কুলাউড়ায় উদ্ধার হওয়া দুটি শিশু যাচ্ছে আপন ঠিকানায়

13

সবুজ সিলেট ডেস্ক:
কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু রাহাত ও সুরমাকে তাদের মায়ের কাছে পাঠানো হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাতে জালালাবাদ ট্রেনে রেলওয়ে পুলিশের মাধ্যমে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে জানান কুলাউড়া রেলওয়ে থানার এসআই রশিদুল ইসলাম।

এস আই রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৪দিন ধরে ওই শিশু দুটিকে অমানবিক নির্যাতন চালায় মহিলা। বুধবার বিকেলে মহিলার কাছে শিশু দুটিকে দেখতে পেয়ে আমার সন্দেহ হয়। তখন আমি জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় ওই মহিলা বলে শিশু দুটিকে আমি এখানে খুঁজে পেয়েছি। এসময় শিশু দুটিকে উদ্ধার করে প্রথামিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তারা আপন ভাই বোন। তাদের নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে। রাতে জালালাবাদ ট্রেনে রেল পুলিশের মাধ্যমে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। সেখানকার রেলওয়ে থানা কর্তৃপক্ষ ওই শিশু দুটিকে তাদের মায়ের কাছে হস্তান্তর করবে।’

তিনি বলেন, ভিক্ষাবৃত্তির জন্য চুরি করে নিয়ে আসে ওই মহিলা। শিশু দুটিকে তাদের আপন ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়,গতকাল বুধবার (১৫ মে) বিকেলে কুলাউড়া রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে এক মহিলার সাথে একটি মেয়ে ও একটি ছেলে শিশুকে দেখতে পান রেল থানার এস আই রশিদুল ইসলাম। বিষয়টি সন্দেহ হলে ওই মহিলা ও শিশু দুটিকে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশু সুরমা জানায় ওই মহিলা তাদেরকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার লোভ দেখিয়ে চট্টগ্রামের বিরলাপাড়া থেকে নিয়ে আসে। পরে তাদেরকে মারধর করে এবং কাউকে কিছু বললে মেরে ফেলা হবে। ৫দিন আগে তাদেরকে ট্রেনে করে এখানে (কুলাউড়ায়) নিয়ে আসে। এরপর থেকে তার ভাই রাহাতকে আটক করে ভয় দেখিয়ে ওই মহিলা বলে ‘ভিক্ষা করে টাকা এনে দিবি, নয়তো তোর ভাইকে মেরে ফেলবো’।

রেল থানায় উদ্ধার হওয়া আপন ভাই বোন শিশু রাহাত ও সুরমা জানায়, তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের বিরলাপাড়ায়। তাদের পিতার নাম অহিদুল ও মায়ের নাম শিল্পী। তাদের আরো দুই ভাই তিন বোন রয়েছে। বাবা রিকশাচালক ছিলেন। বাব মারা যাওয়ার পর মা বাসাবাড়িতে কাজ করেন। তারা জানায় ‘ওই মহিলা তাদেরকে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে এবং পরে আমাদের মারধর করে এবং ভিক্ষা করতে টাকা এনে দিতে বলে।

কুলাউড়া রেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক বলেন, যেহেতু শিশু দুটির পরিচয় পাওয়া গেছে তাই তাদের নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি।