তাহিরপুরে দুইটি ফেরি ঘাটের ইজারাকৃত টাকা আত্মসাত!

10

তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে দুইটি ফেরি ঘাটের ইজারাকৃত মূল্যের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ফজলুল হক স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে দাখিল করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে ১৪২৫ বাংলা সনে ইউনিয়নের পাইকরতলা ফেরিঘাটটি ৩ লক্ষ ৫১ হাজার ৩শ টাকা এবং বৌলাই নদী ফেরিঘাটটি ৪ লক্ষ ৫১ হাজার ২শ টাকা সর্বমোট মিলিয়ে ৮ লক্ষ ২ হাজার ৫শ টাকা ১৪২৫ বাংলা সন পেরিয়ে ১৪২৬ বাংলা সন চলে আসলেও এখন পর্যন্ত উক্ত ফেরিঘাটের সরকারি টাকা আত্মসাত করে ভোগ করছেন। কেবলমাত্র দরপত্রে সংযুক্তি করা ২৫ শতাংশ বিডির টাকা কোষাগারে জমা করা হয়েছে। বাকি টাকা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবের নিকট জমা রয়েছে।
এছাড়াও ইউনিয়নের নাগরিকগণ তাদের নাগরিকত্ব সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ পেতে সপ্তাহ হতে ১৫ দিন সময় ইউনিয়ন অফিস ও তার বাড়ি পর্যন্ত ঘুরাঘুরি করতে হয়। ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকারের ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিতির কারণে গ্রাম আদালত থেকে এলাকার লোকজন মূখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সাধারণ অধর্তব্য অপরাধ হলেও এলাকার লোকজন থানার মুখাপেক্ষী হতে হয়। গত ২৮ মে ইউনিয়নের উন্মুক্ত বাজেট অনুষ্ঠানেও অধিকাংশ ইউপি সদস্যগণ অনুপস্থিত ছিলেন। একান্ত নিজস্ব লোকজন দিয়ে বাজেট অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব নিরঞ্জন দাস বলেন, ফেরিঘাটের টাকা আত্মসাত করা হয়নি। ইজারাদাররা এখনো টাকা দেয়া শেষ করেনি।
ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিয়া হোসেন বলেন, টাকার বিষয়ে কিছুটা গড়মিল আছে। বিষয়টি আমরা বসলেই সমাধান হয়ে যাবে।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান ছোটন বলেন, ইউনিয়ন অফিসের কোন রেজিষ্ট্রারই সঠিক নেই। ফেরি ঘাটের টাকা চেয়াম্যান কর্তৃক আত্মসাতের বিষয়ে আমি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি যাহা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। একই অভিযোগের কথা জানালেন, ৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য কামাল আহমদ এবং ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য গোলাম সারোয়ার ডালিম।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার বলেন, আমাদের পরিষদের সদস্যদের মধ্যে কিছুটা অমিল রয়েছে। যে কারণে এ সমস্ত অভিযোগ উঠছে।