার ৫ জনের মধ্যে ১ জন এটাও আমাদের কমাতে হবে। সাক্ষরতার হার ৭০ ভাগ এটা শতভাগে নিয়ে আসতে হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দিক আহমদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক।

‘খেলাধুলা মানুষকে বন্ধুত্ব ও
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে’
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েব বলেছেন, খেলাধুলা মানুষকে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে। শুধু তাই নয় খেলাধুলা ব্যক্তিকে নাম, যশ, খ্যাতি ও আর্থিক স্বচ্ছলতা এনে দেয়। খেলাধুলা আবেগ প্রকাশেরও মাধ্যম।
তিনি গতকাল শনিবার বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দশপাইকা গ্রামে ইউনিয়ন ক্রিকেট ফোরাম আয়োজিত ক্রিকেট লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
ক্রীড়া সংগঠক সাব্বির রহমান সাবুলের সভাপতিত্বে ও নাজির আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়াবিদ ছানোয়ার হোসেন মিয়া, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমির আলী, ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আশরাফ আহমদ মারফত। বিজ্ঞপ্তি

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
মানসিক ভারসাম্যহীন কে এই নারী
দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ফাঁসির গাছ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ভারসাম্যহীন এক নারী। গতকাল শনিবার রাতে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রাস্তার মধ্যে কাতরাচ্ছিলেন। ওই সময় এলাকায় কয়েকজন যুবক নারীকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই নারী ওসমানী হাসপাতালে ওই যুবকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহত নারী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তার নাম, গ্রামের বাড়িসহ কোনো পরিচয় দিতে পারছেন না। কেউ তাকে চিনে থাকলে ওসমানী হাসপাতালের ২য় তলায় ১৭নং ওয়ার্ডে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে : সিলেটের যে-কোনো কাজ অগ্রাধিকার পাবে

ভিডিপির মহিলাদের কম্পিউটার
প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ
মহানগরীর আখালিয়াস্থ জেলা আনসার-ভিডিপির কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ৩০ জন মহিলা ভিডিপি সদস্যাদের ২য় ধাপে ৭০ দিন মেয়াদি বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্সের সমপানী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রশিক্ষণ কোর্স অধিনায়ক ও জেলা কমান্ড্যান্ট মো. ফখরুল আলম।
বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্সের সমপানী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ফয়সাল আহমেদ।
প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ কোর্সের উপঅধিনায়ক, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ও কোয়ার্টার মাস্টার হিসেবে ছিলেন সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূইয়া, বিএইচএম হিসেবে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশিক্ষিকা মোছা. মুকুল খানম, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বিভাগীয় প্রশিক্ষক বিপ্লব চন্দ্র সাহা, বহিরাগত কম্পিউটার প্রশিক্ষক ছিলেন সাহাবুল মিয়া, প্রশিক্ষণার্থীদের লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়ে প্রথম তিন জনকে পুরস্কৃত করেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময় সিলেট বিভাগীয় আনসার ভিডিপি রেঞ্জ পরিচালক সারোয়ার জাহান চৌধুরী প্রশিক্ষণ কোর্স পরিদর্শন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা কমান্ড্যান্ট মো. ফখরুল আলম বলেন, আত্ম কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আনসার-ভিডিপি বাহিনী। তৃণমূল পর্যায়ে জনগোষ্ঠীকে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বি করে তোলাই এ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য। আনসার-ভিডিপি বাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশির মহিলাদেরকেও সমান্তরালে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনগোষ্ঠীতে রূপন্তর করে যাচ্ছে। চাকুরি পেতে ব্যর্থ হলে এর জন্য চাকুরির পিছনে ছুটাছুটি না করে এক একজন প্রশিক্ষণার্থীকে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন। নতুন কর্মস্থানের সৃষ্টি করে চাকুরি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানান। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। এ প্রশিক্ষণ বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে যেমন নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে তেমনি অন্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কারিকুলাম অনুযায়ী প্রশিক্ষণে কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সম্পর্কে ধারণ সহ এম.এস ওয়ার্ড, এম.এস এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট এবং কম্পিউটারের সাহায্যে ইন্টারনেট ব্যবহার ও সফটওয়্যার ব্যবহারের বিভিন্ন কলাকৌশ সম্পর্কে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি

পরীক্ষার সুযোগ না পেয়ে ভার্সিটির
শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা
স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে উত্তম কুমার দাশ নামের ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর সহপাঠীরা। উত্তম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এমবিএ প্রথম বর্ষের ২য় সেমিস্টারের ছাত্র। আগামী ১৮ জানুয়ারি উত্তমের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার কথা। তবে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত সেপ্টেম্বরে তাকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এরপর নানা চেষ্টা করেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে গত শুক্রবার রাতে নগরীর আম্বরখানা বড়বাজারস্থ নিজের বাসায় হারপিক খেয়ে উত্তম আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন তাঁর সহপাঠীরা।
বাসার অন্য লোকেরা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। উত্তম এখনও ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উত্তমের সহপাঠীরা জানান, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বেশ কিছুদিন দিন ধরে স্থায়ী উপাচার্য, উপউপাচার্য নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। গত সেপ্টেম্বর মাসে আন্দোলনকারী দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এরপর তাদের নানাভাবে হয়রানিও করা হয়। বার বার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার পরও তার পরীক্ষাসহ বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত শুক্রবার সন্ধ্যাকালীন ক্লাসে যান উত্তম। সেখান থেকে বাসায় এসেই হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।
এ ব্যাপারে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের প্রধান আব্দুল্লাহ সাঈদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীর আত্মহনন চেষ্টার খবর পেয়ে ওসমানী হাসপাতালে পুলিশ গিয়েছে। ওই শিক্ষার্থী সুস্থ হওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী উপাচার্য, উপউপাচার্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে শূন্যতা নিয়েই চলছে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম। ইতোমধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা জারি করেছে ইউজিসি।

রাজনগরে যুবলীগের
ত্রিবার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন
রাজনগর প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের রাজনগরে উপজেলা যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন গতকাল শনিবার বিকালে গোবিন্দবাটি বাজারে সম্পন্ন হয়। সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ময়ূনু খানকে সভাপতি ও কাউন্সিলারদের ভোটে আব্দুল কাদির ফৌজিকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।
উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. আব্দুল কাদির ফৌজির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফজলুল হক আতিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিছবাহুদ্দোজা ভেলাই ও ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা যুবলীগরে সভাপতি নাহিদ আহমদ, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজাউর রহমান সুমন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ বদরুল।
এছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ছে
হাকালুকি হাওর ও বাইক্কা বিলে
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের বাইক্কাবিল ও হাকালুকি হাওরজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অস্থায়ী হাঁসের বসতি এবং গরু-মহিষের বাথান। শীতের কারণে বেড়েছে হরেক রকমের অতিথি পাখির আনাগোনা। আর সেই পাখি দেখার জন্য আসতে শুরু করেছেন দেশি ও বিদেশি পর্যটকরা। শীতের শুরুতে নির্বাচনের কারণে পর্যটকের উপস্থিতি কম হলেও এখন জমে উঠতে শুরু করেছে ট্যুরিস্ট স্পটগুলো। মনোরম শান্ত প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাচ্ছেন সৌন্দর্য পিপাসুরা।
স্থানীয়রা জানান, হাওরে ও বিলে ভরা বর্ষার থই থই দৃশ্য এখন নেই। শুষ্ক মৌসুম চলছে। তাই বদলে গেছে হাওরের চিরচেনা দৃশ্য। হাওরের মাঝখানে ও দুই পারের সবুজ অরণ্যজুড়ে ভিড় করতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখির দল। হাইল হাওর ও বাইক্কা বিলজুড়ে এখন মনোরম প্রকৃতিক সৌর্ন্দের হাতছানি। জলজ আর উভয়চর প্রাণীর আবাসস্থলের জন্য যেমন হাকালুকি হাওর, তেমনি দেশীয় নানা জাতের মাছ ও পাখির অভয়ারণ্য বাইক্কা বিল। শীত আর গ্রীষ্ম দুই মৌসুমেই এই দুটি স্থানের প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে নতুন রূপে।
তবে সারা বছরই পর্যটকদের মুগ্ধ করতে প্রস্তুত থাকে হাকালুকি হাওর আর বাইক্কা বিল। বর্ষায় চারপাশে থই থই পানি। বিশাল জলরাশির মধ্যখানে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে জেগে ওঠা হিজল, করচ, কলমি আর নয়নকাড়া সবুজ জলজ বনের রাজ্য। আর শীত মৌসুমে দুচোখজুড়ে শুধু সবুজ ঘাসের মাঠ, পুরো হাওরজুড়ে গরু-মহিষের বাথান। আর হাওরের বিলে খাদ্যের সন্ধানে অবাধ বিচরণ নানা জাতের দেশি ও বিদেশি অতিথি পাখির। তাই সকাল ও সন্ধ্যায় পাখি দেখতে স্থান দুটিতে সমাগম ঘটে পাখিপ্রেমী পর্যটকের। তাই প্রকৃতির টানে এসব স্থানে ছুটে আসেন সৌর্ন্দয পিপাসুরা।
জানা যায়, হাকালুকি হাওরের আয়তন প্রায় ২০ হাজার চারশ’ হেক্টর। কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং গোলাপগঞ্জ এই ৫টি উপজেলা জুড়ে ২৩৮টি বিল নিয়ে এই হাওর। নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে থাকা হাকালুকি এখনও কোনোরকমে তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। একটু উষ্ণতা আর খাবারের সন্ধানে পুরো শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখির দল দাপিয়ে বেড়ায় হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন বিলে। গোধূলিলগ্নে পাখিদের ওড়াউড়ি, ডুবসাঁতার, জলকেলি, খুনসুটি, রোদে পালক পোহানো আর খাবার নিয়ে ঝগড়া কিংবা খাবার সংগ্রহের মনোহর দৃশ্য এখন হাকালুকি হাওরে।
হাকালুকি হাওর পাড়ের বাসিন্দারা জানালেন, হাওরের পিংলা, চাতলা, চৌকিয়া, হাওর খাল, মালাম, গৌড়কুড়ী, নাগুয়া, তুরল, কালাপানি, ফোয়ালা, বালিজুড়ী, কাংলি ও ফুটবিলে এখন অতিথি পাখির হাকডাক।
অতিথি আর দেশীয় পাখির কলকাকলিতে মুখরিত ৪২৫ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাইক্কা বিল। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, মাছ ও পাখি; এছাড়াও বিলের পাড়ে ঘন সবুজ বন। এমন দৃশ্য খোলা চোখে দেখতে কাদামাটির ভাঙাচোরা রাস্তা মাড়িয়ে ওখানে ছুটে আসেন পর্যটকরা।
জানা গেছে, বাইক্কা বিলে ৮০ প্রজাতির মাছ ও শতাধিক প্রজাতির পাখির অভয়াশ্রম। বাইক্কা বিল শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের প্রায় ১শ’ হেক্টর আয়তনের একটি জলাভূমি। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এই বিলকে মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক রকম অতিথি পাখি আর দেশীয় নানা জাতের ছোট-বড় মাছ ও পাখির নিরাপদ আবাসস্থল এটি। বিলের পাড় ও তীর ঘেঁষে হিজল, করচ, নল খাগরা, ঢোল কলমি আর ফুল ও লতাগুল্মর ছড়াছড়ি। বিলের পানিতে ভাসমান পানা, শাপলা ও পদ্ম, সিংড়া, মাখনা।
বাইক্কা বিলে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ নানা জাতের পাখি। এদের মধ্যে-পানকৌড়ি, কানিবক, ডাহুক, জল মোরগ, ধলাবক, ধুপনি বক, রাঙ্গা বক, মাছরাঙা, গোবক, শঙ্খচিল, ভুবন চিল, পালাসী কুড়া, ঈগল, গুটি ঈগল অন্যতম। কালো লেজ জৌরালি ও দাগিলেজ জৌরালি, লম্বা পায়ের পাখি দলপিপি, নেউপিপি, কুট, পান মুরগি ও বেগুনি কালেম, কালামাথা কাস্তেচরা, গেওয়ালা বাটান, মেটেমাথা টিটি, কালাপাখ ঠেঙ্গী- এই বিলের নিয়মিত অতিথি পাখি। বিপন্ন তালিকায় থাকা পালাশী, কুড়া ঈগল; অন্যান্য পাখির মধ্যে দাগি রাজহাঁস, খয়রা চখাচখি, ল্যাঞ্জাহাঁস, পাকড়া কোকিল, নীললেজ সুইচোর, পাতি আবাবিল, দাগি ঘাসপাখি, সরালি, মরচেরং ভুঁতি হাঁস, গিরিয়া হাঁস, পাতিচ্যাগা উল্লেখযোগ্য। আর মাছের মধ্যে আছে আইড়, মেনি, কাখলে, কই, ফলি, মলা, টেংরা, পুটি, দাড়কিনা, কাশখয়রা, পাবদা, মাগুর, শিং, টাকি, চিতল, কাতলা, বোয়াল, রুই ও গজার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
ওয়াচ টাওয়ারের তদারকির দ্বায়িত্বে নিয়োজিত আহসান হাবিব ও রাজু আহমদ বলেন, ‘পাখি ও মাছের নিরাপদ আবাসস্থলের কারণে এখন পর্যটকদের কাছে প্রধান আর্কষণ বাইক্কা বিল।’
তারা জানান, প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার এই দুদিন পর্যটক বেশি আসেন। তারা আরও জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস কোনও পর্যটক দেখা মেলেনি। তবে এখন আবারও ভিড় বাড়তে শুরু করেছে পর্যটকের।
বাইক্কা বিলে দেখা হয় ঢাকার খিলক্ষেত থেকে বেড়াতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিউটিফুল মাইন্ড-এর সিনিয়র স্পেশাল এডুকেটর সাবরিনা মুস্তারি ও তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে সৃজিতার সঙ্গে। তারা জানান, হরেক রকম পরিযায়ী পাখির মেলা দেখে উৎফুল্ল তারা।
এছাড়াও কথা হয় হবিগঞ্জের ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও স্ত্রী সায়েলা সুলতানার সঙ্গে। এক সঙ্গে এতো পাখি আর সবুজ প্রকৃতি দেখে মুগ্ধতার কথা জানালেন তারা।
বাইক্কা বিলের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত থাকা সমাজ ভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠন বড়গাঙ্গিনার সম্পাদক মিন্নত আলী বলেন, ‘হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। হাওরে মাছ বৃদ্ধির জন্য বেশি করে গভীর অভয়াশ্রম তৈরি ও পাখির নিরাপদ নিবাসের জন্য বনায়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে।’

