মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জুয়ার আসরে যুবকের মৃত্যু

10

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
শ্রীমঙ্গলে জুয়ার আসরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রুবেল মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ খবর পেয়ে রুবেল মিয়ার মরদেহটি উদ্ধার করে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে শহরের সিন্দুরখাঁন রোড রেল ষ্টেশনের পাশের শাপলাবাগ রেল কলোনিতে এ ঘটনাটি ঘটে বলে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিশ্চিত করেন মৌলভীবাজার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. আশরাফুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার সকালে রুবেল মিয়ার মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কালীঘাট রোডের রেল কলোনির পাশের একটি বস্তিতে কুতুব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর বসিয়ে আসছে। ইতোপূর্বেও সে একাধিকবার পুলিশের হাতে আটকও হয়েছে বলে জানান তারা। এছাড়া সে এলাকার একজন চিহ্নিত জুয়ারি হিসাবে পরিচিত। প্রতিদিনই সেখানে জুয়ার আসর বসতো বলে এলাকাবাসী জানান।

নিহত রুবেলের বোন পারুল বেগম জানান, রুবেল বিকেল ৫টা পর্যন্ত মৌলভীবাজার সড়কে অবস্থিত তাদের দোকানের পাশেই ছিল। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার দিকে মুঠোফোনের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে একটি ঘরে তার ভাইয়ের মৃতদেহ পরে থাকতে দেখেন তারা। পরে রাত ৯টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা জানতে পেরেছে এই দিন জুয়ার আসর থেকে রুবেল মিয়া ৯০ হাজার টাকা জিতেছে। এই টাকা ছিনতাই করতে গিয়েই তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন পারুল।

রুবেলের পিতা দুলাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “রুবেলের মৃত্যুটি স্বাভাবিক নয়। তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তারা এই পরিকল্পিত হত্যার বিচার দাবী করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, যে ঘরে রুবেলের মৃতদেহটি পাওয়া গেছে সে ঘরটি তালাবন্ধ ছিলো৷ এমনকি পাশের ঘরগুলোও তখন বন্ধ ছিলো বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী বলেন, “এখানে প্রতিদিন সকাল থেকেই রাত পর্যন্ত একটানা জুয়া খেলা হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু নেতাদের ছত্রছায়ায় তারা এই জুয়ার আসর বসায়, এলাকাবাসী বাঁধা দিলে জুয়া্রিরা এলাকাবাসীদের নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখান।”

তবে অভিযুক্ত কুতুব আলী বলেন, “এখানে জুয়া খেলা হয় এটা সত্যি। তবে আমি এই ব্যাপারে সম্পৃক্ত নই। আর রুবেলের মৃত্যুর বিষয়েও আমার কিছু জানা নেই।”

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, “লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট আসলে আমরা মৃত্যুর আসল কারণ বলতে পারবো।”

তিনি আরো জানান, “কুতুবের জুয়ার আসরে ইতোপূর্বে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশ সেখানে অভিযানে যাবার আগেই কৌশলে পালিয়ে যায় সে ও সহযোগীরা। তবে রুবেলের মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং কুতুব ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”