রাজস্ব আদায়ে কাজকরবে শিক্ষার্থীরা

6

সবুজ সিলেট ডেস্ক
আগামী (২০১৯-২০) অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বাড়াতে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের নিজস্ব জনবল কম থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে ১০ হাজার জনবল। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাজ হবে আয়কর আদায়যোগ্য এমন মানুষ খুঁজে বের করা।
খানা জরিপের মতো তারা বিভিন্ন বাড়ি, ফ্ল্যাটে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের আয়ের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবে। সে সব তথ্য-উপাত্ত এনবিআরের প্রধান ও স্থানীয় কার্যালয়ে জমা হবে। পরে এনবিআর সেসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য নতুন আয়করদাতা চিহ্নিত করবে এবং তাদের আয়করের আওতায় নিয়ে আসবে। এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঈদের পর জোরালোভাবে কাজ শুরু হবে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ সব তথ্য জানান।
প্রসঙ্গত, বর্তমান ২২ লাখ আয়কর দাতার সংখ্যা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরে এক কোটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন) কালিপদ হালদার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এনবিআরের জনবল কম। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হলে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। সে জন্য আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবি শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে।’
কবে থেকে কাজ শুরু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে হালদার বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। অর্থমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঈদের পর জোরালোভাবে এ কাজটি শুরু হবে। কাজটি করা গেলে আমরা আশা করছি রাজস্ব আহরণে ভালো কিছু হবে।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল রাজধানী ঢাকা থেকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ নতুন আয়করদাতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে। এর বাইরে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা থেকে আরও ৬০ লাখ সম্ভাব্য করদাতা সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য জেলা ছাড়াও স্থাপন করা হবে উপজেলাভিত্তিক কর অফিস। এখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগ দিয়ে আয়করদাতাদের চিহ্নিত করা হবে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগামী অর্থবছরে নতুন করে এক কোটি মানুষকে আয়করের আওতায় আনা হবে। মন্ত্রীর এ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে এনবিআর। নতুন আয়করদাতা কীভাবে সংগ্রহ করা হবে তা বাজেট বক্তৃতায় বিস্তারিত বলা হবে।’
ওই কর্মকর্তা জানান, দেশের যেসব এলাকায় বিত্তশালী বা উচ্চ মধ্যবিত্তরা বসবাস করেন সেসব এলাকায় প্রথমে এ কাজ শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকায় বেছে নেওয়া হবে ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, লালমাটিয়া, পুরান ঢাকার ওয়ারী, সেগুন বাগিচা, পল্টন, ইস্কাটন, বনশ্রী প্রভৃতি এলাকা।
একইভাবে, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর অঞ্চলেরও বিভিন্ন এলাকা আয়কর জরিপের আওতায় আসবে। জরিপকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের রোজগেরে সদস্যদের একটি প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একটি ফরম পূরণ করে নিয়ে আসবেন। পরে তা সংশ্লিষ্ট আয়কর অফিসে জমা দেবেন। এই জরিপের ভিত্তিতে আয়কর অফিস থেকে পরে সম্ভাব্য আয়কর দিতে পারেন এমন মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং তাদের বলা হবে তাদের বার্ষিক আয়করের আওতায় চলে এসেছে। এ অবস্থায় তারা যেন কর রিটার্ন দাখিল করেন।
সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রায় ৬৪ শতাংশ আসে এনবিআরখাত থেকে। বাকি ৩৬ শতাংশ এনবিআর বহির্ভূতখাত থেকে। এনবিআর খাতের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেশি রাজস্ব আয় হয় মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আয়কর খাত। তৃতীয় অবস্থানে সম্পূরক শুল্ক এবং চতুর্থ অবস্থানে আমদানি শুল্ক। আগে আমদানি শুল্ক থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হতো।