নেতানিয়াহুর স্ত্রীর দোষ স্বীকার, দিতে হবে জরিমানা

10

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্ত্রীকে ১৫ হাজার ডলার জরিমানা করেছেন দেশটির আদালত। সারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও আস্থা ভঙ্গের অভিযোগ এনে আদালত এ জরিমানা করেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে রান্নার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সারা নেতানিয়াহু মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কোনো রাঁধুনি নেই দাবি করে সারা বাইরে থেকে খাবার আনাতে ৯৯ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় করেছিলেন।

সারা নেতানিয়াহুর আইনজীবীর দাবি, মূলত প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা থেকেই মামলাটি করা হয়েছে।

আদালত সারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে থাকা এই মামলায় একটি সমঝোতা করেছেন। এর ফলে রাষ্ট্রকে ১২ হাজার ৪৯০ ডলার পরিশোধ করবেন সারা এবং জরিমানা হিসেবে দেবেন ২ হাজার ৭৭৭ ডলার। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট বলছে, সারার মামলায় জরিমানার হার কমানো হলেও তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ বিষয়ক তথ্যের নথি রাখা হবে।

সমঝোতার বিষয়ে ইসরায়েলের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরেজ পারদান বলেন, ‘ভারসাম্যপূর্ণ ও সঠিক সমঝোতা’র জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় সারাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ছাড়’ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অর্থের পরিমাণ ও ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিল না। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধ কর্মকাণ্ডে পুরোপুরি জড়িত থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

গত বছর সারা নেতানিয়াহুর আইনজীবী দাবি করেছিলেন, বাইরের থেকে খাবার নেওয়ার আইনি বিষয় সম্পর্কে সারার যথেষ্ট ধারণা ছিল না। এ ছাড়া খাবার আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন বাড়ির ব্যবস্থাপক এবং ওই খাবার অতিথিদের সেবায় ব্যবহার করা হয়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছেন, সারা নেতানিয়াহু একজন দৃঢ় ও সম্মানীয় নারী। তাঁর কাজে তিনি কোনো ভুল করেননি।

এর আগে ২০১৬ সালে এক গৃহপরিচারিকা সারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কর্মপরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ আনেন। ওই সময় আদালত সারাকে ৪৭ হাজার ডলার জরিমানা করেছিলেন।

অন্যদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও আইনি জালে জড়িয়ে পড়েছেন। ঘুষ, প্রতারণা ও আস্থা ভঙ্গের অভিযোগে তিনটি মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। ওই তিন মামলার চূড়ান্ত শুনানি হবে আগামী অক্টোবরে। যদিও মামলা বিষয়ে সকল দোষ অস্বীকার করেছেন বেনিয়ামিন।