ওসমানীসহ তিন বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প

18

সবুজ সিলেট ডেস্ক
দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরসমূহের সিকিউরিটি ব্যবস্থার উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত বছরের ৮ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বেশ কিছু সুপারিশ দিয়ে প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করার কথা বলা হয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। ফলে প্রক্রিয়াকরণ শেষ হওয়ায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
অনুমোদন পেলে আগামী ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বেসামারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ ও সংস্থাপনের জন্য জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে একটি সার্ভে করা হয়। এ জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গো স্ত্রিনিংয়ের জন্য ২টি ইডিএস ও আন্তর্জাতিক বহির্গমন যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের জন্য ৪টি বডি স্ক্যানার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক বহির্গমন যাত্রীদের জন্য একটি বডি স্ক্যানার এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক বহির্গমন যাত্রীদের স্ত্রিনিংয়ে একটি বডি স্ক্যানার সরবরাহের জন্য জাইকা কারিগরি সহায়তা দিতে রাজি হয়।
এজন্য ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই ‘রেকর্ড অব ডিসকাশন’ স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর জাইকা ও বেবিচকের মধ্যে অনুষ্ঠিত জয়েন্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটি (জেসিস) সভার মিউনিটস অব মিটিং (এমওএম) স্বাক্ষর হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাইকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ৫৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। বাকি ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেবিচকের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- ২টি বিস্ফোরক শনাক্তকরণ সিস্টেম (ইডিএস) সংগ্রহ, ৬টি বডি স্ক্যানার সংগ্রহ, একটি ডাবল কেবিন পিক আপ ক্রয় এবং পরামর্শক সেবা দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সুবীর কিশোর চৌধুরী পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, ‘প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সিকিউরিটি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য।’
যেসব বিভাগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে সেগুলো হচ্ছে- ঢাকা বিভাগের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম বিভাগের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট বিভাগের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সূত্র জানায়, চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহের সিকিউরিটি ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্পর্কিত লক্ষ্যমাত্রা এবং কার্যক্রমের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তাই প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি পঞ্চবার্র্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।