হাওর দুর্নীতি মামলা চার্জশিটে অব্যাহতি ৩৩ জনের, নতুন আসামি ৬

13

স্টাফ রির্পোটার:
সুনামগঞ্জ জেলা পাউবোর ১৫ কর্মকর্তা এবং ৪৬ ঠিকাদার ও প্রতিষ্ঠানসহ ৬১ জনকে আসামি করে দুদকের হাওর দুর্নীতি মামলার শুরু হলেও চার্জশিট দেওয়া হয়েছে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে। তদন্তে মামলার ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন করে এ মামলায় আরো ৬ জনকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। চার্জশিট থেকে বাদ পড়া ঠিকাদাররা সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতা ও তাদের অনুসারী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি দুদক থেকে নতুন ছয়জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। তবে বিষয়টি গত মঙ্গলবার প্রকাশ্যে আসলে গতকাল সোমবার এ নিয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। দুদকের এ মামলায় অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী খায়রুল হুদা চপল, সিলেট জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হান্নানসহ প্রভাবশালী ঠিকাদাররা। দুদকের মামলার এজাহারে তাদের নাম থাকলেও অনেকে কারাভোগ করার পরও অভিযোগপত্র থেকে তাদের অব্যাহতির বিষয়টি ছিলো আলোচিত। অব্যাহতি পাওয়া ঠিকাদাররা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্কওর্ডার দিত গাফিলতির কারণকে দায়ি করছেন। তারা বলছেন, সময়মতো ওয়ার্কওর্ডার পাননি তারা। ফলে দুর্নীতির সুযোগ ছিলো না তাদের।
২০১৭ সালের ২ জুলাই হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে সুনামগঞ্জ জেলা পাউবোর ১৫ কর্মকর্তা এবং ৪৬ ঠিকাদার ও প্রতিষ্ঠানসহ ৬১ জনকে আসামি করে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের দিনেই আসামিদের মধ্যে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দীন ও মো. বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের তদন্তকারী দল। মোট ৩৩ জন আসামির মধ্যে ২৭ জন হলেন-বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দপ্তর) মো. আফছার উদ্দীন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ঢাকা) মো. শহিদুল্লা, সহকারী প্রকৌশলী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) মো. খলিলুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (নেত্রকোনা) ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ খান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কক্সবাজার) খন্দকার আলী রেজা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ঢাকা) মো. শাহ আলম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সাতক্ষীরা) মোহাম্মদ মাহমুদুল করিম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ঢাকা) মো. মোছাদ্দেক ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ঝালকাঠি) সজিব পাল।
অন্যদিকে দুদকের অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত ঠিকাদাররা হলেন-মো. আফজালুর রহমান, পার্থ সারথী পুরকায়স্থ, শেখ মো. মিজানুর রহমান, আবুল মহসীন মাহবুব, খান মো. ওয়াহিদ রনি, নিয়াজ আহমেদ খান, মো. আতিকুর রহমান, মিলন কান্তি দে, মো. সোয়েব আহমেদ, মো. ইউনুস, মো. আব্দুল কাইয়ুম, মো. সাইদুল হক, মো. গোলাম সরোয়ার, মো. নুরুল হক, মো. শাহরিন হক মালিক, মোকসুদ আহমেদ, কাজি হাসিনা আফরোজ ও শেখ আশরাফ উদ্দিন।
তদন্তে নতুন করে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন-পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী লিংকন সরকার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) রঞ্জন কুমার দাস, সহকারী প্রকৌশলী (সুনামগঞ্জ) অনিক সাহা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন, নীহার রঞ্জন দাস ও ঠিকাদার মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রাইভেট) লিমিটেডের পরিচালক (কনস্ট্রাকশন) মো. শরিফুল ইসলাম।

