‘জাপানিরা সেতু নির্মাণের টাকা ফিরিয়েদেওয়ার বিষয়টি অতিরঞ্জিত’

10

সবুজ সিলেট ডেস্ক
নির্ধারিত সময়ের আগে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করে জাপানিরা ৭০০ কোটি টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনা আদৌ সত্য নয়। সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি অতিরঞ্জিত হয়েছে।
গত সোমবার বিকেলে সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘টাকা ফেরত দেওয়ার তথ্য ঠিক নয়। জাপানের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অর্থ ফিরিয়ে দিয়েছে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের ৬ মাস আগে শেষ হয়েছে সেটাও পুরোপুরি সত্য নয়। প্রকল্প শুরুর সময় বলা হয়েছিল এটি ২০১৯ সালের জুন-জুলাই মাসে শেষ হবে। সে অনুযায়ী মাত্র এক মাস আগে প্রকল্প শেষ হচ্ছে।’
তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই জাপানিরা সেতু নির্মাণের (মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতু প্রকল্প) কাজ শেষ করতে পেরেছে। এখানে আর টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো ঘটনা নেই। তবে কাজ আগে শেষ হওয়ায় সরকার থেকে আর অর্থ বরাদ্দ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে কিছু টাকা সাশ্রয় হতে পারে। ধারণা করে বলা যায়, তার পরিমাণ ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা।
সাশ্রয় হওয়া এ টাকা দিয়ে কাঁচপুর ও মদনে ফুটওভার ব্রিজ ও ছোট আকারের একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক।
মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতু প্রকল্প সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতু নির্মিত হয়েছে। আগামী ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব সেতু উদ্বোধন করবেন। সেতুগুলো যৌথভাবে নির্মাণ করছে জাপানের ওবায়েশি করোরেশন, সিমিজু করপোরেশন, জেএফই করপোরেশন এবং আইএইচআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিস্টেম কোম্পানি লিমিটেড।
প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ বলেন, ‘এ প্রকল্পে পুরাতন সেতু মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্তর্ভুক্ত ছিল যা এখনো শেষ হয়নি। জুলাই মাস থেকে পুরাতন সেতু রক্ষণাবেক্ষণ শুরু হবে আর এটি এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।’
উল্লেখ্য, প্রায় আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা এবং দ্বিতীয় গোমতি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে গত মার্চে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু চালু করা হয়। প্রকল্পের আওতায় নতুন তিনটি পুরনো সেতুর সংস্কার, সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং কাঁচপুরে সড়ক মোহনা উন্নয়নের কাজ রয়েছে।