কোম্পানীগঞ্জের কলাবাড়ি-দয়ারবাজার সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে

103

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
সড়কের মাঝে মাঝে বড় বড় গর্ত। কোনো কোনো গর্তে বৃষ্টির পানিতে ছোট পুকুরের মতো আকার ধারণ করে আছে। এর মধ্যে গাড়ি চলে হেলেদুলে। শুকনো মৌসুমেও এসব গর্তে প্রতিনিয়ত আটকে পড়ে গাড়ি। রাস্তাজুড়ে খানাখন্দ । বড় বড় গর্ত এখন ছোটখাটো জলাশয়ে রূপ নিয়েছে। এসব গর্তে জমে থাকে পানি। ফলে কাদা-পানিতে একাকার সড়কে চলতে যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। যাত্রীবাহী যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। স্থানে স্থানে বড় বড় গর্তে গাড়ি চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। এ পথে কেউ একবার গেলে দ্বিতীয়বার যাওয়ার কথা কল্পনায়ও আনবেন না বলে মন্তব্য করেন তারা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কলাবড়ি-দয়ারবাজার সড়কের এমনই বেহাল অবস্থা।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাথে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা (চরারবাজার, দয়ারবাজার ও কলাবাড়ি) দিয়ে এভাবেই দুর্ভোগ সাথে নিয়ে চলছেন সর্বস্তরের মানুষ। অথচ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর শিল্প এলাকা। যেখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ফুট পাথর বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় যায়। কিন্তু এই উপজেলার রাস্তার অবস্থা করুণ। এর মধ্যে দয়ারবাজার ও কলাবাড়ি রাস্তার অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এই রাস্তায় সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কলাবাড়ি থেকে দয়ারবাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এ সড়কটি ২০০৭-০৮ অর্থবছরে নির্মাণ ও পাকাকরণ করা হয়। এর পর সড়কটির আর কোনো কাজ করা হয়নি। গত প্রায় ৮/৯ বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা। যেন দেখার কেউ নেই।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে রাস্তাটির জীর্ণ দশার ফলে গাড়ি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে শত শত ট্রাক-ট্রাক্টর এবং যাত্রীবাহী অটোরিকশা চলাচল করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ধলাই ব্রিজের মুখ থেকে দয়ারবাজার পর্যন্ত সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দেখলে মনে হবে একটা জলাশয়। এসব গর্তে পড়ে প্রায়ই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় যাত্রী আব্দুল মতিন বলেন, ‘সড়কটির বেহাল দশায় খুব কষ্ট পাচ্ছি। কখন যে এ কষ্টের শেষ হবে কে জানে!’

অটোরিকশা চালক মাহমদ আলী বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় গাড়ি কাদা-পানিতে আটকে থাকে।’

উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। শুধু তাই নয়, এটি পূর্বপাড়ের মানুষের উপজেলায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা।’

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে গত কিছুদিন পূর্বে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজ শনিবার রাস্তাটির বেহাল দশা দেখতে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জি ও থানার ওসি (তদন্ত) জসিম উদ্দিন। তিনি রাস্তার পাশে থাকা পাথর সরিয়ে নেওয়ার জন্য পাথরের মালিকদের ৩ দিনের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ইউএনও।