২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চান সিসি

13

অনলাইন ডেস্ক: মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সরকারের শাসনকে আরও সুদৃঢ় করতে আজ শনিবার দেশটিতে গণভোট শুরু হয়েছে। ওই গণভোটে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আজ মিসরে সংবিধান পরিবর্তনের লক্ষ্যে গণভোট শুরু হয়েছে।

এ ভোটের মাধ্যমে সিসির ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশটির সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

সিসির সমর্থকেদের দাবি, দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও প্রধান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য এ পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে সমালোচকেরা বলছেন, সিসির ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

দেশটির ৫৯৬ সদস্যের পার্লামেন্টে সিসির সমর্থক বেশি। গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ৫৩১ ভোটে সংবিধান সংশোধনীর বিষয়টি পাস হয়।

গণভোটে দেশটির সাড়ে পাঁচ কোটি ভোটার তিন দিন ধরে ভোট দেবেন। আজ থেকে ভোট শুরু হয়েছে।

ধারণা করা হয়েছে, পরিবর্তনের বিষয়টি ভোটে পাস হয়ে যাবে। তবে পর্যবেক্ষকেরা সিসির সমর্থনে কতজন ভোটার ভোট দেন, তা দেখবেন।

সিসিবিরোধীরা অভিযোগ করছেন, সরকার তড়িঘড়ি করছে। ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য তাঁদের কর্মসূচি দেওয়ার সময় পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন যাবৎ দেশটির বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবাদ সত্ত্বেও আজ থেকে টানা তিন দিনব্যাপী এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। মূলত, এর মাধ্যমে সরকারের মেয়াদ আরও বাড়াতেই এমন পদক্ষেপ বলে দাবি বিরোধীদের।

সংবিধান সংশোধন হলে সিসি সরকারের বর্তমান মেয়াদ আরও ছয় বছর বাড়বে এবং ২০২৪ সালে আবারও নির্বাচনে আসতে পারবেন তিনি। এ ছাড়া প্রধান বিচারক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ ও আইনজীবী নিয়োগের নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাঁর হাতে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও হাতে থাকবে।

২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হলে ক্ষমতায় আসেন আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। ২০১৩ সালে সিসি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত মিসরের প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করেন। সে সময় সেনাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন। ওই সময় ৯৭ শতাংশ ভোট পড়ে তাঁর পক্ষে।

গত বছরের এপ্রিলে মিসরে দ্বিতীয় মেয়াদে চার বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এ সময়েও ৯৭ শতাংশ ভোট পড়ে তাঁর পক্ষে।

অনেকেই অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল পূর্বনির্ধারিত।