‘মারি তো গণ্ডার লুটি তো ভাণ্ডার’

24

আধ্যাত্মিকতা, মানবিকতা, ক্ষমতা এবং অর্থ মানবজীবনের অঙ্গ। এর বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। এর মধ্যে অর্থ সব কলকাঠি নাড়ায় বলে ধরে নেয়া হয়। এ জন্যই ক্ষমতা দখলের প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা চলে। বোদ্ধাজনেরা জানে অর্থ যেমন ‘সব অনর্থের মূল’, তেমনি সুন্দর জীবন গড়তে সাহায্য করে। ইংরেজ কবি-সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপিয়র অর্থের দু’টি বিপরীতধর্মী চিত্র এঁকেছেন। একটিতে তিনি বলেছেন, ‘অর্থ মানুষকে পশু বানায়’ এবং অপরটিতে বলেছেন, ‘অর্থই মনুষ্যত্বের মূল’।

অন্য কথায় অর্থের ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে, অর্থ আসলে কী করতে পারে। হয়তো বা এ জন্য অর্থকে ‘ছলে-বলে-কৌশলে’ আয়ত্ত করতে চায় একদল কর্তৃত্বপরায়ণ-অর্থলোভী-ক্ষমতাবান শ্রেণী। এরা সমাজের কল্যাণের চিন্তা কখনোই করে না, যদিও তেমন কর্মকাণ্ড করছে বলে তারস্বরে প্রচার চালায়। ইতিহাসে দেখা গেছে, এদের বিরাটসংখ্যক মানুষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়ও আসীন ছিল। সহজেই অনুমান করা যায়, সে সময়টির অবস্থা কী ছিল?

এ নিবন্ধে ইতিহাসের এই লুটেরাদের কিছু চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। আধুনিক সময়ে অর্থ সংবরিত হয় নানাভাবে। প্রযুক্তির কল্যাণে এগুলো সম্ভব হয়েছে। আর এই প্রযুক্তিই আবার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে। একদল অর্থলোভী অপরাধী প্রতিটি যুগেই লুণ্ঠন করেছে এবং এই কর্মকাণ্ডকে ভর করে ডালপালা মেলেছে দুর্নীতি, অনাচার ও অবিচার।

যদিও এই লুটেরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিশেষে ধরা পড়ে, তবুও এক বিরাট অংশ ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। প্রায়ই শোনা যায়, এ ধরাছোঁয়ার বাইরের কর্মকাণ্ডগুলোর পেছনে কাজ করে এই অর্থ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়িত্ববানেরা। যেহেতু এখন অর্থ জমা থাকে ব্যাংকে, তাই লুটেরারা ব্যাংককে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। আধুনিক প্রযুক্তিতে অর্থ লেনদেন হয় ইলেকট্রনিক পদ্ধতির মাধ্যমে, তাই এরা এই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) বলেছে, ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত চার হাজারটি ব্যাংক লুট হয়। কুখ্যাত ডাকাত জন ডিলিনজারের লুটপাটের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে ১৯২০ সালে বিশাল অর্থনৈতিক মন্দা। এখন তারা লক্ষ্য স্থির করেছে এটিএমের (অটোমেটেড টেলার মেশিন) ওপর। কারণ, অতীতের মতো কখন ব্যাংক অথবা কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি তার অর্থ নিয়ে যাতায়াত করবে, তার হিসাব করতে হয় না।

এই এটিএমের লুট হয় সাধারণত সপ্তাহের শেষের তিন দিনে। অন্যান্য দিনেও হয়, তবে তা ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন কসমস ব্যাংকের ১৪ হাজার ৮০০ এটিএম বুথ (২৮টি দেশে) এই আক্রমণের শিকার হয় কয়েক দিন ধরে। এফবিআই বলছে, গত বছরের ১১ আগস্ট এই লুট শুরু করে সর্বশেষ ১০.৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৯৪ কোটি টাকা) নিয়ে যায় উত্তর কোরিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট ডাকাতদল। তারা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে ব্যবহৃত কোড পরিবর্তন করে অত্যন্ত সুচারু যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ সমাধা করে। এটিএম কার্ড গৃহে ব্যবহৃত কম্পিউটারের উইন্ডোজ বা লিনাক্স ব্যবহার করে সাধারণের সুবিধার জন্য। এসিআই ওয়ার্ল্ডওয়াইডের লু জুবাস্কি বলেছেন, ‘যারা এটিএম চালু রাখেন তাদের তাই সিকিউরিটির বিষয়টি সব সময় খেয়াল রাখতে হবে।’

একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হচ্ছে, কসমস ব্যাংক লুট হয়েছিল এফবিআই ব্যাংকগুলোকে টাকা লুট হওয়ার ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেয়ার পর। এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান মিলিন্ড কেল সাংবাদিকদের বলেছেন, এই অর্থ পুরোপুরি ফেরত পাওয়া কঠিন হবে।

তবে ব্রাজিলের পুলিশ ঠিক সময়ে ব্যর্থ না করতে পারলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক লুট হতো। সাওপাওলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাংকো দ্য ব্রাজিলের’ নিচ পর্যন্ত ৫০০ মিটার লম্বা এক সুড়ঙ্গ তৈরি করে ওই ডাকাতেরা। সুড়ঙ্গটিতে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। অনুসন্ধানীরা বলেছে, এখানে ব্যাংকের ভল্টে রাখা ছিল ৩৩১ মিলিয়ন ডলার (৩৩ কোটি ১০ লাখ)। এই ব্যাংকের ফরটোলেজা শাখা থেকে এর আগে ডাকাতেরা ১৬৫ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান রিয়াল চুরি করে নিয়েছিল। এরা ব্যাংকের কাছাকাছি একটি বাড়ি ভাড়া নেয় এবং চার মাস ধরে ৬৪ হাজার ডলার খরচ করে ওই চমৎকার সুড়ঙ্গটি তৈরি করে। তারা সাতটি গাড়িও চুরি করে প্রস্তুত রাখে এই রিয়ালগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য। পুলিশ বলেছে, অ্যালেসু সেউ গমেজ ছিল তাদের নেতা। ওই একই দল এর আগে প্যারাগুয়ের ওই ব্যাংকের শাখা থেকে ১৩ মিলিয়ন ডলার লুট করে নেয়। অবশ্য পুলিশ সেই মহিলাকে খুঁজে পাচ্ছে না, যে এদের জন্য বাড়িটি ভাড়া নেয়। প্যারাগুয়ের ‘ফার্স্ট কমান্ড অব দ্য ক্যাপিটাল (পিসিসি)’ বলে পরিচিত ডাকাতদল ডাকাতি করে বেড়ায় এবং ওই ডাকাতিতে জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এদের দলের সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।

সরকারি এবং ব্যাংকের টাকা তসরুপ বা লুট হওয়ার পর কিছু দিন আলোচনা বা বিতর্ক চলার পর বিষয়টি হারিয়ে যায়।
যেমন ভারতীয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হয়, সে দেশের দু’টি মন্ত্রণালয় ২৬ হাজার কোটি টাকা তিন বছরে গ্রান্ট হিসেবে ছাড় দেয়। তবে কাকে দেয় তার হিসাব নেই। প্রতিবেশী বাংলাদেশ কেমন করে পিছে পড়ে থাকবে?

সিপিডির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. ফাহমিদা খাতুন সেই সংস্থার এক রিপোর্টে বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর থেকে ২০০৯-২০১৭ সালের মধ্যে ১৪টি ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়া ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা নানা দুর্নীতি ও অব্যবস্থার মধ্য দিয়ে লুট করা হয়েছে।’ যে মিটিংয়ে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল সেখানে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ঘোষণা করেছিলেন, এক ‘সিটিজেন্স কমিশন’ গঠন করা হবে এই অর্থের ব্যাপারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, যদি এই সেক্টরকে (ব্যাংক) শক্তিশালী করতে হয়।’ তেমন ব্যবস্থা নেয়া এখনো হয়নি বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। ব্যাংকে নানা দুর্নীতি ও অব্যবস্থার মূলে হলো প্রচলিত আইন অমান্য করা। বিশেষ করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই সেক্টরে অবাধ দুর্নীতি চলছে বলে বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ মন্তব্য করেন।

তবে এক মজার প্রশ্ন করেছেন শরিফুল ইসলাম তার এক প্রবন্ধে। এ দেশে এত দুর্নীতি ও অব্যবস্থার পরও কেন নতুন ব্যাংক খোলার জন্য ৮০টি আবেদন আসে এবং মানুষ ওই ক্ষেত্রে অর্থ বিনিয়োগ করে? তিনি লিখেছেন ২০১৭-এর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ৫৭টি ব্যাংক ৭৫২৭৩০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করেছিল। এর মধ্যে ‘নন-পারফর্মিং’ (অলস) ঋণের পরিমাণ ৮০৩০৭ কোটি টাকা (মোট ঋণের ১০.৬ শতাংশ)। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো ৪৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করে দিয়েছে। সব মিলে ‘ডিফল্ট’ ঋণের পরিমাণ হবে ১২৫ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর অবশ্যই এটা বিশাল ভার, যা একে দুর্বল করে ফেলছে। অধ্যাপক ইয়াছিন আলী লিখেছেন- ‘ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের মালিকানার জন্য এ জন্য আগ্রহী যে, তারা অর্থের সহজ জোগান পাবেন। তাদের ব্যবসা ও অন্যান্য সুবিধা দ্রুত বাড়ে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘ব্যাংক মালিকানা চান এ জন্য যে তাদের কিছুসংখ্যক সদস্য সাধারণ মানুষের (পাবলিক) টাকা লুট করতে চায়।’ তিনি অবশ্য দুঃখ করে বলেছিলেন, ‘বেশির ভাগ ব্যাংক ‘এই অকর্মণ্য (নন-পারফর্মিং লোন) আকার লুকিয়ে মুনাফার ঘোষণা দেয় জনগণের আস্থার জন্য।’

