নগরীতে গণপিটুনিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী নিহত – পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

14

স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর বনকলাপাড়ায় গত বুধবার রাত ১১টায় গণপিটুনিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত দুদু মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
আর পুলিশ বলছে, দুদুর বিরুদ্ধে ২টি চাঁদাবাজি ও একটি নারী নির্যাতন মামলা ছিল। সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উৎপাত শুরু করেন। এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গণপিটুনি দেন এবং এতে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, জনতার গণপিটুনিতে খুন হওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী দুদু মিয়ার লাশ বুধবার রাতে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে গতকাল গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে লাশ হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের এয়াপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন। ওসি বলেন, নিহত দুদু মিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা ছিল। তিনি সম্প্রতি কারামুক্ত হয়ে এলাকায় উৎপাত করছিলেন বলে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে খুন হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে পরবর্তী তদন্তে এ খুনের নেপথ্য ও বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আমরা আশা করছি।
নিহতের ভাই হাসিম খান বলেন, বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সাদিয়া টেলিকম নামক দোকানে দুদু মিয়ার উপর হামলা করেন ১০-১২ জন। এই দোকানটির মালিক দুদু মিয়া নিজেই। হামলার পূর্বে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে হামলাকারীরা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার জন্য বলে। হামলায় যখন দুদু মিয়া মৃত্যুর মুখে, তখন তারা তাকে টেনে দোকান থেকে গোলাপ মিয়া পয়েন্টে নিয়ে যায় এবং মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় সাদিয়া টেলিকমে ডাকাত পড়েছে। ডাকাতের খবর শুনে এলাকাবাসী বের হয়ে দেখেন দুদু মিয়াকে মেরে ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হামলার পূর্বে তার আরেক ভাই জুয়েল খান দোকানে ছিল। হামলার সময় সে দৌড়ে পালিয়ে জীবন বাঁচায়। সে হামলাকারীদের মধ্যে ৪ জনকে চিনতে পেরেছে বলে জানান তিনি। দুদু মিয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী হওয়ায় ছাত্রদল ও জামায়াতের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করেছে বলে দাবি করেন হাসিম।