সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি অপ্রতুল ত্রাণ মানুষের দুর্গতি

38

স্টাফ রিপোর্টার
টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে সিলেটের সকল নদনদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দিনভর কখনো গুঁড়িগুঁড়ি আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, ধলাই, সারী, গোয়াইন নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালে কিছুটা রোদের দেখা মিললেও সকাল ১০টার পর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে।
সুনামগঞ্জের পাঁচটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এ সব উপজেলার অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ বিতরণ করলেও তা নিতান্তই অপ্রতুল। ত্রাণের জন্য মানুষ হাহাকার করছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সুরমার পানি কমতে শুরু করেছে।
কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে সকল নদনদীর পানি বিপৎসীমা পেরিয়ে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ফলে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক স্থানে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার, সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি আমলসিদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার. শেওলা পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় সিলেটের জকিগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১০০ মিলিমিটার। এছাড়া সিলেটের কানাইঘাটে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
এদিকে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া নগরবাসী বের হচ্ছেন না। দিনের বেলাও গাড়িগুলোকে হেডলাইট জ¦ালিয়ে চলতে দেখা গেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ অবস্থা আগামী এ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি জানান, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাাবিত হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টির ফলে উপজেলার জনজীবন বির্পযস্ত। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকার মানুষের বাড়িঘরে বানের পানি প্রবেশ করেছে। অনেক এলাকায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। জনসাধারণকে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছেন।
প্লাবনের ফলে উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সারী নদী, শ্রীপুর, রাংপানি ও বড়গাং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার বালু, পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। বন্যায় নিজপাট, জৈন্তাপুর, চারিকাটা, দরবস্ত ও ফতেহপুর ইউনিয়নের বেশির গ্রামে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হয়েছে। অনেক এলাকায় মৎস্য খামার পানিতে ভাসিয়ে গেছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বন্যা কবলিত নিজপাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে তিনি নিম্নাঞ্চল এলাকায় বসবাসরত মানুষ সর্তক থাকার আহবান জানান। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন সর্তক রযেছে বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিনে বন্যা কবলিত এলাকা উপজেলা নিজপাট ইউনিয়নের মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া, ময়নাহাটি, জাঙ্গালহাটি, মজুমদারপাড়া, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, তিলকৈপাড়া, বড়খেল, ফুলবাড়ী, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল, হেলিরাই, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মুক্তাপুর, বিরাইমারা, বিরাইমারা হাওর, লামনীগ্রাম, কাটাখাল, খারুবিল, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, ১নং লক্ষীপুর, ২নং লক্ষীপুর, আমবাড়ী, ঝিঙ্গাবাড়ী, নলজুরী হাওর। চারিকাটা ইউনিয়নের বালিদাঁড়া, লালাখাল, রামপ্রসাদ, থুবাং, বাউরভাগ উত্তর, বাউরভাগ দক্ষিণ, পুঞ্জীসহ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এদিকে সারীনদী, বড়গাং নদী এবং নয়াগাং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সারী নদীর পানি বিপদসীমার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান সারী-গোয়াইন বেড়ীবাঁধ প্রকল্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি থামলে পানি নিচের দিকে প্রবাহিত হবে। বন্যার খবর জানতে জৈন্তাপুর পানি উন্নয়ন অফিসে গেলে কাউকে খোঁজে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার পাল জানান, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে প্রশাসন সর্তক রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণ কে নিরাপদ স্থনে সরিয়ে যেতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। ত্রাণ সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় গোয়াইনঘাটের প্রায় সবকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলসহ উপজেলার সিংহভাগ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গোয়াইনঘাটের পিয়াইন, সারী এবং গোয়াইন অববাহিকায় নদনদীর পানির বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় জেলা সদরের সাথে গোয়াইনঘাটের যোগাযোগ রক্ষাকারী সিলেট, সারী গোয়াইনঘাট সড়ক, সিলেট-সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কসহ সবকটি সড়কেই কোথাও হাঁটু পানি কোথাও কোমর পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় গোয়াইনঘাটের প্রায় সবকটি এলাকায় বিদ্যালয়সমূহ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যার ফলে অঘোষিতভাবে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিপদসীমার উপর দিয়ে নদনদীর পানি প্রবাহিত হওয়ায় জাফলং, বিছনাকান্দিসহ কোয়ারি এলাকাগুলোতে পাথর, বালু উত্তোলণ বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
