অনুমোদন ছাড়াই পাঠানপাড়ায় গড়ে উঠছে অক্সিজেন কারখানা

63

স্টাফ রিপোর্টার:
একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর এর মাঝেই দক্ষিণ সুরমার পাঠানপাড়ায় কোনো ধরনের অনুমতি না নিয়েই গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন’ কারখানা। শুধুমাত্র অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদের জন্য ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র নিয়েই ‘শেখ অক্সিজেন’ নামে গড়ে তোলা হচ্ছে অক্সিজেন উৎপাদন ও সিলিন্ডারের কারখানা। স্থানীয়রা বলছেন, গ্যাসের জাতীয় গ্রিড লাইন, ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, একাধিক স্কুল, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা জনসাধারণের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
দক্ষিণ সুরমার পাঠানপাড়ার শেখ মুরাদ তার পৈতৃক ব্যবসা সিলিন্ডার গোদামজাত করার ছাড়পত্র নিয়ে গড়ে তুলছেন শেখ অক্সিজেন। তিনি সরধরনের অনুমতি রয়েছে দাবি করলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য তার কোনো ধরনের অনুমোদন নেই।
বাণিজ্যমন্ত্রনালয়, ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক অধিদফতরে কারখানা স্থাপনের আবেদন জমা দিয়েই ফসলি জমিতে তিনি যন্ত্রপাতি বসাতে শুরু করেছেন। ফসলি জমিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারেরও কোনো অনুমোদন নেননি তিনি।
দৈনিক সবুজ সিলেটের সাথে আলাপকালে শেখ মুরাদ দাবি করেন, সব ধরণের অনুমোদন তার রয়েছে। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজম খানের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়েই যন্ত্রপাতি স্থাপন করছেন। তিনি দাবি করেন, তার সবধরণের বৈধতা রয়েছে।
সম্প্রতি শেখ মুরাদ সবুজ সিলেট কার্যালয়ে তার পক্ষে অনুমোদনের কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হন। তিনি একটি ট্রেড লাইসেন্স, তার মৃত পিতা শেখ গফুরের নামে শেখ ট্রেডার্সের সিলিন্ডার গোদামজাত করার ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদনের হালনাগাদ কাগজপত্র, তার নিজের সাথে ফায়ার সার্ভিসের সিলিন্ডার গুদামজাত করার কাগজপত্র প্রদর্শন করেন। সিলিন্ডার গুদামজাত করার অনুমোদনকে তিনি কারখানা স্থাপনের অনুমোদনপত্র বলে দাবি করেন। এছাড়া সিটি করপোরেশন থেকে নেওয়া ট্রেড লাইসেন্সের ফিস ২০০০ টাকা কেনো এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।
এছাড়া তিনি বলেন, অনুমোদন আগে নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কারখানা উৎপাদনে গেলে পরে অনুমোদনের কাগজপত্র এগুনো যাবে। তিনি বলেন, আমি তো আবেদন করে রেখেছি। এখানে স্থানীয়দের মাথাব্যথার কোনো কারণ নেই। কাউন্সিলর আমাকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শেখ মুরাদ কাউন্সিলর আজম খানের অনাপত্তিপত্রকে পুঁজি করে এলাকাবাসীর জন্য মৃত্যুকূপ তৈরি করছেন। কোনো অনুমতি না নিয়েই তিনি কারখানায় বড় বড় যন্ত্রপাতি স্থাপন করছেন। এছাড়া কারখানা এলাকায় নিñিদ্র নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়েছে। এলাকাবাসীর অগোচরে ভোররাতে বড় ট্রাকে করে যন্ত্রপাতি এনে মাটির নিচে ঢুকানো হচ্ছে। তার কারখানায় কোনো ধরণের দুর্ঘটনা ঘটলে কিংবা বিস্ফোরণ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে গ্যাসের জাতীয় গ্রিডলাইন। এতে করে সাধারণ মানুষের জানমালের যেমন ক্ষয়ক্ষতি হবে, তেমনি সারাদেশে বন্ধ হয়ে পড়বে গ্যাস সরবরাহ।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজম খান অনাপত্তিপত্র দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাকে ভুল বুঝিয়ে অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়েছে। আমি এ অনাপত্তিপত্রে আইন অনুযায়ী যা করণীয় তার সুপারিশ করেছি। এছাড়া শেখ মুরাদ সিসিকের আইন অমান্য করেছেন। তিনি দেয়ালের উপর দেয়াল তুলেছেন। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়াই স্থাপনা করছেন, বিষয়টি আমরা দেখব।
এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর আজম খান বলেন, আমি শেখ মুরাদের ব্যবসায়িক পার্টনার নই, আমার নাম বিভিন্নভাবে বিক্রি করে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন শেখ মুরাদ। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের অনুমতিবিহীন অক্সিজেন উৎপাদন কারখানা মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করবে এলাকায়। কোনো ধরনের বিস্ফোরণ ঘটলে গোটা এলাকা তামা তামা হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের জিএম (প্রশাসন) মো. শাহিনুর ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।