ডাকসু নির্বাচনের ফলাফলেই বোঝা যায় বিএনপির অবস্থা কোথায়: হানিফ

8

অনলাইন ডেস্ক:
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেছেন, সদ্য অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ফলাফল থেকেই বোঝা যায় বিএনপির অবস্থা কোথায় গিয়ে নেমেছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা অগ্নিঝরা মার্চ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের আস্থা অর্জনে কিছুটা হলেও ব্যর্থ হয়েছে। তাদের প্রতি সবার আস্থা পরিপূর্ণভাবে কেন ধরে রাখতে পারে নাই, আমার মনে হয় কর্তৃপক্ষ সেটা খুঁজে দেখবে। ভবিষ্যতে ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবক হিসেবে আমাদের শিক্ষকসহ কর্মকর্তারা পূর্ণ আস্থা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন এ আশা করি।’

ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীদের স্বাগত জানিয়ে হানিফ আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ডাকসু হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ সভাপতি ডাকসুর ভিপিকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে সেই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।’

হানিফ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র ও অন্য প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।’

হানিফ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কয়েদি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। তারপর তার দলেরই যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সঙ্গে তুলনা করে তার সম্মানকে আরও ধ্বংস করেছেন। বিএনপির আবাসিক প্রতিনিধি রিজভী আহমেদের এই বোধটুকু থাকলে তিনি কখনো খালেদা জিয়াকে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সঙ্গে তুলনা করতেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিএনপি প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করে নানা অভিযোগ করেছেন। এ নির্বাচনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোন দলের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, এ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হলে অন্য প্যানেলের প্রার্থীদের পক্ষে বিজয়ী হওয়া সম্ভব হতো না। আর যে ছোট ছোট অভিযোগ উঠেছে তা ছিল ভুল বোঝাবুঝি। এ অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা তা সমাধান করেছেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ বিশ্বের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এমপি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল-মাহমুদ স্বপন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।