৩২৮ পৌরসভায় রোববার থেকে কর্মবিরতি

18

সবুজ সিলেট ডেস্ক
রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং পেনশনের দাবিতে আগামী ১৪ জুলাই সকাল থেকে দেশের ৩২৮ পৌরসভায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মবিরতির সময় পানি সরবরাহ ছাড়া পৌরসভার বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্নতা, জন্ম-মৃত্যু সনদপত্র প্রদানসহ সব নাগরিক সেবা বন্ধ হয়ে যাবে। ওইদিন থেকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদমিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে গত বুধবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
সংগঠনের বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি মামুনুর রশিদ লিখিত বক্তব্যে জানান, সংবিধানের ৫৯(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে পৌরসভা একটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় তথা সরকারি প্রতিষ্ঠান। এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। পৌরসভা আইন-২০০৯ মোতাবেক পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, ড্র্রেনেজ ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন, রাস্তা আলোকিত করা, জন্ম-মৃত্যুসহ বিভিন্ন সনদপত্র প্রদান ও নিবন্ধনসহ প্রায় ২০ ধরনের নাগরিক সেবা দিয়ে থাকেন। দেশের উন্নয়নে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে প্রজাতন্ত্রের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভার নিজস্ব আয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের বিধান থাকলেও দেশের ৯০ ভাগ পৌরসভার পর্যাপ্ত আয় বা রাজস্ব না থাকায় তিন থেকে ৬৬ মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শুধু তাই নয়; চাকরি শেষে তাদের পেনশনের ব্যবস্থাও নেই। তাই এসব দাবি আদায়ে গত দু’বছর ধরে আবেদন-নিবেদন, স্মারকলিপি প্রদান, কর্মবিরতি, ঢাকায় সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এতেও কাজ না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে বাঁচতে নতুন করে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি দিয়েছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বগুড়া জেলার ১২ পৌরসভার মধ্যে শুধু বগুড়া পৌরসভা ছাড়া ১১টিতে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে সান্তাহার পৌরসভায় ৬৬ মাস, সারিয়াকান্দিতে ৫৭ মাস, গাবতলীতে ২৬ মাস, শেরপুরে ২৫ মাস, নন্দীগ্রামে ২৪ মাস, শিবগঞ্জে ১৩ মাস, কাহালুতে পাঁচ মাস, ধুনট ও দুপচাঁচিয়ায় চার মাস করে এবং তালোড়া ও সোনাতলা পৌরসভায় তিন মাস করে। এছাড়াও প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি বাবদ বিপুল অংকের টাকা বকেয়া রয়েছে।
এ সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের গঠিত কমিটি থোক বরাদ্দের মাধ্যমে বেতন-ভাতা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু এটা কখনই স্থায়ী সমাধান নয়। একমাত্র রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা প্রদানই হতে পারে সমাধান। তারা অনির্দিষ্টকালের এ কর্মসূচির কারণে নাগরিক দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অন্য সব পৌরসভার মতো বগুড়ার ১২ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৪ জুলাই রবিবার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করবেন। তাই পানি সরবরাহ ছাড়া আর কোনোও নাগরিক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। তারা এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বগুড়ার ১২ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা কার্য নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির, উপদেষ্টা বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল, রাজশাহী বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক আল মেহেদী হাসান, বগুড়া শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি কার্তিক চন্দ্র দাস, উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম, শাজাহান আলম, আবু জাফর মো. রেজা, ইকবাল হোসেন, শাহিন মাহমুদ, এসএম শফিকুল ইসলাম, শাহিনুর ইসলাম, ফখরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, এখলাছ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।