মৌলভীবাজারে আ.লীগ
নেতার বাড়িতে ডাকাতি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খসরু আহমদ চেরাগের বাড়িতে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতের হামলায় একজন আহত হয়েছেন।
জানা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত অনুমান ২ টায় ১৪ থেকে ১৫ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাতরা প্রথমে বারান্দার গ্রিল কেটে ও পরে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে। ডাকত প্রবেশের বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘরের সবাই জেগে উঠে চিৎকার দিতে চাইলে অস্ত্রের মুখে ঘরে থাকা পুরুষ-মহিলাসহ ১১ জনকে একটি কক্ষে জিম্মি করে রাখে। এসময় ডাকাতরা খসরু আহমদ চেরাগের ভাই কয়ছর আহমদের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে।
পরে ঘরে থাকা ৯০ ভরি স্বর্ণ নগদ ৩ লাখ টাকা, ২টি টিভি ও ৬টি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
বাড়ির মালিক খসরু আহমদ চেরাগ জানান, প্রায় ১৫ জনের একদল ডাকাতদের মধ্যে কয়েকজনের মুখোশ পরা ছিল না। তিনি আরো জানান, তার ভাই কয়ছরকে রড দিয়ে মাথায় আহত করে ৪০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল হক টিটু জানান, চেরাগ মিয়ার এক ছেলে যুক্তরাজ্য ও আরেক ছেলে স্পেনে বসবাসসহ যৌথ পরিবারের আরো দুই ভাই প্রবাসে থাকেন। ১৫ জনের একদল ডাকাত সাইকে জিম্মি করে নগদ টাকাসহ সব মালামাল লুট করে।
রাজনগর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই রাতে ডাকাতির ঘটনা জেনে তাৎক্ষণিক পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে গ্রামের আশপাশে অভিযান চালানো হয়।

নবীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় দুই
মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নে ট্রাকের ধাক্কায় নাঈম আহমেদ (২৬) ও শিমুল আহমেদ (২২) নামে দুই মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত নাঈম আহমেদ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামের আরজু মিয়ার ছেলে ও শিমুল আহমেদ গজনাইপুর ইউনিয়নের গজনাইপুর গ্রামের মৃত আজমদ মিয়ার ছেলে।
গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের দিনারপুর দাখিল মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নাঈম ও শিমুল উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের আইনগাঁও থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে মহাসড়কের আইনগাঁও নামকস্থানে দিনারপুর দাখিল মাদ্রাসার সামনে পৌঁছামাত্র অজ্ঞাত একটি ট্রাক মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এসময় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শিমুল আহমেদ নিহত হন। এসময় ১ ঘন্টা মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ থাকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অপর মোটরসাইকেল আরোহী নাঈম আহমেদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে নাঈম ও শিমুলের মুত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি জসিম উদ্দিন নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হবিগঞ্জে চার লাখ গ্রাহক
২ দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
বছরের শুরু থেকেই সপ্তাহে ২ দিন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না হবিগঞ্জের তিন উপজেলার ৪ লাখ গ্রাহক। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস জুড়েই জেলার নবীগঞ্জ, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ চলবে এই নিয়মে। এর ফলে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জনগণ। সাব স্টেশনগুলোর উন্নয়ন কাজের জন্যই এটা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হবিগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি।
ভুক্তভোগীরা জানান, চলতি বছরের শুরু থেকেই সপ্তাহের প্রতি শুক্র এবং শনিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হচ্ছে। অনেক স্থানে সন্ধ্যার পরও দেয়া হচ্ছে না বিদ্যুৎ। এতে জনগণের দৈনন্দিন কাজে দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা।
নবীগঞ্জ উপজেলার অরবিট হসপিটালের বাসিন্দা ডা. শামীম আহমদ জানান, সপ্তাহে দুদিন বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকায় তার ফ্রিজে থাকা বিভিন্ন ধরনের খাবার নষ্ট হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা থাকলেও ৭টা পর্যন্ত আসেনি। এতে এসএসসি পরিক্ষার্থীসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়ও ব্যাঘাত ঘটছে।
আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা রনঞ্জিত দাশ জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপকারভোগীদের সেবা দিতে ব্যস্ত থাকেন তিনি। গত শুক্রবার অফিস বন্ধ থাকায় শনিবার কাজের চাপ পড়ে। সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বে। বিশেষ করে অনেক বিদেশ যাত্রী জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য এসেও ফিরে যাবেন। শনিবার সারাদিনের মধ্যে অন্তত কয়েক ঘন্টা হলেও বিদ্যুৎ সংযোগের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
হবিগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মোতাহের হোসেন জানান, জেলার নবীগঞ্জ, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৩৩ কেভি লাইন একটি মাত্র ফিডারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যে কারণে গরমের দিনে অত্যধিক লোডে অনেক জায়গায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই ডাবল সার্কিট করার জন্য মেরামত কাজ চলছে। তিনি আশা করছেন ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। কাজ শেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ থাকবে না ওই তিনটি উপজেলায়।

সুনামগঞ্জে মানববন্ধন
দ্রুত ফসলরক্ষা বাঁধ
নির্মাণের দাবি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলার সবকটি হাওরের দ্রুত ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, গণশুনানীর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) স্বচ্ছতার সাথে গঠন ও হাওরে অপ্রয়োজনীয় বেড়ি বাঁধের নির্মাণ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি।
গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
একই সঙ্গে জেলার ১১ টি উপজেলায় একই দাবিতে উপজেলা শাখাগুলোর আয়োজনে সংগঠনের কর্মীরা পৃথক পৃথকভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, পিআইসি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের জন্য গণশুনানীর হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রশাসকের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত অনিয়ম ও দলীয়করণের মাধ্যমে পিআইসি গঠন করা হচ্ছে।
বক্তারা অনিয়ম দূর করে দ্রুত হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার সবকটি হাওরে স্বচ্ছতার মাধ্যমে পিআইসি গঠনের মাধ্যমে কাজ শুরু করার কথা থাকলে আজো অনেকাংশে কমিটি গঠন কিংবা বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় কৃষকরা শঙ্কিত বলে দাবি করেন বক্তারা। মানববন্ধনে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জেলার সকল হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরানুল হক চৌধুরী, সালেহীন চৌধুরী শুভ, কুদরত পাশা ও কৃষক নেতা আব্দুল কাইয়ুম।

উপজেলা নির্বাচন
জকিগঞ্জে ফেসবুকে ও
মুখে মুখে প্রচার শুরু
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি
জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আগাসী মার্চে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি না-ও আসতে পারে বলে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা। তবুও থেমে নেই প্রচারণা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও লোকমুখে জকিগঞ্জে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী প্রচার। ফেসবুকে পছন্দের প্রার্থীর ছবি ও বক্তব্য দিয়ে প্রার্থীতার কথা জানান দিচ্ছেন নেতাকর্মীও সমর্থকরা।
এবারের নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান উদ্দিন চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য শামীম আহমদ, জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব আবুল হাসান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম রোকবানী চৌধুরী জাবেদ, জেলা যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা আহমদ চৌধুরী, জাপা নেতা অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক, খেলাফত মজলিসের জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মখলিছুর রহমান, আঞ্জুমানে আল ইসলাহর সিলেট মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর।
বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তবে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ নির্বাচনে আসবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে ইকবাল আহমদকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একটি পক্ষ ভোটের মাঠে দেখতে চাচ্ছে। মুফতি আবুল হাসানকে প্রার্থী করতে চায় একটি পক্ষ তবে তার ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত তিনি ভোটের রাজনীতিতে না আসার সম্ভাবনাই বেশি। এ ছাড়া বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে আসলে সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, ভিপি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম, জেলা বিএনপির সদস্য শাহীন আহমদ দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদার নির্বাচিত হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা এবার উপজেলা পরিষদেও আওয়ামী লীগের লোক দেখতে চাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি লোকমান উদ্দিনই নৌকার কান্ডারি হতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের ধারনা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ঐক্যবদ্ধ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদটি এবার আওয়ামী লীগ পুনরুদ্ধার করতে চায়। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাব্বীর আহমদ, জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়েছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাকিম হায়দার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. রায়হান, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল আহাদ, শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি সজল বর্মন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সুবিনয় মল্লিক, খলাছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল গফুর, উপজেলা জমিয়তের সাধারণ মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরান, জেলা জমিয়তের প্রচার সম্পাদক সালেহ আহমদ শাহবাগী, বিএনপি নেতা চেরাগ আলী, আঞ্জুমানে আল ইসলাহর পৌর সভাপতি কাজী হিফজুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা সারোয়ার হোসেন চৌধুরী রাজা, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ বুলবুল, জামায়াতের ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী, জুবায়ের আহমদ, যুবলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম সোহেল, উপজেলা ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান বিএনপির এয়াহিয়া বেগম, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মাজেদা রওশন শ্যামলী, সাবেক কাউন্সিলর জোসনা বেগম এবং সুলতানা আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
জকিগঞ্জ উপজেলার বর্তমান ভোটার ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৩৪৬ জন। গত উপজেলা নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬০৬জন । গত উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রথম উপজেলা নির্বাচনে গণফোরামের জেলা সভাপতি আপ্তাব হোসেন চৌধুরী কয়েস, দ্বিতীয় উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উ্িদ্দন আহমদ এবং তৃতীয় উপজেলা নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শাব্বির আহমদ, চতুর্থ ও সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি নেতা ইকবাল আহমদ তাপাদার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে
অ্যাডমিশন ফেয়ার অনুষ্ঠিত
সিলেটের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অ্যাডমিশন ফেয়ার (ভর্তি মেলা) উচ্চশিক্ষায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। গতকাল শনিবার দিনভর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই মেলা সিলেটে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
গতকাল সকালে ভর্তি মেলার উদ্বোধন করেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাজহারুল হাসান মজুমদার, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নজরুল হক চৌধুরী, ব্যবসা ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তাহের বিল্লাল খলিফা, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম রবিউল হোসেন, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সুরেশ রঞ্জন বসাক, অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. এসএম আলী আক্কাস, আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক চৌধুরী মো. মোকাম্মেল ওয়াহিদ। অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান মাসুদ রানা, আইন ও বিচার বিভাগের প্রধান গাজী সাইফুল হাসান, ইইই বিভাগের প্রধান মিয়া মো. আসাদুজ্জামান, সিএসই বিভাগের প্রধান ফুয়াদ আহমদ, ইংরেজি বিভাগের প্রধান অনিক বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
ভর্তি মেলায় প্রতিটি বিভাগের পৃথক স্টল ছিল। সকাল থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা মেলায় এসে ভিড় করেন। অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও মেলায় আসেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হন। মেলা উপলক্ষে স্প্রিং টার্মে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি ২০ থেকে ১০০ ভাগ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়। এ টার্মে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে তিনজনকে তিনটি স্মার্টফোন দেয়া হবে। আগামী ১৭ জানুয়ারি লটারিতে বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে। বিজ্ঞপ্তি

