জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত দেবেন না মাহাথির

8

সবুজ সিলেট ডেস্ক
ন্যায়বিচার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বিতর্কিত ইসলামি চিন্তাবিদ জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। ভারতের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালেও মাহাথির তাকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও কয়েক মাস আগে বলেছিলেন, ভারতের কাছে যৌক্তিক তথ্য-প্রমাণ না পেলে জাকির নায়েককে ফেরত পাঠাতে চান না তারা।
জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তরুণদের সন্ত্রাসবাদে উসকানি, ঘৃণাবাদী বক্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ এনেছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। ২০১৬ সালে ঢাকায় গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলাকারীরা জাকির নায়েকের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বলে দাবি করে তারা। গ্রেফতার এড়াতে বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। বিগত নাজিব রাজাকের নেতৃত্বাধীন মালয়েশিয়ার সরকার জাকির নায়েককে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়। ভারতের একাধিক তদন্ত সংস্থা তাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত তা সফল হয়নি।
গত বছর মালয়েশিয়ার কাছে জাকিরকে ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করে ভারত। মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভারতের বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকলেও গত বছরের জুলাইয়ে মাহাথির বলেছিলেন, যতদিন বিতর্কিত ওই ইসলামি চিন্তাবিদ মালয়েশিয়ায় কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করছেন, ততদিন তাকে ফেরত পাঠানোর কোনো চিন্তা তাদের নেই। জাকিরকে ফেরত পাঠানোর আগে এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে চান বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তার উত্তরসূরি আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এরইমধ্যে এই বিষয় খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন। আমরা এই মামলায় ভারতের কাছ থেকে আরও যুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। এবার সেই ধারাবাহিকতায় আবারও জাকির নায়েককে ফেরত না পাঠানোর ইঙ্গিত দিলো মালয়েশিয়া।
এ বছর মে মাসে ভারতের আর্থিক অনিয়ম বিষয়ক পর্যবেক্ষক দফতর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ১৯৩ কোটি রুপি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনেছে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় মুম্বাইয়ের বিশেষ আদালতে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সন্দেহজনক উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করে তিনি সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার বক্তব্যে প্ররোচিত হয়ে ভারতের মুসলিম তরুণরা অবৈধ ও সন্ত্রাসমূলক কাজ করছে। এই মামলায় দ্বিতীয়বারের মতো চার্জশিট প্রকাশ করেছে ইডি। তবে এবারই প্রথম জাকির নায়েক সরাসরি অভিযুক্ত।
স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য এক আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোমবার সাংবাদিকরা জাকিরের বিরুদ্ধে সবশেষ ওই অভিযোগ নিয়ে মাহাথিরের কাছে প্রশ্ন করেন। জানতে চান, তাকে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে কিনা। জবাবে মাহাথির অস্ট্রেলিয়ায় থাকা সে দেশের একজন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার উদাহরণ টানেন। বলেন, আমরা অস্ট্রেলিয়াকে অনুরোধ করেছিলাম যে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কমান্ডো সিরুল আজহার উমারকে যেন তারা ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু তারা দিচ্ছে না। জাকির নায়েকের ব্যাপারটিও তেমন। জাকির মনে করছেন, তিনি ভারতে ন্যায়বিচার পাবেন না। ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে আমাদের অধিকার রয়েছে তাকে ফেরত না পাঠানোর।’