নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা করছে সরকার : বিএনপি

14

সবুজ সিলেট ডেস্ক
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সরকার ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের জনরোষ থেকে বাঁচাতে সরকার এই চেষ্টা করছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে নিপীড়ন চালিয়ে তার মুখ বন্ধ করতে গায়ে আগুন দিয়ে বর্বর কায়দায় হত্যার ঘটনায় সেখানকার আওয়ামী লীগের মিডনাইট এমপি, আওয়ামী লীগের স্থানীয় সভাপতি থেকে শুরু করে বড় বড় নেতারা জড়িত। তাদের সাথে সহযোগিতা করেছে এসপি থেকে থানার ওসি পর্যন্ত। ফলে তাদের এমপি-নেতা ও পুলিশ প্রশাসনকে জনরোষ থেকে বাঁচানোর জন্য ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে সরকার।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘সোনাগাজীর ঘটনার মতোই ক্ষমতাসীন দলের বেপরোয়া নেতাকর্মীরা গোটা দেশকে ধর্ষণের উপত্যকায় পরিণত করেছে। দেশের নারী নির্যাতনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সারাদেশে নারীদের প্রতি সহিংসতা এখন ইতিহাসে সর্বকালের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ১৯৭২-৭৫ এর চাইতেও এখন দেশের অবস্থা ভয়াবহ। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জোর করে বন্দি রেখে বিনা চিকিৎসায় প্রাণনাশের চেষ্টা চলছে। তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে রাখাও হলেও উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। শেখ হাসিনার নির্দেশ মতোই তাকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে।’

এ সময় তিনি দাবি করে বলেন, ‘অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। জামিনে প্রতিবন্ধতা করা চলবে না। তিনি মুক্তি পেয়ে নিজের পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। একদলীয় হানাদারি শাসনের অন্ধকার দূর করে আলোর প্রত্যাশায় দেশনেত্রীর মুক্তির প্রহর গুনছে এদেশের জনগণ।’

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কারাবন্দি লুৎফুজ্জামান বাবর গুরুতর অসুস্থ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে তাকে চিকিসা জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। এটা অমানবিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। বাবরের সুচিকিৎসা দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের কয়েকজনের বক্তব্যের জবাবও দেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেছেন- খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দরকষাকষি বাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আওয়ামী লীগের আরেক নেতা বলেছেন; ৩০ এপ্রিলের মধ্যে জানা যাবে বিএনপি থাকবে কি থাকবে না। আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই; বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীণ নেত্রী হিসেবেই জনগণের নিকট প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং তিনি কখনোই কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি, কোনো স্বৈরাচারের কাছেই আত্মসমর্পণ করেননি। দরকষাকষির দৃষ্টান্ত কার আছে সেটি আওয়ামী নেতারা নিজেরাই জানেন। আর না জানলে আপনাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞেস করুন।’

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, আবদুল আউয়াল খান, আবদুল বারী ড্যানী প্রমুখ।