লুকিয়ে ইমরানকে শুভেচ্ছাবার্তা দিলেন মোদি

21

অনলাইন ডেস্ক:
পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। গতকাল শুক্রবার দিল্লী ও ইসলামাবাদে পাকিস্তানের জাতীয় দিবস পালনের যাবতীয় অনুষ্ঠান বয়কট করেছে ভারত। এমনকি দেশটির সংবাদমাধ্যমকেও টেলিফোন করে সে অনুষ্ঠান নিয়ে প্রতিবেদন সম্প্রচারে নিষেধ করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে ইমরান খানকে নাকি অগোচরে জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী!
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার এক টুইট বার্তায় এমন তথ্যই দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ইমরান খান এক টুইটে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির পাঠানো বার্তা পেয়েছি। মোদির বরাত দিয়ে ইমরান আরও লিখেন, ‘জাতীয় দিবসে আমি পাকিস্তান নাগরিকদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গণতন্ত্র, শান্তি, সুস্থিতি ও উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উপমহাদেশের মানুষকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। এই অঞ্চলকে হিংসা ও সন্ত্রাসের পরিবেশ থেকে মুক্ত করতে।’
তবে ইমরানকে শুভেচ্ছা বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেননি মোদি। গোপনে হলেও, আঞ্চলিক শান্তি ও সুস্থিতি রক্ষায় শুভেচ্ছা-বার্তার মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাড়ানো হাত ধরতে কোনো দ্বিধা নেই বলে জানান ইমরান খান।
প্রতি বছর ২৩ মার্চ ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে পালন করে পাকিস্তান। এবারও সেই অনুষ্ঠান হয়েছিল দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশন ও ইসলামাবাদে। কিন্তু শুক্রবার দিল্লিতে অনুষ্ঠান বয়কট করে ভারত। এমনকি ফোন করে সংবাদমাধ্যমকেও ওই অনুষ্ঠানে যেতে বারণ করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, জম্মু-কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হুরিয়ত কনফারেন্স নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাই বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের ওই অনুষ্ঠানে ৩০ জন হুরিয়ত নেতাকে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে এক সরকারি কর্তা বলেন, ‘এটা পাকিস্তানের দ্বিচারিতা। আর তাই ভারতের পক্ষে থেকে কাউকেই ওই অনুষ্ঠানে পাঠানো হয়নি।’
বিষয়টি নিয়ে কোনো ধোঁয়াশা না রেখে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, ‘আমাদের অবস্থান জানা সত্ত্বেও পাকিস্তান হুরিয়ত নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমরা এটাকে হালকাভাবে নিচ্ছি না। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ভারতের কোনো প্রতিনিধি ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না।’
পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারও ইসলামাবাদের ওই অনুষ্ঠান বয়কট করেন।
প্রসঙ্গত, হুরিয়তের বেশির ভাগ নেতাই এখন বন্দি অথবা আত্মগোপন করে রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার তাদের সামনের সারির কোনো নেতাকেই দেখা যায়নি অনুষ্ঠানে। মনে করা হচ্ছে, ধরপাকড়ের ভয়ে তাদের কেউ আসেননি। দিল্লিতে কাল মুহম্মদ হাসান আন্টু নামে হুরিয়তের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে দিল্লির চাণক্যপুরী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।