‘ভগবানের কৃপায় প্রাণে বেঁচেছি’ ওসমানীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের আর্তনাদ

6

নুরুল হক শিপু
৬০ বছরের বিধান চন্ড রায়ের বাড়ি নরসিংদী উত্তর ভাঘাডার সাহেপ্রতাভ এলাকায়। তিনি একজন ব্যবসায়ী। গত শুক্রবার সিলেট শহরতলির শাহপরান এলাকার পিরেরবাজারে মেয়ের বাড়িতে এসেছিলেন আদরের মেয়েকে দেখতে। গেল ঈদে মেয়ের সাথে দেখা না হওয়ায় মেয়েকে দেখতেই সিলেটে আসেন বিধান চন্ড। দু’দিন মেয়ের বাড়িতে থেকে গত রোববার রাত ১০টার উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ট্রেন ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়ে। ট্রেনটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল রেলক্রসিং এলাকায় যাওয়ার পরই ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। এরপর কিছুই বলতে পারেননি বিধান চন্ড। হঠাৎ করে অনুভব করেন ট্রেনের বগির নিচে তার ডান হাত আটকে আছে। একজন নারী তার ওপর হাত ধরে টেনে আটকে পড়া ডান হাত বের করার চেষ্টা করছেন। ওই নারীকে সহযোগিতা করছেন এক পুরুষ। এ সময় বিধান চন্ড ওই নারী আর পুরুষকে বলেন, আপনারা আমার হাত টানবেন না, আমার হাতটি বগির নিচে। হাতটা মনে হচ্ছে পুরোপুরিই ভেঙে গেছে। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা বগির নিচ থেকে বিধান চন্ডের হাত বের করে তাকে পাঠন মৌলভীবাজর সদর হাসপাতালে। হাতের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই বিধান চন্ডকে পাঠানো হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় এমনটিই জানান ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত বিধান চন্ড। তিনি বলেন, ডাক্তাররা হাতটি ভালো করার চেষ্টা করছেন। ভগবান জানেন, হাতটি রক্ষা করা সম্ভব হবে কী-না। হাতের যে অবস্থা হাত কাটা না লাগলেই বেঁচে যাই। তিনি বলেন, ভবগবানের কৃপায় আমি প্রাণে বেঁচে গেছি।
বিধান চন্ডের সাথে ওসমানী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন স্কুলশিক্ষক সেলিম রেজা। অর্তনাদ করছেন তিনি। ব্যান্ডিজ করা হাতে রক্ত ঝরছে। তিনি বড়লেখার চন্দ্রগ্রাম হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক। মা এবং ভাগনাকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন। ট্রেনে বসে থাকা সেলিম রেজা কিছু বুঝার আগেই তাদের বগি ছিটকে পড়ে। মা ও ভাগনার কিছু না হলেও সেলিমের হাতে অবস্থা গুরুতর। তিনিও হাত রক্ষা করা সম্ভব হবে কী-নাÑসেই দুশ্চিন্তায় আছেন।
শুধু বিধান চন্ড আর সেলিম রেজা নন; সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত ২১ পুরুষ ও ৩ জন নারী আহত অবস্থায় আর্তনাদ করছেন।
ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্য আহতরা হলেন, আতিক, খয়রুল হক, নিলুৎপল, সুজন চন্দ্র দেব, রেজাউল করিম, দয়াল দাশ, মইনউল ইসলাম, ফিরুজ আহমদ, সুজন, জাহাঙ্গীর, মুশাহিদ, মস্তফা, ইমরান আহমদ মকবুল হোসেন, ইলিয়াস, জামিল, মো. শরিফ, জাহিদুল, হুমায়ুন কবির, আব্দুল মান্নান, অদিতী সরকার, খাদিজা, রুকেয়া।
ট্রেন যাত্রী গোলাপগঞ্জের খাইরুল ইসলাম সুমন বলেন, আমরা অফিসের কাজে সিলেট থেকে ঢাকা যাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এ সময় আমাদের বগির মধ্যে একজন মহিলার মৃত্যু হয়। ওই মহিলার মাথা এমনভাবে আটকে গেছিল তাকে বাঁচানোর কোনো উপায় ছিল না। এছাড়া অনেকেরই হাত-পাসহ বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল রেলক্রসিং এলাকায় গত রোববার রাতে ট্রেনের ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। এরই মধ্যে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অনেই এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।