মুড়ারবন্দ দরগাহে
ওরস শুরু আজ
শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ১২০ আউলিয়ার অন্যতম ওলির মাজার শরিফের পবিত্র ওরসকে উপলক্ষ্য করে দরগাহ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা সাজানো হয়েছে নন্দিত বাহারি রূপে। আজ রোববার থেকে তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক মুড়ারবন্দ দরবার শরীফে ৬৯৮তম পবিত্র বাৎসরিক ওরস শুরু হবে। সিপাহসালার হজরত সৈয়দ নাছির উদ্দিন (র.) সহ বহু আউলিয়ার মাজার শরিফ মুড়ারবন্দে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও তিন দিনব্যাপী ওরসকে সফল করতে ইতোমধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পুলিশের সাথে আনসার, গ্রাম পুলিশ ও সহায়তা করবে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম আজমিরুজ্জামান জানান, মাজারের পবিত্রতা রক্ষায় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মাঠে কাজ করবে। কেউ যাতে নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে, এদিকে বাড়তি নজর থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। ওরস উপলক্ষ্যে ৩ দিনব্যাপী মেলার আয়োজনও করা হয়েছে।
পবিত্র ওরস শেষ হবে আগামী মঙ্গলবার। মুড়ারবন্দ দরবারের মোতাওয়াল্লি সৈয়দ সফিক আহমেদ চিশতি (সফি) জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ওরস মোবারক সম্পন্ন হয়, এজন্য সকল কর্মকান্ড ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি, হাজারো ভক্ত আশেকানের উপস্থিতিতে এবারের ওরস সফল ও সার্থক হবে।

লাশ আটকে প্রতিবেশীর চাঁদা দাবি
৩৯ দিন পর দেশে ফিরল
কুলাউড়ার আজিজের লাশ
কুলাউড়া প্রতিনিধি
আরব আমিরাতের শারজায় নিজের প্রবাসী প্রতিবেশীর লাশ আটকে রেখে দেশে স্বজনদের কাছে টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠেছে আরেক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি চাউর হলে পরবর্তীতে নিজের প্রতারণার দায় স্বীকার করে মুচলেকা দিয়েছেন টাকা দাবিকারী ময়না মিয়া। এরপর দূতাবাসের উদ্যোগে মৃত্যুর ৩৯ দিন পর দেশে ফিরেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার আবদুল আজিজের লাশ। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে সমালোচনার ঝড়।
কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পাট্রাই গ্রামের আবদুল আজিজ (৫০) নামের এক বাংলাদেশি শ্রমিক গত বছরের ২ ডিসেম্বর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার একটি হাসপাতালে মারা যান। এ সময় একই গ্রামের ময়না মিয়া (৪০) নামের আরেক বাংলাদেশি নানা কৌশলে আজিজের লাশ আটকে রাখেন। একপর্যায়ে ময়না মিয়া লাশ দেশে পাঠানোর কথা বলে আজিজের স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শারজায় বসবাসকারী বাংলাদেশি ও দুবাই কনসাল জেনারেলের উদ্যোগে ৩৯ দিন পর গত বৃহস্পতিবার আজিজের লাশ দেশে পাঠানো হয়। ময়নার বাড়িও একই এলাকায়। তিনি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন।
জানা গেছে, আজিজ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে শারজায় ছিলেন। ২ ডিসেম্বর আজিজের স্বজনদের মোবাইলে তাঁর মৃত্যুর সংবাদটি জানান ময়না। পরে ময়না আবারও ফোনে বলেন, অজিজের লাশ দেশে পাঠানোর ব্যাপারে তিনি চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছেন। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ পড়বে। ওই টাকা না দিলে লাশ পাঠানো সম্ভব হবে না। তিনি স্বজনদের কাছে ওই টাকার ব্যবস্থা করে রাখতে বলেন। এ অবস্থায় তাঁরা উৎকণ্ঠায় পড়ে যান। স্বজনেরা বিভিন্নভাবে শারজায় বসবাসকারী কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাঁদের পরামর্শে দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদন পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার কনসাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খাঁন ময়নাকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে আনেন। এ সময় বাংলাদেশি বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের কয়েক জন নেতাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে ময়না প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি লিখিত মুচলেকা দেন। পরে কনসাল জেনারেলের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি বিমানে আজিজের লাশ দেশে পাঠানো হয়। প্রতারণার বিষয়ে ময়নার দেওয়া লিখিত মুচলেকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম এ রহমান আতিক বলেন, ‘আজিজ ও ময়নার বাড়ি পাশাপাশি। ময়নার এ আচরণে আমরা খুবই ব্যথিত হয়েছি। এ কাজটা তাঁর মোটেই সমীচীন হয়নি। ময়নার মতো লোকেরাই বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছে। কনসাল জেনারেল উদ্যোগ না নিলে লাশ আসতে হয়তো আরও বিলম্ব হতো। জানাজা শেষে গত শুক্রবার সকালে আজিজের লাশ স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়ে গেছে।’

বড়লেখায় পর্যটকবাহী
বাস উল্টে আহত ১২
বড়লেখা প্রতিনিধি
বড়লেখায় পর্যটকবাহী বাস উল্টে অন্তত ১২ জন পর্যটক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন ছয়জন।
গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে মাধবকুন্ড সড়কের গৌড়নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি বড়লেখায় মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে পর্যটক নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানান বড়লেখা থানার উপপরিদর্শক (এস আই) শরিফ উদ্দিন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা, মাধবকুন্ডে আনন্দভ্রমণে যাচ্ছিল সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মন্ডলীভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পথে মাধবকুন্ড সড়কের খলাগগাঁও এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে (সিলেট জ-০৪-০১৬৯) বাসটি রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে মোট ১২ জন পর্যটক আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা হলেন-আবু মুছা, খালেদা ইয়াসমিন, আজিজুন নাহার, খালেদ মিয়া, নাবিহা তাসনিম, হাবিবুন নাহার। অন্য আহতদের মধ্যে একাধিক শিশু রয়েছে বলে জানা যায়। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
বড়লেখা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুধাংশু বলেন, আহত অবস্থায় ১২ জন পর্যটক হাসপাতালে আসেন। তাদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ছয়জনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুরনো কারাগার এখন সিলেট
কেন্দ্রীয় কারাগার-২
স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর ধোপাদিঘিরপারস্থ পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার এখন ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল।
গত শুক্রবার সিলেট-কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বন্দি স্থানান্তর শুরুর সাথে সাথে কারাগারের প্রধান ফটকে সাটানো হয় একটি ব্যানার। যাতে লেখা রয়েছে ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল জানান, পুরনো সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার যেমন আছে, তেমনই থাকছে। এখানেও কার্যক্রম চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, পুরনো কারাগারকে ‘গ্রিন পার্ক’ করার ব্যাপারে সদ্য প্রাক্তণ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ডিও লেটার (ডেমি অফিস লেটার-আধা সরকারিপত্র) প্রেরণ করলেও প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দেননি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত সকল বন্দিকে বাদাঘাট কারাগারেই স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটসহ দেশে ৫টি পুরাতন কারাগারে নতুন জনবল ও অফিস সরঞ্জামাদি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব প্রেরণে একটি কমিটি করা হয়েছে। জনবল নিয়োগ দেওয়ার পর পুরাতন কারাগারে বন্দি রাখা হবে। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের পদ ৪৫৫টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৩৯৯জন। জনবল সৃজনের পর দুটি কারাগারই যথারীতি চলবে।
তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীনের স্বাক্ষরে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কারা অধিদপ্তর। ওই স্মারকে (নম্বর ৫৮.০৪.০০০০.০২২.১২.০৪০.১৮-৭৭৯) উল্লে¬খ করা হয়, ‘দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক বন্দিদের বর্তমান সংখ্যাধিক্য, ক্রমবর্ধমান বন্দি সংখ্যা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত অনুশাসন অনুযায়ী কারাবন্দিদের আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার মাধ্যমে কারাগারসমুহকে সংশোধনাগার করার জন্য সদাশয় সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ কারা-১ শাখার প্রজ্ঞাপনে সিলেট, ফেনি, মাদারীপুর, পিরোজপুর ও কিশোরগঞ্জ কেন্দ্রীয়/জেলা কারাগার নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ৫টি কারাগারে নতুন জনবল সৃজন ও অফিস সরঞ্জামাদির জন্য একটি কমিটি গঠনও করে দেয়া হয়।’

বিশ্বনাথে পুলিশের উপর হামলার
ঘটনায় মামলা, আটক ২
বিশ্বনাথ অফিস
বিশ্বনাথে পুলিশের ওপর মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ১৫ জনের নামোল্লে¬খ করে এবং ১৫/১৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন বিশ্বনাথ থানার এসআই সবুজ কুমার নাইডু।
গত বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে জাকির মিয়া ও কয়ছর আহমদ নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
মামলা দায়ের ও ২ জনকে আটকের কথা জানিয়ে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, মামলার অন্য আসামিদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বৈরাগী বাজারে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সুহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তার বাহিনীর হামলায় আহত হন বিশ্বনাথ থানা পুলিশের এসআই সবুজ কুমার নাইডু ও কনস্টেবল সুমন মালাকার। এসময় পুলিশের কাছ থেকে সুহেল মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তার বাহিনী।

প্রবীণ নাট্যকর্মী জহির খান
লায়েকের জানাজা আজ
সিলেটের নাট্যাঙ্গনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ, কথাকলি সিলেটের প্রবীণ নাট্যকর্মী জহির খান লায়েক আর নেই (ইন্নালিল¬াহিৃরাজিউন)।
গত শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ফাজিল চিশত এলাকার নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ মেয়ে, ১ ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের নামাজে জানাজা আজ রোববার বাদ জোহর হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। এরআগে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদমিনার প্রাঙ্গণে নেয়া হবে।
জহির খান লায়েক ১৯৫৫ সালের ১৪ আগস্ট মিয়া ফাজিলচিশত, পূর্ব সুবিদবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে সিলেটের দি এইডেড হাইস্কুলের বার্ষিক নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে আত্মপ্রকাশ তাঁর। তিনি কথাকলি সিলেটের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি এ সংগঠনের জড়িত ছিলেন সক্রিয়ভাবে। এ সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। মঞ্চে সাফল্যের সংগে নিরবচ্ছিন্নভাবে অর্ধ শতাব্দী অভিনয় এবং নাট্যান্দোলনে সম্পৃক্ততার স্বীকৃতিস্বরূপ কথাকলি সিলেট তাকে ২০১৭ সালে সম্মাননা প্রদান করে। বিজ্ঞপ্তি

জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি
করব না : ড. কামাল
সবুজ সিলেট ডেস্ক
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলছেন, জামায়াতের সঙ্গে আমরা রাজনীতি করব না। অতীতেও করিনি, এখনও করছি না। ভবিষ্যতেও করব না।
গতকাল শনিবার বিকালে মতিঝিলে গণফোরামের অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত গণফোরামের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন ড. কামাল হোসেন। নেতারা নির্বাচন নিয়ে খোলামেলা মতামত দিয়েছেন বলে গণফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সাংবাদিকদের ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি এর আগেও কয়েক বার বলেছি, জামায়াতকে ধানের শিষ প্রতীক দেয়া হবে জানলে আমি ঐক্য করতাম না’।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতকে কেন ধানের শিষ প্রতীক দেওয়া হলো এজন্য বিএনপির কাছে আমি ব্যাখ্যা চেয়েছি। আগামীতেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে’।
গণফোরামের বিজয়ী দুই প্রার্থীর শপথ নেয়া, না নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই বিজয়ী প্রার্থী শপথ নেবেন কি নেবেন না এটা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব’।
তিনি বিতর্ক না বাড়িয়ে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সুন্দর নির্বাচনের দাবি জানান।
আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

