সিলেটে ৩ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি

11


স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট জেলায় বন্যাকবলিত কোনো মানুষ ত্রাণ সহায়তার বাইরে থাকবে না এবং বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মির মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় সিলেট জেলায় এবার বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কম। তবুও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বন্যাকবলিত এলাকার একটি মানুষও যেন ত্রাণ সহায়তা থেকে বাদ না পড়ে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টায় সিলেট জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ও গৃহীত কার্যক্রম বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে নিতি এসব কথা বলেন।
সভায় তিনি জানান, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় ১৪০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, ৬টি উপজেলায় ৫ হাজার ৭ শত পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে, আরো দেড় লাখ ট্যাবলেট এখনো মজুদ আছে। ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে যার ওজন ছিলো ১৬ কেজি করে। এছাড়াও সিলেট জেলার বন্যাকবলিতদের জন্য ৬ শত মেট্রিকটন জিআর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৪৬ মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যাকবলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানিয়ে জেলা প্রশাসক মির মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সিলেটে ১৩টি উপজেলার প্রায় সবকটি উপজেলাতেই কমবেশি এলাকার মানুষ পানিবন্দি। এমনকি সিটি করপোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ডের কিছু অংশেও পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে পুরো জেলায় মিলে মোট ৪৮ হাজার পরিবার যার লোকসংখ্যা ৩ লক্ষ, ৩৮ হাজার, ৬ শত, ৩৫ জন মানুষকে বন্যাকবলিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মানুষের জন্য মোট ১৯০ টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্ধারণ করা হলেও আপাতত প্রয়োজন অনুযায়ী গোলাপগঞ্জ উপজেলার মানিকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি আশ্রয়কেন্দ্র ও সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় শাহজালা জামেয়ায় ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, বন্যাকবলিত হিসেবে ২৫৪ টি স্কুল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯ টি স্কুলে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত উচ্চবিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সংখ্যা ধরা হয়েছে মোট ১৭৪টি যার ৮১টিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও ১৫টি বাঁধ ভেঙেছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে কৃষিতে আউশ, রোপা আমন, বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি পানিতে নিমজ্জিত জমি মোট ৩ হাজার ৮ শত ৬৬ হেক্টর জানিয়ে তিনি বলেন এসব বিষয় নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ বন্যাকবলিত এলাকা ও এসব এলাকার মানুষের সবরকম সহযোগিতায় সরকার প্রস্তুত।
অনেক এলাকায় এখনো ত্রাণ সহযোগিতা পৌঁছায়নি এমন প্রশ্নের উত্তরে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মির মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রতিটি এলাকায় ত্রাণ সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় পৌঁছায়নি এসব এলাকায় ক্রমান্বয়য়ে পৌঁছাবে। তাছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌকাযোগে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবুও কোন এলাকার মানুষ বাকি থাকলে সাংবাদিকরা যদি তথ্য দেন তাহলে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত (সার্বিক) মো. আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসনের আরডিসি উম্মে সালিক রুমাইয়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহাম্মদ আবুল কালাম, জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা।