সৌরভকে অক্ষত ফেরত পাওয়াই মুখ্য: সোহেল তাজ

11

সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ সৌরভের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান ও বাবা সৈয়দ মো. ইদ্রিস আলমও উপস্থিত ছিলেন।

তারা সৌরভকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গত ৯ জুন থেকে নিখোঁজ সৌরভ ঢাকায় ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভাসির্টিতে পড়াশোনার পর চট্টগ্রামের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন, থাকেন পাঁচলাইশে মা-বাবার সঙ্গে।

শেখ হাসিনার ২০০৯ সালের সরকারের প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ দুদিন আগে এক ফেইসবুক পোস্টে সৌরভকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ তুলে সেজন্য সরকারি কোনো সংস্থাকে সন্দেহ করার কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারের এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে ছেলেটাকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়া। তার প্রাণটাকে বাঁচাতে হবে।”

ফেইসবুক পোস্টের বিষয়ে তিনি বলেন, “পত্র-পত্রিকা যদি নাড়াচাড়া করেন, তাহলে আপনারা দেখবেন গতকাল নিউজ এসেছে যে ওকে মোবাইল ফোনে যে কল করেছিল, সে নম্বর সনাক্ত করে দেখা গেছে, সেটা ঢাকার একজনের নম্বর এবং এটাও পত্রিকায় উল্লেখ আছে যে এটা একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থার কর্মকর্তার নম্বর।”
বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রধানের সঙ্গে নিজে কথা বলেছেন বলে জানান সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।

“উনাদেরকে অবগত করার পর উনারা যথাযথ চেষ্টা করছেন,” বলেন তিনি।

সৌরভের বাবা জিডি করার পর পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভূইয়া  রোববার বলেছিলেন, “তাকে উদ্ধারে তদন্ত চলছে। সুনির্দিষ্টভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি। সব ধরনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

সোমবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, দ্রুতই উদ্ধার করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করছি।”

সোহেল তাজ বলেন, “আমি আশা করব, আইনবহির্ভূত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার যদি কেউ করে থাকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”

তাজউদ্দীনপুত্র আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আজকে হয়ত আমার ভাগ্নের ক্ষেত্রে হয়েছে, কাল হয়ত আপনার ভাইও হতে পারে। এটা আরেকদিন আপনার সন্তান হতে পারে। এটা আমাদের কারোরই কাম্য নয়।
“কার কী পরিচয় সেটা মুখ্য বিষয় নয়, আমার কী পরিচিত আছে, সেটা মুখ্য বিষয় নয়। আইনের শাসন রাখতে হবে এবং ন্যায়বিচার এবং সুবিচারের রাষ্ট্রে কোনো নাগরিকের এরকম একটি পরিণতির সম্মুখীন হওয়া উচিৎ নয়।”

ইফতেখার আলম সৌরভ ইফতেখার আলম সৌরভ
সৌরভের পরিবার জানায়, ঢাকার এক ব্যবসায়ীর মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে তাদের ছেলেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। ওই ঘটনায় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল।

সৌরভের মা সৈয়দা ইয়াসমিন বলেন, ২০১৭ সালে ‘বেঙ্গলি বিউটি’ চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সৌরভের পরিচিতি বাড়ে। তখন ওই তরুণীর সঙ্গে সৌরভের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

সৌরভের মা বলেন, ওই তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার পরিবার অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিলেও গত এপ্রিলে তা ভেঙে যায়। তখন থেকে তারা এজন্য সৌরভকে দায়ী করে আসছে।

সৈয়দা ইয়াসমিন বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় সৌরভকে ডেকে নিয়ে দুই দফায় ভয়-ভীতি দেখানো হয়েছিল।

একবার ঢাকার উত্তরায় র‌্যাব এবং একবার বনানী থানায় সৌরভকে ডেকে নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

গত মে মাসে সৌরভ ঢাকায় যে বাসায় ছিলেন, ওই বাসায় ঢুকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তার মা। তিনি বলেন, পরে সৌরভকে ফেরত দিয়ে যায়।
সৈয়দা ইয়াসমিন বলেন, “পরবর্তীতে আমরা সৌরভের মুখে জানতে পারি একটি অজ্ঞাত স্থানে চোখ বাঁধা অবস্থায় হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ১৫-১৬ ঘণ্টা বন্দি করে রাখার পর ৮-১০ জন লোক ইংরেজি ও বাংলায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।”

ওই জিজ্ঞাসাবাদও ওই ব্যবসায়ীর মেয়ে সংক্রান্ত ছিল বলে জানান সৌরভের মা।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সোমবার বনানী থানার ওসি এম এ ফরমান আলীকে অনেকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এরপর ওই জোনের (গুলশান) উপকমিশনার মোশতাক মোশতাককে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “এমন কিছু আমার নলেজে নেই।”

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক সরওয়ার বিন কাসেম  জিজ্ঞাসায় বলেন, “এরকম কোনো বিষয় আমাদের জানা নেই।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৮ জুন দুপুরে সৌরভের কাছে একটি ফোন আসে। তাতে তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সব কাগজপত্র তৈরি রাখতে বলা হয়। পরদিন বেলা ৩টায় আবার ফোন করে সৌরভকে চট্টগ্রাম মিমি সুপার মার্কেটের আগোরার সামনে থাকতে বলা হয়।

সৈয়দা ইয়াসমিন বলেন, “সন্ধ্যা ৭টায় চাকরির প্রয়োজনীয় কাগজ, পাসপোর্ট দিতে গিয়ে আমার ছেলে আমাদের কাছ থেকে গিয়ে ফিরে আসে নাই। তার মোবাইল বন্ধ।”

রাতে সৌরভ না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পাওয়ায় পরদিন থানায় জিডি করা হয় বলে জানান তিনি।

নিজের ও স্বামীর অসুস্থতার কথা তুলে ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সৈয়দা ইয়াসমিন বলেন, “সৌরভই আমাদের সম্পূর্ণ দেখভাল করে। ছেলেকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়া ছাড়া আমার আর কিছু চাওয়া নেই।”