নতুন কর্মসূচি না দেওয়ার ঘোষণা পদবঞ্চিতদের

4

সবুজ সিলেট ডেস্ক
ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বিতর্কিতদের সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। তবে নতুন করে আর কোনো কর্মসূচি না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনের বিষয়ে তাদের সর্বশেষ অবস্থানের কথা জানান আন্দোলনকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলেন, আমাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সাড়া দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তার প্রতি আস্থা রেখে আমরা নতুন করে কোনো কর্মসূচি দিচ্ছি না।
এর আগে, গত মঙ্গলবার ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমিটিতে অছাত্র, ছাত্রদল, বিবাহিত, মাদক ব্যবসায়ী, বিতর্কিতরা রয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন নেতাকর্মীরা। তারা কমিটি থেকে বিতর্কিতদের সরিয়ে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। দাবি আদায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। অবশেষে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে তার প্রতি আস্থা এবং শ্রদ্ধা রেখে নতুন কোনো কর্মসূচি না দেওয়ার কথা বলেন নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বিভিন্ন অভিযোগে বিতর্কিত ৯৯ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু বলেন, ‘যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সে নিদের্শনার বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেহেতু আমরা আর নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছি না। আর যদি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানা না হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচিতে যাবো। এর জন্য আমরা কোনো সময় বেঁধে দেবো না। কারণ আমরা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (গোলাম রাব্বানী) বার বার একটা কথা বলেন যে, ছাত্রলীগের কমিটি ‘চুলচেরা’ বিশ্লেষণ করে হয়েছে। কিন্তু এত বিশ্লেষণের পরেও যদি ১৭ জনের নাম পাওয়া যায়, তাহলে আমরা আরেকটু বিশ্লেষণ করে ১০০ জনের নাম পেতেতো কোনো সমস্যা নাই। আমরা জানি তারা প্রচুর মিথ্যা কথা বলেন। কারণ কমিটি হওয়ার পর আমরা যখন আন্দোলন করতে আসি, তখন তারা বলেছিল আমরা অযৌক্তি আন্দোলন করছি। কিন্তু আমরা যদি আন্দোলন না করতাম তাহলে এই সতেরো জনের নাম বের হতো না।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক থেকে পদত্যাগকারী খাজা খায়ের সুজন, গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন, ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা সিকদার, তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।