আন্তর্জাতিক উপাচার্য সম্মেলন ভিসি সম্মেলন ইন্টেলেকচুয়াল পাওয়ার হাউস:শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

33

হাবিব রহমান, শাবি প্রতিনিধি:
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সারা বিশ্বে কানেক্টিভিটির কথা বলা হচ্ছে। এই কানেক্টিভিটি নৌ, সড়ক, রেল, বিমানপথের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই কানেক্টিভিটি মানুষে মানুষে কানেক্টিভিটি, এই কানেক্টিভিটি আইডিয়ার কানেক্টিভিটি। আইডিয়ার যে কানেক্টিভিটি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আজকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আজকের এ সম্মেলনে দেখা যাচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং আমাদের এ অঞ্চলের মধ্যকার রাজনৈতিক সীমান্ত একটা বিভক্তির রেখা টেনে দিলেও আমাদের প্রকৃতি, নদী, বাতাস পরষ্পরকে এক সঙ্গে বেঁধে রেখেছে। আমাদের এ সম্পর্কে ফলে অতিতে যেমন এক সাথে ছিলাম, এখন আছি এবং ভবিষ্যতেও আমরা একসঙ্গে থাকব।
আজ শনিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রথমবারের মত আয়োজিত দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক উপাচার্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন। সকাল দশটায় বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অব ভাইস চ্যান্সেলরস: নর্থ-ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিস অব বাংলাদেশ এন্ড ইন্ডিয়া (আইসিভিসি) শিরোনামে আয়োজিত সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এতে ভারত ও বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ২৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ জন উপাচার্য ও আচার্য অংশগ্রহণ করে।
সম্মেলনে উপস্থিত সকল দেশী-বিদেশী উপাচার্যদেরকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আজকে পুরো অঞ্চলের চিন্তার জগৎ এক হয়েছে। কাজেই আমরা আশাবাদি যারা একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যাবার পথ তৈরি করতে কাজ করবে। নতুন নতুন জ্ঞানের ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ করবে। কাজেই এ সম্মেলনকে বলা যেতে পারে ‘ইন্টেলেকচুয়াল পাওয়ার হাউস’। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দেশের সামাজিক ব্যাধি তথা মাদক, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ দূর করতে হবে। আর এসব দুরীকরণের লক্ষ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রিধারী নয় বরং আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়্যারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, আসামের গোয়াহাটি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মৃদুল হাজারিকা, মেঘালয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের আচার্য মাহবুবুল হক উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আসন গ্রহণ করেন শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ। এছাড়াও আইসিভিসি সম্মেলনের আহবায়ক শাবির স্কুল অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র ডিন অধ্যাপক ড. এ এম এম মোকাদ্দেছ ও সদস্য সচিব সিএসই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বেলা এগারটায় বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়্যারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে ‘দ্যা কনভেনশন’ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ২৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ ‘কমিউনিকেশন, কনসেনশাস অ্যান্ড কো-অপারেশন’ প্রতিপাদ্যের আলোকে বাংলাদেশ ও ভারতের উচ্চশিক্ষা, মৌলিক গবেষণা, উদ্ভাবনী কার্যক্রম, শিক্ষাপ্রশাসন ও ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সম্মেলনে অংশ নেয়া উপাচার্যরা হলেন মেঘালয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও সম্মেলনের আন্তর্জাতিক সমন্বয়ক মাহবুবুল হক, তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিনয় কুমার জৈন, আসামের গোয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মৃদুল হাজারিকা, আসাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ধীরাজ বোরা, আসামের কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ভাবেশ চৌধুরী গোস্বামী, মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কে আর এস সাম্বাশিবা রাও, রাজীব গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাকেত কুশয়াহ, আসামের ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমির উপাচার্য অধ্যাপক ড. যে এস পাতিল, মনিপুর কেন্দ্রীয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম প্রেমজিৎ সিং, মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কে কে ডেকা, মিজোরামের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ডাইরেক্টর অধ্যাপক রজত গুপ্তা, মনিপুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ডাইরেক্টর অধ্যাপক ড. গৌতম সূত্রধর, ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিড ইন সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক এন সি তালুকদার, মেঘালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. পি কে গোস্বামী, মেঘালয়ের মার্টিন লুথার ক্রিস্টিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভিনসেন্ট টি দারলং, মেঘালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর গান্ধীয়ান স্টাডিজের ডিরেক্টর অধ্যাপক অলকা শর্মা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমরান কবির চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া, সিলেটের মেট্র্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ উদ্দিন, লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহীদুল্লাহ তালুকদার, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতফুল হাই শিবলী, শাবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
গণদাবি ফোরামের স্মারকলিপি :শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির কাছে সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরামের পক্ষ থেকে সিলেট বিভাগের শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে ফোরামের নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমদ, সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী দেলওয়ার হোসেন জিলন, বাংলা টিভির সিলেট ব্যুরো প্রধান আবু তালেব মুরাদ, গণদাবি ফোরামের সদস্য কয়েছ আহমদ সাগর, লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী চৌধুরী সামিউর রহমান সায়েম, ইমরান উদ্দিন, জালালাবাদ ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আবিদা মাইশা। এছাড়া সিলেট জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে প্রদত্ত দাবিগুলো হচ্ছে, সিলেটে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, এমসি কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপন ও অবকাঠামো নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বৃদ্ধি ও ছাত্রাবাস নির্মাণ, সিলেট পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয়, মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, জালালাবাদ সেনানিবাসে স্থাপিত আর্মি ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করে একটি আধুনিক সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, জালালাবাদ সেনানিবাসে আর্মস ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ স্থাপন, গার্লস ক্যাডেট কলেজ, মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, সার্ভে প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, আধুনিক অটিস্টিক একাডেমি, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন, সিলেট মেরিন একাডেমির ক্যাম্পাস নির্মাণ, তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, মৎস্য গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট স্থাপন, বাংলাদেশ বন বিদ্যালয়কে ফরেস্ট কলেজে রূপান্তর, সিলেট কৃষি ইন্সটিটিউটকে কৃষি কলেজে রূপান্তর, মৌলভীবাজার জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন, শমসেরনগর বিমানবন্দরে অ্যাভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সংসদের আগামী অধিবেশনে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সুনামগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ করে স্থায়ী ক্যাম্পাস ও অবকাঠামো নির্মাণ, সুনামগঞ্জে স্থাপিত সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শ্রীমঙ্গলে স্থাপিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউটকে বাংলাদেশ বন বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, সিলেট বিভাগে প্রতিটি উপজেলায় কারিগরী স্কুল ও কলেজ, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ স্থাপন ও মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু, সিলেট নাগরি অক্ষরকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষালিপি ও নাগরি ভাষাকে আঞ্চলিক ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি ও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা, সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা বিভাগের সকল অফিস ও দপ্তরে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারি সিলেট বিভাগের স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়োগের ব্যবস্থা ইত্যাদি।