আওয়ামী লীগের সম্মেলন কাদের না চাইলে হানিফ সম্পাদক

11

সবুজ সিলেট ডেস্ক
আগামী অক্টেবরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক ২১তম জাতীয় সম্মেলন। টানা নবমবারের মতো দলের প্রধান পদ সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে দলের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর সাধারণ সম্পাদক পদে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নির্বাচিত হবেন বলে দলটির বিভিন্ন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নিশ্চিত করেছেন।
তবে শারীরিক দিক বিবেচনা করে ওবায়দুল কাদের যদি অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, সে ক্ষেত্রে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে পারেন বলেও জানা গেছে।
সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা না থাকলেও অন্য পদগুলোতে রদবদল হবে। আসবেন নতুন মুখ। সভাপতিমন্ডলী, সম্পাদকমন্ডলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বেশ কিছু নতুন মুখ আসবেন। বাদ পড়বেন বর্তমান অনেকেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ এসব পদের কারা বাদ পড়বেন বা নতুন কারা আসবেন সে ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রদবদল, নতুনদের অন্তর্ভুক্তি ও বাদ দেওয়ার বিষয়টি অনেকটাই সভাপতি বা দলীয় প্রধানের ওপর নির্ভর করবে বলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীনতম এ দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রধান দু’টি পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা থেকে আসা দলের কাউন্সিলরদের ভোটে।
সভাপতি পদে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের একমাত্র দাবি হচ্ছে, শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে বিকল্পের কোনো দাবি বা চিন্তা আপাতত দলের কারো মধ্যে নেই। শেখ হাসিনা তনয় এবং তথ্য ও প্রযুক্ত বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের এবারও দলের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা নেই।
অবশ্য সাধারণ সম্পাদক পদটি পেতে দলের মধ্যে অনেকেরই আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। যদিও সরাসরি কেউ দাবি করেন না। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনেকের সাংগঠনিক তৎপরতায় তা ফুটে ওঠে। তবে সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে কাউন্সিলরদের ভোটের ফলাফলের প্রতিফলন ঘটে অনেকটা কেন্দ্রের পছন্দের ওপর। কেন্দ্র থেকে স্থানীয় বা তৃণমূল পর্যায়ে যে বার্তা পাঠানো হয় তার ওপর ভিত্তি করেই কাউন্সিলরা ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন।
সাংগঠনিক কার্যক্রম, দলের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা সর্বোপরি রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বিবেচনায় কেন্দ্র থেকেও অনেকটা নির্ধারণ করা হয় দলের দ্বিতীয় পদটিতে কে আসবেন, সভাপতি শেখ হাসিনার সহযোদ্ধা হবেন। এ দৌড়ে এবারও এগিয়ে আছেন ওবায়দুল কাদের। তবে পিছিয়ে নেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফও।
এছাড়া আলোচনায় আছেন তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও আব্দুর রহমান এবং সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তবে সাংগঠনিক দিক বিবেনায় এ চারজনের তুলনায় হানিফ এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে।
ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হওয়ার পর যে প্রশ্ন উঠেছিল, তা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। দলের সভাসমাবেশ, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পুরোপুরি নিয়োজিত কাদের। তাই এ মুহূর্তে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাও বিকল্প চিন্তা করছেন না বলে আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
শারীরিক দিক বিবেচনায় সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রীত্ব দু’টি দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছা আছে কি-না, সে বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে সাড়া মেলেনি ওবায়দুল কাদেরের। যোগাযোগ করা হলে মুখ খুলতে রাজি হননি মাহবুব উল আলম হানিফও।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর জাতীয় সম্মেলন হওয়ার বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আগামী ২৪ অক্টোবর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে।
এদিকে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ পালিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। তাই এবারের সম্মেলন পেছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। কোনো রকম কালক্ষেপণ না করে যথা সময়েই সম্মেলন সম্পন্নের ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ রয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও বিভিন্ন ইস্যুতে পেছানো হয়েছিল ২০তম সম্মেলন।
এ মাসেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সম্মেলনের প্রস্তুতি ও গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটিগুলো গঠন করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত মার্চে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের সভাপতিমন্ডলীর সভায় ২১তম সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হয়।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ও জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি সামনে রেখে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে আটটি টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ জানিয়েছেন।