নিউইয়র্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মোমেনের কর্মব্যস্ত দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে বৈঠক কমিউনিটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ

24
কামরুজ্জামান হেলাল যুক্তরাষ্ট্র:
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এমপি কর্মব্যস্ততার মধ্যে অতিবাহিত করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মোমেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ এর সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন ১৬ জুলাই মঙ্গলবার বিকালে। বৈঠকে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুটির টেকসই সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহায়তা চাইলে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এই সঙ্কটের সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করণীয় সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট বেশকিছু বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয় এ বৈঠকে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণের উদারতা ও মানবিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও ধন্যবাদ জানান। বিশ্বব্যাপী জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করার বিষয়ে জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের মহাসচিবের অংশগ্রহণ, উপস্থিতি ও সম্পৃক্ততার অনুরোধ জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এসকল বিষয়ে জাতিসংঘে যে অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করবে তাতে অংশগ্রহণের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসচিবকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সিনেটর লুইস্ সেপুলভেদার সৌজন্য সাক্ষাৎ নিউইয়র্ক স্টেটের সিনেট ডিস্ট্রিক-৩২ এর সিনেটর লুইস্ সেপুলভেদা মঙ্গলবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতি তাঁর আগ্রহের কথা তুলে ধরে সিনেটরদের একটি টিম নিয়ে বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এসময় মিশনে উপস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথেও সাক্ষাৎ হয় এই সিনেটরের। স্পিকারও সিনেটরদের এই টিমকে বাংলাদেশ সফরে স্বাগত জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এই সৌজন্য সাক্ষাতে উঠে আসে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন দিক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। প্রাকৃতিক তন্তু পাট ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহারের সুফল এবং এসকল দ্রব্য ও পণ্য বাংলাদেশ থেকে আমদানি করার ক্ষেত্রে সিনেটরদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জিএসপি’র বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি সিনেটর লুইস্কে বলেন, তিনি যেন তাঁর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ব্যবহার করে এবিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখেন। লুইস এ বিষয়টির সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন মর্মে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান। এছাড়া রোহিঙ্গা বিষয়টিও উঠে আসে আলোচনায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারাকে আরও সম্পৃক্ত করতে সিনেটর লুইসসহ অন্যান্য সিনেটর ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও পালাও প্রজাতন্ত্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন বাংলাদেশ ও পালাও এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন বিষয়ে একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয় মঙ্গলবার। নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে পালাও এর রাষ্ট্রপতি থমাস এসাং রেমেনগেসাউ জুনিয়র এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এমপি এর উপস্থিতিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ও জাতিসংঘে নিযুক্ত পালাও এর স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নেডিকাস ওলাই উলুডং স্ব স্ব দেশের সরকারের পক্ষে এই চুক্তি সাক্ষর করেন।এই চুক্তি বাংলাদেশ ও পালাও মধ্যে বন্ধুত্বের সূদৃঢ় সম্পর্ক রচনা করবে, পারস্পরিক সহযোগিতার দিগন্ত বিস্তৃত করবে। পাশাপাশি এটি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনে পারস্পরিক বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রেও অবদান রাখবে মর্মে দুই দেশের প্রতিনিধি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। চুক্তিটি সাক্ষরের মাধ্যমে উভয় দেশ জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও আঞ্চলিক সংহতি বজায় রাখা, অন্য রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাসহ জাতিসংঘের নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক আইনসমূহের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল। জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনে মতবিনিময় সভা। ঙ্গলবার দুপুরে জাতিসংঘের চলতি উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামে (এইচএলপিএফ) অংশগ্রহণ উপলক্ষে নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী এমপি, পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এমপি ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে নিউইয়র্ক সফররত পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এমপি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মিশনের কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটিতে এইচএলপিএফ-এ অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নের মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদসহ বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সচিব, সচিব ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল মিজ্ সাদিয়া ফয়জুন্নেছাসহ কনস্যুলেটের অন্যান্য কর্মকর্তাগণও এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রাধিকারভুক্ত বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্য কর্ম-পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বছরব্যাপী বাংলাদেশ মিশনের কর্মকান্ডসমূহের বিস্তারিত তুলে ধরেন মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো: আরিফুল ইসলাম।এসডিজি কো-অর্ডিনেটর বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং চলতি এইচএলপিএফ-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সকল কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী এমপি, পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এমপি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এমপি। তাঁরা মিশনের কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্পীকার ও মন্ত্রীগণ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান ও মর্যাদার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের মতো বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্লাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফলপ্রসূ ভূমিকা আরও সুসংহত ও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহীত রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ এর অভীষ্ট ও লক্ষ্যসমূহের বাস্তবায়নে সামনের দিনগুলোতে স্থায়ী মিশন আরও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে মর্মে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে বেশকিছু দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।