বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

13

শিপন আহমদ, ওসমানীনগর:
শিক্ষা বিভাগের সঠিক নজরদারির অভাবে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরেরর অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা অবৈধ কোচিং বাণিজ্য। চলতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষার পাঁচ দিন আগ থেকে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হলেও বালাগঞ্জ ওসমানীনগরে থেমে নেই কোচিং সেন্টারগুলো।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ কোচিং বাণিজ্যের হোতারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষার্থীদের প্রায় জিম্মি করে যাওয়া হচ্ছে কোচিং ক্লাস। বিদ্যালয়ের দুর্বল ছাত্রদের বিশেষ পাঠদানের অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষর্থীদের দুর্বল শিক্ষার্থী তালিকায় নিয়ে একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য।
অভিযোগ রয়েছে, কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছেন উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
জানা যায়, উপজেলায় অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোর পাশে ভবন ভাড়া করে কিংবা বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় বিভিন্ন নামে গড়ে তোলা উঠেছে কোচিং সেন্টার। কোচিং না করানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাই প্রতি নিয়ত শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন এসব কোচিং সেন্টারে। প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে পোস্টার আর ফেস্টুুন এমনকি রং দিয়ে বিশাল আকৃতির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে কোচিং সেন্টারের।
এসব বিজ্ঞাপনের কারণে একদিকে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যহানি হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকছে কোচিং সেন্টারের দিকে। বিভিন্ন স্কুল শেষে শিক্ষকরাই দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন কোচিং সেন্টারে গিয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টারে বিভিন্ন ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে শতভাগ পাসসহ ‘এ’ প্লাস প্রাপ্তির নিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতে ভর্তি করিয়ে থাকেন শিক্ষকরা। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষকরা এ কাজে নিয়োজিত।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সমমানের শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র আরও ভয়াবহ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষক পদে চাকরি করেও গোপনে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক তালিকায় রেখে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন বাণিজ্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের সাদীপুর পরিক্ষা কেন্দ্রে কয়েকশ গজ দূওে সাদীপুর-সুন্দিখলা রাস্তার মোড়ে মেরিট কোচিং সেন্টারে এসএসসি পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে চালিয়ে যাচ্ছে কোচিং কার্যক্রম। এ কোচিং সেন্টারের সাথে জড়িত রয়েছেন সাদীপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক রফিকুল ইসলাম মতি। তিনি এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোচিং চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শনিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত সাদীপুরের মেরিট কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হয়েছে। তবে কোচিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সাদীপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম মতি জানান, তার কোচিং সেন্টার বন্ধ রয়েছে। শনিবার দুপুরের কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীরা ছিল কী না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শনিবার শিক্ষর্থীদের কোচিং বন্ধ জানানো হয়েছে। তিনি প্রথমে বলেন, আমি মেরিট কোচিংয়ে আগে ছিলাম এখন নেই। একইভাবে গত এক সপ্তাহে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার বেশ কয়েকটি উচ্চবিদ্যালয়গুলোসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোচিং বাণিজ্যের এরকম এ দৃশ্য।
তবে কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকা একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকার দাবি, অভিভাবকদের চাপের কারণে প্রাইভেট বা কোচিং করাতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্য দিকে অভিভাকদের অভিযোগ সরকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করলেও শিক্ষক-শিক্ষিরা তা আমলে না নিয়ে উল্টো বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে বাধ্য করে থাকেন। তাদের কথামতো কোনো শিক্ষার্থী কোচিং না করলে পরীক্ষায় পাস করার পর গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ফেল দেখিয়ে আটকে দেয়া হয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে মাসিক বেতনের পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীর জন্য শুধু কোচিংয়ের জন্য আমাদের খরচ করতে হচ্ছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা। সরকার কোচিং বন্ধে নানা নীতিমালা করলেও বাস্তবতা হচ্ছে তাদের কোনো তৎপরতা নেই।
অন্যদিকে কোচিংয়ে পড়তে না গেলে আমাদের ছেলে মেয়েদের নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই ঝামেলা এড়াতে অভিবাবকরা বাধ্য হয়ে কোচিং সেন্টারে ছেলেমেয়েদের পড়াতে হয়।
ওসমানীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার চক্রবর্তী জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার। যদি তদন্ত যে সকল কোচিং সেন্টার খোলা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বালাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, আমার জানামতে এ উপজেলায় কোনো কোচিং সেন্টার চালু নেই। এর পর খোঁজ নিয়ে এগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।