এত বড় জয় কখনোই
কারচুপিতে সম্ভব নয় : জয়
সবুজ সিলেট ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, নির্বাচনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা এখন তাদের বিদেশি প্রভুদের কাছে নালিশ করছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এত বড় ব্যবধানের জয় কখনোই কারচুপির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব না।
গতকাল শনিবার দুপুরে সজীব ওয়াজেদ জয় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেছেন।
স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হলো :
সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা এখন তাদের বিদেশী প্রভুদের কাছে নালিশ করছে ও সাহায্য চাইছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ ও লবিংয়ের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, যা পরিসংখ্যান মোতাবেক একেবারেই অসম্ভব।
আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লক্ষ বেশি ভোট পেয়েছে। এতো বড় ব্যবধানের জয় কখনোই কারচুপির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব না। তারা বলছে ভয় ভীতির কথা, কিন্তু যদি আমরা ধরেও নেই আওয়ামী লীগের বাইরের সকল ভোট বিএনপি-জামাত এর পক্ষেই যেত, তাহলেও ২ কোটি ২০ লক্ষ ভোটের ব্যবধান থাকতো বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে।
তারপরেও আমাদের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কেউ কেউ বিএনপির এই আন্তর্জাতিক লবিংয়ের সাথে সমান তালে গলা মিলিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। তাদের অভিযোগগুলোর উত্তর দেয়ার পাশাপাশি আমি নিজেও কিছু কথা বলতে চাই।
তাদের প্রথম অভিযোগ, ভোটার সংখ্যা ছিল অত্যাধিক, তার মানে ভুয়া ভোট দেয়া হয়েছে। এবার ভোট দেয়ার হার ছিল ৮০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। ২০০৮ সালের ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে নির্বাচনে ভোট দেয়ার হার ছিল ৮৭ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড। সেই নির্বাচনটিতেও আওয়ামী লীগ ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ব্যাপক ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। ২০০১ সালে ভোট দেয়ার হার ছিল ৭৫.৬ শতাংশ আর ১৯৯৬ সালে ছিল ৭৫ শতাংশ। ওই দুইটি নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোট দেয়ার হার সামান্য বেশি ছিল কারণ এক দশকে এটাই ছিল প্রথম অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন।
দ্বিতীয় অপপ্রচার হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নাকি এবার ৯০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এই কথাটি পুরোপুরি মিথ্যা। আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছে ৭২ শতাংশ। মহাজোটের অন্যান্য শরিকরা পেয়েছে ৫ শতাংশের কম ভোট। এই ৭২ শতাংশও আওয়ামী লীগের এর জন্য সর্বোচ্চ না। কারণ ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৭৩.২ শতাংশ ভোট। সেইবার যেমন স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে আওয়ামী লীগ বিশাল বিজয় পেয়েছিল, এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ভোট বাড়ার পেছনে আছে দুইটি সুনির্দিষ্ট কারণ।
প্রথম কারণটি খুবই পরিষ্কার। আওয়ামী লীগ আমলে মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে যেকোনো সময়ের থেকে বেশি। আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছি, মাথাপিছু আয় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, দারিদ্রের হার অর্ধেক করা হয়েছে, মোটামুটি সবাই এখন শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থসেবা ও বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে ইত্যাদি। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে উন্নয়ন আওয়ামী লীগ সরকার করেছে তা এখন দৃশ্যমান।
আমাদের সুশীল সমাজ সবসময়ই বলার চেষ্টা করে বাংলাদেশের ভোটাররা নাকি পরিবর্তন চায়। এইসব ঢালাও কথাবার্তা, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ থেকেই বুঝা যায় আসলে তারা কতটা জনসম্পৃক্ততাহীন। আপনি যদি একজন সাধারণ মানুষ হন, এমনকি ধনী ব্যবসায়ীও হন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেই হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সুফল আপনিও পাচ্ছেন। কেউ কেন এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে চাইবে যাদের আমলে তার জীবন বা ব্যবসার উন্নতি ঘটেছে?
দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে আমাদের নির্বাচনী প্রচার কিন্তু গত বছর শুরু হয়নি। আমরা ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে আমাদের প্রচারণা শুরু করে দিয়েছিলাম। জনগণের কাছে আমাদের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেয়ার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করিনি। আমরা তাদেরকে বুঝিয়েছি যা উন্নয়ন ও অগ্রগতি হচ্ছে তা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণেই হচ্ছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক যত উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে তার পেছনে আছে আমাদের দলের ভিশন, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিশ্রম। যার কৃতিত্ব আমাদের দলীয় মন্ত্রী, সাংসদ, কাউন্সিলরসহ সকলের। যখন আমাদের বিরোধী পক্ষ ও সুশীল সমাজ ব্যস্ত ছিল সমস্যা ও নালিশ নিয়ে, আমরা ব্যস্ত ছিলাম জনগণকে সমস্যার সমাধান দিতে।
সুশীল সমাজের একটি বড় অপপ্রচার হচ্ছে নতুন ভোটাররা রাজনৈতিক দল নিয়ে মাথা ঘামায় না ও তাদের বেশিরভাগই নাকি পরিবর্তন চায়। তারা বুঝতে পারেনি যে এই নতুন ভোটাররা আমাদের আমলের উন্নয়নের মধ্যে বড় হয়েছে যা তাদের জীবনকে করেছে আরো সহজ ও উন্নত। তারা কেন আমাদের ভোট দিবে না?
২০১৩ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের জন্য আমি জনমত জরিপ করাই। আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন যে এবার কিন্তু সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কোনো জরিপ আসেনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে কিন্তু তারা ঠিকই একের পর এক জরিপ প্রকাশ করছিল দেখানোর জন্য আওয়ামী লীগের অবস্থা কত খারাপ। আসলে বাংলাদেশে খুব কম ব্যক্তি বা সংগঠনই সঠিকভাবে জনমত জরিপ করতে পারে। হার্ভার্ডে থাকতে আমি জনমত জরিপের উপর পড়াশুনা করি। জরিপ করতে আমরা যাদের ব্যবহার করি তাদের বাছাই করার আগে আমি নিজে একাধিক গবেষণা সংগঠনের সাথে বসে আলাপ করি। ভুয়া জরিপ করে নিজেদের জনপ্রিয়তা দেখানোর কাজ আমরা করিনা, কারণ আমাদের জন্যই সঠিক তথ্যটি পাওয়া খুবই জরুরি। আমরা জানতে চেষ্টা করি নির্বাচনী লড়াইয়ে আমাদের অবস্থান ও সক্ষমতা, তাই জরিপের ব্যাপারে আমরা খুবই সতর্ক থাকি।
নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে আমাদের জরিপ থেকে আমরা জানতে পারি আওয়ামী লীগ পাবে ৫৭ থেকে ৬৩ শতাংশ ভোট আর বিএনপি পাবে ১৯ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট। তাহলে আমরা ৭২ শতাংশ ভোট কিভাবে পেলাম? আমাদের জরিপের জন্য স্যাম্পল নেয়া হয় ৩০০ আসন থেকে, অর্থাৎ ১০ কোটি ৪০ লক্ষ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে থেকে। কিন্তু ভোট দেয়ার হার কখনোই ১০০ শতাংশ হয় না আর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়েছিল ২৯৮টি আসনে। ২৯৮টি আসনে ১০ কোটি ৩৫ লক্ষ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৮০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, অর্থাৎ ৮ কোটি ২৮ লক্ষ। আওয়ামী লীগ পেয়েছে প্রায় ৬ কোটি ভোট। ১০ কোটি ৩৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৬ কোটি মানে ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ, আমাদের জরিপের সাথে এই বিষয়টি মিলে যায়।
কিন্তু বিএনপি-ঐক্য ফ্রন্ট কেন এতো কম ভোট পেলো? কিছু যৌক্তিক কারণে। বিএনপির চেয়ারপার্সন দুর্নীতির দায়ে দন্ডিত হয়ে জেলে আছেন। তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনও দন্ডিত আসামি, আছেন দেশের বাইরে পালিয়ে। তাদের সংগঠনের অবস্থা করুন। তার থেকেও বড় আরেকটি কারণ আছে যা আমাদের সুশীল সমাজ সহজে বলতে চায় না। যেই কারণটি বিএনপির জনপ্রিয়তায় ধসের পেছনে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর বলে আমি মনে করি।
জনমত জরিপগুলো থেকে খেয়াল করেছি যে বিএনপি ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যে অগ্নিসন্ত্রাস চালায় তার পর থেকেই তাদের জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নামে। পেট্রল বোমা সন্ত্রাসের আগে জরিপগুলোতে বিএনপি আওয়ামী লীগ থেকে জনপ্রিয়তায় ১০ শতাংশ পিছিয়ে থাকতো। কিন্তু রাজনীতির নামের সন্ত্রাসবাদের কারণে তাদের সাথে আওয়ামী লীগের ব্যাবধান ৩০ শংতাংশ হয়ে যায় আর তারপর থেকেই বাড়তেই থাকে।
এছাড়া তাদের আত্মঘাতী নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টিও আমাদের আমলে নিতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় কমতি ছিল পরিষ্কারভাবেই। তার উপর তারা তারেক রহমানের মাধ্যমে নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়। আর মানুষের মনে ভেসে উঠে হাওয়া ভবন আমলের দুর্নীতি ও সহিংসতার দুঃসহ সব স্মৃতি। তারেক রহমান আবার মনোনয়ন দেন একাধিক চিহ্নিত অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের। এর মাধ্যমে কি তাদের জনপ্রিয়তা বাড়বে না কমবে?
নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সমর্থকদের তারা ইঙ্গিত দেয় যে তারা নির্বাচন থেকে সরে আসবে। আপনি যদি মনে করেন আপনার দল নির্বাচনেই আসবে না, তাহলে কি আপনি ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত হবেন? এই কারণে তাদের নিজেদের সমর্থকদেরও ভোট দেয়ার হার কম ছিল যার ফলশ্রুতিতে তারা ভোট পায়ও কম।
বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের বার্তাই ছিল আওয়ামী লীগ খারাপ। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেই বার্তা গ্রহণ করেনি কারণ তারা নিজেরাই দেখেছে কিভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে।
ঐক্যফ্রন্টের নেতা কামাল হোসেন নিজে নির্বাচনই করেননি। কারণ উনি জানতেন উনি কোনো আসন থেকেই জিততে পারবেন না। কিন্তু তারা আমাদের কিছুটা অবাকও করেছেন। ভোটের লড়াইয়ে প্রথমবারের মতন কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম একটি নয়, দুইটি আসন থেকে জয়লাভ করে। কারচুপি যদি হতোই তাহলে যে দল আগে কোনো নির্বাচনেই কোনো আসন পায়নি তারা কিভাবে দুইটি আসনে জিতে?
সত্য আসলে বেশি জটিল না। বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে তরুণরা, দেখছে কিভাবে শেখ হাসিনার মতন একজন ডাইনামিক নেত্রী দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই বিরোধীপক্ষের শত অপবাদ, অপপ্রচার ও কাদা ছোড়াছুড়ি কোনো কাজে আসেনি। কারণ দিন শেষে মানুষ তাকেই বেছে নেয় যে তাকে উন্নত জীবন দিতে পারবে।