গোয়াইনঘাটের বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে বন্যায় পানিবন্দি হয়ে মারাত্মক দূর্ভোগ ও ভোগান্তির স্বীকার হয়েছেন তারা। বেশিরভাগ মানুষই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। পানিবন্দি এলাকায় জরুরী ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে প্রায় সবকটি ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জানান।
গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, গোয়াইনঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন সমূহের মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি ইউনিয়নের জন্য এখন পর্যন্ত ৬ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। আরো ত্রাণ চাওয়া হয়েছে। ত্রাণ হাতে এসে পৌঁছালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দেওয়া হবে।
দোয়ারায় ত্রাণ বিতরণ : দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাপস শীলসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দিনভর উপজেলার বন্যা কবলিত সুরমা ইউনিয়নের ভুজনা, উমরপুর, কালিকাপুর, কদমতলী, নুরপুর, সোনাপুর দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের মাছিমপুর, মুরাদপুুর ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামে বন্যা কবলিত হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে নৌকাযোগে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার চিড়া, চিনি, ডাল, নোডলস, লবণ, সয়াবিন তৈল, চাল বিতরণ করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আম্বিয়া আহমদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মেহের উল্লাহ, উপসহকারী প্রকৌশলী রাজু চন্দ্র পাল, উপজেলা নির্বাহী অফিস কার্যালয় নাজির মো. আব্দুস শহিদ, সিলেট ভয়েস প্রতিনিধি মো. আশিক মিয়া, দৈনিক শ্যামল সিলেট প্রতিনিধি হারুন-অর-রশিদ, ফজলূর রহমান, ফরিদ মিয়া, পাবেল আহমদ, সাগর দাস।
তাহিরপুর থেকে আমিনুল ইসলাম জানান, তাহিরপুরে পানিবন্দি মানুষের বসতভিটা ঢেউয়ের আঘাতে ভেঙে নিচ্ছে। গৃহহারা মানুষগুলো আশপাশের বিদ্যালয় কাম বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার উপজেলার হাওরপারের বিভিন্ন গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, হাওরের প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে তাদের বসতভিটা ভেঙে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে নোয়ানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কথা হয় ৬৫ বছরের বৃদ্ধ আব্দুর রশিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, বানের পানিতে তার বসতভিটা ভেঙে খানখান হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে নোয়ানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। একই কথা জানালেন, নোয়ানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া মামাল মিয়া, শামীম মিয়া ও নাহিদ হাসান কাঞ্চন। ওখানে আশ্রয় নেয়া সবাই উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা। নোয়ানগর গ্রামের পার্শ¦বর্তী গ্রামের নাম মারালা। ওই গ্রামের নজরুল ইসলাম, ছয়ফুল ইসলাম, সাইকুল ইসলাম ও আনু মিয়ার বসতভিটা ঢেউয়ের কবলে ভেঙে পড়ায় তারা সবাই প্রতিবেশি ও নিকটাত্মীয়দের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি তালুকদার জানান, উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে ৩টি, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে ৩টি, বালিজুড়ি ইউনিয়নে ১টি ও বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামে ১টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিয়া হোসেন বলেন, সরকারিভাবে বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হলেও কোনো প্রকারের ত্রাণ সামগ্রী বন্যাশ্রয় কেন্দ্র এসে পৌঁছেনি। বন্যাশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে আশ্রিতরা খাদ্যের জন্য ছটফট করছে।
এ ধরণের অবস্থা উপজেলার শতাধিক গ্রামে বর্তমানে বিরাজমান রয়েছে। গ্রামগুলো মধ্যে বালিজুরী, বড়খলা, আনোয়ারপুর, লোহাচুরা, দক্ষিণকূল, নয়াহাট, বরুঙ্কা, গোবিন্দশ্রী, রতনশ্রী, চতুর্ভূজ, ভাটি তাহিরপুর, রাজধরপুর, পৈন্ডুপ, সাহেবনগর, উজান তাহিরপুর, ভবানীপুর, সন্তোষপুর, জাঙ্গাইল, ইকরামপুর, লামাগাঁও, দুমাল, মাহতাবপুর, মাহমুদপুর, রামজীবনপুর, গোপালপুর, লক্ষীপুর, মাটিয়ান, পিরিজপুর, শরীফপুর, চিকসা, জামালগড়, গাজীপুর, বড়দল, কাউকান্দি, চানপুর, মাহরাম, নোয়াহাট, পাতারগাঁও, ধরুন্দ, ইউনুছপুর, লক্ষ্মীপুর, গোলকপুর, মন্দিয়াতা, শিবরামপুর।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল বলেন, তাহিরপুরের মানুষ বারবার ফসল হারিয়ে দিশেহারা এবং সাম্প্রতিক বন্যায় মানুষের বসতভিটা, রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এলাকার জনগণ, জনপ্রতিনিধিসহ সকলেই দিশেহারা। তিনি আরো বলেন, বন্যার পানি ক্রমশ বেড়েই চলেছে, বন্যাশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণসামগ্রী নেই বললেই চলে। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জামালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে পানিবন্দি পরিবারের লোকজনের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন উপজেলা প্রশাসন।
গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার দু দিনব্যাপী উপজেলার প্রায় পঁচিশ গ্রামের লোকজনের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নৌকাযোগে এসব শুকনো খাবার বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পাল। এ সময় সাথে ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বীনা রানী তালুকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিসর চৌধুরী ও উপজেলা আ. লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলীসহ সরকারি কর্মকর্তারা ও জনপতিনিধিরা।