ফেঞ্চুগঞ্জে পুরনো রড দিয়ে ব্রীজ নির্মানকাজ চলছে!

44

রুমেল আলী, ফেঞ্চুগঞ্জ:
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ব্রীজ নির্মাণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঠিকাদার নির্মাণ কাজে নতুন রড় ব্যবহার না করে পুরাতন রড় ব্যবহার করার কারণে ভবিষ্যতে দূর্ঘটনার আশংকায় জনমনে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
পক্ষকাল ধরে নতুন এই ব্রীজের নির্মাণকাজ চলছে সিলেট-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক সড়কের ফেঞ্চুগঞ্জের ফরিদপুর এলাকায়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে থাকে। গত বছর সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কের ফেঞ্চুগঞ্জের ফরিদপুর এলাকায় অবস্থিত ব্রীজে ফাটল দেখা দিলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ যান চলাচল অব্যাহত রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজের উপরে বেইলি ব্রীজ নির্মাণ করে। দায়সারা গোচের বেইলি ব্রীজ নির্মাণ করে বেইলি ব্রীজের মধ্যেখানে রেলিং দিয়ে বেইলি ব্রীজকে দুভাগে বিভক্ত করে দেয়। ব্যস্ততম এই সড়কে সওজের বেইলি ব্রীজে মধ্যখানে রেলিং দিয়ে বিভক্ত করার কারণে রাতের আধাঁরে অপরিচিত চালক ও দ্রুত গতি সম্পন্ন শতাধিক যানবাহন দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পৃথক পৃথক দূর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক নারী পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। গত এক বছরে বেইলি ব্রীজে শতাধিক দূর্ঘটনা ঘেেটছে। লাগাতার দূর্ঘটনার কারণে জনদাবীরমুখে সড়ক ও জনপথ বিভাগ জরুরী ভিত্তিতে বেইলি ব্রীজের মধ্যেখানের রেলিং খুলে ফেলে এবং বেইলিব্রীজটি মেরামত করে দেয়। পাশাপাশি বেইলি ব্রীজের নিচে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মূল ব্রীজের কাজ শুরু করা হয়। ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থ সেতুটি নির্মাণের কার্যাদেশ পান ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঠিকাদার এমরান আলী। প্রভাবশালী এমরান গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি নির্মাণের শুরু থেকেই অনিয়ম করছেন বলে এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। নিন্মমানের ব্রীজ নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদার এমরান আলী গংরা পুরাতন ও টেম্বার ছাড়া রড ব্যবহার করছেন । এছাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশের বড় বড় গাছ কেটে বিক্রি করছেন তারা। পশ্চিম ফরিদপুরের নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যস্ততম এলাকায় প্রশাসনের চোঁখের সামনে এত বড় অনিয়ম হচ্ছে অথচ প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। পুরাতন ও নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ব্রীজ নির্মাণ করা হলে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার ঘুরে দেখা যায়, বেইলি ব্রীজের নিচে মূল ব্রীজের কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে ব্রীজের রডের যে কাজ করা হয়েছে তা অনেক পুরানো ও মরচেধরা। স্থানীয়রা জানান,দুদকের অভিযানের পর থেকে ব্রীজ নির্মানকাজ বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা হক বলেন, ব্রীজ নির্মানে নানা নিয়মের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিটি মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়েছে।