পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগ : আজ চালু হচ্ছে সেতু, বাড়ছে ট্রেনের বগি

18

সবুজ সিলেট ডেস্ক
দীর্ঘ ৬ দিন বন্ধ থাকার পর আজ মঙ্গলবার থেকে মাঝারি যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল এলাকাস্থ শাহবাজপুর সেতু। এর ফলে প্রায় এক সপ্তাহ অচলাবস্থার পর খানিকটা স্বাভাবিক হবে সিলেটের সাথে ঢাকাসহ সারা দেশের যোগাযোগ। গত রোববার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মূলত সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের অচলাবস্থা নিরসনে ব্যবস্থা নিচ্ছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। একই সাথে আপাতত ঢাকা-সিলেট রুটে বিশেষ বা বাড়তি রেল চালু না করা হলেও চলমান ট্রেনগুলোতে বগি বাড়ানো হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। গত রোববার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দ্রুত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলে ভেঙে যাওয়া শাহবাজপুর সেতু দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে এবং আরো একটি ট্রেন চালু করার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কেও একটি ডিও লেটার দেয়ার পর সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রী এমন তথ্য জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শাহবাজপুর সেতুর চতুর্থ স্প্যানের ফুটপাতসহ রেলিং ভেঙে পড়ে। এ কারণে এ সেতুর ওপর দিয়ে সব ধরনের ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর-সরাইল ও হবিগঞ্জের লাখাই-হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়।
গত মঙ্গলবার রাত থেকে বিকল্প পথে বাস চলাচল করলেও গত শনিবার দুপুর থেকে তাও বন্ধ হয়ে যায়। সড়কটি ছোট হওয়ায় এবং বড় যানবাহনের চাপ নিতে না পারায় শনিবার থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে যাত্রীদের প্রবল চাপ পড়ে ট্রেনের ওপর। আর যাত্রী চাপ সামলাতে না পেরে লন্ডভন্ড হয়ে যায় ট্রেনের সূচি। এর ফলে দুর্ভোগে পড়ে লাখো মানুষ। যাত্রীদের দূর্ভোগ কমাতে ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলে ভেঙ্গে যাওয়া শাহবাজপুর সেতু দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়কে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) প্রদান করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন। গত রোববার পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ ডিও লেটার পাঠানো হয়।
পত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন সিলেট ঢাকা মহাসড়কের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, চা শিল্পের জন্য বিখ্যাত সিলেট শহরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রচুর ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থী আসেন। যার কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। সম্প্রতি এ মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শাহবাজপুর সেতু ভেঙে গেলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প পথে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এ কারণে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভেঙ্গে যাওয়া এ সেতু মেরামতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পরে গত রোববার বিকালে জাতীয় সংসদে পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় ওবায়দুল কাদের জানান, ‘আপনার ডিও লেটার পেয়েছি। আমরা এই মহাসড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। আগামী মঙ্গলবার থেকে সেতুটি হালকা ও মাঝারি যানের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে আমার দপ্তরের লোকজন আমাকে জানিয়েছে। সিলেটের সঙ্গে আধুনিক যোগাযোগ স্থাপনে সরকারি নতুন কর্মসূচির ব্যাপারেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন ওবায়দুল কাদের।’
এদিকে ঢাকা সিলেট রুটে যাত্রী সমস্যা লাঘবে আরো একটি ট্রেন চালু করার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কেও একটি ডিও লেটার পাঠিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। পত্রে রেলপথ মন্ত্রাণলের মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিলেট ঢাকা রুটে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আরো একটি ট্রেন চালুর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন চলাকালে রোববার বিকালে রেলমন্ত্রীর সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় রেলমন্ত্রী জানান, এখনই ঢাকা-সিলেট রুটে বিশেষ বা বাড়তি ট্রেন চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চলতি ট্রেনগুলোতে বাড়তি বগি যোগ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সওজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে শাহবাজপুরে তিতাস নদের ওপর নির্মিত হয় ২০৩ মিটার দীর্ঘ এ সেতু। একপর্যায়ে সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়লে এর ওপর দুটি বেইলি সেতু নির্মাণ করে সওজ। স্থানীয়রা জানান, রেলিং ধসে পড়ার আগেই সেতুতে ফাটল তৈরি হয়েছিল। এর ফলে কোনো যানবাহন উঠলেই সেতুটি কাঁপত। কয়েক বছর ধরেই সেতুটির এমন অবস্থা। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এ সেতুর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছিল যানবাহন। ঢাকাসহ সারা দেশের সঙ্গে সিলেট বিভাগের সরাসরি সড়ক যোগাযোগের এটিই একমাত্র পথ।