সোফায় বসে রাতারগুল বেড়াতে গিয়ে সমালোচনায় কৃষিমন্ত্রী

78

সবুজ সিলেট ডেস্ক:
ঈদের ছুটিতে স্বপরিবারে সিলেট বেড়াতে এসেছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। গত বৃহস্পতিবার সিলেটের গোয়ানঘাট উপজেলার জলারবন রাতারগুল বেড়াতে যান কৃষিমন্ত্রী। কৃষিমন্ত্রীর রাতারগুল ভ্রমণের একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ছবিতে দেখা যায় নৌকার উপর রাখা সোফায় বসে রাতারগুল ঘুরে দেখছেন কৃষিমন্ত্রী। নৌকার উপর সোফা তুলে তাতে বসা নিয়ে ফেসবুকে অনেকেই সমালোচনা করছেন মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের। অনেকে নৌকার পাটাতনে বসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নৌকা পারপারের একটি ছবি যুক্ত করে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতারা সরে যাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেছেন।

খাদ্যমন্ত্রীর ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দেখা যায়, নৌকার সামনের দিকে দাঁড়িয়ে আছেন কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরওয়ার আহমদ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শনিবার সরওয়ার আহমদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাককে রাতারগুল বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলাম। স্থানীয় এলাকাবাসীই মন্ত্রীর জন্য নৌকার ব্যবস্থা করেছিলেন। মন্ত্রীূর বসার জন্য নৌকায় সোফাও এলাকাবাসীই তুলে রাখেন। প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা রাতারগুল বেড়াতে গেলেও এলাকাবাসী স্বপ্রণোদিত হয়ে এই ব্যবস্থা করেন। স্বাভাবিকভাবেই মন্ত্রীর জন্যও তারা এই ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু এখন অনেকটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমালোচনা করা হচ্ছে। কেউ কেউ ভুল তথ্য দিয়ে সমালোচনা করছেন। সমালোচনাকারীদের অনেকেই জামায়াত-বিএনপির অনুসারী বলে মন্তব্য করেন সরওয়ার আহমদ।

কৃষিমন্ত্রীর রাতারগুল ভ্রমণের ভাইরাল হওয়া ছবিটি যুক্ত করে ফেসবুকে সাাংবাদিক ফজলুল বারী লিখেন-
জমিদার কৃষি মন্ত্রী! মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে সবকিছুতে ইনি উল্টো ডিগ্রির!

রুহুল কুদ্দুস বাবুল নামের আরেকজন কৃষিমন্ত্রীর নৌভ্রমণের ছবির সাথে বঙ্গবন্ধুর নৌকায় নদী পারাপারের আরেকটি ছবি যুক্ত করে লিখেছেন-

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ডক্টরেট কৃষিমন্ত্রি!!!
এ ছবিটিই প্রমাণ করে এরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে, গণমানুষের রাজনীতি থেকে কত যোজন যোজন মাইল দূরে সরে গেছে।

লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক হাসান মোরশেদ লিখেছেন-
কৃষিমন্ত্রীর সোফাকান্ডে নৌকায় সোহরাওয়ার্দীসহ বঙ্গবন্ধুর ছবি দেয়া ঠিক আছে।
এই মন্ত্রী, ঐ মন্ত্রী সবাই তো বঙ্গবন্ধুকে দিয়েই (বঙ্গবন্ধুকে বেঁচে বললাম না)। বঙ্গবন্ধুর প্রতি এখনো এদেশের মানুষের ভালোবাসা আছে বলেই, তার নাম উচ্চারণ করে বহু বৈতরনি পার হচ্ছেন।

যার ছায়া এখনো ব্যবহার করেন সকলে, তাঁর নীতি নৈতিকতা ও আদর্শ কিছু জানবেন না, সেটা তো হয়না। তিনি কিভাবে মানুষের সাথে মিশতেন, মানুষের পাশে মানুষের একজন হয়ে দাঁড়াতেন সেটা প্রত্যেকের জানা এবং মানা দরকার আছে। কেউ তা না মানলে মানুষ তার স্মৃতি থেকে বঙ্গবন্ধুকে ফিরিয়ে এনে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাবেই- দেখো তিনি এমন ছিলেন! তোমাদের ও তাঁকে অনুসরন করা উচিত।