নির্বাচন নিয়ে সংলাপের দাবি
মামা বাড়ির আবদার : কাদের
সবুজ সিলেট ডেস্ক
‘নির্বাচন নিয়ে সংলাপের দাবি একেবারেই হাস্যকর। যেখানে ভোট নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, বিতর্ক নেই, যেখানে গণতান্ত্রিক বিশ্ব উল্টো সমর্থন দিয়েছে, সেখানে এ ধরনের সংলাপের কোনো যৌক্তিকতা কিংবা বাস্তবতা কিংবা প্রয়োজনীয়তা এ মুহূর্তে নেই।’
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের এক বক্তব্য খন্ডন করে এমন মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে গত ১০ জানুয়ারি এক আলোচনা সভায় ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আসুন জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে সংবিধান অনুযায়ী একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকার গঠন করি’।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সরকারের ‘রাজ চালাকি’ হিসেবেও উল্লেখ করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
গণফোরাম নেতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে সংলাপের দাবি একেবারেই হাস্যকর। আমি বলব মামা বাড়ির আবদার, এছাড়া আর কিছু নয়’।
বাম রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারই প্রথম সরকার গঠনের আগে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সমর্থন এবং শুভেচ্ছা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পেয়ে গেছেন। উন্নত দেশগুলো সরকার গঠনের আগেই কিন্তু অভিনন্দন জানিয়েছে। কাজেই এ ধরনের দাবি অবান্তর, কোনো যৌক্তিকতা নেই।
নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে কোনো প্রকার বিতর্ক নেই। আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে কোনো প্রশ্ন আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। কাজেই নির্বাচন নিয়ে যারা আজকে অভিযোগ তোলেন তারা হেরে যাওয়ার বেদনা থেকেই এসব অভিযোগ তুলছেন এবং তাদের এই অভিযোগ ধোপে টেকে না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, চারদিকে আপনারা জনগণের মতামত নিতে পারেন, জনগণ এই নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। জনগণের কোনো প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন আছে শুধু বিরোধী মনের কিছু রাজনৈতিক দলের। তাদের কাছে প্রশ্ন থাকবেই। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে হলে গরম কথা বলতে হবে।
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল প্রসঙ্গ : আওয়ামী লীগের কাউন্সিল আগামী অক্টোবরে হবে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
দলের সম্মেলনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, কাউন্সিল অক্টোবর মাসেই হবে।
বিআরটিএর অভিযান প্রসঙ্গ : বিআরটিএর অভিযান প্রসঙ্গে কাদের বলেন, মাঝখানে নির্বাচন থাকায় বিআরটিএর অভিযান স্থগিত ছিল। যে কারণে অনিয়ম বেড়ে গেছে। আজকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই ৯৮ হাজার টাকা জরিমানা ৮টি গাড়ি জব্দ এবং তিনজনের জেল ও ৪২টি মামলা করা হয়েছে। এই অভিযান নিয়মিত চলবে। বিআরটিএকে এই অভিযান আরো জোরদার করতে বলা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বেড়েছে, ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট যুক্ত হয়েছে। যার কারণে আমরা লাইসেন্সবিহীন গাড়ি, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগের চেয়ে আরও বেশি সক্রিয় হয়েছি।
‘অভিযানে কিছুই যে ইমপ্রুভমেন্ট হচ্ছে না তা কিন্তু না’ উল্লেখ করে কাদের বলেন, এক রাতে তো আর পরিবর্তন হবে না। সামগ্রিকভাবে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি।
আমাদের পাবলিক রাস্তায় বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো মাঝেমধ্যে বেপরোয়া হয়ে যায়। রাস্তায় চলাচলের সময় এপার থেকে ওপারে যায় এবং অ্যাক্সিডেন্ট করে। শুধু যে চালকের জন্য এক্সিডেন্ট হয় তা নয়, যাত্রীর জন্য অ্যাক্সিডেন্ট হয়, পথচারীর জন্য অ্যাক্সিডেন্ট হয়। কাজে এসব বিষয় সাংবাদিকদেরও ক্যাম্পেইনে আনা উচিত।
তিনি বলেন, সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে, তা না হলে আমরা রাস্তায় অনিয়ম বিশৃঙ্খলা দূর করতে পারব না। এই সচেতনতা গড়ে তুলতে আমি সবার সহযোগিতা চাই।

‘মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে আল্লামা
শফির বক্তব্য তার নিজস্ব’
সবুজ সিলেট ডেস্ক
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, মেয়েদের স্কুল-কলেজে না পড়ানোর আহ্বান হেফাজতে ইসলামের আমিরের নিজস্ব অভিমত। এই বক্তব্য রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর চশমাহিলের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেছেন।
নওফেল বলেন, যিনি এই মন্তব্যটা করেছেন, তিনি তার ব্যক্তিগত অভিমত দিয়েছেন। বাংলাদেশের শিক্ষানীতি প্রণয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা অথবা শিক্ষা খাতে কোনো নির্বাহী দায়িত্বে তিনি নেই। যেহেতু তিনি কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবস্থানে নেই, তিনি অভিমত দিলেই সেটা রাষ্ট্রীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত বা প্রতিফলিত হবে, এমন চিন্তা করবার অবকাশ নেই।
উপমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো নাগরিকেরই বাকস্বাধীনতা আছে। তার মনের ভাবনা প্রকাশ করার অধিকার আছে। তবে আমি সম্মানের সাথে বলব, আমরা সকলেই যারা বাকস্বাধীনতার চর্চা করছি, আমরা যেন এই বিষয়টা মাথায় রাখি যে-সংবিধান অনুসারে আমাদের সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা যেন বৈষম্যমূলক মন্তব্য না করি।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দি সম্মেলনে ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, আপনাদের মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে দেবেন না। বেশি হলে ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে পারবেন। আর বেশি যদি পড়ান পত্রপত্রিকায় দেখতেছেন আপনারা। ওই মাইয়া (মেয়ে) ক্লাস এইট, নাইন, টেন, এমএ ও বিএ পর্যন্ত পড়ালে কিছুদিন পর আপনার মেয়ে থাকবে না। তাই আপনারা আমার সঙ্গে ওয়াদা করেন। বেশি পড়ালে আপনার মেয়েকে টানাটানি করে অন্য পুরুষ নিয়ে যাবে। আমার এ ওয়াজটা মনে রাখবেন।

শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে উস্কানি
কি-না দেখবে গোয়েন্দা সংস্থা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে পিছিয়ে পড়া তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে কেউ উস্কানি দিয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আন্দোলনের নামে কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
শ্রমিকদের দাবি নিয়ে মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ কাজ করছে। শিগগিরই তাদের দাবি মিটিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান ঢাকার পুলিশ কমিশনার।
এসময় তিনি শ্রমিকদের রাস্তা ছেড়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের উদ্দেশ্যে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আপনাদের কাছে আমি অনুরোধ করব নিজেরা আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচুন। আপনাদের কর্মসংস্থানের জন্য বিত্তবানরা সহযোগিতা করবেন, সরকার সহযোগিতা করবে। কিন্তু নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করে আমরা যদি এইভাবে পথে ঘাটে মানুষদের কষ্ট দেই তাহলে কিন্তু আপনাদের সম্পর্কে মানুষের মনে নেতিবাচক একটা ধারণা জন্মাবে।
তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত বিনীতভাবে সবিনয়ে আপনাদের কাছে অনুরোধ করব আমরা যাতে আত্মসম্মানকে বিলিয়ে না দেই৷ আসুন আমরা নিজের পেশাদার কর্মের মধ্য দিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচি।
তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কর্মসংস্থানে এগিয়ে আসার আশ্বাস দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, মহানগরীতে আপনাদের সম্প্রদায়ের যারা আছেন, আপনারা প্রকল্প নিয়ে আসেন, আমি কথা দিচ্ছি আপনাদের ভাগ্য উন্নোয়নের জন্য যেকোন প্রকল্প প্রস্তাব আসলে তাতে সরকারের পাশাপাশি আমরা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করব।

কামালরা ব্যর্থতা ঢাকতে
সংলাপের কথা বলেন
Ñতথ্যমন্ত্রী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ড. কামাল ও রিজভীরা নিজেদের এবং জোটের ব্যর্থতা ঢাকতে সংলাপের কথা বলছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য হায়ারে খেলতে যাওয়া কামাল হোসেন সংলাপের কথা বলেছেন। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সংলাপের কথা বলে। যারা অকশনে নমিনেশন বিক্রি করে তারা কীভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করবে? নির্বাচনের ১০ দিন আগে হাত গুটিয়ে ঘরে বসে থেকে জয়লাভ করা যায়?
হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বপ্নপূরণে এগিয়ে চলেছে। তার হাত ধরে বাংলাদেশ আজ অতিদরিদ্র থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত। এটি শেখ হাসিনার জাদুতে হয়েছে।
একটি পক্ষ বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে না, এর প্রশংসাও করতে জানে না। তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে চায়।
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ড. কামাল ও রিজভীরা নিজেদের এবং জোটের ব্যর্থতা ঢাকতে সংলাপের কথা আনছেন।
তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করুন এবং নেতৃত্বের পরিবর্তন করলে পরে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ হবে।
তাদের দলের কিছু নেতার চিকিৎসা প্রয়োজন বলেও মনে করেন হাছান মাহমুদ।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সারাহ বেগম কবরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানার সঞ্চালনায় আলোচনা করেন, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, রোকেয়া প্রাচী, তারিন, নূতন, অরুণা বিশ্বাস প্রমুখ।

নকল ও অবৈধ হ্যান্ডসেট
ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ হচ্ছে নকল ও অবৈধ হ্যান্ডসেটের ব্যবহার অবৈধ ও নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার বন্ধের কার্যকরী উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা স্থাপনে লাইসেন্সিং নীতিমালা আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে নকল ও অবৈধ হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, জনস্বার্থে ও সরকারের রাজস্ব নিশ্চিতকরণে (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) আইএমইআই ডাটাবেস চালু করছে বিটিআরসি। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চালু হতে পারে এই কার্যক্রম।
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) উদ্যোগ ও বিটিআরসির তত্বাবধায়নে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বরে ডাটাবেস করার কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন করেছে বিটিআরসি।
আর এই ডাটাবেস চালু হলে সাধারণ মানুষ মোবাইল কেনার সময় চেক করে দেখতে পারবেন। এক্ষেত্রে অটোমেটেড সিস্টেমের মতো এসএমএস সার্ভিস চালু থাকবে। যার মাধ্যমে গ্রাহক বুঝতে পারবে সেটটি বৈধ নাকি অবৈধ। এছাড়াও বাংলাদেশে উৎপাদিত ও বিদেশ থেকে আমদানি সেটে আইএমইআই নম্বর সবসময় হালনাগাদ করবে বিটিআরসি।
প্রতিটি হ্যান্ডসেটে ১৫ সংখ্যার একটি অনন্য নম্বর থাকে, যা আইএমইআই নামে পরিচিত। হ্যান্ডসেটে *#০৬# এ নম্বরগুলো পরপর চাপলে আইএমইআই নম্বর জানা যায়। হ্যান্ডসেটের প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, মডেল ও ক্রমিকের সমন্বয়ে গঠন করা হয় আইএমইআই নম্বর। এনইআইআর স্থাপনের মাধ্যমে দেশে ব্যবহৃত প্রতিটি হ্যান্ডসেটে থাকা আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বিটিআরসির সূত্রে আরও জানা গেছে, হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নে তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিচ্ছে। এজন্য লাইসেন্সিং নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়াও এর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তবে এক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।
তবে এই কার্যক্রম মনিটারিং করবে বিটিআরসি। আর আইএমইআই এর পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস থাকবে বিটিআরসিতে।
দেশের সব হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর দিয়ে ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশনা দেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নিয়মিতভাবে হালনাগাদও করতে হবে এ ডাটাবেজ। আর এটি করতে হবে সেলফোন অপারেটরদের নিজ উদ্যোগেই।
বর্তমানে আইএমইআই নম্বর নিবন্ধনের ব্যবস্থা না থাকায় চুরি হওয়া হ্যান্ডসেটের প্রকৃত মালিক শনাক্ত ও উদ্ধার অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। এছাড়া প্রকৃত আইএমইআই নম্বরবিহীন নকল হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের হ্যান্ডসেট উদ্ধারেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ব্যাপারে বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, আমরা আশা করছি গ্রাহকের নিরাপত্তার স্বার্থে ও সরকারের টেলিকম খাতে রাজস্ব নিশ্চিতকরণে এই ডাটাবেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর এটা টেলিকম খাতে সরকারের একটি বড় অর্জন বলে পরিগণিত হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা
কর্মচারীদের সম্পত্তির
হিসাব দিতে হবে : ভূমিমন্ত্রী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
সারা দেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ নির্দেশের কথা জানান মন্ত্রী।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, আমি সবার সেবক হিসেবে থাকতে চাই। কিন্তু যারা নিজেদের অভ্যাস পাল্টাতে পারবেন না তাদের এখনই কেটে পড়া উচিত। আমি এসেছি সম্মানের জন্য। দুর্নীতি যেদিন স্পর্শ করবে সেদিন হবে আমার শেষ দিন। যে কেউ প্রশ্ন করলে আমি জবাব দিতে বাধ্য থাকবো।
মন্ত্রী বলেন, শিগগিরই বিভিন্ন ভূমি অফিসে সারপ্রাইজ ভিজিট শুরু হবে।
ভূমি অধিগ্রহণের নোটিশ ইস্যুর পর মামলা হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভূমি অফিসের নিচু শ্রেণির কর্মীরা এর সঙ্গে জড়িত থাকে। তাই এমন একটি সিস্টেম বের করছি, যাতে নোটিশ ইস্যুর পর আর মামলা না টেকে।
তিনি বলেন, বে টার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সব বড় প্রকল্পের ভূমি ছাড়ে প্রায়োরিটি দেয়া হচ্ছে। উপমহাদেশের প্রথম টানেল হচ্ছে চট্টগ্রামে।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলীর দুই পাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। কেউ ছাড় পাবেন না।