চার্জশিট থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ৩৪ জন হলেন-পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম সরকার, প্রাক্তন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, মো. বরকত উল্লাহ ভূঁইয়া, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ঠিকাদার খন্দকার শাহিন আহমেদ, মো. জিল্লুর রহমান, সজীব রঞ্জন দাস, এমএ হান্নান, খায়রুল হুদা চপল, কামাল হোসেন, কাজী নাছিমুদ্দিন লালা, খন্দকার আলী হায়দার, মো. আকবর আলী, মো. রবিউল আলম, মো. আবুল হোসেন, শিবব্রত বসু, মোজাম্মেল হক মুনিম, মো. বাচ্চু মিয়া, বিপ্রেশ তালুকদার বাপ্পি, মো. জামিল ইকবাল, চিন্ময় কান্তি দাস, মো. খাইরুজ্জামান, মো. মফিজুল হক, মো. মোখলেছুর রহমান, মো. রেনু মিয়া, মো. শামসুর রহমান, আব্দুল মান্নান, মো. মাহতাব চৌধুরী, লুৎফুল করিম, হাজি মো. কেফায়েতুল্লা, হুমায়ুন কবির ও ঠিকাদার মো. ইকবাল মাহমুদ।
মামলার চার্জশিট থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী সজীব রঞ্জন দাশ বলেন, আমাদের নামে একাধিক প্রকল্পের কাজ থাকলেও পানি আসার সময় ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া দুই বছর মেয়াদী কাজে আমরা মাত্র ৭ লাখ টাকা তুলেছিলাম। টাকা না তুলে সময় মতো ওয়ার্ক অর্ডার না পেয়ে আমরা কাজই শুরুই করতে পারিনি। তাহলে আমরা দুর্নীতি করলাম কোথায়। দুদকের নিরপেক্ষ তদন্তের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
এ ব্যাপারে মামলার চার্জশিট থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী খায়রুল হুদা চপল বলেন, আমি যখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ফসল রক্ষা বাধেঁর কাজ পাই কাজ শুরুর ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছিল সবেমাত্র কিন্তু একটি চক্র মান সম্মানকে ক্ষুন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সমাজে আমার মান সম্মান হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই মূলত এই মামলাটি করা হয়েছি। কিন্তু অবশেষে দুদকের মামলায় জয় হয়েছে আমার আর পরাজিত হয়েছে এই অপশক্তির।
২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল দুদকের পরিচালক বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে টিম কাজ শুরু করে। এই টিমের সদস্যরা হলেন উপ-পরিচালক আবদুর রহিম, সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার মনি, সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ এবং উপ-সহকারী পরিচালক নেয়ামুল কাজী।

জৈন্তাপুরের লিয়াকতের
বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত দুই কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ২৩১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযাগে জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা নির্বাচনে আওযামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলা করেন। মামলা নং-২০। মামলার অভিযোগে বলা হয়, লিয়াতক আলী ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্রাচার্য সবুজ সিলেটকে বলেন, এর আগে দুদক সম্পদের হিসাব চেয়ে লিয়াকত আলীকে নোটিশ প্রদান করে। পরবর্তীতে অনুসন্ধান শেষে তার বিরুদ্ধে মামলার করা হয়।
আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। লিয়াকত বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, পাথর কোয়ারিতে খুন, রাহাজানিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কারণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। সরকারি ভূমিদখল, সাংবাদিক নির্যাতনসহ ভারতে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০১৭ সালের গত ৩ ডিসেম্বও জৈন্তাপুরের শ্রীপুর পাথর কোয়ারিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লিয়াকত আলী ও তার অনুসারীদের হাতে এক যুবক খুন হয়। সেই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন লিয়াকত আলী ও ২ নম্বর আসামি ফয়েজ আহমদ বাবর। এ মামলায় আদালতে আত্মসমর্পনকালে লিয়াকত-বাবরের বাহিনী ছবি ধারণের সময় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়। ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৮ বছর দায়িত্ব পালনকারী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মুখলিছুর রহমান দৌলা রাতে জৈন্তাপুর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় মারা যাওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি লিয়াকত আলীর মামাশ্বশুর বেলাল উদ্দিন ওরফে টুল্লা বিলাল। দৌলা খুনের পরের বছরই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন লিয়াকত আলী। তার এ পদে আসীন হওয়া এবং লিয়াকতের মামাশ্বশুর চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার পর বাদীপক্ষের এ সন্দেহ হয় যে, নিজের পথ পরিষ্কার করতেই লিয়াকত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এছাড়া এলাকাবাসী জানান, লিয়াকত আলীর বাবা মৃত ওয়াজেদ আলী ওরফে টেনাই মিয়া ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকার একজন চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন। স্থানীয়ভাবে লিয়াকতের বিরুদ্ধে পাথর কোয়ারিতে অবৈধভাবে পরিবেশবিধ্বংসী বোমা মেশিন চালানো, আদিবাসীদের বাড়ি দখল, সুপারিবাগান ধ্বংস করে পাথর উত্তোলন, মাদক চোরাচালান, টেন্ডারবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভারতের মেঘালয় রাজ্যে দ্বিতীয় বিবাহ করাসহ সম্পদ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের শেষদিকে লিয়াকত আলীর অতীত-বর্তমান তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, লিয়াকত আলী এক সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদের বাড়ির পাহারাদার ছিলেন। পরে এমপির গাড়ির ড্রাইভারের দায়িত্ব পান। অতঃপর লিয়াকত আলী কিছুদিন সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদের পিএসর দায়িত্ব পালন করেন। এই সুবাদে তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, পরে যুগ্ম সম্পাদক ও সবশেষে দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হন।

