বালু-পাথর উত্তোলন কোম্পানীগঞ্জে হুমকিতে ধলাই সেতু

10

আব্দুল আলিম, কোম্পানীগঞ্জ
সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জের ধলাই সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি অসাধু চক্র প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লিস্টার মেশিন (এক ধরনের পাথর উত্তোলনের যন্ত্র) ও ৩২ মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করে চলেছে। এ কারনে ধ্বংসের মুখে পড়েছে সিলেটের দীর্ঘতম এ সেতুটি। এভাবে চলতে থাকলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে পূর্ব ও পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে উদ্বিগ্ন ধলাই নদীর পূর্ব পারের অর্ধ সহস্রাধিক মানুষ। এই পরিস্থিতি নিরসনে এলাকাবাসী গত বছর কয়েকবার বৈঠক করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ২০১৮ সালে ১ জুলাই সেতু সংলগ্ন এলাকায় সেতু তীরবর্তী কয়েক হাজার মানুষ মিলে মানববন্ধন করেছেন। বিহিত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেন তারা।
কিছুদিন বন্ধ থাকার পর গত ২-৩ দিন ধরে একটি অসাধু চক্র ধলাই সেতুর পিলার ঘেঁষে লিস্টার মেশিন দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপমা দাসের নেতৃত্বে ধলাই সেতুর দু’পাশে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সব ধরনের বালু পাথর উত্তোলনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে লাল নিশানা গেঁড়ে দেওয়া হয়। এরপরও মানা হচ্ছে না এ নিষেধাজ্ঞা। গতকাল শনিবার বিকালে দেখা যায়, ধলাই সেতুর কোল ঘেঁষে ১৫-২০টি বলগেট নৌকায় লিস্টার মেশিন দিয়ে বালু ও পাথর অবিরামভাবে উত্তোলন করছে পাথর খেকো চক্র। পাথর উত্তোলনের ফলে পিলারের নিচে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে পাথর উত্তোলন চলতে থাকলে যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
কলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আরাফাত আলী জানান, একটি অসাধু চক্র পেশি শক্তির দাপট খাটিয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করছে। এতে সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে বালু উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়ার পরও একটি চক্র সেতু ঘেঁষে বালু উত্তোলন করছে বলে জানতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।