শ্রীমঙ্গলে পরিবহন ধর্মঘটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

14

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গলে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। আকস্মিক এই কর্মবিরতির ফলে সকালে রাস্তায় যানবাহন না পেয়ে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। গত সোমবার রাতে শহরে মাইকিং করে পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এই কর্মবিরতির ডাক দেয়।
শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নান্নু মন্ডলের অপসারণের দাবিতে শ্রমিকদের তিনটি সংগঠন এই কর্মসূচি পালন করছে। একই দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় শহরের চৌমোহনায় সমাবেশেরও ডাক দেওয়া হয়েছে। সমাবেশে স্থানীয় ও জেলার পরিবহন শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
কর্মবিরতির ডাক দেওয়া তিনটি সংগঠনের মধ্যে রয়েছে কার-মাইক্রোবাস-মিনিবাস-বাস শ্রমিক ইউনিয়ন, ট্রাক-ট্যাংকলরি-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সিএনজি-অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নান্নু মন্ডলের নেতৃত্বে পুলিশ মৌলভীবাজার-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষার নামে চাঁদাবাজি করছে। দাবিকৃত চাঁদা না দিলে মামলা দেওয়াসহ চালকদের সঙ্গে তিনি (নান্নু) অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন।
কার-মাইক্রোবাস-বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি মো. ময়না মিয়া বলেন, গত ১৫ জুন সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ আমাদের এক পরিবহন শ্রমিকের লাশের গাড়ি থামিয়ে চাঁদা দাবি করে। এর প্রতিবাদে আমরা সড়ক অবরোধ করি। তখন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করি। কিন্তু একমাসেও এর সুষ্ঠু বিচার হয়নি।
ট্রাক-ট্যাংকলরি-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, গত ১৫ জুনের ঘটনার পর থেকে সাতগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। সড়কে তার নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি আরো বেড়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা এমন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।
তবে যেহেতু আগে থেকে কর্মবিরতির বিষয়টি প্রচার করা হয়নি তাই দূরপাল্লার গাড়ি চলাচলে আজ কোনো বাধা থাকবে না। দাবি পূরণ না হলে আজ বুধবার থেকে দূরপাল্লার গাড়িও শ্রীমঙ্গলে চলাচল করবে না।
এদিকে হঠাৎ করে রাস্তায় যানবাহন না পেয়ে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। জেলার কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার সদরসহ বিভিন্ন এলাকার অফিসযাত্রীরা বিড়ম্বনায় পড়েন। বাস-মিনিবাস-অটোরিকশা না পেয়ে এইসব যাত্রীরা মোটরচালিত রিকশা কিংবা টমটম ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছাতে চেষ্টা করছেন।
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরাও যানবাহন না পেয়ে বিপাকে পড়েন। শিক্ষার্থীদের অনেকেরই পরীক্ষা ছিল। অসহায়ত্ব প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, হঠাৎ করে ধর্মঘট ডাকাটাও তো বেআইনি। এসব নৈরাজ্য দেখার কী কেউ নেই?
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নান্নু মন্ডল বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস ছালেক বলেন, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ রাখা হয়েছে যাতে কেউ দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করতে না পারে।