ভোট ডাকাতিতে প্রশাসন
সফল হয়েছে : রিজভী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন কি খুবই সম্মানজনক হয়েছে, এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য, সংলাপ ও পুনর্নির্বাচন প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের দাবি হাস্যকর-এর জবাবে এ প্রশ্ন তোলেন রিজভী।
গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দমন করে ভোট সন্ত্রাসের একতরফা নির্বাচন প্রমাণ করে, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়।
এত বড় নজিরবিহীন ভুয়া ভোটের নির্বাচনের পরেও আত্মমর্যাদাহীন আওয়ামী নেতারা নির্বাচন নিয়ে নির্লজ্জ গলাবাজি করছেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাজানো ডিজাইনে ভোট লোপাটের মহা ধুমধাম এখন চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে। মহাভোজ উৎসবের মহাসমারোহ চলছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে থানার পুলিশ স্টেশনগুলোতে। এভাবে অন্যান্য বাহিনীর ইউনিটেও চলছে ভোজের উৎসব৷
তিনি বলেন, যে দল ভোটে বিজয়ী হয়, সাধারণত তাদের কর্মীরাই উৎসব, ভোজ ইত্যাদিতে মেতে থাকে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি রাজনৈতিক দলের তথাকথিত বিজয়ে উৎসব উদযাপন করে, এটা শুধু নজিরবিহীন ও হাস্যকরই নয়, হতবাক করা বিস্ময়ও বটে।
রিজভী আরো বলেন, সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো ২৯ ডিসেম্বর রাত ও ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতিতে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সারা দেশে বিরোধী দল, মত ও বিশ্বাসের মানুষরা সরকারি সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত। সরকার দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বে গণতন্ত্রের দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ। এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। বর্তমানে বাংলাদেশ পূর্ণ গণতন্ত্র বা ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের অবস্থানেও নেই। বাংলাদেশের অবস্থান স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলোর সমপর্যায়ে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদা রফিক প্রমুখ।

চালের দাম
বেড়েছে চার
কারণে
সবুজ সিলেট ডেস্ক
সদ্য শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হঠাৎ করে বেড়ে গেছে চালের দাম। বছরের শুরুতেই পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে দাম বাড়ার কথা বলা হলেও তা এখনও রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের পর চার কারণে বেড়েছে চালের দাম। এগুলো হচ্ছে-সরবরাহে সমস্যা, ধানের দাম বাড়া, খুচরা পর্যায়ে মনিটরিং না করা ও অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনের আগে সরকারের পক্ষ থেকে বাজারে কঠোর তদারকি থাকায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে পারেনি। ফলে নির্বাচনের পর তদারকিতে ঘাটতির সুযোগ বুঝে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু সিন্ডিকেট। তাদের কারসাজির কারণে ধানের বাম্পার ফলনের পরও ভরা মৌসুমে বেড়েছে চালের দাম।
৫০ কেজির বস্তায় চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে, নতুন বছরে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৬ টাকা। ফলে উৎপাদন ভালো হওয়ার পরও চালের দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
এদিকে দাম বাড়ানোর জন্য মিলমালিকরা দুষছেন আড়তদার-ব্যবসায়ীদের। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাস্তায় চালের ট্রাকে চাঁদাবাজি ও খুচরা বিক্রেতাদের সরকার মনিটরিং না করায় চালের বাজারের এই অবস্থা।
তবে পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মিল থেকে বেশি দাম কিনতে হয় তাই বেচতেও হচ্ছে বেশি দামে। অন্যদিকে বাজারে ধানের সঙ্কট থাকায় এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে পড়েছে বলে জানিয়েছেন মিলমালিকরা।
এ অবস্থায় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। বৈঠকে মিলমালিকসহ চালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যরাও ছিলেন। বৈঠকে নতুন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার চালের সরবরাহ বাড়াতে মিল মালিকদের নির্দেশ দেন।
আর অযৌক্তিক কারণে চালের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বাজার মনিটরিং জোরদারের কথা জানানো হয়েছে। সরকারের এসব উদ্যোগে আগামী সপ্তাহের মধ্যে চালের দাম কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল শনিবার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের দ্বিতীয়দিন অর্থাৎ ২ জানুয়ারি থেকে চালের দাম বাড়া শুরু হয়। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে ভালোমানের মিনিকেট চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা; যা নির্বাচনের আগে ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। সে হিসেবে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৬ টাকা। তবে সব থেকে বেশি বেড়েছে মাঝারি মানের চালের দাম।
বর্তমানে মাঝারিমানের চাল বিআর-২৮ ও লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা কেজি; যা আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। অর্থাৎ নতুন বছরে মাঝারিমানের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা। নির্বাচনের আগে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। এ হিসাবে মোটা চালের দাম ৪ টাকা কেজিতে বেড়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, নতুন করে মজুদ শুরুর আগে সরকারি গুদামে চাল ও গমসহ ১২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল। যার মধ্যে ৯ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন ছিল চাল। এছাড়া চাল আমদানিতে শুল্ক হার বাড়ার কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি অনেক কমেছে।
১ জানুয়ারি ২৭টি ট্রাকে ৬৭৫ টন চাল, ২ জানুয়ারি ১৯টি ট্রাকে ৪৭৫ টন চাল, ৩ জানুয়ারি ১২টি ট্রাকে ৩০০ টন চাল আমদানি হয়েছে। এভাবে গত তিন দিনে স্থলবন্দর দিয়ে ১ হাজার ৪৫০ টন চাল আমদানি হয়েছে।
এ বিষয়ে বাবুবাজার আড়তদার সরকার ট্রেডিং এজেন্সির স্বত্বাধিকারী ইব্রাহিম জানান, কয়েকদিন ধরেই চালের দাম বাড়তি। প্রথমে রশিদের চালের দাম বেড়েছে। এরপর একে একে সব কোম্পানি চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের আগে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি করেছি ২৬০০ থেকে ২৬৫০ টাকা। এখন সেই চাল ২৭৫০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। ১৯৫০ টাকা বিক্রি করা বিআর-২৮ চালের বস্তা এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ২২৫০ টাকা। এভাবে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে।
‘হঠাৎ কী কারণে যে চালের দাম এমন বাড়লো কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার মনে হয় মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ নির্বাচনের সময় সরকারের নজরদারি কম ছিল এই সুযোগ তারা নিয়েছে।
চালের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাদামতলী চাল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, এখন চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। এটা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এখন দেশে কোনো বন্যা, খরা, বৃষ্টি কিছুই হয়নি। সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। তাহলে কেন চালের দাম বাড়বে। চালের দাম বাড়ার যদি কোনো কারণ থাকে তাহলো সিন্ডিকেট। মিল মালিকেরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই নির্বাচনের পর রশিদের চালের দাম বস্তায় বাড়ানো হয়েছে ৩০০ টাকা। দেশে কি এমন ঘটল যে হঠাৎ করে চালের দাম এমন বাড়িয়ে দিতে হবে। মূলত নির্বাচনের পর সরকারকে চাপে ফেলতে মিল মালিকরা জোট হয়ে এ কাজ করেছে। তবে চালের দাম স্বাভাবিক করতে হলে মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। সেই সঙ্গে বাজারে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।
বাবু বাজারের চাল ব্যাবসায়ী মেসার্স দয়াল ভান্ডারের আবু সাঈদ বলেন, সারাদেশে চালের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে দিনাজপুর, নওগাঁ ও কুষ্টিয়ার মোকামে চালের দাম বেশি। মিলমালিকরা বাড়তি দামে চাল বিক্রি করছেন। এর কারণে পাইকারিতেও দাম বেড়েছে। এতে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াই স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পরপরই মিলাররা চালের দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চালাতে থাকে। সেই অপচেষ্টায় তারা সফল, আর এ কারণেই দাম বেশি।
খুচরা পর্যায়ে চাল মজুদের কোনো সুযোগ নেই দাবি করে এই ব্যবসায়ী বলেন, সপ্তায় সপ্তায় চাল এনে তাদের বিক্রি করতে হয়। এছাড়া মূলধনও সামান্য। নির্বাচনের আগে বেশ কয়েক মাস চাল নিয়ে কেউ দাম বাড়ানোর সুযোগ পায়নি। সে সময় বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাও কঠোর ছিল।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের মালিক মো. আব্দুর রশিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলী বলেন, চালের দাম মূলত ধানের দামের সঙ্গে বাড়ে কমে। কিছুদিন আগে ধানের দাম বাড়ায় চালেল দাম বেড়েছে। তবে মোট চালের দাম সরকারের বেঁধে দেওয়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। কোনো জেলাতেই মোটা চালের কেজি ৩৬ টাকা পার হয়নি।
ঢাকায় কেন ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে এটা সরকারের খোঁজ নেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
কেএম লায়েক আরও বলেন, দাম কমানোর বিষয়ে আমরা সভায় বসবো। আর তিন মাস পর নতুন চাল বাজারে এলে দাম অটোমেটিক কমে আসবে।
এর আগে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে কয়েক মাস ধরেই চালের দাম বাড়ছিল। ওই বছর এপ্রিলে আগাম বন্যায় হাওরের কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। সে সময় সরু চালের দাম খুচরায় কেজি প্রতি ৭০ টাকা পর্যন্ত বাড়ে; সমানতালে বাড়ে মোটা চালের দামও। পরে নতুন ধান ওঠায় চালের দাম কমে আসে।

আওয়ামী লীগ জনসেবক হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত হয়েছে : শেখ হাসিনা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
গত দশ বছরে জনগণের সেবক হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় এটা গত ১০ বছরে মানুষ বুঝতে পেরেছে। জনগণের সেবক হিসেবে আওয়ামী লীগ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। এ কারণেই মানুষ আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কার্যনির্বাহী সংসদ এবং উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভার শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণ বুঝতে পেরেছে শুধু আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, দেশের উন্নয়ন হয়। দেশের সব শ্রেণি-পেশার সর্বস্তরের মানুষ এটা মনে করে। আর এ জন্যই তারা সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। জনগণ আমাদের বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে, এখন জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আরও অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্নীতিগ্রস্ত, সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামি। এ কারণে জনগণ নির্বাচনে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুটে খাওয়ার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হত্যা মামলা, দুর্নীতি এবং মানি লন্ডারিংসহ একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এখন পলাতক আসামি। জনগণ তাদের এসব তৎপরতা গ্রহণ করেনি।
নির্বাচনের আগে বিএনপিজোটের কর্মকান্ডের সমালোচনা কলে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা করেছিল। অতীতের মতো এবারও তাদের নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা সবাই দেখেছে। মানুষ দেখেছে তারা কীভাবে মনোনয়নবাণিজ্য করেছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি যদি মনোনয়নবাণিজ্য না করত, তাহলে হয়তো তাদের ভোটের ফলাফল আরও একটু ভালো হতে পারত।
২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের কথা জানিয়ে তার কন্যা বলেন, ২০২০সালকে মুজিব বর্ষ হিসেবে উদযাপন করা হবে। এজন্য এখন থেকেই কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।
শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদ ও সভাপতিমন্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে আসছেন
জাতিসংঘের বিশেষ দূত
সবুজ সিলেট ডেস্ক
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াংহি লি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে আগামী ১৯ জানুয়ারি ৬ দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন।
তিনি বাংলাদেশে আসার আগে থাইল্যান্ড সফরে যাবেন। সেখানেও রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখবেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত।
গত শুক্রবার জেনেভার জাতিসংঘ অফিস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি আগামী ১৪-২৪ জানুয়ারি থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ সফর করবেন। তিনি ১৪-১৮ জানুয়ারি থাইল্যান্ড ও ১৯-২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সফর করবেন। বাংলাদেশ সফরকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইয়াংহি লি।
জাতিসংঘের এ বিশেষ দূত গত জুন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। সেসময় তিনি থাইল্যান্ডও সফর করেন। বাংলাদেশ সফরের শেষদিন ২৪ জানুয়ারি ইয়াংহি লি সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখবেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের এ বিশেষ দূত রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে মিয়ানমার সফরে যেতে চাইলেও মিয়ানমার সরকার তাকে সেদেশে প্রবেশে অনুমতি দিচ্ছে না।

