সিলেট প্রেসক্লাবে সম্মেলনে অভিযোগ জকিগঞ্জের আয়াছ আলীর

19

সবুজ সিলেট ডেস্ক:
জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের কায়স্থকাপন ইনামতি গ্রামের ছায়াদ আলীর পুত্র আব্দুস ছুবহানের বিরুদ্ধে নির্যাতন, হুমকি ও হামলা-মামলার অভিযোগ করেছেন একই গ্রামের রিয়াজুর রহমান (আয়াছ আলী)। এ কারণে বাড়ি ছেড়ে নিজের মেয়ের বিয়ে অন্য বাড়িতে গিয়ে অনুষ্ঠানিকতা করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী আব্দুস ছুবহান ইতঃপূর্বে আমার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে কিছু জমি বিক্রয়ের নগদ দুই লক্ষ টাকা গত বছরের ১১ জুলাই জোরপূর্বক নিয়ে যান। জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট টাকার নেওয়ার বিষয়টির স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ছুবহান। তবুও এখন পর্যন্ত টাকাগুলো ফেরত পাইনি।
আয়াছ আলী আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে আরও তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন ছুবহান এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। এছাড়া মিথ্যা মামলা দিয়েও আমাদের হয়রানি করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় আব্দুস ছুবহান জকিগঞ্জ থানায় এবং জকিগঞ্জ আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। ভুয়া তথ্য ও সাক্ষ্য দিয়ে আমাদের হয়রানি ও ক্ষতিসাধন করছেন। গত ৮ অক্টোবর ছুবহান, তার স্ত্রী সীমা আক্তার, তার সহেযাগী আছাদ, খড়া, নজু, লবিব, ময়নুল, জইন উদ্দিন, হান্নানসহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে আমাদের বসতঘরে হামলা করে যাবতীয় মালামাল তারা লুট করে নিয়ে যান। এমনকি বাড়ির মূল্যবান গাছপালা কর্তন করেন। এতে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় জনতা পরবর্তীতে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে সাধারণ একটি মামলা নেওয়া হয়। মামলা নং ১৩।
রিয়াজুর রহমান অভিযোগ করেন, জামিন নিয়ে আব্দুস ছুবহান পুনরায় আমাদেরকে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছেন। আমরা এখনো আমাদের বসতঘরে ফিরতে পারছি না। আমার ও আমার পরিবারবর্গের উপর অত্যাচার ও বসতঘর ভাঙ্গা থাকায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি আমার কনিষ্ঠ মেয়ের বিয়ে অন্য বাড়িতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকতা করতে হয়। এমতাবস্থায় আমাদের উপর নির্মম অত্যাচার, চাঁদাবাজি হতে রক্ষা ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং যাবতীয় ক্ষতিপূরণ আদায়ে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আয়াছ আলীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার মেয়ে আয়েশা বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার আরেক মেয়ে সায়রা বেগম, ছেলে একরাম আহমদ, জামাতা মো. আলাউদ্দিন ও কারি আতাউর রহমান, প্রতিবেশি ছালেক আহমদ, হাফিজ ছিদ্দিকুর রহমান, মো. আব্দুর সাত্তার মইন, মো. আব্দুর রহমান।