ঋণ খেলাপির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই : অর্থমন্ত্রী

12

সবুজ সিলেট ডেস্ক:
দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সুদের হার একক ডিজিটে অর্থাৎ শতকরা নয় ভাগে নামিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, ‘এরইমধ্যে ২১টি ব্যাংক একক ডিজিটে নামিয়ে এনেছে, বাকি ব্যাংকগুলোও শিগগিরই একক ডিজিটে নামিয়ে আনবে।’

একই সঙ্গে এই ক্লাসিফাইড ঋণের পরিমাণ আর বাড়বে না বলে ঘোষণার কথাও স্মরণ করে দেন মন্ত্রী। অতীতের ঋণ খেলাপির সংস্কৃতি থেকে মন্ত্রী বেরিয়ে আসার কথাও জানান তিনি।

আজ রোবাবার সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গার এ সংক্রান্ত ৭১ বিধিতে আনিত নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দেশের ব্যাংকসমূহ ঋণের সুদের হার এখনো এক অংকের ঘরে নেমে আসেনি।’

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বক্তব্যটি পুরাপুরি সত্য না হলেও আংশিক সত্য। আমরা সবাই জানি ব্যাংক ঋণে অব্যবসা বান্ধব অতিরিক্ত সুদ হার ধার্য্য করা হলে দেশের অর্থনীতি সাবলিলভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাধাপ্রাপ্ত হয় আমাদের কর্মসংস্থান। সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি অনুধাবন করে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ অবস্থাটি ব্যাখা করার জন্য ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ করে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই নির্দেশনার ফলশ্রুতিতে এরইমধ্যে দেশের ২১টি ব্যাংক ঋণের ওপর সুদ হার এক অঙ্কের ঘরে তথা শতকরা নয় ভাগে নামিয়ে এনেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য সকল ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’

মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘আশা করা যাচ্ছে বাকি ব্যাংকগুলোও প্রদত্ত ঋণের সুদ হার অল্প সময়ের মধ্যে এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনতে সক্ষম হবে। বিষয়টি নিয়ে আামি নিজেও এরই মাঝে সংশ্লিষ্টদের অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তা সরকারি বেসরকারি ব্যাংকসমূহের মালিক এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেছি। সংশ্লিষ্ট সবাই ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেছেন।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংক ঋণে উচ্চহারে সুদ আমাদের অর্থনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে আসছে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার একটি গ্রহণযোগ্য এবং ব্যবসাবান্ধব পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর। সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে উইন উইন ফ্যাক্টের হাত ধরে অল্প সময়ের মধ্যে আলোচন্য বিষয়ে সমধান পাবো।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যবসা বান্ধব একটি সরকার। আমরা ব্যবসায়ীদের বিপক্ষে না। ব্যবসায়ীরা যদি ব্যবসা না করতে পারে, আমাদের কর্মসংস্থান কোথা থেকে আসবে? দারিদ্র বিমোচন কীভাবে হবে? সেই কাজগুলে করার জন্য তাদের (ব্যাংক মালিকদের) সঙ্গে বার বার বসছি। আমি আশস্ত করছি অতি শিগগিরিই এর ফলপ্রুস অবস্থা দেখতে পাবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঘোষণা দিয়েছি ক্লাসিফাইড ঋণের পরিমাণ আর বাড়বে না। ঋণ খেলাপির সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে আমাদের এই সমাজে বহমান। আমরা সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। আমি আশস্থ করতে পারি আমরা সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসব। আমাদের ঋণের পরিমাণ বাড়বে না।’