একজন ব্যাংকার ১৯৯১ কোম্পানি অ্যাক্ট উল্লেখ করে বলেছেন, ‘এই আইন অনুসারে একজন ডিরেক্টর তার শেয়ারের ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ নিতে পারবে না। অথচ তারা এই শেয়ার দেখিয়ে অন্য ব্যাংক থেকে অনেকগুণ বেশি ঋণ নেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিশোধ করে না। আবার ব্যাংক মালিকেরা ব্যাংকের ডাইরেক্টরদের তাদের লোকদের ঋণ না দিলে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। একটি ব্যাংকের পর পর তিনজন ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় এ জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইবরাহিম খালেদ মন্তব্য করেছিলেন, ‘ব্যাংকিং সেক্টর বিপদে আছে মালিকদের অযৌক্তিক প্রভাবের কারণে।’ ‘রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তরা ব্যাংকের মালিকানা দখল করে আছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে’- খালেদ মন্তব্য করেন।

এ দিকে, ব্যাংকের মালিকানা কুক্ষিগত করার প্রক্রিয়া চালু আছে। এক রিপোর্টে বলা হয়- ‘একটি গোষ্ঠী আটটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। বর্তমান আর্থিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কেউই নতুন ব্যাংক খুলতে চাইবে না, যদি না তার উদ্দেশ্য মহৎ থাকে, বলেছেন ইবরাহিম খালেদ সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে। সাম্প্রতিক এক নতুন আইনে ডাইরেক্টরদের সময়কাল ছয় থেকে বাড়িয়ে ৯ বছর বাড়ানোর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে ব্যাংকে রক্ষিত জনগণের টাকার দেখভাল করার ব্যবস্থা অনেক দুর্বল হয়ে পড়বে।

যা হোক, একটি ছোট ভালো খবর হলো- বাংলাদেশ তার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লুট হয়ে যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের ১৫.২৫ মিলিয়ন ডলার (১২০ কোটি টাকা) ফিলিপাইন থেকে ফেরত পাবে। টাকাটা সেখানের ক্যাসিনোতে ব্যবহার হচ্ছিল। এত বিশাল অঙ্ক কখনো ভেতরের সাহায্য ছাড়া লুট করা সম্ভব নয়। ফিলিপাইন কোর্ট ২৫ জনকে শনাক্ত করেছে দোষী হিসেবে। এরা ফিলিপিনো, শ্রীলঙ্কা, চীন ও বাংলাদেশের। টাকাগুলো নানা পথ ধরে অবশেষে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) এক শাখায় জমা হয়। ফিলিপাইনের দুর্বল আইনের কারণে বিশ্বের টাকা পাচারকারীর স্বর্গ হলো এখানের ব্যাংকগুলো এবং ‘সুইফট সিস্টেম’ (যার মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়) এর বাহন। এই সিস্টেম বেলজিয়ামে অবস্থিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার পার্ক জি হিওককে এর জন্য দায়ী করেছে। পার্ক এর আগে সনি এবং ওয়ান্নাক্রাই সাইবার আক্রমণেও জড়িত ছিল। ওয়ান্নাক্রাই আক্রমণে বিশ্বের হাজার হাজার অ্যাকাউন্ট আক্রান্ত হয়। এরা নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশের ৮১ মিলিয়ন ডলার (আট কোটি ১০ লাখ ডলার) চুরি করে নেয়। এ দিকে, এসব কারণে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট চীনের চসুন এক্সপোকে (ব্যাংক) আইন অমান্যকারী হিসেবে চিহ্নিত করে। পুরো চুরির ঘটনা ঘটে অনলাইনে।

এবং একই পদ্ধতি ব্যবহার করে ভারতের সিটি ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে দুই মিলিয়ন (২০ লাখ) ডলার হাতিয়ে নেয়া হয়। চোরেরা আদান-প্রদানের সফটওয়ার কোড পরিবর্তন করে মাঝপথ থেকে অর্থ সরিয়ে নেয়। ব্যাংকের সিইও এন কমাকদি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের কোনো স্টাফ এতে জড়িত নেই।’ কিন্তু সাথে সাথে পত্রিকায় তথ্য বেরোয়- মুম্বাইয়ের পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের এক ম্যানেজার ছয় বছর ধরে কৌশলে ১.৮ বিলিয়ন ডলার বিভিন্ন অজানা অ্যাকাউন্টে পাচার করেন নানা খরচ দেখিয়ে। এর পেছনে জড়িত ধনী অলঙ্কার ব্যবসায়ী নীরব মোদি আর তার ম্যানেজার গোকুলনাথ শেঠি। অজ্ঞাত ব্যবসায়ীকে ‘লেটার অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’-এর মাধ্যমে পাচারটি শুরু হয়।

এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক লুটের ৯টি উল্লেখ করা যায়। ০১. ইউনাইটেড ক্যালিফোর্নিয়া ব্যাংক (ল্যাগুনা নিগুয়েল) মার্চ ২৪, ১৯৭২-১৭২.৪ মিলিয়ন ডলার; ০২. পিয়েরে হোটেল, নিউ ইয়র্ক জানুয়ারি ২, ১৯৭২-১৫৫.২ মিলিয়ন ডলার; ০৩. ডানবার আর্মাড ফ্যাসিলিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া, সেপ্টেম্বর ১২, ১৯৯৭-২৮.৩ মিলিয়ন ডলার; ০৪. লুমিস ফার্গো, জ্যাকসনভাইল, ফ্লোরিডা, মার্চ ২৯, ১৯৯৭-২৮.১ মি. ডলার; ০৫. ব্রিকং বিল্ডিং, বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস, জানুয়ারি ১৭.১৯৫০-২৭.৭ মিলিয়ন ডলার; ০৬. সেন্ট্রি আর্মাড কুরিয়ার, নিউ ইয়র্ক ডিসেম্বর, ১৯৮২-২৭.৪ মিলিয়ন ডলার; ০৭. লুমিস ফার্গো, চার্লসটন, নর্থ ক্যারোলিনা, অক্টোবর ৪, ১৯৯৭-২৫.৯ মিলিয়ন ডলার; ০৮. দ্য ম্যানহাটান কোম্পানি, নিউ ইয়র্ক, জানুয়ারি, ১৯৩৫-২৫.৮ মিলিয়ন ডলার; ০৯. জেএফকে ইন্টারন্যাশন্যাল এয়ারপোর্ট নিউ ইয়র্ক, ডিসেম্বর ১১, ১৯৭৮-২১.৬ মিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়াও আরো সাতটি বড় লুটের ঘটনা হলো- ০১. হাটনগার্ডেন জুয়েলারি ডাকাতি- মূল্যবান পাথর, মূল্য ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড সাতজনে লুট করে; ০২. বোস্টন মিউজিয়াম ডাকাতি ১৩টি চিত্র চুরি মূল্য অর্ধ বিলিয়ন ডলার; ০৩. ক্রাউন জুয়েলার্সে চুরি- চোর কর্নেল থোমাস ব্লাড, ১৬৭১, কয়েক মাস ধরে মূল্য। পরে পুরোটা ধরা পড়ে। রাজা চার্লস দুই চোরকে মাপ করে দেন; ০৪. রাশিয়ান হ্যাকার-২০১৪-১৬ মধ্যে সারা বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৬৫০ মিলিয়ন পাউন্ড চুরি; ০৫. দ্য পিঙ্ক প্যানথারস- প্যারিসের বিখ্যাত হ্যারি উইনস্টন জুয়েলারি দোকান লুট, মূল্য ৮৫ মিলিয়ন ডলার; ০৬. উইলককস ট্রেন ডাকাতি- ঘোড়ায় এসে পাঁচ হাজার ডলার লুট (আজকের মূল্য সাত মিলিয়ন ডলার)।

তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় লুট হয়েছিল বাগদাদে। যখন মার্কিনিরা বাগদাদ আক্রমণ করে, প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম তার ছেলে কুসেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলারগুলো সরিয়ে রাখার জন্য বলেন। কারণ এর আগে আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে এমন মার্কিনি আক্রমণের পরে টাকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কুসে টাকাগুলো এনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দেয়ালের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। এক শ’ ডলার নোটগুলো স্টিলের বাক্সে ভরে নিয়ে এসে প্রাসাদের দেয়ালে লুকিয়ে রাখেন। এতে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ছিল। মার্কিনি সৈন্যরা সাদ্দামের দুই ছেলেকে হত্যা করে এবং পরে সাদ্দামকে ফাঁসি দেয় এবং দেয়াল ভেঙে ডলারগুলো তিন ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যায়। রিসার্চরা বলছেন, এরপর ওই টাকার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

অবশ্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জানা যায়নি এসব লুটেরার শেষ অবস্থা। তারা হারিয়ে গেছে অথবা অবস্থান এবং চেহারার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা তাদের লুটের অর্থ নিজেরা ভোগ করতে পারেনি। ভোগ করেছে নেপথ্যের শক্তি অথবা তাদের পরিচিত জনেরা। আর নিন্দিত হয়েছে ওই লুটেরারা।