বিদ্যুৎচালিত যানবাহনে উৎসাহ দেবে সরকার

6

সবুজ সিলেট ডেস্ক
ইলেকট্রিক্যাল ভেহিকল বা বিদ্যুৎচালিত যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দেবে সরকার। বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতার চাইতে চাহিদা কম হওয়ার কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের স্থাপিত বিদ্যুতের ক্ষমতা ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সবোর্চ্চ চাহিদার সময় ব্যবহৃত হচ্ছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। অব্যবহৃত ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট যানবাহনে ব্যবহার করতে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘দি ক্লিন অ্যান্ড ইফিসেয়েন্সি ভেহিকল’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান।
বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইলেকট্রিক্যাল যানবাহনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে আমরা প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমাদের এখন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ রয়েছে। প্রতিবছর বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ থেকে ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে সারা দেশে ইজিবাইক ৪ থেকে ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুতে গাড়ি চালানো গেলে খরচ অনেক কমে যাবে। গাড়িতে সিএনজির চাইতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে ৫০ শতাংশ খরচ কমে আসবে। একইভাবে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাইতে অনেক কম খরচ হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, যানবাহনে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের ওপর ইউএস এনার্জি ডিভিশন এবং ইদাহো ন্যাশনাল ল্যাব, ইউএসএ এর যৌথ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অকটেন বা পেট্রোল চালিত প্রাইভেটকারে কিলোমিটার প্রতি খরচ হয় ৮টাকা, ডিজেলে খরচ হয় ৬ টাকা। সিএনজিতে খরচ হয় তিন টাকা ৩০ পয়সা এবং বিদ্যুতে খরচ হয় দেড় টাকা।
এই কর্মকর্তা জানান, এই হিসেব করলে আমরা যদি যানবাহনে জ্বালানি তেল বা সিএনজির পরিবর্তে বিদ্যুৎ দিয়ে যানবাহন চালানো গেলে খরচ অর্ধেকের বেশি কমে যাবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘দি ক্লিন অ্যান্ড ইফিসেয়েন্সি ভেহিকল’ প্রকল্পের আওতায় যানবাহনে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে পলিসি তৈরি করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সুপারিন্টেন্ড ইঞ্জিনিয়ার নুর-ই-আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড ক্লিন এয়ার এশিয়া প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে ক্লিন ভেহিকল পলিসির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দুষণমুক্ত যানবাহন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরিবেশ দুষণ অনেকখানি কমে আসবে। বাংলাদেশে এই প্রকল্প চালু করা হলে, এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ বিভাগ এই খাতে সবোর্চ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।