ঘুম নিয়ে যত ভুল ধারণা

6

সবুজ সিলেট ডেস্ক
সারা দিনের ক্লান্তির পরে রাতে ঘুমানোর মাধ্যমেই আমাদের শরীর তার শক্তি পুনরুদ্ধার করে। শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, পেশি, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আর নানারকম হরমোন আবার নতুন করে কাজের শক্তি ফিরে পায়। নিয়মিত ঘুম আমাদের সারা দিন যেসব কাজ করি বা যা কিছু শিখি, সেগুলো মনে রাখতে ভূমিকা রাখে।
তাই সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের জন্য দৈনিক একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুমের বিকল্প নেই। কিন্তু ঘুম নিয়ে অনেকের অনেক ভ্রান্ত ধারণাও আছে, যা আসলে আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আসুন জেনে নেই, ঘুম নিয়ে এমন কিছু ভ্রান্ত ধারণা যা আমাদের ত্যাগ করা উচিত।
ধারণা ১ : দীর্ঘসময় শুয়ে থাকলে ঘুম এসে যায়। অনেকেই মনে করেন, ঘুম না আসলেও বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে। শুয়ে থাকতে থাকতে একসময় ঘুম এসে যাবে। আসলে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করলে বরং ঘুম আসে না। বিছানায় যাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘুম না এলে বিছানা ছেড়ে উঠে হাঁটাহাঁটি কিংবা অন্য কাজ করা উচিত। সেই কাজ অবশ্য এমন হওয়া দরকার যেন মনের ওপর কোনো চাপ না পড়ে। সেগুলো হতে পারে কাপড় ভাঁজ করা কিংবা টেবিল গুছিয়ে রাখার মতো কাজও। ঘুম এলেই বিছানায় যান, আর হাতে মোবাইল বা অন্য ডিভাইস না নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।
ধারণা ২: টিভি দেখলেও ঘুম আসে। সারা দিনের কাজের শেষে ঘরে ফিরে টিভি দেখতে দেখতেই বিশ্রাম হয়ে যায়-এমন ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে অনেকেরই। কিন্তু টেলিভিশনসহ মোবাইল ট্যাব বা অন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে এক ধরনের নীলচে আলো বের হয়, যা আমাদের শরীরের ঘুমের হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। তাই রাতের বেলা দীর্ঘক্ষণ টেলিভিশন দেখলে বা অন্য কোনো ডিভাইসের দিকে তাকিয়ে থাকলে ঘুমের সমস্যা হয়।
তাছাড়া টিভিতে খবর, যুদ্ধ বা সংঘাত আছে— এমন সিনেমা বা অন্য কিছু দেখলে আমরা মানসিকভাবে স্ট্রেস অনুভব করতে পারি। এতেও ঘুমের অসুবিধা তৈরি হতে পারে।
ধারণা ৩ : নাক ডাকা আসলে অস্বাভাবিক কিছু না। নাক ডাকাকে নিরীহ ভেবে এড়িয়ে যাই অনেকেই। আসলে নাক ডাকা হতে পারে নানা রোগের লক্ষণ। ঘুমানোর সময় গলার ভেতরের দিকে দেওয়ালগুলো কিছুটা সরু হয়ে পড়ে যা স্বাভাবিক শ্বাস প্রক্রিয়ায় বাঁধা তৈরি করে। তাই যারা নাক ডাকেন তাদের উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। জোরে জোরে নাক ডাকে যাদের, তদের ঝুঁকি একটু বেশিই থাকে।
আবার নাক ডাকার কারণে ঘুমও বাধাগ্রস্ত হয়, যা ডেকে আনতে পারে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ নামের ঘুম না হওয়ার অসুখ। তাই আপনারও যদি থাকে নাক ডাকার সমস্যা, দ্রুত কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ধারণা ৪ : স্নুজ বাটন চেপে ঘুমালেও অনেক লাভ! আর মাত্র পাঁচ মিনিট থেকে এক মিনিট বেশি ঘুমাতে পারলেও যেন লাভ— এমন চিন্তা থেকে অনেকেই সকালে অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বন্ধ না করে স্নুজ করে দেই। কিন্তু গবেষকরা দ্বিমত জানাচ্ছেন। তাদের মতে, অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উঠে যাওয়া উচিত আমাদের।
কারণ, স্নুজের এই সামান্য সময়ের জন্য আমাদের শরীর আবার গভীর ঘুমে ফিরে যায় না। স্নুজের সময়ে যে ঘুম হয় তা খুবই ‘লো কোয়ালিটি’র হালকা ঘুম, যা আদতে শরীরের কোনো কাজে লাগে না। তারা বলছেন, অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উঠে গিয়ে ঘরের পর্দা সরিয়ে ফেলে হোক বা বাইরে গিয়ে হোক, যতটা সম্ভব আলোতে যাওয়া উচিত।
ধারণা ৫ : প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুমালেও চলে। অনেকেই মনে করেন, সারা দিনে পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুমালেও কোনো সমস্যা হয় না। আসলে তা নয়। নানা গবেষণায় দেখা যায়, দিনে পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুমে হৃদরোগ, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দেখা দেয়। এত কম ঘুমালে কমে যেতে পারে একজন মানুষের গড় আয়ু। সুস্থ থাকার জন্য অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি। তাই যত কাজই থাকুক না কেন, সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান।
সারা দিনের কাজের পর দারুণ একটা ঘুম শুধু সুস্বাস্থ্যই বজায় রাখে না, ভালো রাখে আমাদের মানসিক অবস্থাও। নিয়মিত ভালো ঘুম মানুষকে দীর্ঘায়ু দান করে। তাই সুস্থ থাকতে ভেঙে ফেলুন ঘুম নিয়ে যত ভ্রান্ত ধারণা, আর নিয়মিত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান।