শিশুমৃত্যুর হার কমেছে বাংলাদেশে

8

সবুজ সিলেট ডেস্ক
গত বিশ বছরে বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার কমেছে ৬৩ শতাংশ। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে শিশুমৃত্যুর হার কমানোয় দক্ষিণ এশিয়ায় উলে¬খযোগ্য অগ্রগতি করেছে বাংলাদেশ।
গত বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সেভ দ্য চিলড্রেন তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ করেছে বার্ষিক গে¬াবাল চাইল্ডহুড রিপোর্ট ২০১৯।
এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডবি¬উএইচও গে¬াবাল হেলথ অবজারভেটরির মতে বাংলাদেশে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি ঘণ্টায় দুজন শিশুর মৃত্যু হলেও গত বিশ বছরে শিশুমৃত্যু হ্রাসে যথেষ্ট উন্নতি করেছে বাংলাদেশ।
এছাড়া রিপোর্ট বিশে¬ষণে দেখা যায়, গত দুই দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল শিশুমৃত্যুর সংখ্যা অনেকাংশে হ্রাস করতে পেরেছে। তবে চারটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দেশগুলোর মধ্যে ভুটানের শিশুমৃত্যুর হার কমেছে ৬০ শতাংশ, নেপালে ৫৯ শতাংশ ও ভারতের ৫৭ শতাংশ।
এই অগ্রগতি সত্ত্বেও, ২০১৮ সালের ‘ন্যাশনাল সিচুয়েশন এনালাইসিস রিপোর্ট অফ নিউমোনিয়া’ প্রতিবেদনটি বলছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া এখনো মৃত্যুর প্রধান কারণ। অন্যান্য কারণের মধ্যে বেশিরভাগ কারণই এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একারণে পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুহার হ্রাস পেলেও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুমৃত্যুর হার আশানুরূপ হ্রাস পায়নি।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালে পাঁচ বছরের নিচে মোট ১৬ শতাংশ শিশুর এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুর মধ্যে মোট ৩০ শতাংশ শিশুর মৃত্যুর জন্য নিউমোনিয়া দায়ী।
নিম্ন আয়ের দেশগুলোতেও নিউমোনিয়ায় পাঁচ বছরের নিচে শিশুমত্যুহার বেশি। ইউএন ইন্টার এজেন্সি গ্রুপ ফর চাইল্ড মরটালিটি এস্টিমেশন অনুযায়ী ধনী শিশুদের তুলনায় দরিদ্র শিশুমৃত্যুর হার দ্বিগুণ।
এ বিষয়ে সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, ‘অস্বাস্থ্য ও অপুষ্টি থেকে শুরু করে শিক্ষার অভাব, শিশুমৃত্যু ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শিশুর জীবন বিকাশে বাংলাদেশের বিশাল অগ্রগতিকে অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। ২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বাস্থ্যবান, সুখি, শিক্ষিত এবং সুরক্ষিত বেড়ে ওঠার সুযোগ অনেক বেশি। তবে নিউমোনিয়া মোকাবেলা করা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকেই যাচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আমাদের কাজের পরিধি আরও বাড়াতে হবে।’
১ জুন আন্তর্জাতিক শিশু দিবসকে সামনে রেখে গে¬াবাল চাইল্ডহুড রিপোর্টে অ্যান্ড অফ চাইল্ডহুড ইনডেক্স থেকে জানা যায়, ২০০০ সাল থেকে ১৭৬টি দেশের মধ্যে ১৭৩টি দেশে শিশুদের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে। ফলে, সারাবিশ্বে এখন বছরে ৪ দশমিক ৪ মিলিয়নেরও কম শিশুমৃত্যু ঘটছে।
এছাড়া ৪৯ মিলিয়নের কম শিশু খর্বকায় জন্মাচ্ছে, ১৩০ মিলিয়নের বেশি শিশু স্কুলে যাচ্ছে, ৯৪ মিলিয়নের কম শিশুশ্রমিক হচ্ছে, ১১ মিলিয়নের কম মেয়েদের জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা বাল্যবিয়ে হচ্ছে, প্রতি বছর ৩ মিলিয়নের কম মেয়ে বয়সন্ধিতে মা হচ্ছে, প্রতি বছর ১২ হাজারের কম শিশু হত্যার শিকার হচ্ছে।
সংঘাত-সংঘর্ষের কারণে শিশুদের স্থানচ্যুতি বা জীবনবিপন্ন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ২০০০ সালের তুলনায় ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি মানুষকে জোরপূর্বক স্থানচ্যুত করা হয়েছে যার বৃদ্ধির হার ৮০ শতাংশ।
শিশুমৃত্যু হার হ্রাসে প্রথমে রয়েছে সিঙ্গাপুর এরপর রয়েছে পশ্চিম ইউরোপীয় আটটি দেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া।