অভিযান বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের, কঠোর অবস্থানে র‌্যাব

19

সবুজ সিলেট ডেস্ক:
ঢালাওভাবে অভিযান না চালিয়ে কেবল যেসব ভবনে কেমিক্যাল পাওয়া যাবে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পক্ষে মত দিয়েছেন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী নেতারা। তারা মনে করেন, চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পর যেভাবে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করছে, তাতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই আতঙ্ক দেশের অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক হতে পারে। তবে টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবসায়ীদের প্রতিপক্ষ নয়। তাদের জেল-জুলুম দেয়াও উদ্দেশ্য নয়। নিয়ম মেনে ব্যবসা করলে তাদের সহযোগিতা করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে আরেকটি নিমতলী বা চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি যেন না ঘটে সেটা দেখার দায়িত্বও নিরাপত্তা বাহিনীর।
শনিবার রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অডিটোরিয়ামে পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ দাহ্য পদার্থের কারখানা ও গোডাউন অপসারণের লক্ষ্যে র‌্যাব-১০ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এমন অভিমত ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন র‌্যাব-১০ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাইয়ুমুজ্জামান খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ বলেন, ধনী-দরিদ্র প্রত্যেকটি মানুষের জীবনই গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে প্রাণ হারানো মেনে নেওয়া যায় না। পুরান ঢাকা কেমিক্যাল ব্যবসার জন্য প্রস্তুত না। এ জন্য পৃথক ব্যবস্থা নিতে হবে। আরেকটি ট্র্যাজেডি আমরা চাই না। এতদিন বাংলাদেশকে বিশ্বে তাচ্ছিল্য করা হতো। বাংলাদেশ এখন সেই অবস্থায় নেই। তারপরও বাংলাদেশে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বিশ্ব মিডিয়ায় তা ফলাও করে প্রচার করা হয়। চীনে হলে সেটা হয় না। কারণ চীনে মিডিয়া নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশে মিডিয়া স্বাধীন। শিল্প মন্ত্রণালয় যদি উজালা ও ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরির জায়গাটা রাসায়নিক ব্যবসার জন্য বরাদ্দ দেয়, তাহলে সেখানে এসব ব্যবসা স্থানান্তর হতে পারে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও নিজ উদ্যোগে জায়গার ব্যবস্থা করতে পারেন। কাউকে জরিমানা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। নিয়ম মেনে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করলে র‌্যাব তাদের বন্ধু হয়ে সহযোগিতা করবে। নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাজী আব্দুস সালাম বলেন, মানুষের শরীরেও ৫ শতাংশ কেমিক্যাল থাকে। র‌্যাব যে দোকানে দোকানে যায়, এটা বন্ধ করতে হবে। যারা অসৎ ব্যবসায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। কোনো পণ্যে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের তারিখ না থাকলেও র‌্যাব ধরে। এ জন্য ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে থাকে। তাদের মুখে এখন হাসি নেই।
প্লাস্টিক পণ্য আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পুরান ঢাকার ব্যবসা থেকে সরকার বিপুল রাজস্ব পায়। সরকার জায়গা দিলে তারা সেখানে যেতে প্রস্তুত আছেন। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা দরকার।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত বলেন, পুরান ঢাকার গোড়াপত্তনের পর থেকেই আজ অবধি কোনো সুবিধা বাড়েনি। রাস্তাগুলো সরু। সুবিধাবঞ্চিত পুরান ঢাকার বাসিন্দারা এ অবস্থার মধ্য দিয়েই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিলে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। এ জন্য প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ, প্রশাসন সবাই একসঙ্গে কাজ করলে আর চুড়িহাট্টার মতো ঘটনা ঘটবে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মানুষের জীবনহানি যাতে না ঘটে সেটা মাথায় রাখতে হবে। আগে জীবন পরে ব্যবসা।
পুলিশের উপকমিশনার মো. ইব্রাহিম খান বলেন, সোনার বাংলা গড়তে হলে চেতনা জাগ্রত করতে হবে। পুরান ঢাকাকে ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে। এ জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।