শাহপরানে শিশুধর্ষক সুরত আলীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর যত অভিযোগ

52

সবুজ সিলে ডেস্ক: শাহপরান থানাধীন আল-মদিনা আবাসিক এলাকার ৭৭ বছরের বৃদ্ধ সুরত আলীর বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় শাস্তির দাবি চেয়ে গত বৃহস্পতিবার এসএমপি পুলিশ কমিশনারের কাছে শতাধিক লোকের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, শাহপরান গেইটে একটি ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে গত ৩১ মার্চ রোববার বিকেলে ধর্ষণ করে কুখ্যাত শিশু ধর্ষক সুরত আলী। সুরত আলী ১৯৭৮ সালে ইসলামাবাদে তখন সে রিকশা চালাত। তার মূলবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের নরপতি গ্রামে। ইসলামাবাদ এলাকার মনির খাঁনের সান্নিধ্যে থেকে রিকশাচালক থেকে তাদের কেয়ারটেকার নিযুক্ত হয়। এরপর থেকে সে একেরপর এক অপরাধের সাথে জড়িত হওয়া শুরু করে। মনির খাঁনের বাহিনীর ছত্রছায়ায় থাকাবস্থায় এলাকার লোকজনের উপর মিথ্যা মামলা তৈরি করে হাজতবাস করানো ছিলো তার কাজ। সুরত আলীর ছেলে মিজানের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। আরেক ছেলে জাকির কিছুদিন পূর্বে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জেল হাজতে ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগে আরো বলা হয়, সুরত আলী তার পরিবারের সদস্যদের দিয়ে এলাকার লোকদের উপর যে সকল মিথ্যা মামলা করিয়েছে, সে মামলাগুলো হচ্ছে-উপজেলা হাকিম আদালত সি আর (মামলা নং ৫১/৯২ বাদি সুরত আলী)। উপজেলা হাকিম সদর জি আর (মামলা নং ২৯৯/৯৭ বাদি সুরত আলী)। কোতোয়ালি (মামলা নং ১০৪/(৯) বাদি সুরত আলী। বিশেষ (মামলা নং ১৬/৯৯)। জি আর (মামলা নং ৮৯৬/৯৮ বাদী সুরত আলী)। জিআর (মামলা নং ৯২১/০৫ বাদি সুরত আলী)। কোতোয়ালি থানায় (মামলা নং ৫৫(৩)৯০ বাদি সুরত আলী)। এ ভাবে একের পর এক মামলা দিয়ে যাচ্ছে শিশু ধর্ষক সুরত আলী।
সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ রোববার এলাকার এক ভাড়াটে পরিবারের মেয়ে ৫ম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে তেতুল খাওয়ানোর কথা বলে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই সময় শিশুর চিৎকারে খেলার সঙ্গীরাসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে সুরত আলীকে উলঙ্গ অবস্তায় দেখতে পান তারা। পরে সুরত আলী সাথে সাথে ওই ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর ধর্ষিতার পরিবারের পক্ষে শাহপারান থানায় গত ৪ এপ্রিল একটি মামলা দায়ের করা হয়। (যার নং-০৪)।
মামলা করে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ওই ধর্ষিতা শিশুর পরিবার। মামলা তুলে নেয়ার জন্য ধর্ষক সুরত আলী ও তার ছেলেরা একদল সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ওই অসহায় পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশানর বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর মা।
এদিকে ধর্ষক সুরত আলীর ছেলে মিজানও এসএমপি কমিশনারের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছে এবং অভিযোগে উল্লেখ করেছে, মামলটি সাজানো ও পূর্বশক্রতার জের। সে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে। যার ফলে বর্তমানে ধর্ষিতার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই যে-কোনো সময় ধর্ষিতার পরিবারের উপর নেমে আসতে পারে চরম বিপর্যয়। সুরত আলী একজন মিথ্যা মামলাবাজ এবং তার ছেলেদের বিরুদ্ধে এলাকায় অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সুরত আলীর মামলা তুলে নেওয়ার ও হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ধর্ষিতা মা।
এসএমপি পুলিশ কমিশনারের কাছে শতাধিক লোকের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ করে সুরত আলী শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি স্থানীয় এলাকাবাসী শাহপরান গেইটে সুরত আলীর শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জবরুল হোসেন, খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য কবির আহমদ, ইসলামাবাদ জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী আব্দুল খালিক, ইকবাল হোসেন শামিম, জামিল আহমদ, আফসার আহমদ, মান্না আহমেদ, সব্রতচন্দ্র, সাদ্দাম, মামুন আহমদ, হেলাল আহমদ, সোহেল আহমদ, আনহার আহমদ, সাইম আহমদ, ফরিদ আহমদ, রাজু।