মাগফিরাতের ষষ্ঠ দিন আজ

14

মাওলানা মাহমুদুল হাসান
আজ ১৬ রমজান। মাগফিরাত ও ক্ষমা প্রাপ্তির ষষ্ঠ দিন। রমজান মাসকে মহান আল্লাহ তায়ালা সিয়াম সাধনার জন্য নির্ধারণ করেছেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও নিষ্কৃতির উপায় হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। দুনিয়া-আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। তাই আল্লাহ চান তার বান্দাহগণ যেন জীবিত অবস্থায় তার পাপ মোচন করে আখিরাতের সফল জীবন ভোগ করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাহারই নিকট তওবা করো। তাহলে তিনি একটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত তোমাদেরকে উত্তম জীবনসামগ্রী দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে অধিক সওয়াব প্রদান করবেন। (সূরা হুদ আয়াত নং-৩) এই আয়াতে ইস্তেগফার ও তওবার হুকুম প্রদান করা হয়েছে এবং ইরশাদ হয়েছে যে, তওবা ও ইস্তেগফারকারীগণকে আল্লাহ তায়ালা পার্থিব জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে রাখবেন এবং উত্তম জীবনসামগ্রী দান করবেন, আর পরকালে অধিক আমলকারীকে (অর্থাৎ যে ভালো কাজ সম্পাদনকারীকে) অধিক সওয়াব দান করবেন।
রমজান শব্দটির দিকে লক্ষ করলে দেখা যায় যে, এতে পাঁচটি বর্ণ বা হরফ রয়েছে (১) রা (২) মিম (৩) দোয়াদ (৪) আলিফ (৫) এবং নুন। এই পাঁচ সংখ্যাটি খুবই অর্থবহ ও গুরুত্বপূর্ণ। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে “তোমরা পাঁচ বস্তুর পূর্বে পাঁচ বস্তুকে গনিমত বা মহাসুযোগ বলে মনে করবে। যথা (ক) বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনকাল অর্থাৎ বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পূর্বে যৌবনে সৎকার্য করার সুযোগ হেলায় হারাবে না, এর সদ্ব্যবহার পূর্ণরূপে করবে। (খ) অসুস্থতা বা রোগ ব্যাধি আসার পূর্বে সুস্থ অবস্থাকে মহাসুযোগ মনে করে এর সদ্ব্যবহার করবে। (গ) অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ার পূর্বে স্বচ্ছল অবস্থাকে মহাসুযোগ মনে করে এর সদ্ব্যবহার করবে (ঘ) কর্মব্যস্ততার পূর্বে অবসর সময়কে সুবর্ণ সুযোগ মনে করবে। (চ) মৃত্যু এসে উপস্থিত হওয়ার পূর্বে জীবতকালের সদ্ব্যবহার করবে। হজরত আবু বকর ওয়াররাক (রাজি.) বলেন, পাঁচটি বস্তু সর্বদা তোমার সঙ্গে আছে। তুমি যদি উক্ত পাঁচ সঙ্গীর মর্ম জেনে তাদের সাথে যথোপযুক্ত ব্যবহার করো, তবেই নাজাত বা মুক্তি লাভ করবে, তা নাহলে তোমার ধ্বংস ও মৃত্যু নিশ্চিত ও অবিসাংবাদিত। যথা (ক) আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, (খ) নফস বা প্রবৃত্তি (গ) মরদুদ শয়তান (ঘ) নশ্বর দুনিয়া বা সংসার (ঙ) বিদ্যমান মানুষের সমাজ। হজরত আলী (রাজি.) বলেছেন, পাঁচটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেদিকে আমি তোমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি যথা-(ক) একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপর নির্ভর করো না (খ) একমাত্র পাপ ছাড়া অন্য কিছুতে ভয় পেয়ো না (গ) যা জানো না, সে সম্বন্ধে তোমার অজ্ঞতা স্বীকার করতে কখনো লজ্জিত হয়ো না। (ঘ) যদি কিছু না জানো তা শিক্ষা করতে কখনো লজ্জা বোধ করো না এবং (ঙ) দেহের সঙ্গে মাথার যে সম্পর্ক ঈমানের সঙ্গে ধৈর্য আর সহিষ্ণুতার সম্পর্কও সে রকম। মাথা ছাড়া যেমন দেহের কোনো মূল্য নেই, তেমনি ধৈর্য আর সহিষ্ণুতা ছাড়া ঈমান ও মূল্যহীন। হজরত ইমাম জাফর সাদেক বলেছেন, তোমরা পাঁচ ব্যক্তির সাথে সংশ্রব রেখো না যথা-(১) মিথ্যুক তাকে সঙ্গে রাখলে ঠকবে। সে তোমার হিতকামী হতে পারে, কিন্তু নিজ মূর্খতা ও মিথ্যাচারিতার দরুণ তোমার অমঙ্গল অবশ্যই ঘটবে। (২) কৃপণ-সে সর্বদা নিজের লাভের জন্য তোমার ক্ষতিসাধনে পিছপা হবে না। (৩) নির্দয়-তোমার অভাবের সময় সে তোমাকে ধ্বংস করতে কসুর করবে না। (৪) কাপুরুষ-তোমার প্রয়োজনের সময় সে তোমাকে ত্যাগ করবে এবং (৫) ফাসেক-তার লোভ লালসা বেশি, নিজ স্বর্থের খাতিরে সে তোমাকে প্রাণে হত্যা করতেও কুণ্ঠিত হবে না।
হজরত সুফিয়ান সওরি (রহ.) বলেছেন, পাঁচ শ্রেণির লোক সবচেয়ে প্রিয়-যথা (১) লোভ নেই এমন আলেম (২) সুফী ফেকাহবিদ (৩) বিনয়ী-ধনী ব্যক্তি (৪) শোকর গোযার বা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী। (৫) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী। বস্তুত মাহে রমজানের যে, পাঁচটি বর্ণ রয়েছে তার সাথে উপরিউক্ত পাঁচটি উপদেশ বাক্যের অ™ভুত মিল রয়েছে। অতএব পাঁচ সংখ্যাটির মর্ম ও তাৎপর্যকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করো। নিজেকে সংশোধন করার প্রস্তুতি নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে রহমত মাগফেরাত দান ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও নিষ্কৃতি দান করুন। আ-মিন।