শ্রীমঙ্গলে ছেলে হত্যার বিচার চান আশরাফের মা

7

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :
শ্রীমঙ্গল রেলস্টশের পশ্চিমপাশে আউটার সিগনাল এলাকায় গত ১৫ মার্চ রেললাইনের নীচে লাশ পাওয়া গিয়েছিল ২২ বছর বয়সী টমটম চালক আলী আশরাফের।

তার বাড়ি ভুনবীর ইউনিয়নের বিশ্বরোড শাসন গ্রামে। সে চা দোকানী রমজান আলীর দ্বিতীয় ছেলে। ছেলে আশরাফ মারা যাবার ২৯ দিন আগে তার বাবাকে হারান। তিনি ক্যানসার রোগে মারা আক্রান্ত ছিলেন। দীর্ঘ দুইমাস পর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসে জিআরপি থানায়।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ‘হেমুরাইজড এন্ট্রি মডেম ইন নেচার’। এ রিপোর্ট বিজ্ঞ আদালতে মঙ্গলবার পাঠানো হয়েছে। শুনানি আগামী ২০ মে। এখন আদালত সিদ্ধান্ত নিবেন তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা।

আদালতের সিদ্ধান্তঃ অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিবেন বলে জানালেন জিআরপি থানার ওসি ইসমাইল হোসেন সিরাজি।

ওসি জানান, এ ঘটনায় আগে ইউডি মামলা জিআরপি থানায় রজু করা হয়েছিল। এরপর নিহতের বড়ভাই দিনমজুর আলী আকবর বাদি হয়ে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমল আদালতে নিহতের স্ত্রী, শ্বশুড়, শ্বাশুড়ি, শ্বশুড়ের ভাই, ফুফু, স্ত্রীর ভাইদের আসামি করে ধারা ৩০২/২০১/৩৪ দঃবিঃ মামলা দায়ের করেন।

এ মামলার কৌশলী অ্যাডভোকেট গজনবি সিদ্দিকী বলেন, নিহত আশরাফ মারা যাবার পূর্বে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। নিহতের মা খুর্শেদা বেগম ছেলে আশরাফকে হারিয়ে পাগলিনী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তিন বছরের শিশু সোহান, পাঁচ বছরের সোহাগ আর ২৬ বছর বয়সী আলী আকবরকে নিয়ে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে থানার বারান্দায় ঘুরপাক খাচ্ছেন। বর্তমানে এই সংসারের হাল ধরেন সংসারের বড় ছেলে আলী আকবর। মানুষের বাড়িতে কাজকর্ম করে সংসার ও মামলার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আশরাফের মা খুর্শেদা বেগম বলেন, আজকে ভাতের সঙ্গে কাচা মরিচ আর পেয়াজ খেয়ে রোজা রাখছি। ছোট বাচ্চা দুইটারে ভাত দিয়া যদি থাকে তাহলে পানিভাত খেয়ে ইফতার করি।

তিনি বলেন, “মা হয়ে ছেলের মরা মুখটাও আমি দেখতে পেলাম না। কোথায় দাফন কাপন করছে তাও আমি জানিনা। আমি কিচ্ছু চাই না। আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।