২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ৪ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেয়া হয়। কমিটিতে সভাপতি করা হয় আলহাজ মো. আবদুল্যাহকে। সহসভাপতি কামাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন ফয়েজ আহমদ বাবর। এরই মধ্যে সভাপতি মো. আবদুল্লাহ মারা গেছেন। কিন্তু অদ্যাবধি জৈন্তাপুর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কমিটি গঠনের পর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ বাবর দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িয়ে পড়েন। তারা দলীয় কার্যক্রমে মনোনিবেশ করেননি, তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধিতে কোনো কাজ করেননি। ব্যক্তিস্বার্থে নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে এলাকায় একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন। যা স্থানীয়ভাবে পরবর্তী সময়ে জনমানুষের মুখে মুখে লিয়াকত বাহিনী নামে পরিচিতি লাভ করে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, লিয়াকত বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, পাথর কোয়ারিতে খুন, রাহাজানিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এই বাহিনীর কর্মকাণ্ড স্থানীয়ভাবে দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি মারাÍকভাবে ক্ষুণœ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ ডিসেম্বর শ্রীপুর পাথর কোয়ারিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লিয়াকত আলী ও তার অনুসারীদের হাতে এক যুবক খুন হয়। সেই মামলার প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও ২ নম্বর আসামি ফয়েজ আহমদ বাবর বাহিনী নিয়ে আদালতে হাজির হন। ওই ছবি ধারণের সময় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৮ বছর দায়িত্ব পালনকারী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মুখলিছুর রহমান দৌলা রাতে জৈন্তাপুর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় মারা যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি লিয়াকত আলীর মামাশ্বশুর বেলাল উদ্দিন ওরফে টুল্লা বিলাল। দৌলা খুনের পরের বছরই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন লিয়াকত আলী। তার এ পদে আসীন হওয়া এবং লিয়াকতের মামাশ্বশুর চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার পর বাদীপক্ষের এ সন্দেহ হয় যে, নিজের পথ পরিষ্কার করতেই লিয়াকত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, লিয়াকত আলীর বাবা মৃত ওয়াজেদ আলী ওরফে টেনাই মিয়া ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকার একজন চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন। স্থানীয়ভাবে লিয়াকতের বিরুদ্ধে পাথর কোয়ারিতে অবৈধভাবে পরিবেশবিধ্বংসী বোমা মেশিন চালানো, আদিবাসীদের বাড়ি দখল, সুপারিবাগান ধ্বংস করে পাথর উত্তোলন, মাদক চোরাচালান, টেন্ডারবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভারতের মেঘালয় রাজ্যে দ্বিতীয় বিবাহ করাসহ সম্পদ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের শেষদিকে লিয়াকত আলীর অতীত-বর্তমান তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, লিয়াকত আলী এক সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদের বাড়ির পাহারাদার ছিলেন। পরে এমপির গাড়ির ড্রাইভারের দায়িত্ব পান। অতঃপর লিয়াকত আলী কিছুদিন সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদের পিএসর দায়িত্ব পালন করেন। এই সুবাদে তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, পরে যুগ্ম সম্পাদক ও সবশেষে দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হন।

প্রতিবেদনে লিয়াকত আলীকে একজন অসৎ, দুর্নীতিপরায়ণ, অসামাজিক সর্বোপরি অশিক্ষিত মানুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লিয়াকত আলীর কারণে স্থানীয়ভাবে দলের এবং সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন কিংবা এডহক কমিটি গঠন, আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রমকে সচল করা এবং কমিটিতে লিয়াকত ও বাবরকে না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কমিটি ভেঙে দেয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি।