শাবিতে হবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ল্যাব : পলক

27

শাবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ‘লি’ নামে একটি রোবট তৈরি করেছে। রোবটটি হাঁটতে পারে এবং স্যালুট দেয়। আমরা মাত্র দশ লাখ টাকা তাদের দিয়েছিলাম। আজকে দেখে আমি খুবই আনন্দিত। এত অল্প টাকায় এতো আধুনিক একটি রোবট বিশ্বের কেউ তৈরি করতে পারবে না। শাবিপ্রবিতে তিন ধাপে প্রায় দশ কোটি টাকার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ল্যাব তৈরি করা হবে।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইদিনব্যাপী ‘এলআইসিটি সাস্ট টেক ফেস্ট-২০১৯’ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আজ শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যলয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্পেইন ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘টেক টক উইথ পলক’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানে মূল বক্তার বক্তব্যে উপরোক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে চাই। এদেরকে মানবসম্পদে উন্নয়ন করার জন্য সরকার অনেকগুলো পরিকল্পনা নিয়েছে। একটি সময় গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি ভাষা জানা জরুরি ছিল। এখন এগুলোর পাশাপাশি ‘প্রোগ্রামিং’ নামে প্রযুক্তি ও কম্পিউটারের আরেকটি ভাষা জানা দরকার।

তিনি বলেন, আমরা চাই পিরামিডের উপরের অংশের মত অল্প কিছু মানুষ তৈরি হবে, যারা আবিষ্কারক, গবেষক ও উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি হবে। এই মানুষ তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমরা ৪০টি বিশেষায়িত ল্যাব তৈরি করেছি এবং আরও ১৩০টি বিশেষায়িত ল্যাব তৈরি করছি। স্টার্ট আপ বাংলাদেশ নামে একটি প্লাটফর্ম দাঁড় করিয়েছি। যেখান থেকে আমাদের দেশের তরুণ মেধাবীদের যেকোনো আইডিয়া, ইনোভেশনকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সহযোগিতা করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, সবার ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি করার দরকার নেই। আমাদের বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। আর সে কারণে আমরা ভোকেশনালে এক বছরের/ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। যাতে এসএসসি/এইচএসসি পাশ তরুল-তরুণী ঘরে বসে আয় করতে পারে এবং স্বচ্ছলভাবে চলতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় দশ কোটি। দশ বছর আগে যেখানে মাত্র ৫৬ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতো। আগামী পাঁচ বছরে দুই লাখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাইস্পিড ব্রডব্যান্ড দেওয়া হবে। ৯ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে আগামী পাঁচ বছরে আমরা ২৫ হাজার ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করব। যেখানে ২১টি ল্যাপটপ এবং স্মার্ট বোর্ড থাকবে। উন্নত বিশ্বের ক্লাস রুমের মত আমাদের রুমগুলো করা হবে। জনগণের সময়, অর্থ রক্ষা এবং হয়রানি, দুর্নীতি এগুলো কমানোর জন্য একটাই সমাধান হচ্ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। আগে টেন্ডারবাজি হতো, গোলাগুলি হতো। আমরা ই-টেন্ডার সেবা চালু করেছি, এখন আর এসব সমস্যা হয় না।

তিনি বলেন, আমাদের গার্মেন্টস থেকে আসে ২৮ বিলিয়ন ডলার। আর বাংলাদেশের কোনো প্রোডাক্ট নাই যেখান থেকে এক বিলিয়ন ডলারের উপরে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। আমাদের দ্বিতীয় আয়ের জায়গা হচ্ছে বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স, যা কায়িক শ্রমের মাধ্যমে আয় করা হয়। আমাদের এখন আইসিটি এক্সপোর্ট এক বিলিয়ন ডলার, যা আগে ২৬ মিলিয়ন ডলার ছিল। আমরা চাই তরুণদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হব এবং বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব।

তিনি আরো বলেন, আমরা ২৮টি হাইটেক পার্ক তৈরি করছি। সিলেটে একটি ইলেক্ট্রনিক সিটি তৈরি করা হচ্ছে, যা এক টুকরো সিলিকন ভ্যালি হচ্ছে। ২৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬২ একর জায়গায় বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। তিনটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। একটি হাইটেক পার্ক ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে। যেখানে প্রায় দুই লাখ বর্গফুট জায়গায় তৈরি হবে। আগামী পাঁচ বছরে তিন লাখ প্রশিক্ষণ দিবো। এর ফলে আমরা আশা করছি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান শুধু বেসরকারিভাবেই সৃষ্টি হবে। লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ৪০ হাজার প্রশিক্ষণের কাজ চলছে। সেখান থেকে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হচ্ছে। নারীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪/৫ জন মিলে কোম্পানি তৈরি করেছে, ফ্রিল্যান্সিং করছে। এক একটি আইডিয়া থেকে বিকাশ, সহজডটকম এবং পাঠাও এর মতো ব্যতিক্রমধর্মী সেবা চালু করেছে এদেশেরই মানুষ যা অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে, মেধাবীরা যাতে দেশেই কাজ করার সুযোগ পায়। আর এজন্যই আমরা ২৮টি হাইটেক পার্ক তৈরি করছি। একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটের জন্য দুই লাখ টাকার হাইপ্রোফাইল ফেলোশিপ চালু করেছি। আমরা শিক্ষার্থীদের ফ্রেশ মেধাটাকে বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগাতে চাই। মেধাবী তরুণ প্রজন্ম নিজেদের মেধাকে বিদেশের মাটিতে কাজে লাগাচ্ছে। আমরা চাচ্ছি তারা দেশের প্রতি অবদান রাখুক। আর এখন অনেকেই বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে ফিরে এসে দেশের বিভিন্ন জিনিস নিয়ে কাজ করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশাল একটি দাঁড় উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

সিএসই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং হাসান বেনাওল কাজলের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, কয়েকদিন আগে পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে শিক্ষার্থীদের বলেছিলাম ইংরেজি ভাষায় ৩টি জিজিজি মানে হল ঘাড় গোঁজা জেনারেশন। এরা নিচু হয়ে স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে, মাথা উঁচু করে না। এটি খুবই বিপদজনক। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের গুণগত পার্থক্য তৈরি হয়েছে। যদি আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে প্রোডাক্টিভ করতে চাই, তাহলে ওদেরকে সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে কেয়ারফুল হতে হবে, না হলে আমরা অনেক বিপদে পড়ে যাব।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা যদি প্রোডাক্টিভ হতে চাও, সময়টাকে ঠিক মত ব্যবহার করো। স্মার্টফোনে যেটুকু সময় দেওয়া দরকার, তার থেকে বেশি দিও না।