মানুষের বিবেক

6

রূপালী চক্রবর্ত্তী

মহান সৃষ্টিকর্তার সর্ব শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হল মানুষ। তাই মানুুষকে বলা হয় “গধহ রং ঃযব নবংঃ পৎবধঃঁৎব ড়ভ এড়ফ” আর এই সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানুষ কী তার মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত মান ও হুঁশ রাখতে পারছে? আর যদি পেরেই থাকে তবে কেন এত মানুষে মানুষে সংঘাত, মারা-মারি, হানা-হানি। আমরা প্রতিনিয়তই সংবাদপত্রগুলোতে চোখ রাখলেই দেখতে পাই যে, স্বামীর হাতে স্ত্রী, ছেলের হাতে মা, প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা খুন। যদি মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হয়েই থাকে তবে কেন এত খুনখারাপি, তবে কী সৃষ্টিকর্তা মানুষকে তার সর্বশ্রেষ্ঠ জীব বলে আখ্যায়িত করাটাই তার অন্যায়। আর তা কেনই বা হতে যাবে। সমাজের কিছু স্বার্থপর সুবিধাবাদী মানুষের জন্য সমগ্র মনুষ্যজাতিকে তো আর আমরা বিবেকহীন বলতে পারি না। কারন সব মানুষ কখনই সমান হতে পারে না। “গধহ রং নড়ৎহ ভৎবব নঁঃ বাবৎু যিবৎব যব রং পযধরহফ” পৃথিবীতে দুইটি শব্দ যেমন ভাল আর মন্দ। আর তাই সবাইকে আমরা এক আসনে স্থান দিয়ে ভালকে ভাল আর মন্দকে মন্দের আসনেই স্থান দিব। একটি কথা প্রচলিত আছে যে, মানুষ বাঁচে কর্মের মধ্য দিয়ে। পৃথিবীতে অনেক মুুনি-ঋষি, জ্ঞানী-গুণী, কবি-সাহিত্যিক আছেন যে তারা তাদের কর্মের মধ্যে দিয়ে বেঁচে আছেন। আর কিছু মানুষ আছে যে, তাদের কর্ম এবং তাদের কথা মনে হলেই শরীর ভয়ে আঁৎকে ওঠে। আর তাই আমি বলতে চাই যে, মানুষের বিবেক তার একান্তই নিজস্ব। সব মানুষের বিবেক বুদ্ধি সমান নয়। প্রতিটি মানুষ যেমন আলাদা তেমনি তার বিবেক আলাদা হয়ে থাকে। আর মানুষের এই বিবেক হলো তার শ্রেষ্ঠ আদালত। যদি তার ভাল এবং মন্দ বিচার করার মত ক্ষমতা থাকে তবে সে বিবেকবান আর যদি না থাকে তবে বিবেকহীন। আর আমরা জানি যে, বিবেকহীন মানুষ পশুর সমান। যে মানুষের পশুর মত আচরণ থাকে তাকে শ্রেষ্ঠ জীব বলাটাই অন্যায় হবে। আর আমরা এটাও জানি যে, সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। কাজেই সব মানুষকে বিবেকহীন আর খারাপ না বলে যারা খারাপ এবং বিবেকহীন কাজ করে শুধুমাত্র তাদেরকে যেন আমরা পরিহার করে চলতে পারি। আমরা যদি আমাদের ভিতরের বিবেকটাকে জাগ্রত করতে পারি এবং তাকে সঠিকভাবে কাজে পরিচালনা করতে সক্ষম হই তবেই আমরা আর অন্যায় কাজে লিপ্ত হব না। মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে তখন নিঃষ্পাপ হয়েই জন্মগ্রহণ করে। কোন পরিবারের মা-বাবা সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়া থেকেই যদি অভ্যাস ব্যবহার চিন্তা চেতনা দূরদর্শী ও ভালো প্রজন্মের কথা ভাবেন তখনই পরিবারে ভাল সন্তান জন্মাবে।

আর ভালো সন্তান-সন্তানাদি জন্মালেই শুধু পরিবারের জন্যই ভালো নয় সমাজ ও জাতির জন্য হবে গর্ব এবং অহংকার। শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দিলেই মা-বাবা হওয়া যায় না। তাকে সঠিকভাবে লালন-পালন করতে হয়। তাকে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়। তবেই একজন মা-বাবা সার্থক মা-বাবা হিসেবে গন্য হবেন। তাইতো মা-বাবার উচিত তাদের সন্তান যেন খারাপ পথে পা না বাড়ায় সে দিকে খেয়াল রাখা। আবার কোন সন্তান যদি খারাপ পথে পা বাড়ায় তবে তাকে শুধু শাসন না করে আদর সোহাগ ও বুঝানোর মধ্য দিয়ে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে আনা। তা না হলে যেমন হবে মা-বাবার ক্ষতি ঠিক তেমনি হবে সমাজ ও জাতির ক্ষতি। আমরা একটি কথা জানি যে, পাপকে নয় বরং পাপীকে ঘৃণা কর। কারণ জন্ম থেকে তো কেউ আর পাপী হয়ে জন্মায় না। বিভিন্ন ধরনের পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হয় তো সে পাপ কাজে লিপ্ত হয়। কাজেই প্রত্যেক মা-বাবা যদি তাদের সেই বিবেকবোধকে কাজে লাগিয়ে তাদের সন্তানকে সঠিকভাবে এবং সঠিক পথে ধাবিত করেন তাহলে তাদের সন্তানকে কেউ কখনও খারাপ পথে পরিচালনা করতে পারবে না। আর তাই তো প্রত্যেক মানুষের উচিত তার ভিতরের এই বিবেককে কাজে লাগিয়ে চলা। আর তার সেই বিবেককে যদি সে কাজে লাগিয়ে চলে তবে তাকে কখনও আদালতে যেতে হবে না।

লেখিকা ঃ সাবেক শিক্ষিকা, ইয়াকুব উল্লা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও ড্যাফডিল কিন্ডারগার্টেন, সুনামগঞ্জ।

মোবাঃ ০১৭৯৮-০৭২২০০