কর্মবিরতিতে অচল নবীগঞ্জ পৌরসভা

13

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
নবীগঞ্জ পৌরসভায় গত সাত দিন ধরে দাপ্তরিক ও সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পৌরসভা কার্যালয়ে ঝুলছে তালা। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরসভার বাসিন্দারা। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পেনশনসহ বেতন-ভাতার দাবিতে পৌরসভার কার্যক্রম বন্ধ রেখে গত ১৪ জুলাই থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য দাবিতে পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ঢাকায় একটানা অবস্থান কর্মসূচির কারণে সারা দেশের ন্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভায় তালা দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সেবা গ্রহীতারা এসে ফিরে যাচ্ছেন। দিনের পর দিন পৌরসভা বন্ধ থাকায় নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের প্রতিটি কক্ষেও ঝুলছে তালা।
পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকার কারণে ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় পড়ে আছে। ফলে দুর্গন্ধে শহরের পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পৌরসভা ভবনের বাইরে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার গাড়িগুলো দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। অনেক এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধ হয়ে পড়ে আছে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজ।
এমন কি চাকরি, জমির খাজনা, লাইসেন্স, টিকাদান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সন্তানের জন্ম সনদসহ বিভিন্ন সনদ এবং পৌরসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আছেন পৌরসভার নাগরিক। এমনকি গত ১৪ জুলাই রোববার থেকে রাতে শহরের সড়কবাতিও বন্ধ রয়েছে বলে নাগরিকরা অভিযোগ করছেন। এতে শহরে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নবীগঞ্জ শাখার সভাপতি শহিদুল হক জানান, দাবি আদায়ে আমরা সরকারকে আগেই জানিয়েছি। কিন্তু কোন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে ঢাকায় অবস্থান নিয়েছি। কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী ভবি মজুমদার বলেন, পৌর কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শাস্তি দেয় সরকার, আর বেতন দেয় পৌরসভা। এভাবে চলতে পারে না। তার দাবি, সরকারি কর্মচারি হয়েও তারা আর্থিক, সামাজিক নিরাত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের শতভাগ বেতন-ভাতাসহ পেনশন চালু না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
নাগরিকরা আন্দোলনের পাশাপাশি জরুরী নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।