বিসিকের বর্জ্যরে দুর্গন্ধে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে’ এলাকায় বাড়ছে নানা রোগ

42

জুমান আহমেদ:
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) নগরীর গোটাটিকর বিসিক শিল্প এলাকায় কয়েকটি কারখানার খোলা ড্রেইন ও রাস্তার উপর ফেলা বিষাক্ত বর্জ্যের দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে সিসিকের ২৭ নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা। সুষ্টু ব্যবস্থাপনা না থাকায় বর্জ্যমিশ্রিত পানি ড্রেইনের মাধ্যমে ওই এলাকার ফসলি জমিতে পড়ে উৎপাদন হচ্ছে না। এবং কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের রোগ। এছাড়া, কারখানার খোলা ড্রেইন ও রাস্তার উপর ফেলা বিষাক্ত বর্জ্যের দুর্গন্ধ বাতাসে মিশে ওই এলাকায় শিশু, বয়স্কসহ নানা বয়সের মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের রোগ। তাছাড়া, ধোয়ায় গাছের ফল ও বর্জ্য পানিতে মিশে খাল-বিলের মাছেও পড়ছে এর প্রভাব। তবে, স্থানীয় কাউন্সিল বিষাক্ত বর্জ্যরে দুর্গন্ধ শিকার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিসিক এলাকায় নতুন কিছু কারখান গড়ে উঠেছে। আর এই কারখানা গুলো বিশেষ করে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। যা এর আগে এত দুর্গন্ধ এই এলাকায় ছিল না। তাঁর সাধ্য মতো বিসিক এলাকা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখছেন। এবং অনেক বার পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিসিকের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর গোটাটিকর বিসিক শিল্প এলাকায় কিছু ড্রেইন নতুন করা হলেও অধিকাংশ ড্রেইন খোলা রয়েছে। কারখানার বিষাক্ত কালোবর্জ্য পাইপের মাধ্যমে খোলা ড্রেইনে পড়ছে। এছাড়া কয়েকটি কারখানার দুর্গন্ধ বর্জ্য রাস্তায় পড়ে আছে। আর এই রাস্তা দিয়ে আলমপুর এলাকার বেশীর ভাগ মানুষের যাতায়াত। এবং ওই এলাকার স্কুল ও কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। আর এই এলাকার সামনে রয়েছে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস, শিক্ষা বোর্ডসহ গুরুত্ব পূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কারখানার বর্জ্য ড্রেইন দিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার জমি, কুড়ি বিলে চলে যাচ্ছে। আর রাস্তার উপর রাখা দুর্গন্ধযোক্ত বর্জ্য বাতাসে মিশ্রিত হয়ে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বিসিকের পাশে মার্কেটে ব্যবসায়ীরা জানান, কিছু কারখানার দুর্গন্ধে দোকানে বসে ব্যবসা চালানো কষ্ট কর। পেটের দায়ে কষ্ট করে হলেও তা আমাদের করতে হচ্ছে। তারা আরো জানান, শীত মৌসুমে দূর্গন্ধ ও বর্ষাকালে ড্রেইন বন্ধ হয়ে দোকানের ভিতরে ময়লা ডুকে পড়ে। তবে, সিসিকের মাধ্যেমে কিছু ড্রেইন হলেও বেশীর ভাগ ড্রেইন এখনও খোলা (স্লেভ নেই) রয়েছে। বর্ষার পানি থেকে বাঁচতে অনেক ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানের ভিটে উচু করেছেন। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে কারখানার বর্জ্য ফসলি জমি ও বিলে গিয়ে পড়ে মাছ ও ফসল উৎপাদন কম হয়।
বিসিক শিল্পনগর কর্মকর্তা বলেন, শিল্প কারখানার প্লট থেকে সড়ক অনেক উঁচু। বিসিকের পানির ড্রেনের মাধ্যমে পাশের হাওরে গিয়ে পড়তো। এখন হাওর ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠেছে। এর ফলে পানি নিষ্কাশন অনেকাংশে কমে গেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা সড়ক ও জনপথকে অনুরোধ করেছি, তারা তাদের জায়গায় পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য।
এবিষয়ে ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজম খান বলেন, আগে এরকম দূর্গন্ধ ছিল না। কিন্তু ইদানিং কালে কিছু নতুন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় দূর্গন্ধটা বেড়ে গেছে। আমি সাধ্যমত আমার লোক দিয়ে সকাল-বিকেল পরিস্কার করি। তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিসিকের সামনে পরিবেশ অধিদপ্তর আমি এ বিষয়টি নিয়ে অনেক বার তাদের কাছে গিয়েছি, কিন্তু কোন ফল পাইনি। তাছাড়া, এ বিষয়টি নিয়ে অনেক বার এলাকার গণ্যমান্য লোক নিয়ে তাদের সাথে বসেছি, তারা বিষয়টি দেখছেন বলে আমাদের আস্বস্ত করেছেন।