মোদির পুনর্র্নিবাচন ও বাংলাদেশ

15

মাসুম খলিলী
ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি জোট আবারো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এক্সিট পুলে বিজেপি জোটের যে সাফল্যের কথা বলা হয়েছিল, বাস্তব ফল তার চেয়েও ভালো হয়েছে। ৩২১টি আসনে জয় পেয়েছে এনডিএ। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশ, বিহার, রাজস্থানসহ হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলোতে বিজেপি বেশ ভালো করেছে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে পরাভূত করতে না পারলেও সেখানে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য ( ৪২টির মধ্যে ১৫টি) পেয়েছে। নতুন ফলাফলে নরেন্দ্র মোদি আরো শক্তিমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নিচ্ছেন বলে মনে হয়। যদিও বিরোধী কংগ্রেস জোটের আসন সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
মোদির এই পুনর্র্নিবাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে যেমন প্রভাবিত করতে পারে, তেমনিভাবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপির এবার প্রাক-নির্বাচনী ঘোষণা ও প্রচারাভিযানের দু’টি উল্লেখযোগ্য দিকের একটি হলো- বাংলাদেশের কথিত অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য প্রদেশে এনআরসি করা হবে। আর অনাগরিক চিহ্নিতদের দেশছাড়া করা হবে। একই সাথে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আগত অমুসলিম বা হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য পুনরায় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ বিষয়টির বড় রকমের প্রভাব পড়বে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে।
বিজেপির দ্বিতীয় ঘোষণাটি ছিল- কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদাসংক্রান্ত সংবিধানের সুরক্ষা বাতিল করা নিয়ে। এ ঘোষণার বাস্তবায়ন জম্মু ও কাশ্মিরের ওপরই শুধু প্রভাব ফেলবে না, সেই সাথে পাকিস্তানের সাথে ভারতের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলবে।
প্রথমোক্ত ইস্যুটির কারণে মোদির সরকার গঠনের পর বাংলাদেশকে একটি বড় ধরনের সঙ্কট মোকাবেলা করতে হতে পারে। ভারতের সাথে সুসম্পর্কের ব্যাপারে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সব সময় সচেষ্ট থাকলেও নানা ইস্যুতে সরকার আরেক বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ চীনের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে বলে মনে হয়েছে। গত এক বছরের বেশি সময়ে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও প্রভাব যে নিরঙ্কুশভাবে বেড়েছে, সেটি সব পর্যবেক্ষকের কাছে ধরা পড়েছে। মোদির সরকার চীনের এই প্রভাবকে কিছুতেই স্বাভাবিকভাবে নেয় না। এ নিয়ে নির্বাচনের আগেই বেশ কিছু বিষয়ে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিপদ হিসেবে দেখা দেয়ার আশঙ্কা হলো, আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য প্রদেশে এনআরসির মাধ্যমে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার ঘোষণা। এই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র্র মোদি আর অমিত শাহ দু’জনের কাছ থেকেই এসেছে।
এই ইস্যুর কারণে ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের বিভিন্ন পর্যবেক্ষক বিষয়টিকে বেশ উদ্বেগের সাথে লক্ষ করেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক সমীর দাস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সাধারণত এর উল্টোটাই হয়ে থাকে, ভারত সব সময় বাংলাদেশে একটা বড় নির্বাচনী ইস্যু হয়, কিন্তু এবার ক্ষমতাসীন বিজেপি বাংলাদেশ থেকে আসা (কথিত) অবৈধ অভিবাসীদের একটা বড় ইস্যুতে পরিণত করেছে।’
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগ দিয়েই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স (এনআরসি) আপডেট করা হয়েছে। সেখানে আঞ্চলিক গ্রুপগুলো বাংলাদেশ থেকে আসা কথিত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। ডিসেম্বরে এই তালিকার একটা খসড়া প্রকাশিত হয়েছে, যে তালিকায় ৪০ লাখ অধিবাসীর নাম বাদ পড়েছে, যারা মূলত বাংলাভাষী হিন্দু ও মুসলিম। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
এবারের নির্বাচনের প্রচারণার সময় বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অন্যান্য রাজ্যের এনআরসি তৈরি করা হবে এবং পরে এটা সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গে এই ইস্যুতে বিজেপি সবচেয়ে বেশি প্রচারণা চালিয়েছে। সেখানকার এক নির্বাচনী সভায় অমিত শাহ বলেছেন, ‘আমরা যদি ক্ষমতায় ফিরে আসি, তাহলে আমরা পশ্চিমবঙ্গে ও ভারতের বাকি সবখানে এনআরসি তৈরি করব। বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কার করার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি অবৈধ অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ হিসেবেও সম্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসসহ সেকুলার রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, তারা ‘নিরাপদ ভোটব্যাংক’ হিসেবে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। বেশ কিছু নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেছেন, তার দল ‘অবৈধ অভিবাসীদের দরজা দেখানোর জন্য বদ্ধপরিকর’।