বক্স
জিন এক্সপার্ট মেশিনে
যক্ষ্মা নির্মূলের আশা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
একটা সময় শুধু কফ এবং এক্সরের মাধ্যমে যক্ষ্মার রোগী শনাক্ত করা হতো। কিন্তু সেই পরীক্ষায় ৫০ ভাগ রোগী শনাক্তের বাইরে থেকে যেত। এই অবস্থা পরিবর্তনে দেশে এখন জিন এক্সপার্ট মেশিনের মাধ্যমে যক্ষ্মারোগী শনাক্তের কার্যক্রম চলছে। বেশির ভাগ রোগীই শনাক্ত হচ্ছেন এই পদ্ধতিতে। এটি চলমান থাকলে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষ্মা দূর করা সম্ভব হবে এমনটিই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি হিসাবে, ২০১৮ সালে দেশে প্রতি লাখে ২২১ জন যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয় এবং ৩৬ জন মৃত্যুবরণ করে। প্রতিবছর নতুন করে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার জন। গত ১৭ বছরে ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭১ জন যক্ষ্মারোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে ১ হাজার ১৫০টি কেন্দ্রে যক্ষ্মারোগের জীবাণু (কফ) পরীক্ষা করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমবিডিসি অ্যান্ড টিবি-লেপ্রসি অ্যান্ড এএসপি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম বলেন, ‘জিন এক্সপার্ট মেশিনে আর্টিফিশিয়ার, মলিক্যুলার ডায়াগনোস্টিক করা হয়। আমরা কফ থেকেই করি। যদি আমরা মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে করতে পারি তাহলে ৯২ ভাগ কনফার্ম করতে পারি। সেনসিটিভিটিটা অনেক বেশি হয়।’
একই কথা বলেন আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েনটিস্ট ডা. সায়রা বানু। তিনি বলেন, ‘যেহেতু শুধু স্পুটাম পরীক্ষার মাধ্যমে সব যক্ষ্মা শনাক্ত করা যায় না। তাই আমরা জিন এক্সপার্ট মেশিনের মাধ্যমে যক্ষ্মা শনাক্ত করতে যাচ্ছি।’
অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা টিবি রোগী কিনা সেটা পরীক্ষা করতে পারি আর তিনি ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মারোগী (ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট টিবি) কিনা সেটাও নির্ণয় করতে পারি। যেহেতু দুটোর চিকিৎসা ভিন্ন এবং খরচ ভিন্ন তাই আমাদের এটা জানা দরকার। ড্রাগ সেনসিবল টিবি এবং ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট টিবি— দুটোই আমরা ডায়াসনোসিস করতে পারছি। সেজন্য আমরা এই জিন এক্সপার্ট মেশিনটিকে দিচ্ছি।’
তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে তারা যক্ষ্মা নিয়ে কাজ শুরু করেন। তখন মেশিন কম ছিল। যেসব রোগীকে মনে করা হতো ওষুধ প্রতিরোধী অথবা যক্ষ্মা আছেই মনে করা হতো কেবল তাদের জন্য এই পরীক্ষাটা করানো হতো। এখন সব রোগীর ক্ষেত্রেই এই টেস্ট দিচ্ছেন।
দিনে দিনে টিবি শনাক্তের হার বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত বছর পর্যন্ত সারাদেশের ৭৪ ভাগ যক্ষ্মারোগী আমরা ডায়াগনোসিস করতে পারছি। যেটা তার আগের বছরেও ৬৪ ভাগ ছিল।’ নতুন মেশিনগুলো চালুর ফলে এই হার বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের টিবি রোগ প্রতিরোধের হার ইতিমধ্যেই কমেছে, আগে ৪০০-এর ওপরে ছিল, এখন ২৭০। আশা করছি, ইনফেকশন রেট— যেটা আমরা বলি ইনসিডেন্ট রেট— সেটাও আমরা কমাতে পারবো। বাংলাদেশসহ যেসব দেশে টিবি রোগীর সংখ্যা বেশি সেব দেশে ইনফেকশন কমানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে, আমরা যে পরিবারে যক্ষ্মা রোগী আছে সেই পরিবারে শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও প্রতিরোধমূলক মেডিসিন দেওয়ার কথা ভাবছি। কারণ, বাংলাদেশে এখনও ৫০ ভাগ মানুষ টিবি রোগে আক্রান্ত বলে ধরে নেওয়া হয়। আমরা ইনফেকশন কমাতে না পারলে তো টিবি রোগী কমাতে পারবো না।’
অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম জানান, শুরুতে তাদের ১৯৩টি মেশিন ছিল। এখন উপজেলা পর্যায়ে যাচ্ছেন। আরও ৮৮টি মেশিন নতুন করে চালু করছেন। সব মিলিয়ে ২৭৬টি মেশিন থাকবে সারাদেশে ।
আইসিডিডিআর,বির মিডিয়া ম্যানেজার একেএম তারিফুল ইসলাম খান জানান, তাদের ১০টি যক্ষ্মা স্ক্রিনিং সেন্টারে জিন এক্সপার্ট মেশিন আছে।

মার্চ-এপ্রিলে মিলবে
পাট পাতার চা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
পাট পাতা থেকে দু বছর আগে চায়ের উৎপাদন শুরু হলেও এখনও দেশের মানুষ তা পান করার সুযোগ পায়নি। তবে এরইমধ্যে ওই চা ইউরোপের বাজারে সাড়া ফেলেছে। সেখানকার অন্তত চারটি দেশে ‘অর্গানিক পণ্য’ হিসেবে এই চা রফতানি হচ্ছে। তবে পাট পাতার চা রফতানিতে ‘অর্গানিক’ পরিচয়টি বিপদের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এ পর্যন্ত পরীক্ষানিরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল মিললেও দেশে উদ্ভাবিত পাট পাতার চা শতভাগ অর্গানিক কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তারা জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে এ সংক্রান্ত পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যাবে। ওই চায়ের উদ্ভাবক জানিয়েছেন, মার্চ-এপ্রিল নাগাদ এটি বাংলাদেশের বাজারে ছাড়া হতে পারে।
বিজেএমসি উদ্ভাবিত পাট পাতার চা এখন বিশ্বে রফতানি হচ্ছে ফুল আসার আগে তোষা পাটের গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করা হয়। সূর্যের আলোয় তা শুকিয়ে গুঁড়া করলেই চা তৈরি হয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে তৈরি পানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী চিনি বা মধু মিশিয়ে পান করা যায়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এই চা উৎপাদন শুরু করে। পরে গুয়ার্ছি অ্যাকুয়া অ্যাগ্রো টেক নামের প্রতিষ্ঠান অর্গানিক চা হিসেবে তা জার্মানিতে রফতানি শুরু করে। এখন ইংল্যান্ড, সুইডেন এবং ফ্রান্সের বাজারেও ‘অর্গানিক’ পরিচয়ে ওই চা রফতানি করা হচ্ছে। জানা গেছে, এ পর্যন্ত উৎপাদিত ১০ টন চায়ের মধ্যে আড়াই টন বিদেশে রফতানি করা হয়েছে। পাইপলাইনে আছে আরও ৩ টন।
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জানিয়েছেন, কোনো পণ্যকে অর্গানিক ঘোষণা করতে হলে তার উৎপাদন অঞ্চলকে অর্গানিক জোন ঘোষণা করতে হয়। ভারতে অর্গানিক পণ্যের জন্য পৃথক জোন রয়েছে। আমাদের দেশে এখনও তেমন কোনো জোন নেই। তিনি বলেন, ‘পাট পাতার চা অর্গানিক পণ্য হিসেবে রফতানি হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ক প্রমাণ আমাদের হাতে নেই।’ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ধরা যাক আপনি যে জমিতে পাট চাষ করলেন সেই জমিতে কোনো রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করলেন না। জৈব সার ব্যবহার করলেন কিন্তু পাশের জমিতে রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করা হলো। বৃষ্টির পানিতে তা মিশে আপনার জমিতে চলে আসতে পারে। এভাবে চাষ করলে শতভাগ অর্গানিক পণ্য বলা যাবে না।’ রায়হান আখতারের আশঙ্কা, কেউ এর ‘অর্গানিক’ পরিচয়কে চ্যালেঞ্জ করলে সম্ভাবনাময় পণ্যটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)-এর জুট লিভস ড্রিংক প্রজেক্টের উপদেষ্টা এইচ এম ইসমাইল খান এই চায়ের উদ্ভাবক। তিনি জানিয়েছেন, এরইমধ্যে আইসিডিডিআরবি, বিএসটিআই এবং জার্মানির একাধিক সেন্টারে এই চা পরীক্ষা করে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তবে এখনই চূড়ান্তভাবে একে অর্গানিক বলার সুযোগ নেই। ‘পুরো প্রক্রিয়াটিই এখনও পরীক্ষামূলক (ট্রায়াল)। সনদ পাওয়া গেলে তখন কেবল পাট পাতার চা-কে শতভাগ অর্গানিক বলে দাবি করা যাবে।’ তিনি বলেন,‘আমরা পাটের চা পরীক্ষা করতে দিয়েছি। এই পরীক্ষার ফল পেতে তিন বছর সময় প্রয়োজন হয়। এরই মধ্যে এক বছর পার হয়েছে। আরও দুই বছর লাগবে সনদ পেতে। পরীক্ষা জার্মানিতে হবে। ইন্টারট্রপ নামের একটি জার্মান প্রতিষ্ঠান এই কাজে সহযোগিতা করছে।’
বাংলাদেশের মানুষের জন্য শিগগরিই পাট পাতার চা দেশের বাজারে ছাড়া হবে। ইসমাইল খান বলেন,‘আগামী ৬ মার্চ পাট দিবস। ওই দিনই দেশে পাটের চায়ের মোড়ক উন্মোচন হবে। সেই হিসেবে মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ বাজারে চলে আসবে পাটের চা।’ তিনি জানান, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাট পাতার চা উপহার দেওয়া হলে তিনি এতে জেসমিন ফ্লেভার যুক্ত করতে বলেন। পরে জেসমিনসহ আরও তিনটি ফ্লেভার যুক্ত করা হয়। কৃত্রিম নয়, অর্গানিক উপায়েই মূল উপাদান সংগ্রহ করে ফ্লেভার যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রাচীন কালে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ফিলিপাইন ও মিশরে রোগ নিরাময়, রোগ প্রতিরোধ এবং রোগীর শীঘ্র আরোগ্য লাভের জন্য পাট পাতার নির্যাস ও স্যুপ নিয়মিত ব্যবহার হতো। খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০০ বছর অগেও পাট পাতা রোগ নিরাময় ও সৌন্দর্য চর্চায় পাট পাতার ব্যবহার হতো।
এখন জেসমিন, রোজি, লেমন গ্রাস ও জিনজার রোজ এই চার ফ্লেভারের পাট পাতার চা উৎপাদন করা হচ্ছে। চা তৈরির তোষা পাট চাষে মানিকগঞ্জে ৫ একর জায়গায় অর্গানিক প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হয়েছে। রাজধানীর উত্তরখানে একটি কারখানায় এই চা উৎপাদন হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে রফতানি বাড়ানোর জন্য জামালপুর জেলার সরিষাবাড়িতে নির্মিত হচ্ছে পাট পাতার চায়ের কারাখানা। এক কোটি ১৬ লাখ টাকার ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে মূল প্রজেক্ট সেখানে গড়ে তোলা হবে। তখন পাটের চায়ের উৎপাদনের পরিমাণও বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই প্রাণীদেহে পাট পাতার চায়ের পরীক্ষানিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এবার মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে। আর্সেনিক আক্রান্ত ২০০ জনের ওপর ট্রায়াল চলবে ২ বছর ধরে। এছাড়া ডায়াবেটিক আক্রান্ত মানুষের ওপর ট্রায়াল চলবে ৬ মাস। আর্সেনিক আক্রান্ত মানুষ এই চা নিয়মিত পান করলে শরীর থেকে আর্সেনিক পুরোপুরিভাবে চলে যাওয়ার কথা। ট্রায়াল সফল হলে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, পাট পাতা থেকে চা তৈরি করে তাদের খাওয়ানো হবে নাকি ক্যাপসুল তৈরি করা হবে।

ভোটে অনিয়মের’ প্রতিবেদন
বিএনপি কার্যালয়ে জমা দিলেন
ধানের শিষের ১২০ প্রার্থী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ধানের শিষ প্রতীক নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১২০ জন প্রার্থী নির্বাচনে ‘অনিয়মের’ তথ্য বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে তারা নির্বাচনের আগে যেসব নেতাকর্মী গ্রেফতার, সহিংসতায় আহত, নিহত হয়েছেন তাদের তালিকা দিয়েছেন। একইসঙ্গে নির্বাচনের আগের রাতে এবং ভোটের দিন যেসব ভোটকেন্দ্রে ‘অনিয়ম’ হয়েছে তার ভিডিও এবং লিখিত বর্ণনাও দিয়েছেন প্রতিবেদনে। বিএনপি কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ৩ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয় ধানের শিষের প্রার্থীদের। চিঠিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ৮টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচনে ‘অনিয়মের’ তথ্য সাত দিনের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রার্থীদের নিজের ও পরিবারের অবরুদ্ধ হয়ে পড়া কিংবা হামলায় আহত, সহায় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য ও ছবি, নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় সংঘটিত অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি, সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তান্ডব এবং সন্ত্রাসের একটি সচিত্র প্রতিবেদন ইত্যাদি চাওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ১০ জানুয়ারি ছিল প্রতিবেদন জমা দেওয়া শেষ দিন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১২০ জন প্রার্থী সেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গত বৃহস্পতিবার রাতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এখন পর্যন্ত ১২০ জন প্রার্থী সেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ডাকযোগে চিঠি পাঠানোর কারণে অনেক প্রার্থী দেরিতে চিঠি পেয়েছেন। এ কারণে সব প্রার্থী এখনও প্রতিবেদন জমা দেননি। আশা করি ১/২ দিনের মধ্যে সবাই জমা দিয়ে দেবেন।
চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসন থেকে ধানের শিষ নিয়ে নির্বাচন করেছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম। তিনি বলেন, আমরা গত ৮ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। লিখিত প্রতিবেদন এবং সিডি জমা দিয়েছি।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সব প্রতিবেদন জমা হলে তার ওপর ভিত্তি করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এছাড়া যেসব প্রার্থী ভিডিওচিত্র জমা দিচ্ছেন সেগুলো একসঙ্গে করে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করা হবে। এরপর এগুলো সংবাদ সম্মেলনে করে গণমাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এরপর ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হবে। এছাড়া দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোকে জানানো হবে।
সূত্র আরও জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থীর নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। মামলার সময় প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনের প্রতিবেদনের পাশাপাশি ভোটের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে সব আসন নিয়ে তৈরি করা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনও জমা দেবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আগে সব প্রতিবেদন জমা হোক। তারপর আমরা চিন্তা-ভাবনা করব এগুলো কোন কাজে লাগাবো।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ‘অনিয়মের’ ঘটনাগুলোর আংশিক অডিও ও ভিডিও গত ৬ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এখন সব প্রার্থী প্রতিবেদন জমা দিলে আবার এই নিয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফ করা হবে।
প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শিষ প্রতীকে ২৮১ জন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ২৫৬ জন। বাকিরা ছিলেন শরিক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী। এরমধ্যে ধানের শিষ নিয়ে ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন।

সেনাবাহিনীতে হচ্ছে আরেকটি
এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড
সবুজ সিলেট ডেস্ক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি (এডিএ) ব্রিগেড গঠন করা হচ্ছে। বর্তমান এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারির বিভিন্ন ইউনিট পরিচালনায় প্রস্তাবিত এই ব্রিগেডে ১০৯ জন জনবল ও ১০টি যানবাহন যুক্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি সরকারের প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এই প্রস্তাবের পক্ষে সুপারিশ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার বিষয়ক সচিব এন এম জিয়াউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বর্তমানে এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ইউনিটের সংখ্যা ১১টি এবং এসব ইউনিট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য মাত্র একটি এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড রয়েছে। সামরিক সক্ষমতা অনুযায়ী, এ ধরনের একটি ব্রিগেড দিয়ে একই বড়জোর তিন-চারটি ইউনিটকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা সম্ভব।
প্রসঙ্গত,নিয়মানুযায়ী যে ব্রিগেড একাধিক ইউনিট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, সেই সব ইউনিট সাধারণত একই সেনানিবাসে অবস্থান করে। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডটি ঢাকায় অবস্থান করলেও এই ব্রিগেডের অধীন ইউনিটগুলো বিভিন্ন সেনানিবাসে অবস্থান করছে। ফলে ইউনিটগুলোকে আদেশ, নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক কাজ, প্রশিক্ষণ অপারেশন এবং অভিযান একটি মাত্র ব্রিগেডের পক্ষে পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য। এছাড়া, ভবিষ্যতে আরও সেনাবাহিনীতে আরও এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ইউনিট সংযোজন হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় সেনাবাহিনীর জন্য দ্বিতীয় এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড গঠন করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রমতে, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তি ও কৌশলগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় দেশে নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প ও গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। এরমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও পদ্মাসেতু অন্যতম। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত পরিস্থিতি ও চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর, ওয়েল রিফাইনারি, কক্সবাজার বিমানবন্দর, আবহাওয়া রাডার স্টেশন, বটতলী রাডার স্টেশন, কর্তফুলি ব্রিজের আকাশ নিরাপত্তা জরুরি। জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখতে উন্নয়ন প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরি মূলত ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। জয়েন্ট এয়ার ডিফেন্স ড্রাফট ডকট্রিন অনুযায়ী, বিমান ও নৌবাহিনীর নিজস্ব স্থাপনা ও জাহাজ ছাড়া বাংলাদেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনায় আকাশ প্রতিরক্ষা দেওয়ার সার্বিক দায়িত্ব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর।
জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় শত্রু বিমানের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা দিতে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বিদ্যমান বিভিন্ন আর্টিলারি রেজিমেন্টকে দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য মাত্র একটি ব্রিগেড রয়েছে। এ অবস্থায় প্রযুক্তি ও কৌশলগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ইউনিট/সাব-ইউনিটগুলো যুদ্ধ ও শান্তিকালীন উভয় পরিস্থিতে প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক কাজ ও অন্যান্য বিষয়ে দিঙ্নির্দেশনা দিতে দ্বিতীয় ব্রিগেড গঠন করা জরুরি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্বিতীয় ব্রিগেড গঠনের কউদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৭ সালে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি (এডিএ) ব্রিগেডটি চট্টগ্রামে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। এর অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন গত বছর প্রতিরক্ষামন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাবের সার সংক্ষেপ পাঠান। সার সংক্ষেপ অনুমোদনের পর অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতের নিয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠান প্রতিরক্ষা সচিব। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ৬ জানুয়ারি প্রস্তাবটি প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উত্থাপন করে। কমিটি প্রস্তাবটির পক্ষে সুপারিশ করে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, নতুন এই ব্রিগেডে একজন ব্রিগেড কমান্ডার, একজন ব্রিগেড মেজর, জেনারেল স্টাফ অফিসার-২ (মেজর, সিঅ্যান্ডই), একজন ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট অ্যাডজুটেন্ট অ্যান্ড কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (মেজর) ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট ডাইরেক্টর ইলেট্রিক্যাল অ্যন্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (মেজর), জেনারেল স্টাফ অফিসার-৩ (ক্যাপ্টেন, এডুকেশন), অফিসার কমান্ডিং (ক্যাপ্টেন), স্টাফ ক্যাপ্টেন (ক্যাপ্টেন) অর্ডন্যান্স, প্রশাসনিক জুনিয়র কমিশনড অফিসার (সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার), ব্রিগেড অর্ডন্যান্স জুনিয়র কমিশনড অফিসার (ওয়ারেন্ট অফিসার), সার্জেন্ট, করপোরাল, ল্যান্স করপোরাল ও সৈনিকসহ ১০৯ জন জনবল থাকবে। এছাড়া, ১০টি যানবাহন যুক্ত হবে এই ব্রিগেডে।

দীর্ঘমেয়াদি
শাটডাউনের
কবলে যুক্তরাষ্ট্র
সবুজ সিলেট ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শাটডাউন চলছে। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অধীনে ২১ দিনের শাটডাউনের রেকর্ডকে গতকাল শনিবার পেছনে ফেলেছে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান শাটডাউন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে ট্রাম্প ব্যর্থ হওয়ায় বেতন ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে মার্কিন সরকারের লাখ লাখ কর্মী।
মার্কিন অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর। তার আগেই বাজেট অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও সমঝোতার অভাবে কখনও কখনও মার্কিন কংগ্রেস তা পাস করাতে ব্যর্থ হয়। এমন অবস্থায় অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সরকার পরিচালনার তহবিল জোগান দেওয়া হয়। অস্থায়ী এই বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের অনুমোদনসহ প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের তিন চতুর্থাংশ কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ বরাদ্দ করা আছে। বাকি এক চতুর্থাংশের বাজেট ফুরিয়ে যাওয়ায় অচলাবস্থা ঠেকাতে গত ২১ ডিসেম্বর নতুন অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দ ছিল অপরিহার্য। তবে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় সৃষ্টি হয় ‘অচলাবস্থা’। বরাদ্দ কম পড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ১৫টি কেন্দ্রীয় দফতরের মধ্যে ৯টিতে আংশিক শাটডাউন শুরু হয়।
শাটডাউনে এবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিমানবন্দরের কর্মী, এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রক, এফবিআই কর্মীরাও। এই শাটডাউন চলমান থাকলে জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরুর পর সয়াবিনের দাম পড়ে যাওয়ার পর আমেরিকার বহু কৃষক ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে ক্ষতিপুরণ পাওয়ার আশা করেছিলেন। তবে শাটডাউনের কারণে বন্ধ হয়ে আছে সেই ক্ষতিপূরণও।
মার্কিন অর্থনীতিবিদেরা বলছেন চলমান শাটডাউনের কারণে গত শুক্রবার পর্যন্তই ক্ষতি হয়েছে ৩৬০ কোটি মার্কিন ডলার। আরও দুই সপ্তাহ ধরে এই শাটডাউন অব্যাহত থাকলে এই ক্ষতির পরিমাণ ৬০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে এর চেয়েও কম পরিমাণ অর্থ চেয়েছিলেন ট্রাম্প।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই শাটডাউনকে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির আরও একটি পরিহাস হিসেবে দেখে আসলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই শাটডাউন অব্যাহত থাকলে বাকি বিশ্বের ওপরেও প্রভাব ফেলতে শুরু করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মীরা কাজে যোগ না দিলে বন্দরে কন্টেইনারগুলো অসহায় পড়ে থাকলে রফতানিকারক বা ব্যবসায়ীরা এই শাটডাউনের প্রভাব টের পেতে শুরু করবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, তারা ভিসা ও পাসপোর্ট ইস্যু অব্যাহত রাখবে। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত তহবিলের সমর্থন অব্যাহত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এসব কার্যক্রম চালাতে পারবে তারা। এই প্রভাব শুরু হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত লাখ লাখ কর্মীও শাটডাউনের কবলে পড়তে পারেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, শাটডাউনের কারণে মার্কিন জিওলোজিক্যাল সার্ভের আট হাজার কর্মীর মধ্যে মাত্র ৭৫ জন এখন কাজ করতে পারছেন। ফলে বিশ্বের ভূতাত্ত্বিক ঘটনাগুলোর অন্যতম তথ্যদাতা এই প্রতিষ্ঠানটি ইন্দোনেশিয়ার সুনামির কোনো তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি।
এছাড়া আশঙ্কা করা হচ্ছে এই শাটডাউন মানবিক সহায়তা এবং বৈদেশিক সাহায্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় শঙ্কার বিষয় হলো এটি চলা অব্যাহত থাকলে অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব হবে ভয়াবহ।
মার্কিন ইতিহাসে এর আগে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শাটডাউন চলেছিল ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬সালের জানুয়ারিতে। বাজেট নিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও হাউস স্পিকার নিউট গিংরিচের মধ্যকার বিরোধের কারণে ২১দিন পর্যন্ত চলেছিল সেই শাটডাউন।

কক্সবাজারে দুই রোহিঙ্গার
গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার
সবুজ সিলেট ডেস্ক
কক্সবাজারে অর্ধলক্ষ ইয়াবাসহ দুইজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; যারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ছিলেন বলে স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে বিজিবি বলছে, তারা সন্দেহভাজন দুই অনুপ্রবেশকারীকে গুলি করেছে। তবে তাদের গুলিতে কেউ মারা গেছে কিনা তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি।
জেলার টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের মঈনুদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের পাশ থেকে তারা লাশ দুটি উদ্ধার করেন। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর হতে পারে বলে ধারণা করলেও পুলিশ নাম-ঠিকানা বলতে পারেনি।
ওসি প্রদীপ বলেন, “সকালে এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি প্রদীপ বলেন, “নিহতরা হ্নীলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা স্থানীয়দের দাবি। তারা ক্যাম্পে অবস্থান করে ইয়াবা পাচার কাজে জড়িত ছিল।” পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আছাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “ভোরে মিয়ানমার দিক থেকে নাফ নদী পার হয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের আনোয়ার প্রজেক্ট এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে আসে সন্দেহজনক দুই ব্যক্তি।
“বিজিবি সদস্যরা থামার সংকেত দিলে তারা দৌড় দেয়। বিজিবি তাদের লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। তারা গুলিবিদ্ধ হলেও ভোরে অন্ধকার ও কুয়াশার আড়ালে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজির পরও তাদের সন্ধান মেলেনি।”
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি প্রদীপ।