ফিনল্যান্ডে জয়ের পথে বামপন্থীরা

12

অনলাইন ডেস্ক:
ফিনল্যান্ডের নির্বাচনে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বামপন্থীরা। আজ রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশটির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অনেকটাই এগিয়ে। শেষ পর্যন্ত দলটি নির্বাচনে জয়লাভ করলে গত বিশ বছরের মধ্যে ফিনল্যান্ড প্রথমবারের মতো কোনো বাম নেতাকে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পাবে।

এবারের নির্বাচনে ফিনল্যান্ডের বেশ কয়েকটি দল অংশ নিচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত এগিয়ে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। তবে এ দৌড়ে পিছিয়ে নেই ডানপন্থী দল ফিনস পার্টি। দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়ছে দলটি। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হলে যে কেউই হয়তো জোট গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে পারে। আর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ফিনস পার্টিকে বিরোধী দলে রেখে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে খুব বেশি উদার নীতি গ্রহণ করা হয়তো সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সমাজকল্যাণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি পুনর্গঠনে ব্যর্থ হওয়া গত মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুহা সিপিলার সরকার পদত্যাগ করে। ২০১৫ সালের নির্বাচনে সিপিলার সেন্টার পার্টি ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট গঠন করে ক্ষমতায় এসেছিল। জনগোষ্ঠীতে বেশিসংখ্যক বয়স্ক লোক ও ব্যয়বহুল কল্যাণ রাষ্ট্রকাঠামোর দেশটির ক্ষমতায় এসেই সিপিলার সরকার ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ মোকাবিলাকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন। এক দশকে ২৬০ কোটি ডলার বাঁচানোর লক্ষ্যে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তিনি। এর মধ্যে ছিল পেনশনসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার সংকোচন। এতে বছর হিসাবে সরকারের ঋণ গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো হ্রাস পেলেও তা রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করে। ঠিক এই সময়েই ফিনল্যান্ডে বাড়তে শুরু করে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা। আর এ প্রেক্ষাপটেই তৈরি হয় সিপিলার সরকারের পদত্যাগ ও সেই পথ ধরে আজকের নির্বাচনের ক্ষেত্রটি।

নির্বাচনকে সামনে রেখে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি আরও শক্তিশালী কল্যাণ রাষ্ট্রের কাঠামোর দিকে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সেবা সংকোচন নিয়ে প্রায় এক বছর ধরেই দলটি কথা বলে যাচ্ছে। দলটির নেতা আনটি রিনে জুহা সিপিলার গৃহীত নীতিকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে অসাম্য মোকাবিলায় কর বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি সম্প্রতি বলেন, ‘আমাদের করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি এর কাঠামোটিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আর এমনটি করা গেলে তা ফিনল্যান্ডের নীতি পর্যায়ে অনেক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’

বর্তমানে ফিনল্যান্ডের কর হার ইউরোপে সর্বোচ্চ। দেশটিতে কর হার ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই করহার ও এর আওতা বৃদ্ধি করে তার সুফল রাষ্ট্রীয় পেনশনের ওপর নির্ভরশীলদের এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আনটি রিনে। তিনি এই নির্ভরশীলদের দারিদ্র দূর করতে মাসিক পেনশনের পরিমাণ ১ হাজার ৪০০ ইউরোতে উন্নীত করতে চান।

ফিনল্যান্ডের বর্তমান সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে এর বয়স্ক জনগোষ্ঠী। দেশটিতে বর্তমানে কর্মক্ষম মানুষের তুলনায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যা দেশটির কল্যাণ রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। কারণ অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাদের পেনশন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয়। বর্তমানে দেশটির ৬৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সের মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশের বেশি। তাদের দেওয়া রাষ্ট্রীয় সুবিধাদির ব্যয় নির্বাহের অর্থ জোগান দিচ্ছে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কর পরিশোধের মাধ্যমে, যাদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সিপিলার সরকার পেনশনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সেবার পরিসর কমানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু পেনশনের বিষয়টি ক্রমেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করে, যা গত ফেব্রুয়ারি নাগাদ দেশটির মুখ্য আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এ ছাড়া অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তনও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে। এর মধ্যে অভিবাসন বিতর্ক বাড়িয়ে দেয় ফিনস পার্টির জনপ্রিয়তা। আর বাকি দুই মুখ্য বিতর্ক বাড়ায় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির জনপ্রিয়তা।

শেষ পর্যন্ত কে ফিনল্যান্ডের সরকার গঠন করবে তা জানা যাবে খুব শিগগিরই। তবে যে-ই ক্ষমতায় আসুক এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে ফিনল্যান্ডের সীমানার বাইরেও। কারণ আগামী জুলাইয়েই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্সি ফিনল্যান্ডের হাতে আসার কথা রয়েছে।