মোদি অবশ্য এটাও স্পষ্ট করেছেন, তার দল সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারেও সমানভাবে আগ্রহী। এর অর্থ হলো বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম অভিবাসীদের ভারতের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। বিজেপি সরকার বিলটি উত্থাপনের পর সেটি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে পাস হয়েছিল, কিন্তু উচ্চকক্ষে আটকে যায়। উচ্চকক্ষে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এরপর থেকেই মোদি বলে আসছেন, ক্ষমতায় এলে বিলটি আবার উত্থাপন করবেন তিনি।

বিজেপির এই প্রচারণা পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক সমর্থন না পেলেও দলটি তার আসন অনেক বাড়াতে সমর্থ হয়েছে। উড়িষ্যায়ও এর প্রভাব পড়েছে বলে মনে হয়। এই রাজ্যের অর্ধেকের কাছাকাছি লোকসভা আসনে এবার বিজেপি জয় পেয়েছে। এমনকি এ ইস্যুটিকে বিজেপি হিন্দু জাতীয়তাবাদকে জাগিয়ে তোলার জন্য ব্যবহার করতে পেরেছে। ফলে উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মতো রাজ্যে বিজেপি ভালো সাফল্য পেয়েছে।
এনআরসি ইস্যুটি যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বড় ধরনের সঙ্কট হয়ে দেখা দিতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের বিশ্লেষক সুবির ভৌমিক। তিনি এ ব্যাপারে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ভারতপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কিন্তু দলটির বহু রাজনীতিবিদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিজেপির বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষতি হতে পারে। আসামের এনআরসিতে যেসব বাংলাভাষীকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ।’
তিনি পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশের এক সিনিয়র কূটনীতিকের বরাত দিয়েছেন। এই কূটনীতিক বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন, এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ একটা প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশে কাউকে পুশব্যাক করা হবে না। কিন্তু অমিত শাহের মতো বিজেপির রাজনীতিবিদেরা সব সময় অবৈধ অভিবাসীদের পুশব্যাক করার কথা বলছেন। আমি নিশ্চিত যে, তাদেরকে সাগরে ছুড়ে ফেলা হবে না। আমার একমাত্র আশা হলো, এগুলো যেন আবার দুই দেশের মধ্যে সঙ্ঘাতের কোনো নতুন ইস্যু না হয়ে ওঠে, যেখানে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো পর্যায়ে রয়েছে।’
ভারতের বাংলাদেশ বিষয়ক বিশিষ্ট পর্যবেক্ষক সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বিজেপির রাজনীতির কারণে হয়তো ভারতকে শেষ পর্যন্ত তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটা মিত্রকে হারাতে হবে, বিশেষ করে হাসিনা সরকারের বিরোধীরা এরই মধ্যে তাকে ‘ভারতের তাঁবেদার হিসেবে বর্ণনা করতে শুরু করেছে’। তিনি বলেন, ‘বিজেপি পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে একই দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেছে, কারণ তারা উভয়েই মুসলিম সংখ্যাগুরু দেশ।’
এই বক্তব্যে পাকিস্তানের সাথে একই কাতারে ফেলে বাংলাদেশের মতো দেশের বন্ধুত্ব ভারত হারাতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশের মধ্যে এই বাস্তবতাও রয়েছে, বাংলাদেশ ভারতের সহানুভূতি হারানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই ঝুঁকির প্রাথমিক কারণ কিন্তু বাংলাদেশ ভারতের প্রতি বৈরিতা প্রদর্শন করেছে তা নয়, বরং বাংলাদেশ তার নিজস্ব প্রয়োজনে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়া দিল্লি ভালোভাবে নিতে পারেনি। ভারত সব সময় চেয়েছে বাংলাদেশ একান্ত অনুগত রাষ্ট্র হিসেবে বিহেভ করুক।
শেখ হাসিনার পক্ষে এ ধরনের ভূমিকায় থেকে বাংলাদেশকে অবকাঠামো উন্নয়নের ধারায় রাখা বেশ খানিকটা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা এখন যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে ব্যাপক উন্নয়ন সহায়তা ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। আর বিশ্বব্যাংক বা সহযোগী পশ্চিমা দেশগুলো সাহায্যের ক্ষেত্রে যে ধরনের স্বচ্ছতা ও তাদের কাছে জবাবদিহিতা চেয়ে থাকে, সেটি শেখ হাসিনা দিতে চান না। এ ক্ষেত্রে চীন হলো প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের একটি দেশ। যে দেশটি বাংলাদেশে গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের কোথায় কী হলো, ভোট স্বচ্ছ ও অবাধ হলো কি না সেটি তেমন একটা বিচার করে না।
এখন প্রশ্ন হলো, ভারতে দ্বিতীয়বার মোদি সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা ভারসাম্য কিভাবে করবেন? শেখ হাসিনা ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো দূর করার ব্যাপারে আগের মতোই সচেষ্ট থাকতে পারেন। কিন্তু চীনা বিনিয়োগের ব্যাপারে আপত্তিগুলোকে তিনি মোটা দাগে গ্রাহ্য নাও করতে পারেন। বিশেষভাবে শেখ হাসিনাকে নতুন মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রের নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান ভারতের নির্দেশিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চায় না। যার ফলে ভারত যখন বাংলাদেশকে একটি ব্যাপক ভিত্তিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনের জন্য বেশ চাপাচাপি করছিল তখন সেনাপ্রতিষ্ঠান এর বিরোধিতা করেছে। মোদির সরকার নতুন করে নির্বাচিত হওয়ার পর সেই চাপ দেয়া হলে দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে।
এটি ঘটলেই এনআরসি পুশব্যাকের মতো বিষয়গুলো প্রবলভাবে সামনে চলে আসতে পারে। বাংলাদেশকে এরই মধ্যে বাধ্য হয়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে আশ্রয় দিতে হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ‘নির্মূল অভিযান’ চালানোর পর তারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসে। আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গ বা অন্যান্য রাজ্যে বাংলাভাষীদের বাংলাদেশ থেকে কথিত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে পুশব্যাক শুরু করা হলে তা এক ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। এই সংখ্যা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সংখ্যা থেকে আরো বেশি এবং সঙ্কটের রূপও অধিক ভয়াবহ হতে পারে। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে যে আন্তর্জাতিক সহমর্মিতা রয়েছে, সেটি ভারতের পাঠানো কথিত অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে কতটা থাকবে, সেই সংশয়ও রয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে অনেকেরই ধারণা সমীকরণটি হতে পারে এ রকম- ভারতে মোদির নতুন সরকার গঠিত হলে তারা বাংলাদেশের সাথে বিতর্কিত প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য ঢাকাকে চাপ দেবে। চীন কোনোভাবেই বাংলাদেশে তার প্রতিরক্ষার বাজার হারানোর মতো এ ধরনের চুক্তি করার ব্যাপারে সম্মত হবে না। আর এতে সম্পর্কের যে টানাপড়েন দেখা দেবে তাতে অনুপ্রবেশ ও পুশব্যাকের বিষয়টি বড় একটি ইস্যু হিসেবে সামনে চলে আসতে পারে।
ভারতে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের ব্যাপারে দিল্লি সীমান্তে পণ্য আমদানি রফতানির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বৈরী ধরনের কিছু আচরণ করেছে। বিজেপির একটি সূত্র এমনও বলেছে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল ও সরকার বিজেপি-বিরোধীদের নির্বাচনে গোপনে সহায়তা করেছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নায়ক ফেরদৌসের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পক্ষে প্রচার চালানোর বিষয়টিকে অনেকে সামনে নিয়ে আসেন। ফেরদৌসের শ্বশুর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। বিজেপির আপত্তির কারণে ফেরদৌসকে আকস্মিকভাবে ভারত ছাড়তে হয়। বাংলাদেশের আরো একজন সেলিব্রেটিকেও একই অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। এর বাইরে কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারণায়ও বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের গোপন সহায়তা রয়েছে বলে বিজেপির কিছু নেতা বিশ্বাস করেন।

বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যের পর পরিস্থিতি একই ধারায় এগোয় কি না, সে বিষয়ে অবশ্য অনেকের সংশয় রয়েছে। তারা মনে করেন, বিজেপিকে নির্বাচনী সাফল্যের জন্য এনআরসি অথবা কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো আনতে হয়েছে। সরকার গঠনের পর সেসব অগ্রাধিকারে নাও থাকতে পারে। তবে বিজেপির কার্যক্রম সূক্ষ্মভাবে পরখ করা হলে এর একটি আদর্শিক ধারাবাহিক যাত্রার বিষয় লক্ষ করা যাবে। এই রাস্তা থেকে বিজেপি বা তাদের ভেতরের নিয়ন্ত্রক সঙ্ঘ পরিবার সরবে বলে মনে হয় না। আর এই প্রক্রিয়ার মধ্যে বিজেপির টেকসই নির্বাচনী সাফল্য অর্জনের একটি বিষয়ও রয়ে গেছে।
এ কারণে ভারতীয় এনআরসি বা অনুপ্রবেশ ইস্যুটি বড় হয়ে দেখা দেয়ার আশঙ্কা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। এমনকি বিজেপির এমপি সুব্রাহ্মনিয়াম স্বামী মাঝে মধ্যে বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠন করার জন্য ভারতের যে হস্তক্ষেপের কথা বলে থাকেন, তেমন একটি বিষয়ও যদি সামনে চলে আসে, তাহলেও বিস্ময়ের কিছু থাকবে না।
সৎশসসন@মসধরষ.পড়স